বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

__মিস্ট্রিয়াস__পর্ব 4,5ও6

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X _________পর্ব-৪__________ --আপনি??" অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম। --হ্যা আমি।" বলেই রহস্যময় হাসিটা আবার দিল মেয়েটা। --তখন কোথায় গিয়েছিলেন, আর এখনইবা কোথা থেকে আসছেন এত রাতে?" --তখন এখানেই চলে এসেছিলাম, এই জায়গাটা আমার ফেভারিট।" --কিন্তু এত রাতে কেন? বাসায় কেউ কিছু বলবেনা?" --না, এখন আমার উপর কেউ অধিকার চাপাতে পারেনা। সরেন তো, রান্না টা আমি করি.... --না, না, তার আর দরকার নেই। রান্না প্রায় শেষ। --ওহহ....তাহলে আমি আসি। --রাতে খেয়ে যান?? --না, আমার খেতে হয়না। --মানে? --মানে, আমার খিদে নেই।" বলে মেয়েটা চলে যেতে পা বাড়াল। পেছন থেকে আমি ডাক দিলাম: শুনুন...... --হুমমম....." ঘুরে তাকাল মেয়েটা। --আপনার নাম??? --আমার নাম পর্সিয়া। --বাহ, আপনার নামের মতো সুন্দর আপনি.... --তাই?" রহস্যময় সেই হাসিটা দিল সে। আমি অস্ফুটে বললাম: হুমমম......" --আচ্ছা যায়, বলে মেয়েটা ঘুরে দাঁড়াল। খুব অদ্ভুত মেয়ে। আমার সাথে কথা বলার সময় সে বাংলোর একটা কোণের দিকে বারবার চেয়ে থাকত। দু'একটা কথা বলত, আর ঐ কোণের দিকে চেয়ে থাকত। ব্যাপারটা ফেলে দেয়ার মতো না। নিশ্চয়ই এর পেছনে কোন কারণ আছে। আচ্ছা, এই বাংলোয় কি গুপ্তধন আছে? যা ঐ মেয়েটা জানে? যার জন্য মাহতাব সিকদার আর তার ভাই বিশাল বাড়ি ছেড়ে এই বাংলোয় উঠেছিল? মাহমুদ ফিরে আসুক, তারপর তাকে নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। রাতে খেয়েদেয়ে, ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুম আসছিলনা। শুধু মাহমুদের কথা মনে পড়তেছিল। বেচারার হঠাৎ এ কি হয়ে গেল? কারা তার এই অবস্থা করেছে? কারো সাথে তো তার কোন শত্রুতা নেই। শুধু শুধু নিরীহ ছেলেটা এভাবে কষ্ট পাচ্ছে। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চমকে উঠলাম একটা মেয়ের কান্না শুনে। কালাম সাহেবের সেই কথাটা মিলে গেল, এখানে মাঝেমাঝে একটা মেয়ের কান্না শুনা যায়। আমি আমার লাইসেন্স করা ওয়ালথার পিপিটা সাথে নিলাম, যদি কোন বিপদ হয়, ওয়ালথারের বুলেট খরচ করতে হবে। কান্নার শব্দ অনুসরণ করে আমি হাটছিলাম ওয়ালথারের ট্রিগারে আঙুল রেখে। হঠাৎ কান্না থেমে গেল। আমি ধীরে ধীরে সামনে যেতে লাগলাম। সামনে জঙ্গলের মতো জায়গা। গাছের ফাক দিয়ে চাঁদের আলো মাটিতে নেমে এসেছে। সবকিছু স্পষ্ট না দেখলেও দেখতে পাচ্ছি। হঠাৎ অনুভব করলাম কে যেন আমার কাধে হাত রাখল। চমকে উঠলাম আমি। তাড়াতাড়ি পেছনে ঘুরে ওয়ালথারটা তার দিকে তাক করলাম। দেখলাম পর্সিয়া দাঁড়িয়ে আছে সামনে। ওয়ালথারটা তার দিকে তাক করতে দেখে "আ...আ...