বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

___মিস্ট্রিয়াস___পর্ব 7ও8

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X _________পর্ব-৭___________ পর্সিয়াকে খুঁজে পেলাম কিচেন রুমে। এক কোণায় শুয়ে আছে সে। আমার সাথে কথা বলার সময় যে জায়গাটির দিকে মাঝেমাঝে তাকিয়ে থাকতো সে। এবং ঐদিন আমি স্বপ্নে এই জায়গাটি দেখেছিলাম, এই জায়গায় আমাকে মেরে কবর দিতে চেয়েছিল ওরা। এই জায়গার রহস্যটা কি? আমার স্বপ্নের সাথে কি পর্সিয়ার কোনো যোগসূত্র আছে?" --পর্সিয়া তুমি এখানে কেন?" জিজ্ঞেস করলাম আমি। পর্সিয়া ইতস্তত করে বলল: --না মানে এমনি।" উঠে দাঁড়ালো সে। আমিও কিছু না বুঝার ভান করলাম। যেন কিছুই হয়নি। পর্সিয়া রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিল। আমি মাহমুদকে নিয়ে বের হলাম শব্দের উৎস খুঁজতে। অনেক্ষণ খুঁজলাম। তারপর একটা ঝোপের মধ্যে একটা গর্ত খুঁজে পেলাম। টেপরেকর্ডারটাও পেলাম ওখানে। রিপ্লে দিলাম, দেখলাম কথাগুলো আসলে ঐ টেপরেকর্ডারের। একটা রহস্যের কিছুটা সমাধান পাওয়া গেলো। কিন্তু এই কাজটা কে করতেছে? আশেপাশে কেউ নেই। গর্তটার পাশে দুইটা পায়ের ছাপ খুঁজে পেলাম। লোকটা উত্তর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়েছিল এখানে। তার বাম পায়ের ছাপের পাশে অনেকগুলো সিগারেটের অংশ পাওয়া গেলো। তা দেখে মাহমুদ চমকে উঠে বললো: --তার মানে মাহতাব সিকদার!!!! উনি করেছেন এসব??" আমি মাহমুদের দিকে তাকিয়ে বললাম: --না মাহমুদ, উনি করেননি। অন্য কেউ ছিল এখানে।" --কিন্তু সিগারেটের অংশগুলো তো প্রমাণ করছে মাহতাব সিকদারই করেছেন এসব।" --মাহমুদ দেখ, এই যে সিগারেটের অংশগুলো সব বাম পায়ের ছাপের পাশে। তার মানে যে এখানে ধুমপান করেছে, সে বামহাতি। কিন্তু মাহতাব সিকদার ডানহাতি। তিনি ডানহাত দিয়েই ধুমপান করেন। এই লোক অন্য কেউ।" --কিন্তু কে?" --যে হোকনা কেন, সে নিশ্চয়ই বামহাতি আর তারও মাহতাব সিকদারের মতো সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। মাহমুদ, কাল তুই খোঁজ করবি বাম হাতে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস কার আছে।" --আচ্ছা......" . বাংলোতে ফিরে এলাম আমরা। দেখলাম পর্সিয়া আবার উধাও। দরজা খোলা। কোথাও নেই সে। অনেক খুঁজলাম তাকে, কোথাও পাওয়া যায়নি। অদ্ভুত মেয়ে বাবা! আবার আসলে এখানে ঢুকতেই দেবোনা। . . পরদিন আমি আর মাহমুদ মিলে কিচেনের ঐ কোণটা (যেদিকে পর্সিয়া তাকিয়ে থাকতো) খুঁড়তে লাগলাম। পাঁচহাত পর্যন্ত খুঁড়লাম। হঠাৎ কিছু একটা দেখা দিল। আরো কিছুক্ষণ সাবধানে খুঁড়ার পর, একটা কঙ্কাল বেরিয়ে এলো। দু'জনে অবাক হয়ে গেলাম আমরা। কার কঙ্কাল হতে পারে এটা? কঙ্কালটা সাবধানে তুললাম। প্রয়োজন হতে পারে সামনে। সারাদিন মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে হাত/পা/ শরীর ব্যথা হয়ে গেছে। মাটি ভরাতে ভরাতে রাত হয়ে গেল। মাহমুদকে রান্না করতে বলে, আমি বাংলো থেকে বের হলাম। মাহতাব সিকদারের সাথে একটু কথা বলতে হবে ব্যাপারটা নিয়ে। মাহতাব সিকদারের বাসায় এসে কলিং বেল দিলাম। দরজা খুলে দিল ওদের বাসার একটা কাজের ছেলে। গতকাল এই ছেলেটাই আমাদের পিছু নিয়েছিলো। ছেলেটাকে দেখে ভ্রুকুচকে তাকালাম তার দিকে। তারপর জিজ্ঞেস করলাম: --মাহতাব আংকেল