বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশরীয় গুপ্তধন-২০

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্পাই থ্রিলার, মিশরীয় গুপ্তধন আবুল ফাতাহ মুন্না ---------------- (পর্ব-২০) ----------- এগারো লুইজিয়ানা,ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা। সাদা চোখে একতলা বাড়িটা একেবারেই সাদামাটা।কোনো বিশেষত্ব নেই,সাধারন।তবে সেটা ততক্ষন পর্যন্ত যতক্ষন না কেউ বাড়িটাতে অনুপ্রবেশ করতে যাচ্ছে।কেউ বাড়িটাতে অনুপ্রবেশ করতে চাইলে সাথে সাথেই সে বুঝতে পারবে বাড়িটা আসলে দুর্গের মতই দুর্ভেদ্য।চারদিকে সাত ফুট উঁচু দেয়ালে ঘেরা।উপরে দেড় ফুটের ইলেক্ট্রিফায়েড ফেঞ্চ।বাউন্ডারির ভেতরে বিশালাকৃতির চার এলসেশিয়ান নিয়ে পাহারা দিচ্ছে চারজন গার্ড।গার্ডদের পরিচয় জানলে যে কেউ ভিমড়ি খাবে।এরা চারজনই আমেরিকান আর্মির ব্ল্যাক অপস কমান্ডো ইউনিটের সদস্য।দুর্ধর্ষ ট্রেনিং এদের করে তুলেছে রোবটের মত কর্মক্ষম এবং আবেগবর্জিত। এই বাড়িটা তারা গত এক সপ্তাহ ধরে পাহারা দিয়ে চলেছে এক ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ভিআইপির নাম,প্রফেসর আইজ্যাক কোহেন।দুনিয়ার হাতেগোনা কয়েকজন নিউক্লিয়ার সায়েন্টিস্টদের একজন। প্রফেসর কোহেনের জন্ম,নিবাস ইসরাঈলে। ইসরাঈলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত অত্যন্ত গোপন এক গবেষনাগারে এক বিশেষ রিসার্চ প্রজেক্টে গত দু’বছর ধরে ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করে আসছিলেন তিনি।শত গোপনীয়তার পরও প্রজেক্টটা শুরু হবার পর থেকেই কিভাবে যেন সুপার পাওয়ারগুলো এই রিসার্চের খবর জেনে যায়।বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি,তবে এই প্রজেক্টটা সফল হলে নিউক্লিয়ার সায়েন্সের ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে সেটা সবাই আঁচ করতে পারে।ইসরাঈল হয়ে উঠবে পারমানবিক শক্তিতে অজেয়।তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় এই রিসার্চে সুপার পাওয়ারগুলোর উঁকি মারার প্রতিযোগীতা।একাধিক স্যাবোটাজের ঘটনাও ঘটে। তবে শুরু থেকেই এই প্রজেক্টের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল মোসাদের হাতে।মোসাদের সাথে টেক্কা দিয়ে এই প্রজেক্টের ক্ষতি কিংবা হেঁশেল থেকে কিছু হাতাতে পারেনি সুপার পাওয়ারগুলো। উপরে উপরে যতই বন্ধুত্ব থাক,এই প্রজেক্ট যেকোনো মূল্যে হাত করা কিংবা নিদেনপক্ষে স্যাবটাজ করার ব্যাপারে সবচাইতে বেশি উৎসাহ আমেরিকারই ছিল।তবে পরিস্থিতি আচমকা এভাবে মোড় নেবে কেউ কল্পনাও করেনি। ঘটনার শুরু দুই সপ্তাহ আগে। এই প্রজেক্টটা ছিল তিন বছরের।নিরাপত্তার স্বার্থে এই তিন বছরে প্রজেক্টের প্রধান কয়েকজন রিসার্চারের জন্য পরিবারের সাথে দেখা করার সুযোগ ছিল না বললেই চলে।