বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
'মিস্টার ইয়ে'
.
বৃষ্টি হচ্ছে সারাদিন। আজ আমার জরুরি
কাজ আছে। পাত্রী দেখতে যাব। বাপের
বন্ধুর মেয়ে। ট্রেনের টিকিট কাটাও হয়ে
গেছে। ভিজেটিজে ট্রেনে উঠলাম। ট্রেনে
উঠেই প্রথমে খেয়াল করি আমার পাশের
সিটে কে? মেয়ে হলে তো কথাই নাই। ভাগ্য
কখনোই সুপ্রসন্ন হয়না। আজ মনে হয়
হয়েছে। পাশে শ্যামলাবতী এক মেয়ে।
আমার সিটে বসে আছে।
.
- এক্সকিউজ মি, সিটটা আমার।
- আপনি এখানে বসেন প্লিজ। জানালার
সিট আমার পছন্দ না।
মেয়ের এই কথা শুনে তাজ্জব হয়ে গেলাম।
কারো যে জানালার সিট অপছন্দ হতে
পারে এই প্রথম শুনলাম। যাই হোক, আমি
জানালার সিটেই বসলাম।
.
ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। আকাশে কালো মেঘ
আর বৃষ্টি। দুপুরেই পরিবেশ অন্ধকার হয়ে
গেছে। পাশে অপরিচিত মেয়ে থাকলে আমার
অস্বস্তি লাগে। মেয়েটা যেন সেটা বুঝে
ফেলেই বলল,
- আপনার কি অসুবিধা হচ্ছে?
- মোটেও না।
- দেখেতো তাই মনে হচ্ছে। কেমন যেন
জড়সড় হয়ে বসে আছেন।
- না মানে ইয়ে ঠিকই আছি।
- নাম কি আপনার?
- তনয়। আপনার?
- যা ধরা যায় না।
- মানে?
- অধরা। অধরা আমার নাম।
- ওহ আচ্ছা।
- তা কোথায় যাচ্ছেন?
- মেয়ে দেখতে। ইয়ে মানে না, একটা কাজে
আরকি!
- হিহিহি! সত্য কথা মুখ ফসকে বের হয়ে
যায়। তা পাত্রী দেখতে যাচ্ছেন ভাল তো।
- হ্যাঁ। বাবার বন্ধুর মেয়ে। অনার্স শেষ
করেছে সবে। মেঘলা মেয়ের নাম।
- কখনো প্রেম করেছেন?
- নাহ। আপনি?
- হ্যাঁ করছি তো। এখন করছি আপনার
সাথে।
- হাহাহা। আপনি খুব ফাজলামো করতে
পারেন।
- ফাজলামি করি। কিন্তু রাগও আছে
সেইরকম। জানালাটা লাগিয়ে দেন তো।
বৃষ্টির ঝাপটা আসছে।
.
আমি জানালা লাগিয়ে দিয়ে বললাম,
- বৃষ্টি পছন্দ না?
- পছন্দ কিন্তু সবসময় না।
- কেন?
- জানিনা। বৃষ্টির সময় আমার খুব গান
গাইতে ইচ্ছা করে।
- ওয়াও শোনান একটা।
- শোনাব। তবে এখন না। বিয়ের পর।
- মানে?
- মানে বুঝেন না? আপনার সাথে বিয়ের পর
প্রথম বৃষ্টির দিনে আপনাকে গান
শোনাব।
- হাহাহা। আপনি আবারো ফাজলামি শুরু
করলেন।
- এই যে মিস্টার, আমি কিন্তু মিথ্যা কথা
বলি না।
আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ভড়কে
গেলাম। যেভাবে সিরিয়াস লুক নিয়ে তাকিয়ে
আছে দেখে মনে হল সত্যি সত্যি বলছে।
মেয়েটা তখনি হাসি দিয়ে বলল,
- কি ভড়কে গেলেন?
- না মানে ইয়ে...
- এত যে ইয়ে ইয়ে করেন, যান আপনার নাম
দিলাম 'মিস্টার ইয়ে!'
- হাহা। আমরা কিন্তু প্রায় পৌঁছে গেছি।
- হুম
- আপনার সাথে আর দেখা হবে না?
- এই যে 'মিস্টার ইয়ে' আপনার মতলব কি
শুনি? পাত্রী দেখার আগেই আমাকে
পছন্দ করে ফেললেন নাকি?
- না মানে ইয়ে...
- হিহি। দুনিয়াটা ছোট, দেখা হবে হয়তো
কখনো।
.
স্টেশনে নেমে অধরাকে রিকশায় তুলে
দিলাম।
- আসি তাহলে মিস্টার ইয়ে
- আবার শুরু করলেন?
- হিহি। এখন পাত্রীর বাসায় যাবেন?
- ওকে বেস্ট অফ লাক মিস্টার ইয়ে।
মেয়েটা চলে গেল। আমি তাকিয়ে থাকলাম।
তখন তার একটা কথা মাথায় ঘুরছিল, সে
অধরা। যাকে ধরা যায় না।
.
***
পাত্রীর বাসায় বসে আছি। আর আমার
সামনে আংকেল।
- বাবা তুমিতো ভিজে গেছ। এই মেঘলা,
তাড়াতাড়ি গামছা নিয়ে আয়।
- আংকেল ব্যস্ত হবেন না।
ঠিক তখন পাত্রী গামছা নিয়ে এলো।
আমিতো তাকে দেখেই হতভম্ব। মেয়েটা
যে সেই ট্রেনের অধরা। আমি কিছু বলতে
যাওয়ার আগে আংকেল বললেন,
- মেঘলা কাল তোমাদের শহরেই ছিল।
কত করে বললাম ওখানেই দেখা করে
ফেলতে, তাহলে তোমার কষ্ট হত না।
কিন্তু মেয়ে রাজি না।
- ইয়ে মানে, না আংকেল ব্যাপার না।
- তোমরা তাহলে কথা বলো। আমি আসি।
.
আংকেল চলে গেলেন। মেঘলা বলল,
- আসুন আমার রুমটা দেখুন।
ওর রুমে ঢুকলাম। রুম পরিপাটি। বারান্দায়
টবের মেলা।
- তা আপনি মিথ্যা বললেন কেন মেঘলা?
- কি মিথ্যা বললাম?
- নামটাই তো মিথ্যা ছিল।
- ভাগ্যিস নামটা সত্য ছিল না। তাহলে
তো আমাকে খুঁজেই পেতেন না।
- ইয়ে মানে ইয়ে...
- কি মিস্টার ইয়ে, বিয়ে করবেন আমাকে?
- হ্যাঁ।
.
বৃষ্টিটা আবার শুরু হয়েছে। মেঘলা গান
ধরেছে, "এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে
নাতো মন...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now