আ..." করে চিৎকার দিয়ে উঠল সে।" আমি ওয়ালথারটা নামিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি এখানে কি করছেন?" পর্সিয়া বলল: আমিও আপনার মতো এডভেঞ্চার লাইক করি, তাই গভীর রাতে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। ভূত খুঁজি। হা হা হা।" একটু আগে যে ভয়ে চিৎকার করে উঠেছিল, তার মুখে হাসি দেখে আমারও হাসি পেল। হাসিটা চেপে জিজ্ঞেস করলাম: --আমি এডভেঞ্চার লাইক করি, আপনাকে কে বলেছে?" --কাউকে বলতে হবে কেন? আপনি এইরকম ভৌতিক জায়গায় এসে থাকছেএইরকম ভৌতিক জায়গায় এসে থাকছেন, তাই বুঝতে পারলাম। --আপনি ভূত বিশ্বাস করেন?" --কেন? আপনি করেননা?" --না..." --অশরীরী বিশ্বাস করেন?" --না, কেউ মারা গিয়ে আত্মা হয়ে ফিরে আসে, এটা কি সম্ভব?" --যদি আপনার সামনে কোন অশরীরী আসে?" --যখন দেখব, তখন বিশ্বাস করব...." --আপনার ধারণাটা পাল্টে যাবে হয়তো খুব শীঘ্রই।" --তাই? অপেক্ষায় রইলাম। এখানে একটা মেয়ের কান্না শুনেছি, কে কান্না করেছিল?" --কই? আমি তো এদিকে ছিলাম, আমি শুনিনি কেন? হয়তো আপনার শুনতে ভুল হয়েছে?" আমি বিষয়টা আর এগিয়ে নিয়ে গেলামনা, আমি চাইনি সে আমাকে পাগল ভাবুক।" কথা ঘুরিয়ে বললাম: যাইহোক, এত রাতে না ঘুরে বাসায় চলে যান।" --ভাবছি আজ আপনার বাংলোতে থাকব।" --ভয় করবেনা? আমি একটা পুরুষ।" --নাহ, আপনাকে দেখে ওরকম ছেলে বলে মনে হয়না। তাছাড়া ভয় থেকে আমার মুক্তি হয়েছে অনেক আগে।" --তাহলে চলুন।" বাংলোতে এসে আমি আমার রুমে থাকলাম, আর পর্সিয়াকে মাহমুদের রুমে থাকতে দিলাম।" দু'চোখে একটু একটু ঘুম এসেছে মাত্র। হঠাৎ শুনলাম আগের রাতের সেই ভয়ংকর কণ্ঠটা: ওরে মূর্খের দল, চলে যা, চলে যা এখান থেকে। নিজের প্রাণ বাঁচাতে চাইলে চলে যা।" তাড়াতাড়ি করে বেড থেকে উঠলাম, ওয়ালথারটাও হাতে নিলাম। পাশের রুমে উঁকি দিয়ে দেখলাম পর্সিয়া নেই সেখানে। তাহলে কি পর্সিয়া করতেছে এসব? কিন্তু কণ্ঠটা তো পর্সিয়ার বলে মনে হলনা। আবারও সেই ভয়ংকর কণ্ঠটা কথাগুলো বলল। আমি দৌড়ে বের হতে চাইলাম। পেছন থেকে পর্সিয়া ডাক দিল: কোথায় যাচ্ছেন?" অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি? কোথায় ছিলেন এতক্ষণ?" --এইতো বাথরুমে। কেন?" --একটু আগে কে চিৎকার করেছিল?" --কই আমি তো শুনিনি।" আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকালাম পর্সিয়ার দিকে। চেহারা তার স্বাভাবিক। আশ্চর্য হলাম, আমি যা শুনছি, মেয়েটা তা শুনছেনা। নাকি আমাকে পাগল বানানোর চেষ্টা করছে? নাকি আসলেই কেউ চিৎকার করেনি। তবে কি ভুল শুনলাম। পরপর দুইরাত ভুল শুনলাম? মাহমুদও শুনেছে গতকাল। একসাথে দুইজনের তো ভুল গতকাল। একসাথে দুইজনের তো ভুল হতে পারেনা। কিন্তু এই মেয়েটা শুনলনা কেন? নাকি না শুনার ভান করতেছে? তবে কি সত্যি সত্যি আমাকে পাগল বানাতে চাই? এখন থেকে আরো সাবধান হতে হবে। আবারও বিষয়টা চেপে গেলাম। কারন, চাইনি সে আমাকে পাগল ভাবুক। রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। ভয়ংকর