শুধু তিন বছরের গোটা মেয়াদে বছরে একবার একদিনের জন্য পরিবারের সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল,তাও সেটা মোসাদের কড়া পাহারায়।রিসার্চাররা খুশি মনেই রাজি হয়েছিলেন।না হবার কোনো কারণই নেই। যে পরিমাণ টাকা তাদের এই প্রজেক্টের জন্য দেয়া হবে তাতে করে পরের প্রজন্মও বসে খেতে পারবে।এছাড়াও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং যাবতীয় প্রয়োজন পূরণের দায়িত্ব সরকার নিয়ে নিয়েছিল।ভালই চলে গেল এভাবে দুবছর।আর মাত্র কয়েক মাস পরই প্রজেক্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তবে মেয়াদ শেষ হবার দু’এক মাস আগেই সফলতার সাথে প্রজেক্টটি সম্পন্ন করতে পারবেন বলে আশাবাদী প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রফেসর আইজ্যাক কোহেন। শেষ বছরের ছুটি কাটাতে দু’সপ্তাহ আগে বাড়ি এসেছিলেন আইজ্যাক কোহেন।রিসার্চ সেন্টারের তুলনায় বাড়িতে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় একটু শিথিলতা ছিল।এরই সুযোগে ঘটে যায় এক অঘটন।অজ্ঞাত পরিচয় একটি কমান্ডো টিম অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায় প্রফেসর আইজ্যাক কোহেনকে।অন্তত হামলাকারীরা তারা সেটাই বোঝাতে চেয়েছিল।কিন্তু মোসাদ খোঁজ খবর নিতেই জানা গেল সব। শুরু থেকেই আমেরিকার হয়ে কাজ করে আসছিলেন প্রফেসর কোহেন।বয়োজোষ্ঠ এই মানুষটি দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে আসছিলেন ইয়াসরাইলের বিভিন্ন টপ সিক্রেট সামরিক সায়েন্স প্রজেক্টে।অন্য যেকোনো সায়েন্টিস্ট এর চাইতে অনেক বেশি বিশ্বস্ত ছিলেন কোহেন।এই বিশ্বস্ততার সুযোগেই বিক্রি হয়ে যান তিনি।প্রজেক্টের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে আসার সাথে সাথেই ছোবল বসান তিনি ইসরাঈলের ঘাড়ে।তবে এত সুযোগ সুবিধা পাবার পরও কেন এমন ভয়াবহ সিদ্ধান্ত তিনি নিলেন সেটা জানতে পারেনি মোসাদ।তবে এটা যে কিডন্যাপ না বরং কোহেনের স্বেচ্ছা বেইমানী সেটা মোসাদ বুঝে ফেলে ঘটনার দিনই।কারণ যত হাইলি ট্রেইন্ড কমান্ডো ইউনিটই হোক না কেন,ভেতরের সাহায্য ছাড়া মোসাদের মত একটি সংস্থার বিরুদ্ধে এমন একটি অপারেশন পরিচালিত করা দুঃসাধ্য।কাজটা কাদের সেটা জানতেও বেগ পেতে হয়নি মোসাদের।তবে আমেরিকার সাথে যতই সুসম্পর্ক থাকুক না কেন,এক্ষেত্রে তার কোনটাই কাজে আসবে না।কুটনৈতিক পর্যায়ে ব্যাপারটা মীমাংসা করার কোনো সুযোগ নেই। আমেরিকা আসবার পর কোহেনকে প্রথম এক সপ্তাহ রাখা হয়েছিল আর্মির একটি সুরক্ষিত বেস-এ।কিন্তু কোনো সিভিলিয়ানকে এভাবে সামরিক বেস-এ রাখার নিয়ম নেই।গত সপ্তাহে তাকে লুইজিয়ানার এই বাড়িটাতে পাঠানো হয়।চারজন কমান্ডো তাকে দিন রাত পাহারা দিয়ে চলেছে। বাড়িটার খুব কাছেই পুলিশ স্টেশন।যেকোনো পরিস্থিতিতে একটামাত্র বাটন প্রেস করলেই পাঁচ মিনিটের মধ্যে জায়গাটা পুলিশে ছেয়ে যাবে। এই মুহূর্তে আইজ্যাক কোহেন নিজের রুমে বসে আছেন।