বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিস্টি প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান muntasir al mehedi (০ পয়েন্ট)

X একদেশে ছিল এক রাজা। রাজার নাই ঠ্যাং। পট্যাং পট্যাং। -- এটা কোন গল্প হল। - তুমিই তো বলেছ তোমাকে গল্প শোনাতে। আমি তো গল্প পারিনা। এটা পারি। তাই এটা বলেছি। -- তাই বলে এই একটা গল্প কয়দিন শুনাবা? - ওকে বাবুনি... তুমি এখন ঘুমাও। আমি কালকেই তোমার জন্য নতুন গল্প বানাব। -- হুহ... লাগবেনা। - বাবুনি রাগ করোনা। রাগ করলে ঘুম আসবেনা। -- তাই বুঝি। - হ্যাঁ। -- তাহলে রাগ করবনা। তুমি কিন্তু কালকেই নতুন গল্প শুনাবা। - হ্যাঁ অবশ্যই। -- মনে থাকবে? - অবশ্যই। -- তুমি তো জানোই তোমার গল্প না শুনলে আমার ঘুম আসেনা। - জানি বাবুনি... সে জন্যেই কালকে তোমাকে নতুন গল্প শোনাব। -- আচ্ছা। রাখছি। - ওকে। বাই। গুড নাইট। . মেয়েটা অনেক সরল। অবুঝ মেয়ে। অনেক বায়না ধরে। সব বায়না আমি হাসি মুখে পালন করি। কারন আমি ওকে ভীষণ ভালবাসি। আমার কন্ঠে গল্প না শুনলে নাকি তার ঘুমই আসেনা। তাই ওকে প্রতিদিন গল্প শোনাই। আমি মাসুম। ওর নাম ইতি। আমি ওকে বাবুনি বলেই ডাকি। ওকে প্রথম দেখি আমার বন্ধুর বাড়িতে। বন্ধুর কাজিন। তখন থেকে আমি ওকে ভীষন পছন্দ করতাম। ওকে দেখেই বোঝা যায় ও ভীষণ অবুঝ। কলেজে পড়ে কিন্তু তার ভেতর থেকে ছেলেমানুষি ভাবটা এখনো যায়নি। আমি তাকে এই জন্যেই এতটা ভালবাসি। ওর অদ্ভুত বায়না গুলো পুরন করতে আমি অনেক পছন্দ করি। যদি না পারি তাহলে নাক ফুলিয়ে বসে থাকে। আর চোখটাকে জলভরা দিঘী বানিয়ে ফেলে।আমি তখন সেই দিঘীর পানি গুলো কে আমি অন্যকোথাও পড়তে দিইনা। আমার হাতের উল্টো পিঠেই মুছে যায়। সেদিন ওকে নিয়ে ঘুরতে বেরোলাম। রিকশায় বসে ওর কথা শুনছি -- মাসুম - বল বাবুনি -- তুমি অনেক পঁচা - কেন আমি কি করেছি -- তুমি আমার দিকে একবারো তাকিয়ে বললেনা আমাকে কেমন লাগছে। - বাবুনি সুন্দরকে সুন্দর বলতে নেই। অবশ্য সব ক্ষেত্রে না। -- বুঝিনা তোমার এত জটিল কথা। বুঝিয়ে বল। - আচ্ছা বলছি, আমি যদি এখন তোমাকে সুন্দর বলি তাহলে তুমি ভাববা যে তুমি তো এমনিতেই সুন্দর। তাই আর চাঁদবতী হয়ে আমার সামনে আসবেনা। সুন্দর বলছিনা কারন যাতে তোমার মনে হয় তুমি সুন্দর না।তাই চাঁদবতী হবার চেষ্টা করবা।