বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মিথ্যা
নাজিম উদ দৌলা
_________________
নিশুতি রাত! ঘড়িতে সময় রাত একটা। শান্তিনগর এলাকার মানুষ ঘুমিয়ে পড়েছে ১২টার আগেই! তাই তো এত রাতে একটা ফল কাঁটার ছুরি হাতে গলির ভেতর ঢুকার সময় কেউ আমাকে লক্ষ করেনি! আজ একটা খুন করব আমি। আমার জীবনের প্রথম খুন!
কাকে খুন করব জানতে চান?
একটি মেয়েকে!
মেয়েটির নাম?
শারমিন।
খুন করার কারন?
কারন সে আমাকে মিথ্যে বলেছে!
মিথ্যে! সব মিথ্যে! শারমিন আমাকে যা বলেছে সব মিথ্যে! সব বানোয়াট!
গত আষাঢ়ের এক বৃষ্টির দিনে যখন দুজনে একই ছাতার নিচে পরস্পরের গায়ে সেঁটে হাটছিলাম, শারমিন বলেছিল, “আমি তোমাকে ভালবাসি”!
মিথ্যা!
এক বিকেলে শহিদুল্লাহ হলের সামনের পুকুর পাড়ে আমার হাত ধরে শারমিন বলেছিল- “আমি তোমাকে কখনও ছেড়ে যাব না”!
আরও এক মিথ্যা!
কোন এক অন্তরঙ্গ মুহূর্তে আমার গলার কাছে ঠোঁট বুলিয়ে মেয়েটি বলেছিল- “তুমিই আমার জীবনের শেষ পুরুষ”!
সবচেয়ে বড় মিথ্যা!
শারমিন তার কথা রাখেনি! ঠুনকো মনোমালিন্যের জের ধরে সে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে! তার পিতা দুবাই ফেরত এক পয়সাওয়ালা দুম্বার সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছে। শারমিন হি হি করে হাসতে হাসতে রাজি হয়ে গেছে! একবারও চিন্তা করেনি- আমার কি হবে?
আমি তো তাকে ভালবেসেছি হৃদয়ের গভীর থেকে!
আমি তো তাকে ছাড়া আর কাউকে জীবনে জড়াই নি!
আমার জীবনে প্রথম, শেষ এবং একমাত্র নারী- শারমিন!
আর মাত্র দু’দিন পর শারমিনের বিয়ে হবে! আমি কোন অবস্থাতেই তা মেনে নিতে পারি না! শারমিন যদি আমার না হয়, তাহলে আমি তাকে আর কারও হতে দেব না! তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি- শারমিনকে খুন করব আমি! নিজ হাতে!
"৩২/৪, পীর সাহেবের গলি"
ঠিকানা দেখে বাড়ির সামনে দাড়ালাম আমি। এই বাড়িতে একদিন বর বেশে আসার কথা ছিল আমার! হায় সেলুকাস! এসেছি খুনির বেশে!
দোতালার ব্যালকনির পাশের ঘরটি শারমিনের শোয়ার ঘর! ছোট বেলা থেকে তালগাছ থেকে নারকেল গাছে লাফিয়ে বেড়িয়েছি আমি। পানির পাইপ বেয়ে দোতালার ব্যালকনিতে উঠে পড়তে আমার দুই মিনিটের বেশি লাগল না!
ব্যালকনির দরজা ভেতর থেকে সিটকিনি আটকানো ছিল। কিন্তু পাশেই জানালা। কাঁচ টেনে জানালা খুলে দরজার সিটকিনি খুলতে লাগল আরও দুই মিনিট! গোটা পরিকল্পনায় এটাই ছিল সবচে কঠিন কাজ! কিন্তু এত সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়তে পারব ভাবিনি!
জ্যোৎস্নার আলোতে বিছানায় শুয়ে থাকা শারমিনকে লাগছে দেবীর মত! কি অপূর্ব সুন্দর তার দেহের গড়ন! সবকিছু সুন্দর দিয়েছে সৃষ্টিকর্তা তাকে। শুধু দেয়নি সুন্দর একটা মন!
সময়ক্ষেপণ করলাম না। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল আমার। দু’ হাতে ছুরি ধরে গায়ের জোরে নামিয়ে আনলাম শারমিনের পিঠের উপর। আমূল ঢুকে গেছে ছুরিটা! তীব্র যন্ত্রণায় আর্ত-চিৎকার করে উঠল শারমিন।
সেই চিৎকার শুনে আমারও গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল।
বাইরে খুব হইচই শুরু হয়ে গেছে! বাসার লোকেরা শারমিনের চিৎকার শুনে জেগে উঠেছে। বাঁচতে হলে এখনই পালানো দরকার! কিন্তু আমি পালাতে চাই না! ওরা ধরতে পারলে আমাকে পুলিশে দেবে, শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড! তাতে কি? শারমিনকে শেষ করে দিয়েছি! এখন আর আমি বেঁচে থাকব কার জন্য?
লোকজন দৌড়ে এসে শারমিনের ঘরে ঢুকল। লাইট জ্বালানো হল। এদের কাউকে আমি চিনি না! শারমিনের বাসার মানুষকে তো আমি দেখেছি আগে! এরা কারা? ঘাড় ঘুরিয়ে বিছানায় যন্ত্রণায় কাঁতরাতে থাকা শারমিনের দিকে তাকালাম আমি। এবং বুঝলাম-
শারমিন আরও একটা মিথ্যা বলেছে আমাকে!
তার বাসার ঠিকানা মিথ্যা বলেছে!
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now