হাতে হুইস্কির গ্লাস।কিছুটা চিন্তিত দেখাচ্ছে তাকে।কোহেন স্বাধীনচেতা মানুষ। সব সময়ই স্বপ্ন দেখে এসেছে নিজের ইচ্ছেমত রিসার্চ করবে।নিজের একটা ল্যাব থাকবে।কিন্তু নিউক্লিয়ার সায়েন্টিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করবার সাথে সাথেই সরকার যেন তাকে জিম্মি করে ফেলল।একের পর এক সরকারি প্রজেক্টে কাজ করাতে একরকম বাধ্যই করে বসে।নিজের স্বাধীনতা বলতে কিছুই থাকল না।একটা প্রজেক্ট শেষ হবার পরই আরেকটা প্রজেক্টে মুখ গুঁজতে হত।তবে বিনিময়ে তিনি পেয়েছেনও কম না।অর্থ,খ্যাতি,যশ।কিন্তু একজন আপাদমস্তক বিজ্ঞানীর কাছে এসবের মূল্য নিতান্তই কম।আইজ্যাক কোহেনের বয়স বর্তমানে পঞ্চান্ন।পনেরো বছর ধরে তিনি এক রকম গোলাম হয়ে আছেন ইসরাঈলের কাছে।এই দুঃখ তিনি কখনই ভুলতে পারেননি।বছর তিনেক আগে একদিন বারে বসে মাতাল হয়ে এসব নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন স্বল্প পরিচিত এক বন্ধুর কাছে।জানতেন না,সেই লোকটা ছিল সিআইএ’র আন্ডার কাভার এজেন্ট। দু সপ্তাহ পর যোগাযোগ করা হয় আইজ্যাক কোহেনের সাথে। প্রস্তাব দেয়া হয় আমেরিকার হয়ে কাজ করতে।বিনিময়ে তাকে দেয়া হবে নিরাপত্তা আর গবেষনার পূর্ন স্বাধীনতা। সেই সাথে এখন যা পাচ্ছেন সেটা তো পাবেনই।কিছু নয়া ভেবেই মানা করে দেন তিনি। এর কয়েকদিন পর তিনি সরকারের কাছে আবেদন করেন তাকে একটা ল্যাব দিতে।উপযুক্ত সাহায্য এবং স্বাধীনতা পেলে তিনি নিউক্লিয়ার সায়েন্সের গতিপথ বদলে দেবেন।কিন্তু সরকার তার প্রজেক্ট ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের প্রজেক্ট বানিয়ে ফেলে সেটাকে।তাকে ডিরেক্টর করে পাঠিয়ে দেয় মরুভূমিতে।তিনি এমনটা চাননি কখনও। চেয়েছেন নিজের মত করে রিসার্চ করতে।কিন্তু সেটা হয়নি।প্রতি মুহূর্তে সরকার তার কাজে নাক গলিয়েছে। প্রতিশোধের সুযোগ খুঁজতে থাকেন তিনি।প্রথম বছরের ছুটি কাটাতে নিজ বাড়িতে এসেই তিনি যোগাযোগ করেন সিআইএর সাথে। কিন্তু সিআইএ তাকে পরামর্শ দেয়,এই প্রজেক্টের নাড়ি নক্ষত্র সাথে নিয়েই যেন তিনি আমেরিকায় পাড়ি জমান।তাতে করে সব কিছু নতুন করে শুরু করার ঝামেলা পোহাতে হবে না কাউকেই। এরপর কোহেনকে সন্দেহ মুক্ত রাখবার জন্যই স্যাবটাজ অব্যাহত রাখে সিআইএ। আমেরিকা পালিয়ে আসার আগে প্রজেক্টের সমস্ত কাগজপত্র নষ্ট করে দিয়ে এসেছেন প্রফেসর আইজ্যাক কোহেন।এমনভাবে নষ্ট করেছেন,টের পেতেই অন্যান্য রিসার্চারদের কয়েকদিন লেগে যাবে।আসল ডকুমেন্টসহ আইজ্যাক কোহেন তখন আমেরিকায়। আজ কোনো আক্ষেপ নেই কোহেনের।শুধু দুঃখ স্ত্রীকে আর দেখা হবে না কখনও। তবে সেজন্য একবারে আহামরি কোনো কষ্টও হচ্ছে না তার।তার স্ত্রী এমনিতেই বুড়ি হয়ে গেছে।কোনো সন্তানও তাকে দিতে পারেনি।এখানে একটু সেটেল হলেই নতুন করে জীবন শুরু করবার চিন্তা ভাবনা তার। সবমিলিয়ে চিন্তার কোনো কারন না থাকলেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি খানিক চিন্তিত।