আছে?" --জি আপনি বসুন, আমি ডেকে আনছি।" বলে ছেলেটা ভেতরে গেলো। একটুপর মাহতাব সিকদার এসে আমার সামনে বসতে বসতে জিজ্ঞেস করলেন: --কি খবর মিস্টার রানা?" আমি বললাম: -আংকেল একটা জরুরি বিষয়ে কথা বলতে এসেছি।" --কি কথা? --বাংলোতে একটা কঙ্কাল খুঁজে পেয়েছি, মনে হয় কেউ লোকটাকে মেরে ওখানে পুঁতে রেখেছিলো।" কথাটি বলে মাহতাব সিকদারের দিকে তাকালাম, কি প্রতিক্রিয়া হয় দেখার জন্য। দেখলাম মাহতাব সিকদার চমকে উঠেছেন। --কোথায় এখন সেই কঙ্কালটা?" বলার সময় গলা কেঁপে উঠলো তার। --বাংলোতে আছে।" --চলো, দেখে আসি।" তাড়াহুড়া করে বললেন তিনি? --এখনি যাবেন?" --হ্যা যাবো...... --আচ্ছা চলুন।" দু'জনে বাংলোতে আসলাম। যেখানে কঙ্কালটা রেখেছিলাম ওখানে গিয়ে দেখলাম কঙ্কালটা নেই। চমকে উঠলাম আমি। মাহমুদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করলাম: -মাহমুদ, কঙ্কালটা গেলো কোথায়?" মাহমুদ দৌঁড়ে এসে বললো: --এখানেই তো ছিল কঙ্কালটা।" মাহমুদও অবাক হয়ে গেল। --আমি যাওয়ার পর এখানে কেউ এসেছিলো?" জিজ্ঞেস করলাম আমি। --না, আসেনি।" মাহমুদ জবাব দিলো। মাহতাব সিকদার ব্যাপারটাতে অসন্তুষ্ট হলেন। অনেক খুঁজলাম, পাইনি কঙ্কালটা। মাহতাব সিকদার মুখ মলিন করে চলে গেলেন শেষে। এরপর আমরা ডিনার সেরে নিলাম। খেয়েদেয়ে ঘুমাতে যাবো, হঠাৎ শুনতে পেলাম একটা মেয়েলী কণ্ঠে অট্টহাসি। এতদিন মেয়েলী কণ্ঠে কান্না শুনা যেতো, আজ হাসি শুনা যাচ্ছে। অবাক হয়ে গেলাম আমি। মাহমুদকে সাথে নিয়ে বের হলাম হাসির শব্দ অনুসরণ করে। কিছুদূর গিয়ে দেখলাম একটা মেয়ে কঙ্কালটাকে জড়িয়ে ধরে হাটতেছে। কঙ্কালটাও মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে আছে। পেছন থেকে দেখলেও চিনতে পারলাম, মেয়েটা পর্সিয়া ছাড়া আর কেউ নয়। _________পর্ব-৮__________ পর্সিয়া আর কঙ্কালটার পিছু নিয়ে আমরা একটা কবরস্থানে এলাম। হঠাৎ পর্সিয়া কোথায় যেন উধাও হয়ে গেল কঙ্কালটাকে নিয়ে। অনেক্ষণ খুঁজেও পাওয়া গেলোনা তাদের। আচমকা টর্চ লাইটের আলো পড়লো একটা কবরের উপর। চমকে উঠলাম সাথে সাথে। কারণ কবরের উপর লেখা: "পর্সিয়া তাবাস্সুম প্রিয়তি" জন্ম: ১৯৭৪.... মৃত্যু: ১৯৯৬..... এখন ২০১৭ সাল। তারমানে প্রায় ২০ বছর আগেই পর্সিয়ার মৃত্যু হয়েছে। কে এই পর্সিয়া? আর কঙ্কালটা কার? পর্সিয়া ঐদিন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, আমি ভূত বা অশরীরীতে বিশ্বাস করি কিনা। তখন জানতামনা যে, সে নিজেই একটা অশরীরী। এতদিন বুঝতেও পারিনি আমি। আজ নিজ চোখে দেখলাম। বাংলোতে এসে সব ঘটনা একে একে জুড়ে দিতে লাগলাম, আলতাফ সিকদার উধাও, উনার স্ত্রীর আত্মহত্যা, পর্সিয়ার আগমন, আমার স্বপ্ন, কঙ্কালের আবির্ভাব.... সব মিলিয়ে কি বুঝাচ্ছে? আমি স্বপ্নে দেখেছি পর্সিয়াকে বিয়ে করেছি, আর মাহমুদ দলবল নিয়ে এসে আমাকে মেরে মাটিতে পুঁতে রাখে। এখন ঐ মাটির নিচে কঙ্কাল পাওয়া গেল, তারমানে কঙ্কালটা পর্সিয়ার স্বামীর। আমাকে যেহেতু মাহমুদ মেরেছিল স্বপ্নে, মাহমুদ আমার ছোট ভাই এর মতো। তারমানে পর্সিয়ার স্বামীকে মেরেছিল তার কোন ছোট ভাই। আলতাফ চৌধুরীর রহস্যটা কেউ জানেনা। কঙ্কালটা নিশ্চয়ই আলতাফ চৌধুরীর। মাহতাব চৌধুরী ছাড়া তো আলতাফ চৌধুরীর আর কোন ছোটোভাই নেই, তবে কি মাহতাব সিকদার সেদিন ব্যবসার কাজে