তাই তুমি চাঁদবতী হয়েই আমার সামনে আসবা। আর আমি আমার চাঁদবতীটাকে দেখেই যাব। -- চাঁদবতী কি? - যে দেখতে চাঁদের মত সুন্দর তাকে চাঁদবতী বলে। -- আমি চাঁদবতী? - হুম... তুমি চাঁদবতী। -- তাহলে তুমি সুর্য্যবতী কথাটা শুনে অনেক হাসি পায় আমার। কিন্তু চেপে রাখি। বাবুনির মনে কষ্ট যাবে। তাই বলি - সুর্য্যবতী কি বাবুনি? -- যে দেখতে সুর্য্যের মত সুন্দর তাকে সুর্য্যবতী বলে। - ও। বাবুনি তুমি কবে বড় হবে? -- আমি কি বড়না? - না। তুমি আমার পিচ্চি বাবুনি। -- এই আমি পিচ্চি? - না না। কে বলেছে? -- তুমি বলেছ। তোমার সাথে আড়ি।সরে বস। অবুঝ বাবুনিটা অভিমান করেছে। আমার দিকে তাকাচ্ছেই না। ওর তো অভিমান ভাঙতে হবে। আমি আস্তে করে ওর হাত আলতো করে ছুঁই। ও কিছু বলছেনা। - বাবুনি -- আমি আড়ি দিছি - স্যরি। -- লাগবেনা - আচ্ছা তুমি পিচ্চি না। তুমি বুড়ি -- কি আমি বুড়ি - না তুমি আমার বাবুনি। -- এতক্ষন বলনি কেন? - স্যরি বাবুনি। এবারের মত ক্ষমা করে দাও। -- আচ্ছা। এখন একটু শক্ত হয়ে বস। আমি তোমার কাঁধে মাথা রাখব। - কেন বাবুনি। শরীর খারাপ লাগছে? -- না। - তাহলে? -- আমি শান্তি পাব। তোমার কাঁধে মাথা রাখলে আমি শান্তি পাই। আমি ওর মাথাটা আমার কাঁধের উপর রাখি। ও আমার হাত শক্ত করে ধরে আছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি আমি অদৃশ্য হয়ে যাব।অবুঝ একটা মেয়ে। আমাকে সুর্য্যবতী বানিয়ে দিল!!!! যেটা আমি জীবনেও শুনিনি। ও আমার কাঁধে মাথা দিয়ে চুপ হয়ে আছে। কিছু বলছেনা। বুঝতে পারছি ও শান্তি পাচ্ছে। আমি জানি ওর কাছে আমিই শান্তি নিকেতন। . রাতে খাওয়া দাওয়া করে রুমে এসে বসলাম। টিভিতে রেসলিং খেলা চলছে। আমার প্রিয় একটা খেলা। এমন সময় ইতি ফোন দিয়েছে। রাত প্রায় ১১ টা। - হ্যালো বাবুনি কি কর? -- খাওয়া শেষ করে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। ঘুমাব। গল্প শোনাও। আমি এবার কি করব বুঝতেই পারছিনা। গল্প কোত্থেকে শোনাব। আমি তো পারিনা। এই সময় ঠাকুরমার ঝুলি বইটা থাকলে হত। কি যে করি। - বাবুনি কি গল্প শুনবা? -- রুপকথার রাজকুমারের গল্প। - রাজকুমার কে কি খুব পছন্দ? -- হ্যাঁ অনেক পছন্দ। - ও সে জন্যেই তো বলি বাবুনিটা এখন আমাকে পছন্দ করেনা কেন... বাবুনি রাজকুমার কে পছন্দ করে। -- না মাসুম... আমি তো তোমাকে ভালবাসি। রাজকুমার তো রুপকথার। - রুপকথার না হলে কি রাজকুমারকে ভালবাসতে? -- না না। কি যে বলব। আমি তোমাকে বুঝিয়ে বলতে পারছিনা। আমি জানি এই অবুঝ বাবুনিটা আমায় কখনোই বুঝিয়ে বলতে পারবেনা।কিন্তু আমাকে বোঝাতে অনেক চেষ্টা করে। আপ্রাণ চেষ্টা করে। আর সেই চেষ্টাই হচ্ছে আমার প্রতি বাবুনির ভালবাসা। আমি বুঝি। - আচ্ছা থাক। বোঝাতে হবেনা। আমি জানি তুমি আমাকে অনেক ভালবাসো। -- আচ্ছা এবার গল্প শোনাও। - আচ্ছা শোন। একদেশে ছিল একটা ছেলে আরেক দেশে ছিল একটা মেয়ে। দুজন দুজনকে খুব ভালবাসত। কিন্তু তারা কখনো দেখা করেনি। কথা বলেনি। শুধু ভালবাসে। এটুকু বলে একটু থামি। ইতি চুপ করে আছে। মনোযোগ দিয়ে আমার গল্প শুনছে।