যে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে তাতে করে ভয়টা উড়িয়ে দেয়া চলে।কিন্তু কেন যেন উড়িয়ে দিতে পারছেন না। মোসাদ ছেড়ে কথা কইবে না তাকে। হাতের হুইস্কির গ্লাস নিয়ে জানালার কাছে চলে এলেন তিনি।এই বাড়ির আশেপাশে অনেকদুর পর্যন্ত কোনো বহুতল ভবন নেই।স্নাইপার নিয়ে কেউ ওত পেতে থাকবে এমন কোনো সম্ভবনা নেই।বাড়িটার চারপাশ উজ্জল ফ্লাড লাইটের আলোয় ভেসে যাচ্ছে।আঙ্গিনায় কোনো ঝোপঝাড় নেই।মরুভূমির মত ফাঁকা।বাড়ির চারপাশেই চারজন কমান্ডো পুরো দস্তুর সামরিক সাজে সজ্জিত হয়ে হাতে এমসিক্সটিন নিয়ে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।পাশে পাশে হাঁটছে ভয়ংকরদর্শন একটা করে এলসেশিয়ান। সন্ধ্যার পর থেকেই টহল শুরু হয়।দিনে দুজন দুজন করে পালা করে ঘুমিয়ে নেয় গার্ডরা।সারারাত চিতার মত নিঃশব্দে পুরো বাড়ি ঘিরে চক্কর দিতে থাকে ওরা। দরজায় মৃদু টোকার আওয়াজ শুনে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালেন তিনি।দরজায় উঁকি দিয়েছে জেফরি। জেফরি জনসন।ছেলেটাকে বেশ পছন্দ হয়ে গেছে আইজ্যাক কোহেনের।এখানকার সিকিউরিটি ইনচার্জ।সিআইএর এজেন্ট।বয়স পয়ত্রিশের মত। জেফরি সাধারণত বাড়ির ভেতরেই থাকে।এখান থেকেই পুরো বাড়িটার সিকিউরিটি কন্ট্রোল করে সে।সে ছাড়াও বাড়িতে আরো একজন ওদের রান্নার জন্য রয়েছে।এই লোকটাও আমেরিকান আর্মির একজন সোলজার।প্রতিকূল পরিবেশে জেফরি আর এই লোকটাও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।অর্থাৎ বাড়ির ভেতর এবং বাইরে মোট দুই স্তরে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্বস্তির শ্বাস ফেলে জানালার কাছ থেকে সরে এলেন তিনি।উহু,মোসাদ এখানে সুবিধে করতে পারবে না।নিরাপত্তা নিচ্ছিদ্র। ‘কী খবর,জেফরি?’ ‘স্যার,একটু প্রবলেম।’ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল জেফরি। ভ্রু কুঁচকে গেল প্রফেসর কোহেনের।কেন সেটা অবশ্য বুঝতে পারলেন না তিনি।জেফরির কথা শুনে নাকি অন্য কোনো কারণে? মনটা খচখচ করতে লাগল। ‘কী হয়েছে?’ প্রশ্ন করলেন তিনি। ‘স্যার,আজ বিকেলে যখন রুটিন চেকের জন্য বাইরে গিয়েছিলাম,তখন একটা ব্যাপারে একটু খটকা লেগেছে আমার।’ প্রফেসর কোহেন জানেন,প্রতিদিন বিকেলে জেফরি বাইরে বের হয়।প্রয়োজনী কিছু কেনার থাকলে কিনে আনে আর বাইরের পরিস্থিতি রেকি করে আসে।বিপদ এলে বাইরে থেকেই আসবে। প্রফেসর কোনো প্রশ্ন করবার আগে জেফরি নিজেই বলে যেতে লাগল,‘আপনার জন্য বই কিনতে শপিংমলে যাবার সময় আমাদের বাড়িটা থেকে এক ব্লক দূরে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম।আসার সময়ও সেই গাড়িটাকে দেখেছি।’ হো হো করে হেসে উঠলেন আইজ্যাক কোহেন।তবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে ভোলেননি। ‘সিআইএ-তে থাকতে থাকতে তোমাদের সবার সন্দেহবাতিক রোগ হয়েছে।