বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
“আমাকে মিস ফটোজেনিকের মত লাগছে না?”
চেতন ভগতের THREE MISTAKES OF MY LIFE পড়ছিলাম।আমি বই থেকে চোখ তুলে
তাকালাম। সাম্মী হাসিমুখে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুদিন আগে আমি ওকে
একটা সবুজ রঙের সিল্ক শাড়ি গিফট করেছিলাম। ও শাড়িটা পরে আমার সামনে
দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় অনেক্ষণ ধরে সেজেছে। দারুণ দেখাচ্ছে ওকে।
ওর আজকে এত সাজগোজের কারণটা কি? আজ কি কোনো বিশেষ দিন? আমার দিনক্ষণ খুব
একটা মনে থাকে না। আমি মনে করার চেষ্টা করলাম। আমাদের ম্যারেজডে এপ্রিল
মাসে। এখন চলছে ফেব্রুয়ারি। আমার জন্মদিন জুন মাসে। সাম্মীর ডিসেম্বরে।
তাহলে?
সাম্মী আবার বলল, “ কি ব্যাপার? হা করে তাকিয়ে আছো কেন? বলনা আমাকে মিস
ফটোজেনিকের মত লাগছে কিনা?”
ওর মুখে আবার মিস ফটোজেনিক শব্দটা শুনে আমার হঠাৎ “মিস ফটোজেনিকের” কথা
মনে পরে গেল। মিস ফটোজেনিক অনেকটা ধুমকেতুর মত এসে আমার আবার হারিয়ে
গেছে।
[পূর্বকথা ১]
মিস ফটোজেনিকের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে।ও আমার ঐ
ফ্রেন্ডের কাজিন। ওর নাম নিপা। কিন্তু আমরা ওকে মিস ফটোজেনিক ডাকতাম।
একবার কোন এক মিস ফটোজেনিক কম্পিটিশনে ছবি পাঠিয়েছিল। কিন্তু ওকে সিলেক্ট
করেনি। এরপর থেকে সবাই ওকে মিস ফটোজেনিক বলে ক্ষ্যাপাত। আস্তে আস্তে নিপা
নামটা হারিয়ে গিয়ে মিস ফটোজেনিক নামটাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
মিস ফটোজেনিক শাবিপ্রবিতে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়ত। সিলেটেই থাকে। ছুটিতে
খালার বাসায় ঘুরতে এসেছিল। সামাদ ওর খালাত ভাই। সামাদ একদিন ওকে আমাদের
ভার্সিটি নিয়ে আসে। আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
ও প্রায় এক সাপ্তাহ ঢাকায় ছিল সেবার। এরমধ্যে তিনবার আমাদের ভার্সিটি
আসে। আস্তে আস্তে আমাদের সবার সাথে খুব ভালভাবে মিশে যায়। আমাদের চেয়ে ৩
বছর জুনিয়র হলেও ওর সাথে আমরা সবাই অনেক ফ্রী হয়ে যাই।
একদিন ফেসবুকে সামাদের প্রোফাইলে ওকে পেলাম। এড রিকোয়েষ্ট পাঠালাম। ও
এক্সেপ্ট করল। তারপর মাঝে মাঝে চ্যাট হত। প্রথম প্রথম খুব একটা কথা হত
না। আস্তে আস্তে চ্যাটের দৈর্ঘ্য বাড়তে লাগল। এরপর মোবাইল নাম্বার নিলাম।
কথা হত প্রচুর। সারাদিন যখন তখন ফোন দিতাম। মিস ফটোজেনিকও ফোন দিত। সামাদ
এই ব্যাপারটা জানত না। আমি বুঝতে পারলাম আস্তে আস্তে আমি ওর প্রতি দুর্বল
হয়ে পড়ছি। কিন্তু কিভাবে ওকে ব্যাপারটা বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না।
আমি ওকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম ওর কোনো এফ্যায়ার আছে কিনা। ও জানাল নাই।
আমার এফেয়ার আছে কিনা জিজ্ঞেস করল। আমিও জানালাম নাই। চলতে থাকল আমাদের
কথার ট্রেন। যাত্রী আমরা দুজন।
প্রায় চারমাস ধরে আমরা কথা বলে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমার গ্র্যাজুয়েসন শেষ
হল। একটা চাকরিতে জয়েন করলাম। হঠাৎ একদিন দেখলাম ওর প্রোফাইলে শোভা
পাচ্ছে in a relationship with Ishrak Ahmed। ওকে ব্যাপারটা জিজ্ঞেস
করলাম। ও তখন যা বলল তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।
-প্রায় ৬ বছর ধরে ওর সাথে আমার সম্পর্ক।
-তুমি আমাকে ব্যাপারটা আগে বলোনাই কেন?
-এমনি বলি নাই।
-ও আচ্ছা।
-কেন?