আমার খুব হাসি পাচ্ছে। অন্য কেউ হলে এতক্ষনে আমায় প্রশ্ন করে পাগল করে ফেলত। জিজ্ঞেস করত ওদের দেখা না হলে কথা না হলে ভালবাসা হল কিভাবে। একজনের খবর আরেকজন পেয়েছে কিভাবে। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমার অবুঝ বাবুনিটা কিছুই বলছেনা। গভীর মনোযোগ দিয়ে আমার তারছিড়া মার্কা গল্প শুনছে। -- কি হল। চুপ করে আছ কেন.. বল। - তারপর তাদের দুর থেকে বিয়ে হয়। স্বামী একজায়গায় স্ত্রী আরেকজায়গায়। তবুও একে অপরকে ভীষণ ভালবাসে। এক বছর পর তাদের একটা মেয়ে সন্তান ভুমিষ্ট হয়। মেয়েটা মানুষ ছিলনা। পরী ছিল। তোমার মত। কিউট চাঁদবতী। . ইতির কোন আওয়াজ পাচ্ছিনা। শুধু ওর নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। বুঝতে পেরেছি অবুঝ পাগলিটা ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি ফোনটা কেটে দিই। তারপর ইচ্ছে মত হাসতে থাকি। কারন যে গল্প বলছি আমি সে গল্পের আগা মাথা কিছুই নাই। এমন গল্প আমি কিভাবে বললাম আমি নিজেও জানিনা। তবু খুব ভাল লাগছে আমার এই আজগুবি গল্প শুনেও বাবুনি সন্তুষ্ট। নীরবেই ঘুমিয়ে পড়েছে। . ইতিকে আমি অনেক কেয়ার করি। ওকে কখনোই অবহেলা করিনা। ওর একটু হাসির জন্য আমি নিরলস পরিশ্রম করতেও রাজি। আমি জানি এখনকার যুগের অন্য আট দশটা মেয়ের মত সে রোমান্টিক না। কিন্তু তাতে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই। ওযে অবুঝ মেয়ে এটুকুতেই আমি সন্তুষ্ট। আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ওর অবুঝ পাগলামি কি যথেষ্ট নয়!!! আমি ওর মত অবুঝ মেয়েকে নিয়ে অনেক হ্যাপি। অনেক। . সেদিন ইতির কলেজে গিয়েছিলাম। ওকে কলেজ থেকে পিক করে ওর বাসায় ড্রপ করে দেব।রিকশায় বসে আছি। আমরা কথা বলছিলাম। হঠাত ফুচকার দোকান দেখে ইতি জোরে বলল -- এই মাসুম রিকশা থামাও। ফুচকা খাব। - কোথায়? -- ঐ যে ফুচকার দোকান দেখা যাচ্ছে। আমি রিকশা থেকে নেমে ইতিকে নিয়ে ফুচকার দোকানে গিয়ে দুইটা ফুচকার অর্ডার করি।ইতি বলে না দুইটা লাগবেনা। একটাতেই হবে। আমরা দুজন মিলে খাব।ইতির হাতে ফুচকার প্লেট তুলে দিছি। বললাম - খাও -- না তুমি খাইয়ে দাও। - আচ্ছা দিচ্ছি। আমি অবুঝ বাবুনিটা ফুচকা খাইয়ে দিচ্ছি। মাঝে মাঝে দু একটা আমিও খাচ্ছি। হঠাত ইতির চোখ মুখ লাল হয়ে যায়। বুঝতে পেরেছি ওর ঝাল লাগছে। কিন্তু সে ঝাল সহ্য করতে পারেনা সেটা আগে আমার জানা ছিলনা। ওর দুচোখে পানি চলে এসেছে ঝালের কারনে।