কণ্ঠ আর শুনিনি সেই রাতে, তবে একটা জিনিস খেয়াল করলাম, গতরাতের মতো শব্দটা দুইবার হয়। প্রথমে একবার কথাগুলো বলে একটু থেমে আবার বলে। তারপর আর বলেনা। এখন এত কিছু না ভেবে ঘুমানোটা জরুরি। সকালে হাসপাতালে যেতে হবে। ওয়ালথারটা পাশে রেখে ব্ল্যাঙ্কেটটা টেনে নিলাম। তারপর ঘুমিয়ে পড়লাম...... __________পর্ব:-৫_________ . . . পর্সিয়ার রুপে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। মাহমুদ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ফেরার পর পর্সিয়াকে আমি বিয়ে করে নিলাম। বাসর ঘরে সে আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো। আমি বাসর ঘরে ঢুকে দরজা আটকালাম। বউ সেজে বসেছিল পর্সিয়া, ঘোমটাটা তার আলগা করে অস্ফুটে শব্দ করলাম: --অপূর্ব!!!" লজ্জা পেয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো পর্সিয়া। তাকে কাছে টেনে নিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলাম: --এই, তুমি কি সত্যি সত্যি আমার বউ?" চোখ খুলে পর্সিয়া বললো: --কেন বিশ্বাস হচ্ছেনা বুঝি?" --না, আমার পুরোটাই স্বপ্ন মনে হচ্ছে।" --চিমটি কেটে দেখ।" আমি নিজের শরীরে চিমটি কাটার সময় হঠাৎ দরজায় ঠোকা পড়ল একনাগাড়ে কয়েকবার। --উফ!! এই রোমান্টিক মুহূর্তে কে আবার বিরক্ত করতে আসলো?" মনে মনে বিরক্ত হলাম। আমি উঠে দরজা খুলতে চাইলাম, পর্সিয়া আমার হাত ধরে থাকলো। আমি ঘুরে তাকালাম ওর দিকে, বড় মায়া লাগলো ওকে দেখে। --কী??" জিজ্ঞেস করলাম আমি। --যেওনা।" --দাঁড়াও, দেখে আসি কে আসছে....." হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে দরজা খুললাম। সাথে সাথে কয়েকজন আমাকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকলো। পর্সিয়া চিৎকার করে নামলো বাসর শয্যা থেকে। ওরা আমাকে আঘাত করতে লাগলো। আমার স্ত্রী বাধা দিতে আসলে সবাই তাকে আটকে ধরে, সে চিৎকার করে বলতে লাগল: --কারা তোমরা? প্লিজ ছেড়ে দাও আমাদেরকে। কি ক্ষতি করেছি আমরা তোমাদের?" পর্সিয়ার কথায় ওরা কান দিলনা। আমাকে আঘাতের পর আঘাত করতে লাগলো। হঠাৎ পেছন থেকে কেউ একজন প্রচন্ড জোরে আঘাত করলো আমার মাথায়। ব্যালেন্স হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলাম আমি। দেখলাম লাঠি হাতে মাহমুদ দাঁড়িয়ে আছে পাশে। আঘাতটা সে করেছে আমার মাথায়। অনেক কষ্টে আমি উচ্চারণ করলাম: --মাহমুদ তুই?" "হা হা হা" করে উঠে মাহমুদ বললো: --হ্যা আমি। তোমাকে মেরে এই বাংলোটার মালিক আমি হবো" আবারও হা হা হা করে উঠল সে। তারপর সবাই মিলে পর্সিয়ার শ্লীলতাহানি করতে লাগলো। আমি সহ্য করতে পারলামনা। চোখ বন্ধ করে ফেললাম। নিজের সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে এভাবে ইজ্জত হারাতে দেখতে পারবোনা আমি। শুধু পর্সিয়ার আর্তনাদ কানে আসলো আমার। বেচারি অনেক চেষ্টা করলো নিজের ইজ্জত রক্ষা করতে। কিন্তু এতগুলো নরপিশাচের কবল থেকে রক্ষা পাইনি সে। ফ্লোরে পড়ে থাকলো সে। তারপর সবাই মিলে ফ্লোরের উপর গর্ত খুঁড়লো। আমাকে সেই গর্তে রাখলো। বাধা দেবার সামর্থ্যটুকু আমার ছিলনা। তারপর মাটিচাপা দিতে শুরু করলো।" একটা জোরে চিৎকার দিয়ে উঠলাম আমি। চারপাশে তাকালাম। কেউ নেই। নিজের দিকে তাকালাম। অক্ষত আমি। এতক্ষণ আমি তাহলে স্বপ্ন দেখছিলাম। কি ভয়ংকর স্বপ্ন!!! . . বেড থেকে নামলাম। পাশের রুমে গিয়ে দেখলাম পর্সিয়া নেই। বাংলোর আশেপাশে খুঁজলাম, কোথাও নেই আশেপাশে খুঁজলাম, কোথাও নেই সে। অদ্ভুর মেয়ে, যাওয়ার সময় একবার আমাকে বলেও গেলোনা। পর্সিয়াকে খুঁজা বাদ দিয়ে ব্রেকফাস্ট রেডি করে খেলাম। তারপর গেলাম হাসপাতালে। মাহমুদের অবস্থা কিছুটা ভালো হয়েছে। আরো দু'একদিন থাকতে হবে হাসপাতালে। করিডোরে পায়চারী করছিলাম আমি, হঠাৎ কালাম সাহেবকে দেখে এগিয়ে গেলাম। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম: --আরে কালাম সাহেব, আপনি এখানে?" --ও মিস্টার গোয়েন্দা? এইতো মাহতাব সিকদারের বড় ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এলাম।" আমার দিকে তাকিয়ে বললেন কালাম সাহেব। --কেন? মাহতাব সিকদারের ছেলের আবার কী হলো?" --আজ সকালে তাকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায় বাংলোর দক্ষিণদিকের শেষমাথার জঙ্গলে।" --কী বলেন এসব?" --হ্যা, খুব অদ্ভুত ব্যাপার কি জানেন? তার শরীরে এক বিন্দু পরিমাণ রক্ত ছিলোনা। কে যেন শরীরের সব রক্ত নিখুঁতভাবে চুষে নিয়েছে।" --এখন কি ও বেঁচে নেই?" --নাহ, পোস্ট মর্টেম চলছে তার।" --লাশটা দেখা যাবে?" --একটু পর বের করা হবে লাশ, তখন দেখতে পারবেন।" --ও আচ্ছা, চলুন, দেখে আসি।" কালাম সাহেবকে অনুসরণ করে গেলাম, দেখলাম লাশ গাড়িতে তুলা হলো। মাহতাব সিকদার লাশ জড়িয়ে ধরে কান্না করতেছিল। সত্যি এটা খুব কষ্টের, বাবা হয়ে সন্তানের লাশ দেখাটা। বিকেলে জানাজা হলো। আমিও উপস্থিত ছিলাম। জানাজা শেষে কবরস্থানে লাশ কবর দেয়া হলো। আমি গিয়ে দাঁড়ালাম মাহতাব সিকদারের পাশে। উনার চোখে জল দেখতে পেলাম প্রিয়জন হারানজল দেখতে পেলাম প্রিয়জন হারানোর শোকে। আমি শান্তকণ্ঠে বললাম: --আংকেল, আপনাকে এই মুহূর্তে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই। আপনি কি জানতে পেরেছেন কে মেরেছে তাকে?" মাহতাব সিকদার অশ্রুজলে তাকালেমাহতাব সিকদার অশ্রুজলে তাকালেন আমার দিকে: --এটা কোন দুষ্ট আত্মার কাজ।" --কী বলছেন এসব? আত্মা কী করে মানুষ মারবে?" --আজ একটা সত্যি কথা বলি বাবা, তোমাকে যে বাংলোটা বিক্রি করেছি, ওটাতে খারাপ আত্মা আছে। সে এলাকার অনেককেই মেরেছে, বিশেষ করে আমার বংশের লোকদের। আমার স্ত্রী, আমার শ্বাশুড়ি, আমার মেজ মেয়ে মারা গেছে ঐ আত্মার হাতে। হয়তো একদিন আমিও মারা যাব ঐ আত্মার হাতে।" --ওসব চিন্তা বাদ দেন আংকেল, বলুন তো আপনার ছেলের রক্তের গ্রুপ কি