শহরে যায়নি? সে তার বড় ভাইকে খুন করার জন্য থেকে গিয়েছিলো? সন্দেহটা এখন মাহতাব সিকদারের উপর গিয়ে পড়লো। . . পরদিন মাহতাব সিকদার এলেন বাংলোতে। আমি উনাকে বসতে দিলাম, উনি সরাসরি মূল কথায় এলেন। জিজ্ঞেস করলেন কঙ্কালটা পেয়েছি কিনা। আমি উল্টো প্রশ্ন করলাম: --কঙ্কালটার প্রতি আপনার এত ইন্টারেস্ট কেন? আপনি জানেন কি ওটা কার কঙ্কাল?" --হ্যা জানি, আমার বড় ভাই এর।" --আপনি কি করে জানলেন?" --আমার সন্দেহ হয়েছে?" --কোথাও এরকমটা নইতো, আপনি নিজেই আপনার ভাইকে খুন..... --কি যা তা বলছ? আমি কেন আমার ভাইকে খুন করবো?" মাহতাব সিকদার উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। --হয়তো বাংলোটা পাওয়ার লোভে..... --দেখ, তুমি কিন্তু আমাকে অপমান করতেছ, আমি খুন করিনি আমার ভাইকে.... --তাহলে আপনি যা জানেন, আমাকে বলুন, নইলে কিন্তু আপনার বিপদ হতে পারে..... --আচ্ছা বলছি, আমরা দুইভাই প্রথমে বাংলোটার জন্য ঝগড়া করেছিলাম, কারণ এখানে গুপ্তধন ছিল। কিন্তু, পরে আমরা ঠিক হয়ে গেলাম। দুই ভাইয়ের সম্পর্কের কাছে তো গুপ্তধনটা বড় হতে পারেনা। তাই আমরা নিজেদের মধ্যে আর ঝগড়া করলামনা। একদিন ব্যবসার কাজে আমি শহরে যায়, মাঝেমাঝেই আমাকে কয়েকদিনের জন্য ব্যবসার কাজে শহরে যেতে হতো। তো সেইবার যখন শহর থেকে ফিরে আসি আমি, দেখলাম আমার সবকিছু শেষ। আমার ভাই উধাও, ভাবী আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু এসবের কিচ্ছু আমি জানিনা এতদিনেও। গতকাল যখন তুমি একটা কঙ্কাল পেয়েছো শুনলাম, তখন মনে হলো ওটা আমার ভাই এর।" --হুমমম..... বুঝলাম। আপানার ভাই ভাবিকে হারানোর পর আপনার অবস্থা কেমন হয়েছিল?" --আমি কিছুদিন অস্বাভাবিক জীবন কাটায়। কিন্তু নিজেকে তো বাঁচতে হবে। সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। তাই আমি বিয়ে করলাম। সংসারের হাল ধরলাম। --আর গুপ্তধনের ব্যাপারটা?" --বিয়ে করার কয়েকমাস পর, আমি গুপ্তধনের খোঁজ পাই। আমার বাবার একটা ডায়রিতে লেখা ছিল গুপ্তধনের ব্যাপারে। তারপর লোক লাগিয়ে আমি তা উদ্ধার করি।" --তারপর আপনি আরো ধনী হয়ে গেলেন। কিন্তু আপনি ফিল্ম জগতে আসলেন কিভাবে?" --গুপ্তধন উদ্ধারের কিছুদিন পর আমার এসিসট্যান্ট ডিরেক্টর জয়নাল এর সাথে আমার পরিচয় হয়। উনিই আমাকে ফিল্ম জগতের রাস্তাটা দেখান।" --কিন্তু, আপনি হরর ফিল্ম ডিরেক্টর হলেন কেন? --তাও জয়নাল সাহেবের কথায়। বুদ্ধিটা উনার।" "জয়নাল???" নামটা কয়েকবার বিড়বিড় করে উচ্চারণ করলাম। --আচ্ছা, আপনি কি চান আপনার ভাই ভাবীর রহস্যটা ফাঁস হোক?" জিজ্ঞেস করলাম মাহতাব সিকদারকে। --হ্যা, অবশ্যই চাই...... --তাহলে আমার কাজে সহযোগীতা করবেন আপনি। আর জয়নাল সাহেবের সাথে একটু পরিচয় করিয়ে দিবেন আমাকে।" --আচ্ছা, তুমি কাল বিকেলে আমার অফিসে এসো। এখন আমাকে যেতে হবে।" বলেই তিনি উঠে দাঁড়ালেন।" --আচ্ছা, কাল বিকেলে আমি আসবো।" হ্যান্ডশেক করলাম মাহতাব সিকদারের সাথে। উনি চলে যাওয়ার পর বসে ভাবতে লাগলাম? কে এই জয়নাল সাহেব? কেন তিনি মাহতাব সিকদারকে হরর ফিল্ম জগতে নিয়ে গেলেন?" (চলবে.....) লেখক - সোহেল রানা শামী


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ___মিস্ট্রিয়াস___পর্ব 7ও8

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now