আমি তাড়াতাড়ি করে রুমাল বের করে ওর চোখের পানি মুছে দিলাম। ইতি তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি বললাম - আরে আগে বলবে তো তুমি ঝাল সহ্য করতে পারোনা। তাহলে ঝাল কম দেয়ার জন্য বলতাম। -- ভালই হয়েছে। ঝাল কম দিলে তো তুমি রুমাল দিয়ে আমার চোখের পানি মুছে দিতেনা। আমি ওর অবুঝ অবুঝ কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। কিছু বললাম না।ওকে বাসায় পৌঁছে দিলাম। . রাতে ইতির সাথে কথা বলছি। ইতি খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়ল। এখন আমার গল্প শুনবে। -- হ্যালো - হ্যা বল -- গল্প শোনাও। আমি ঘুমাব। এই অবুঝ মেয়েটাকে নিয়ে আর পারিনা। এখন কি বলব। কাল তো একটা গাঁজাখুরি গল্প শুনিয়েছি। এখন তো কিছুই মনে পড়ছেনা।কি বলব ভেবে পাচ্ছিনা। আমি জানি গল্প শেষ হবার আগেই ইতি ঘুমিয়ে পড়বে। - আচ্ছা গল্প পরে বলছি। গান শুনবে? -- তোমার? - হ্যাঁ -- হ্যাঁ হ্যাঁ শুনব . তোর দুহাতে দিলাম তুলে আমার স্বপ্নদিন ভালোবাসার আবির মেখে রাখিস অমলিন মন জোনাকির শহরে রং জোছনার প্রহরে আমি শুধু পেতে চাই তোকে অন্তহীন,,,তোকে অন্তহীন। . -- অনেক সুন্দর হইছে। তুমি গান গাইতে পারো আগে বলোনি কেন? - আগে বললে কি হত? -- তাহলে ঘুমানোর আগে তোমার গান আর গল্প দুইটাই শুনতাম। - এএএএ কি? -- এএ এএ করে লাভ নেই। এখন গল্প শোনাবার পালা। গল্প শোনাও। বড্ড জেদি আমার অবুঝ বাবুনিটা। ওর মিষ্টি জেদ গুলো আমি হাসিমুখে পুরন করি। আমি জানি অবুঝ মেয়েটার কাছে আমিই পৃথিবী। আমার কাছে তার চাহিদা প্রকাশ করে। আমিও সেই চাহিদার যোগান দিই। আমি চাইনা আমার কারনে ওর মন খারাপ হোক। তাই ও যা বলে আমি তাই করার চেষ্টা করি। এখন গল্প শুনতে চেয়েছে।কিন্তু আমার মাথায় কোন গল্প নেই। তবুও আমার বাবুনিকে তো গল্প শোনাতেই হবে। ওর কথার মুল্য তো দিতে হবে নাকি। আমি জানি পুরো গল্প শেষ হওয়ার আগেই সে ঘুমের দেশে চলে যাবে। তাই ঘুমানোর আগে ওর মন খারাপ করে দিতে চাইনা। তাই আমিও গল্প শুরু করে দিলাম। একদেশে ছিল এক রাজা.........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিস্টি প্রেমের গল্প :বাই মামুন (RM)
→ মিস্টি প্রেমের গল্প
→ মিস্টি প্রেম
→ মিস্টি প্রেম
→ আকাশ আর মৌ-এর গল্প (একটা মিস্টি প্রেমের মিস্টি গল্প)
→ আকাশ আর মৌ-এর গল্প (একটা মিস্টি প্রেমের মিস্টি গল্প)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now