-না কিছু না।
আমি ফোন কেটে দিলাম। আমার খুব কষ্ট লাগছে। কি করব ভেবে পাচ্ছি না। খুব
অসহায় লাগছে নিজেকে। রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারলাম না। এপাশ ওপাশ করতে করতেই
দেখি ভোর হয়ে গেছে।
মিস ফটোজেনিকের সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিলাম। ফেসবুক থেকেও ওকে রিমুভ
করে দিলাম। ওর সব ম্যাসেজ ফোন থেকে মুছে ফেললাম। ওর ফোন নাম্বারও ডিলিট
করলাম। ধীরে ধীরে ওকে আমার জীবন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালালাম।
[পূর্বকথা ২]
প্রায় ৫ মাস পরের কথা। একদিন শুক্রবার আমি আর রাসেল সামাদের বাসায় গেলাম।
অনেকদিন সামাদের সাথে দেখা হয় না। সবাই চাকরি নিয়ে ব্যস্ত। আগের মত আর
সময় হয় না।
বেল বাজালাম। দরজা খুলল মিস ফটোজেনিক! আমি ছোটখাট একটা চমক খেলাম। ওকে
এখানে এখন দেখব আশা করিনি।
-সামাদ আছে না?
-হুমম আছে।
-ওকে ডাক।
-আপনারা ভিতরে আসেন।
আমরা ভিতরে ঢুকলাম। সামাদ আসল। অনেকদিন পর তিন বন্ধু একত্র হলাম। কিন্তু
আমি প্রাণ খুলে গল্প করতে পারছি না। বারবার মিস ফটোজেনিকের কথা মনে পড়ছে।
ওকে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। ও সামাদের বাসায় আছে এটা জানলে আমি আসতাম না।
জরুরী কাজের অজুহাত দেখিয়ে চলে আসলাম। বাসায় এসে কাপড়চোপড় চেঞ্জ করে সোজা
বিছানায় চলে গেলাম। কিছুই ভাল লাগছে না।
তিনদিন পরের কথা। অফিস থেকে বাসায় ফিরে নেটে বসলাম। মেইল চেক করছি। You
have a msg রিংটোন বেজে উঠল। সারাদিন এয়ারটেলের মেসেজ পেতে পেতে বিরক্ত
হয়ে গেছি। মেসেজ চেক করলাম না।
প্রায় একঘন্টা পর নেট থেকে উঠলাম। দশটা বাজে। মা খেতে ডাকছে। You have a
msg. আবার মেসেজের রিংটোন। এয়ারটেলের এত কি মেসেজ? একটু পরপর খালি মেসেজ
পাঠাচ্ছে। আজকে দিনে অলরেডি ৬টা পাঠিয়েছে।
ভাত খাওয়ার মাঝে আরো দুইটা মেসেজ আসলো। ভাত খেয়ে মেসেজ চেক করতে গিয়ে
রীতিমত চমকে উঠলাম। ৪টা মেসেজই পাঠিয়েছে মিস ফটোজেনিক!
মেসেজগুলার সারাংশ এরকম- আমি আপনাকে অনেক মিস করছি। আপনার সাথে আমি অনেক
খারাপ ব্যবহার করেছি। প্লিজ আপনি রাগ করে থাকবেন না। আমার সাথে কেউ রাগ
করে থাকলে আমার ভাল লাগে না। প্লিজ আমার সাথে রাগ করে থাকবেন না। এইসব
ব্লা ব্লা ব্লা।
আমি ওকে ফোন দিলাম।
-হ্যালো।
-কি খবর মিস ফটোজেনিক?
-আমি ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন শাহেদ ভাইয়া?
-আমি আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি। তা হঠাৎ কি মনে করে আমাকে এত মেসেজ দিলা?
-আপনি কি আমার উপর এখনও রাগ করে আছেন?
-তোমার উপর রাগ করে থাকার কিছু নাই। তুমি এমন কোন মূল্যবান কেউ হয়ে যাও
নাই যে তোমার উপর রাগ করে থাকতে হবে।
-আমি খুব সরি শাহেদ ভাইয়া। আমি আপনাকে ব্যাপারটা অনেকবার বলতে চাইছি।
কিন্তু কেন যেন বলতে পারি নাই।
-তুমি আমার সাথে আর কখনও যোগাযোগ করবা না।
মিস ফটোজেনিক আরো কিছু বলতে চাচ্ছিল। আমি ফোন কেটে দিলাম। এতদিন আমাকে ও
ওর অবসরের সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করেছে। এখন এজন্য সরি বলছে! আমি ওর আচরণ
দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে।
সাম্মী আমার চোখের সামনে তুরি বাজাল। আমি কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরে এলাম।
এই মেয়েটা আমার সাদাকাল জীবনটাকে ওর জাদুকরি স্পর্শে রঙিন করে দিয়েছে।
মিস ফটোজেনিকের দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে। ওকে যদি আমি আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে
না পেতাম তাহলে আমার জীবনটাই মনে হয় অসম্পূর্ণ থেকে যেত।
সাম্মী আহত দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে আছে। “আমাকে মিস ফটোজেনিকদের মত
সুন্দর লাগছে না তাই না?”
কয়েকদিন আগে একটা মিস ফটোজেনিক কম্পিটিশন অখুব আগ্রহ নিয়ে দেখছিল। আমিও
ওর সাথে দেখছিলাম। ও হয়ত ওদের মতই সাজতে চেষ্টা করেছে। আমি উঠে সাম্মীর
দিকে এগিয়ে গেলাম। ওর মুখটা দুহাতে ধরে ওর চোখে চোখ রেখে বললাম, “মিস
ফটোজেনিকদের সৌন্দর্য ঐ ছবির ভিতরেই আটকে থাকে। কিন্তু তোমার রূপ ধারণ
করার মত ক্যামেরা এখনও আবিষ্কার হয় নাই।”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now