একটা গাড়ি দেখেই ভাবছ ওরা আমাকে মারার জন্য লোক পাঠিয়েছে? হা হা হা!’ হাসির দমকে কেঁপে কেঁপে উঠছেন আইজ্যাক কোহেন। হাসতে হাসতেই এক সময় আচমকা জমে গেলেন তিনি।এতক্ষন ধরে খচখচ করতে থাকা প্রশ্নের জবাব পেয়ে গেছেন।জেফরি রুমে ঢোকার পর থেকেই তার বারবার মনে হচ্ছিল কোথাও একটা ঘাপলা আছে। এইমাত্র বুঝতে পারলেন সেটা।জেফরির উচ্চতা! জেফরি লম্বা মানুষ।ঝাড়া ছয়ফুট।কিন্তু আজ কেমন যেন খাটো খাটো মনে হচ্ছিল।তাছাড়া গলার আওয়াজটাও যেন কেমন। জেফরি কথা বলতে বলতে আইজ্যাক কোহেনের পেছনে চলে গিয়েছিল।কথাটা মনে হতেই পেছন ফিরে তাকাতে গেলেন তিনি।সুযোগ পেলেন না। একটা পিয়ানোর সরু তার কোহেনের গলা পেঁচিয়ে ধরল।বাধা দেবার আগেই কেটে বসে যেতে লাগল। এই অস্ত্রটা অত্যন্ত প্রিয় আততায়ীর।একটুকরো সরু তার,দু পাশে দুটো রিং লাগানো।নিঃশব্দে একজন মানুষকে মেরে ফেলতে এর জুড়ি নেই।গলা আক্ষরিক অর্থেই দুভাগ করে দেয়া সম্ভব।তবে ছুড়ির মত বীভৎসতা নেই এতে।মাখনের গায়ে যেভাবে ছুড়ি বসে যায় ঠিক সেভাবে মানুষের গলায় বসে যায় সুক্ষ তারটা।ব্যাপারটা দারুণ উপভোগ করে আততায়ী,আর যাইহোক,নাম তার জেফরি নয়।জেফরি এইমূহুর্তে অর্ধেক কাটা গলা নিয়ে শুয়ে আছে এক ব্লক দূরে রাখা একটা গাড়ির বুটে। আততায়ী গত এক সপ্তাহ ধরেই গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করে যাচ্ছিল এই বাড়ির মানুষদের প্রতিটা মুভমেন্ট।একব্লক দূরে একটা গাড়িতে বসে যতটা পারা সম্ভব আরকি।লক্ষ্য করেছে,প্রতিদিন বিকেলে ওই বাড়ি থেকে এক লোক বাইরে বের হয়। গতকালই মাত্র জানতে পেরেছে লোকটা এই বাড়ির সিকিউরিটি ইনচার্জ।আততায়ী কখনও এক গাড়ি এবং এক স্থান দুবার ব্যাবহার না করায় জেফরির দৃষ্টি আকর্ষিত হয়নি। এই এক সপ্তাহে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে জেফরির প্রচুর ছবি তুলেছে আততায়ী।তারপর সেগুলোর সাহায্যে রাবারের মুখোশ তৈরি করেছে।রাবারের মুখোশ জিনিসটা অত বেশি কাজের না।শুধু চেহারাটাই ঢাকা যায় গোঁজামিল দিয়ে।তাও কাছ থেকে দেখলে ধরা পড়ে যাবার সম্ভবনা থাকে। এছাড়াও দেহাকৃতি,কন্ঠস্বর কিছুই লুকনো যায় না। বাড়িতে প্রবেশের সময় যদিও বিশেষ ধরনের জুতো পড়ে উচ্চতা সমস্যার সমাধান করেছিল আততায়ী,কিন্তু কোহেনের রুমে খালি পায়ে ঢুকতে হওয়ায় একটু দ্বিধা কাজ করছিল আততায়ীর মনে। তবে আইজ্যাক কোহেন আর যাইহোক,গোয়েন্দা নয়। টের পায়নি কিছু।অবশ্য শেষ মুহূর্তে বোধহয় কিছু আঁচ করতে পেরেছিল সে। এইমাত্র শেষ একটা ঝাঁকি দিয়ে নিথর হয়ে গেলেন প্রফেসর আইজ্যাক কোহেন। আততায়ী দেহটাকে একটা কাউচের আড়ালে রেখে বেরিয়ে এল রুম থেকে। ---------- --------------------- ।। একাকি কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিশরীয় গুপ্তধন-২০

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now