ছিলো?" --(AB-) ওর রক্তের গ্রুপ। ঐ খারাপ আত্মাটা তার শরীরের সব রক্ত চুষে নিয়েছে।" ব্যাপারটা কেমন জানি লাগলো আমার কাছে। পর্সিয়া গতকাল দু'ব্যাগ রক্ত তুলে দিয়েছিলো আমার হাতে, তবে কি তা মাহতাব সিকদারের ছেলের শরীরের রক্ত?" . . সন্ধ্যার সময় মাহমুদকে হাসপাতালে আবার দেখতে গেলাম। একটু একটু তার অবস্থা ভালো হচ্ছে। রাতের খাবার খাওয়ালাম তাকে। তারপর হাসপাতাল থেকে বের হলাম। সারাদিন বাইরে কাটিয়ে বাংলোয় ফিরে টায়ার্ড হয়ে গেছি। ডিনার সেরে শুয়ে পড়লাম। শুয়ে শুয়ে আগের রাতের স্বপ্নটার কথা ভাবতে লাগলাম। এইরকম স্বপ্ন দেখার মানে কি? স্বপ্নটা আসলে কি নির্দেশ করছে? ভাবতে লাগলাম। ভাবনার মাঝখানে হঠাৎ বাধা পড়ল। কে যেন দরজায় ঠোকা দিচ্ছে। আমি বেড থেকে নেমে দরজা খুলতে গেলাম। _______পর্ব:-৬__________ দরজা খুলে দেখলাম সামনে দাঁড়িয়ে আছে পর্সিয়া। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম: --আপনি?" রহস্যভঙ্গিতে হাসি দিয়ে পর্সিয়া বলল: --হ্যা আমি, আজকেও এখানে থাকবো।" বলতে বলতে ভেতরে ঢুকলো পর্সিয়া। মাহমুদের রুমে তাকে থাকতে দিলাম। আমি আমার রুমে এসে শুয়ে পড়লাম ব্ল্যাঙ্কেট মুড়ি দিয়ে। একটু পর শুরু হলো, সেই ভয়ংকর কণ্ঠের আওয়াজ, যেটা আমাকে এখান থেকে চলে যেতে বলে। প্রথমে একবার কথাগুলো বলে থামার সাথে সাথে স্টপওয়াচটা চালু করলাম। পরেরবার কথাগুলো আবার বলতে শুরু করার সাথে সাথে স্টপওয়াচ বন্ধ করলাম, দেখলাম দুইবার কথাগুলো বলতে মাঝখানে ১৬ সেকেন্ড সময় নিয়েছে কণ্ঠটা। এটা থেকে একটা ক্লুু বের করতে হবে। এইজন্য আরো দু'একদিন এটা নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। . . পরদিন মাহমুদকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসলাম। মোটামুটি সুস্থ সে। তবে আরো রেস্ট নিতে হবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে। মাহমুদকে বাংলোতে রেখে আমি বের হলাম বাইরে। এলাকাটা একটু ঘুরে দেখতে হবে। নতুন এলাকা, এখনও ঘুরে দেখা হয়নি। চোখে বাইনোকুলার লাগিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম এলাকাটা। হঠাৎ পেছন থেকে একটা মেয়ে ডাক দিলো: --হেই মিস্টার জিনিয়াস...." পেছনে ঘুরে দেখলাম, শিখা এগিয়ে আসছে আমার দিকে। তাকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম: --ও শিখা, কেমন আছেন???" --ভালো, তো এদিকে কোথায় যাচ্ছেন?" --এই তো, আপনাদের এলাকাটা একটু দেখছি।" --চলুন, আমিও আপনাকে সঙ্গ দিচ্ছি।" --ওয়েল, পাশে সুন্দরী মেয়ে থাকলে মন্দ হবেনা।" --আমি কিন্তু মোটেও সুন্দরী না..... আপনি শুধু শুধু বাড়িয়ে বলছেন।" --মোটেও বাড়িয়ে বলিনি, আপনার মতো সুন্দরী আমার চোখে খুব কম পড়েছে।" আমার কথা শুনে শিখা লজ্জায় মুখ নিচু করে ফেললো। সত্যি মেয়েটা অসম্ভব সুন্দরী। লজ্জা পেলে তাকে আরো বেশি সুন্দর লাগে। শিখা মুখ নিচু করেই বললো: --আপনিও কিন্তু কম সুন্দর না,, আর বুদ্ধিমানও বটে" --থাক থাক,, আর ফুলাবেননা প্লিজ...... এতো পাম্প সহ্য করতে পারবোনা। আচ্ছা, একটা কথা বলবেন?" --কি কথা?" --মাহতাব সিকদার লোকটা কেমন?