বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিতুলের পরীক্ষা

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)

X খাতার মাঝে মিতুল বড় বড় করে এ বি সি যি লিখছে, তখন আপা বললেন, “সবাই আমার কথা শুনো।” মিতুল এবং ক্লাসের সব বাচ্চা লেখা বন্ধ করে আপার দিকে তাকাল । আপাসবার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কালকে তোমারি পরীক্ষা।" মিতুলের পাশে বসে ছিল সাদিব, ফেলার কথা শুনে আঁতকে উঠে বলল, “পরীক্ষা?” “হ্যা। পরীক্ষা। কালকে তোমাদের পরীক্ষা।" ARB “না আপা না!” সাদিব হাতু ভিড় করে বলল, “পরীক্ষা না।” সাদিবের দেখাদেখি মিলি, স্নাতুল, আদিবা সবাই চিৎকার করে বলল, “না, না, না, আমরা পরীক্ষা চাই না। চাই না।" আপা হাত তুলে সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “তোমরা এখন আর ছোট বেবী না। তোমরা এখন স্কুলে ভর্তি হয়েছ। স্কুল মানেই পড়াশোনা আর পড়াশোনা মানেই পরীক্ষা।” সাদিব তবু চেষ্টা করল, বলল, “আমার পরীক্ষা ভাল লাগে না। পরীক্ষা চাই না আপা।" আপা বললেন, “না চাইলেও পরীক্ষা দিতে হবে। কাল তোমাদের পরীক্ষা।" মিতুল খুব দুশ্চিন্তার মাঝে পড়ে গেল, পরীক্ষা জিনিষটা কী সে জানে না। সবাই যেরকম চিৎকার করে কান্নাকাটি করছে জিনিষটা তো ভাল হতে পারে না। জিনিষটা নিশ্চয়ই খারাপ, কিন্তু কত খারাপ? তার বয়স মাত্র সাড়ে চার মাত্র সে স্কুলে আসতে শুরু করেছে। স্কুলের নিয়ম কানুন কিছুই সে জানে না। মনে হচ্ছে এখানে পরীক্ষা নামে একটা জিনিষ হয়, জিনিষটা কী রকম কে জানে। এটা কী ইনজেকশান দেওয়ার মতো জিনিস ? তার দাঁতের মাঝে যখন পোকা ধরে গেল তখন ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে সেটা টেনে তুলতে হলো-এটা কী সেরকম কিছু ব্যাপার? নাকি এটা ঘরের মাঝে হয়, ঝড় তুফানের মতো কিছু? সবার কী এক সাথে হয় নাকি আলাদা আলাদা ভাবে হয়? মিতুল একবার ভাবল সাদিবকে কিংবা মিলিকে জিজ্ঞেস করবে পরীক্ষাটা কী, কিন্তু তার লজ্জা করল, সবাই যদি হেসে উঠে? কাজেই মিতুল সারাটা দিন স্কুলে খুব দুশ্চিন্তা নিয়ে কাটাল। দুপুরে বাসায় আসতেই আম্মা মিতুলকে কোলে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আজকে স্কুলে কী হয়েছে সোনামণিঃ” মিতুল গম্ভীর হয়ে বলল, “আজকে কিছু হয় নাই। কিন্তু কালকে পরীক্ষা।” আম্মা অবাক হয়ে বললেন, “ওমা! এই টুকুন মানুষের আবার পরীক্ষা!" তারপর আব্বাকে ডেকে বললেন, “ওগো শুনেছ কালকে আমাদের মিতুলের পরীক্ষা।” আব্বাও চোখ কপালে তুলে বললেন, “ওরে বাবা পরীক্ষা?” মিতুলের মনে যেটুকু সন্দেহ ছিল এবারে সেটাও লুণ্ঠ হয়ে গেল। পরীক্ষা জিনিষটা নিশ্চয়ই ভয়ংকর, তা না হলে তার আব্বা আম্মা এত ভয় পাবেন কেন? কিন্তু ঠিক কতটুকু ভয়ংকর? পরীক্ষাকে দেখে খুব কী ভয় করবে? পরীক্ষা কি কামড় দেবে? কামড় দিলে খুব কী ব্যথা করবে? রাতে মিতুল ভাল করে ঘুমাতে পান। একটু পরে পরে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। যতক্ষণ ঘুমালো ততক্ষণ ভয়ংকর একনি স্বপ্ন দেখলো পরীক্ষার। লাল চোখ আর বড় বড় দাঁত নিয়ে ভয়ংকর একটা পরীক্ষা তাকে কামড় দিতে আসছে। পরদিন মিতুল তার ছোট চেয়ারে ছোট ডেস্কের সামনে বসে আছে, ভয়ে তার বুক ধ্বক ধ্বক করছে না জানি কী হয়। আপা এসে ঢুকলেন, মিতুল ভাবল পরীক্ষার জন্যে হয়তো আরো অন্য মানুষ কিংবা কোন বড় যন্ত্র বা জন্তু জানোয়ার এসে ঢুকবে। কিছুই ঢুকল না। আপা পরীক্ষার কথা কিছুই বললেন না, সবাইকে একটা খাতা দিয়ে একটা করে কাগজ দিলেন। কাগজে অনেক কিছু লেখা আছে সেগুলো করতে হবে। কারো সাথে কথা বলা যাবে না, কারোটা দেখা যাবে না। মিতুল ক্লাসের সময় এমনিতেই কারো সাথে কথা বলে না, কারোটা দেখে না, কাজেই সে কাজ শুরু করে দিল। মনে হয় পরীক্ষা নামের সেই ভয়ংকর জিনিষটা আসার আগেই আপা তাদের একটু পড়ালেখা করিয়ে নিতে চান। কাগজটাতে যা যা করতে বলেছে সব কিছু ভাল করে লিখে মিতুল আপাকে খাতাটা দিয়ে দিল। আপা খাতাটা খুলে এক পলক দেকে বললেন, “বাহ! কী সুন্দর সব কিছু লিখেছে আমাদের মিতুল সোনা ।আপা সবার কাছ থেকে খাতা নিয়ে তাদের বাইরে গিয়ে খেলতে দিলেন। সবাই আনন্দে চিৎকার করতে করতে মাঠে ছোটাছুটি করতে লাগল, শুধু মিতুল চুপ করে বসে রইল। তার আজকে খেলতে ইচ্ছে করছে না কখন পরীক্ষাটা হবে কে জানে? কেমন করে হরে? সে ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলবে না তো? খুব ব্যথা করলে সে মনে হয় হয় কেঁদেই ফেলবে তখন কী লজ্জা হবে! আপা এক ক্লাশ রুম থেকে অন্য ক্লাশ রুমে যেতে যেতে হঠাৎ মিতুলকে বারান্দায় বসে থাকতে দেখে দাড়িয়ে গেলেন, বললেন, “কী হলো মিতুল? তুমি খেলতে যাবে না?” মিতুল মাথা নাড়ল, “না আপা।” “কেন যাবে না।” মিতুল একটু ইতস্ততঃ করে বলেই ফেলল, “আমার ভয় করছে আপা।” আপা জিজ্ঞেস করলেন, “কেন ভয় করছে?” “আজকে যে পরীক্ষা হবে সেই জন্যে ভয় করছে।” মিতুল কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, “কখন হবে পরীক্ষা আপা? কেমন করে হবে? ব্যথা করবে?" আপা চোখ বড় বড় করে মিতুলের দিকে ঠকিয়ে থেকে খিল খিল করে হেসে ফেললেন, “পরীক্ষা তো হয়ে গেছে বোকা মেয়ে “কখন হয়েছে?” “ঐ যে ক্লাশে বসে বসে তুমি খলত এ বি সি ডি লিখেছ, অ আ লিখেছ, ওয়ান টু AMA লিখেছ। সেটাই তো পরীক্ষা।" “সেটাই পরীক্ষা?” হ্যা মিতুল কিছুক্ষণ আপার দিকে তাকিয়ে থেকে ফিক করে হেসে ফেলল, বলল, “তাহলে সবাই পরীক্ষাকে এত ভয় পায় কেন?" আপা চোখ বড় বড় করে বললেন, “আমি তো সেটা জানি না।” মিতুল উঠে দাড়াল, বলল, “ইশ! আমি কী বোকা!" আপা কাছে এসে মিতুলকে আদর করে বললেন, “কে বলেছে তুমি বোকা! তুমি হচ্ছ সবচেয়ে বুদ্ধিমান যাও খেলো গিয়ে সবার সাথে।" মিতুল বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে ছুটে গেল মাঠের মাঝে সবার সাথে খেলতে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিতুলের পরীক্ষা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now