-- মাহতাব সিকদার লোকটা কেমন?" --বদের হাড্ডি একটা। প্রচন্ড লোভী। অন্যের সম্পদের উপর তার প্রচন্ড লোভ। চলুন, আমরা ঐদিকে যেতে যেতে কথা বলি।" --হুমমম..... চলুন।" হাটতে হাটতে আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সক্রিয় হয়ে উঠলো। মনে হলো কেউ যেন আমাদের অনুসরণ করছে। পেছনে ঘুরে তাকালাম, দেখলাম দুইজন লোক আমাদের পিছু পিছু আসছে। আমরা থামলে ওরাও থামে, আমরা হাটলে ওরাও হাটে। ঐ দুইজনের একজনকে আমি মাহতাব সিকদারের বাসায় দেখেছিলাম। ব্যাপারটা কি? ওরা আমাদের পিছু নিলো কেন?" শিখা বললো: --ফিরে চলুন, ঐ লোকদুটো ভালোনা।" --চেনেন নাকি ওদের?" জিজ্ঞেস করলাম আমি। --হ্যা চিনি। একজন মাহতাব সিকদারের অফিসে চাকরি করে, আর বেটে করে লোকটা মাহতাব সিকদারের বাসায় কাজ করে।" --কিন্তু, অফিসের লোকের সাথে বাসার লোকের কি সম্পর্ক? কোথাও তো গন্ডগোল রয়েছে......" --আরে চলুন তো, এখানে থাকা নিরাপদ নয়।" শিখা উত্তেজিত হয়ে উঠলো। --কেন? আমার জন্য দুশ্চিন্তা হয় বুঝি আপনার?" --হবেই তো..... কারণ..... --কারণ?? --কারণ..... আমি জানিনা। চলুন তো এখান থেকে..... --আচ্ছা, চলুন... . . বাংলোতে ফিরে এলাম। মাহমুদের পাশে গিয়ে বসলাম। জিজ্ঞেস করলাম: --কিছু খেয়েছিস?" --না, ভাইয়া,,, আপনার জন্য ওয়েট করছিলাম। আপনাকে ফেলে কি করে খাবো বলুন?" --চল, খাবি....." মাহমুদ উঠলো। দু'জনে বসে ডিনারটা সেরে নিলাম। তারপর মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে বললাম: --মাহমুদ, এইবার বলতো, ঐদিন আসলে কি হয়েছিল?" মাহমুদ বলতে শুরু করল: --ঐদিন আমি মাহতাব সিকদার সম্পর্কে লোকজনের কাছে জানতে চাইলে, উনার ছেলে আমার উপর ক্ষোভ দেখায়। আমি পাত্তা না দিয়ে লোকজনের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করি, শুধু এটুকু জানতে পারছি, ভাই এর নিখোঁজের পর মাহতাব সিকদার কয়েকদিন লোকদেখানো কান্না করেন। তারপর স্বাভাবিক হয়ে যান। লোক লাগিয়ে বাংলোর দক্ষিণ দিকের পাহাড় কাটেন। ওখানে নাকি গুপ্তধন ছিলো। ওনি নাকি পেয়েছিলেনও গুপ্তধন। পরে তিনি আরো বেশি সম্পদের মালিক হন। এরপর এই বাংলোটা বিক্রি করে দেন। তিনি ফিল্ম ডিরেক্টর হন।" --আচ্ছা, কোন ধরণের ডিরেক্টর উনি জানতে পেরেছিস?" --হরর ফিল্ম ডিরেক্টর।" --তারপর বল..... --তারপর আর বেশি কিছু জানতে পারিনি। এটুকু জেনে ফেরার সময় সন্ধ্যা হয়ে গেছিলো, টিলার উপর উঠার সময় মাহতাব সিকদারের বড় ছেলে আমার পথ আটকায়। হাতে তার ধারালো চুরি, আমাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই সে আমাকে আঘাত করে। আমি মাটিতে পড়ে ছটফট করতে থাকি। হঠাৎ কোথা থেকে একটা মেয়ে এসে মাহতাব সিকদারের ছেলেকে টানতে টানতে নিয়ে যায়। তারপর আমার আর কিচ্ছু মনে নাই।" --কিন্তু মেয়েটা কে ছিল?" --আমি চিনিনা। কখনো দেখিনি।" --পুরো ব্যাপারটা কেমন জানি ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে।" দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ হলো হঠাৎ। দরজা খুলে দিলাম। পর্সিয়া দাঁড়িয়ে আছে দরজার ওপাশে। তাকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম: --আপনি আবারও এসেছেন?" --হ্যা, আসলাম। কেন ডিস্টার্ব করলাম নাকি?" --না,, কিন্তু আপনি যাওয়ার সময় তো আমাকে না জানিয়ে চলে যান।" --আসলে আমি খুব ভোরে উঠে যায়। তখন তো আপনি ঘুমিয়ে থাকেন।" --আচ্ছা, যাইহোক ভেতরে আসেন।" মাহমুদের রুমে নিয়ে আসলাম ওকে। মাহমুদ তাকে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো: --আরে আপনি?" --চিনিস নাকি উনাকে?" মাহমুদকে জিজ্ঞেস করলাম আমি। --হ্যা, উনিই তো সেইদিন মাহতাব সিকদারের ছেলেকে টেনে নিয়ে গেছিলো। আমি আহত অবস্থায় পড়ে গেলেও উনার মুখটা স্পষ্ট দেখেছিলাম সেদিন....... মাহমুদের দিকে তাকিয়ে পর্সিয়া জিজ্ঞেস করলো: --আরে কেমন আছেন আপনি? কবে ফিরেছেন হাসপাতাল থেকে?" মাহমুদ বললো: --ভালো আছি, আজ ফিরেছি। সেদিন আপনি না থাকলে সে হয়তো আমাকে মেরেই ফেলতো। আপনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।" পর্সিয়া একটা রহস্যময় হাসি দিল মাত্র। আমি মাহমুদকে বললাম: --মাহমুদ তুই আজ আমার সাথে থাকবি, এই রুমে পর্সিয়া থাকবে, তুই যা, আমি আসতেছি।" মাহমুদ যাওয়ার পর পর্সিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম: --মাহতাব সিকদারের ছেলেকে খুন করেছেন কেন?" পর্সিয়া বললো: --আমার মনে হয় আমি ঠিক কাজটিই করেছি, ওর রক্ত দিয়েই তো মাহমুদকে বাঁচিয়েছি। আমি এখন ঘুমাবো, আপনি যান।" পর্সিয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম, তারপর চলে এলাম রুমে। হঠাৎ সেই ভয়ংকর কণ্ঠটা শুনা গেল, প্রতিরাতেই শুনা যায় এটি। প্রথমবার বলে থেমে যাওয়ার সাথে সাথে স্টপওয়াচ চালু করলাম। দ্বিতীয়বার বলতে শুরু করার সাথে সাথে স্টপওয়াচ থামালাম। দেখলাম, আবারও সময় নিয়েছে ১৬ সেকেন্ড। এর মানে এটা মানুষ না? এত নির্ভুল টাইম মেইনটেইন করে মানুষ কথাগুলো বলতে পারবেনা, হয়তো ১৫ সেকেন্ড বা ১৭ সেকেন্ডও হতে পারতো, কিন্তু প্রতিরাতে দুইবার কথাগুলো বলার মাঝখানে সময় নেই ১৬ সেকেন্ড। তারমানে এটা রেকর্ড করা কথা। হয়তো খুঁজলে টেপরেকর্ডার পাওয়া যাবে। --মাহমুদ, চল....... --কোথায় ভাইয়া?" --শব্দটার রহস্য উদ্ধার করতে।" মাহমুদকে নিয়ে বের হলাম রুম থেকে। পাশের রুমে চোখ যেতেই দেখলাম, পর্সিয়া নেই ওখানে....... (চলবে......) লেখক - সোহেল রানা শামী


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ __মিস্ট্রিয়াস__পর্ব 4,5ও6

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now