বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মি.রাফিয়ান

"ক্রাইম" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাচ্চু আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X মি. রাফিয়ান (১ম পর্ব) লেখক> Abir Hasan Niloy (মি. ভূত) ... নিলা রক্তচক্ষু দৃষ্টিতে সদ্ব্য পাঁচতলা বাড়ির মেইন গেইট খুলে কালো রং এর পাজেরো গাড়িটার দিকে চেয়ে আছে। নিলার ইচ্ছে করছে এখন বাড়ির সবকিছু ভেঙে চূরে ফেলতে। কিন্তু পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুঠাম দেহের মাঝবয়সী মেহরাব সাহেবের জন্য কিছুই করতে পারছে না। মেহরাব সাহেব নিলার বাবা,তার উপর মেহরাব সাহেব পুলিশ কমিশনার। কেবল নিলা নয় এ বাড়ির সবাই মেহরাব সাহেবের কথা মত ওঠে আর বসে। নিলা পার্কিং লটের দিকে তাকিয়ে আছে। কালো স্যুট..কালো টাই, টাইট কালো কাপড়ের সাথে সাদা কেডস। গায়ে কালো স্যুটের সাথে সাদা শার্ট প্যান্টের সাথে ইন করে গাড়ি থেকে একটা ছেলে নামে। বাড়িতে আজ বেশ যেন একটু উৎসব উৎসব আমেজ। নিলা ভার্সিটি থেকে এসেই বাড়িতে এমন উৎসব আমেজ দেখে অবাক হয়। বাড়িতে অনেক লোকের সমাগম। নিলা বুঝতেই পেরেছে এত লোক আর বিশাল আয়োজন এই স্যুট প্যান্ট পরা ছেলেটার জন্যই। চোখে ফ্রেমের গোল আকৃতির কালো স্টুডেন্ট চশমা, মুখে হালকা খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি, চুলগুলো একটু লালচে কালার করা ছেলেটার। নিলার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওর ছোট খালার মেয়ে ফারিয়া নিলার দিকে তাকিয়ে ইশারা করে চোখ নাড়িয়ে বলে "কি হট রে ছেলেটা দেখ?" নিলা আরো রাগি দৃষ্টিতে তাকায় ছেলেটার দিকে। সাথে ফারিয়াকেও ইশারাতে বুঝিয়ে দেয়, "তোকে পরে মজা দেখাচ্ছি।" ছেলেটা লাগেজ নিয়ে ধীর পায়ে মুখে মুচকি হাসি রেখে এগিয়ে আসতে থাকে। নিলা সবার দিকে ভালো করে তাকায়। বাড়িতে পুলিশের লোকজন বেশিই। সাথে কাজিনরা আর কয়েকজন পিচ্চি আছে। নিলা ভার্সিটি থেকে এসেই দেখে ওর কাজিন ফারিয়া, শিহাব, মিতু, মেহেদি আর শিলা ওর রুমের সবকিছুই খালি করে লিভিং রুমে নিয়ে এসে জড়ো করছে। নিলা এসব দেখে কিছু বলতে যাবে তখনি ওর বাবা মেহরাব সাহেব এসে বলে "কিরে তোরা এত দেরি করছিস কেনো? তাড়াতাড়ি রুমটা খালি কর। বেশি তো কাজ না, কিছু ডল আর ওর কম্পিউটার, কাপড়চোপড় এসবকিছু সরিয়ে ফেললেই তো হয়।" বাবার কথায় নিলা কিছুই বুঝতে পারে না। কেবল অবাক হয়েই তাকিয়ে থাকে। এর কিছু সময় পর সে বুঝতে পারে ওদের বাসায় কেউ একজন আসছে। আর যিনি আসছেন তিনি ওর রুমেই থাকবে। তখনি রাগের বিশাল মেঘ ওর চোখে মুখে এসে ছায়া ফেলেছে। - নিলা, তোর রুমটা এ বাড়ির মধ্যে সবচাইতে বেশি সুন্দর। তোর রুমটাই নিচ্ছি। তুই আমাদের পাশের রুমে থাকবি। মেহরাব সাহেব কথাটা বলেই চলে যায়। নিলা মনে মনে বলে "রুম তো সুন্দর হবেই, সাজিয়ে রাখি আমি।" নিলার পাশে মিতু এসে দাঁড়ায়। কানে কানে বলে "তোদের বাসায় তো থাকবে ছেলেটা, একটু বলিস তো আমার ব্যাপারে।" নিলা কিছুই বলে না। আবার ছেলেটার দিকে তাকায়। ফর্সা মুখটায় খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি সাথে গোল চশমা বেশ মানিয়েছে। মুখটাতে অজস্র মায়া ছেলেটাকে নিয়ে সত্যিই কোনো মেয়ের ভাবনাতে সারাক্ষন ঘুরবে সে। - তোমার আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো আবির? - জ্বি না,স্যার। ওহ ছেলেটার নাম তাহলে আবির। মানে এই বেটা আবিরের জন্য আজ ও ওর প্রিয় রুম থেকে বঞ্চিত। কিন্তু কে ও? এত খাতির কেনো করছে বাবা তার ব্যাপারে? আসতে না আসতেই রুম খালি করতে হয়েছে। না জানি কপালে এই ছেলের জন্য কি না কি লেখা আছে। নিলা মনে মনে কথাগুলো বলছে। তখনি আবির মুচকি হেসে ওর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। নিলা হুট করে আবিরকে সামনে দেখবে বুঝতেই পারেনি। - হাই, আমি আবির। খুব ছোট্ট একজন বিজনেস ম্যান। আর সাথে এসিসট্যান্ট পুলিশ কমিশনার। মানে আপনার বাবার সাথে থাকা ছাড়া আমার কোনো কাজ নেই। আপনি নিশ্চয় নিলা হাসান? নিলা অবাক হয়। ছেলেটা এত কথা বলে কেন? ওহ এরপর কি রোজ বকবক শুনতে হবে আমার? বিরক্তিকর, এই ছেলে আমার সামনে আসলে মেরে হাত পা ভেঙে দেবো। নিলা কিছু না বলে বাড়ির মধ্যে চলে যায়। আবির মুচকি হাসলো। সাথে সাথেই ফারিয়া, মিতু,শিলা, শিহাব মেহেদি আবিরের পাশে এসে দাঁড়ায়। সবার সাথে পরিচিত হয় ও। আবির ছোটখাটো বিজনেস করে, সাথে পুলিশের লোক। আবিরকে সাথে নিয়ে মেহরাব সাহেব বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। আবির নিজের ব্যাগপ্যাক নিয়ে মেহরাব সাহেবের দেখিয়ে দেওয়া রুমে প্রবেশ করতেই দেখে সেখানে নিলা দাঁড়িয়ে আছে। - কি ব্যাপার, আপনি আমার রুমে? (আবির) - এই যে মি. এটা আমার রুম। - কই? - কি কই? - আপনার নাম তো কোথাও লেখা নেই। - লিচেন, বাড়িটা যেহেতু আমাদের। সো রুমে থাকলে কি নাম লিখে থাকতে হয়? - হুম থাকতে হয়। এখন যান তো, সুন্দর ছেলে দেখেই লাইন মারতে চলে এসেছেন। কোনো নোটিশ ছাড়াই আমার রুমে ঢুকে বসে আছেন। (আবির) - ও হ্যালো.... আয়নাতে নিজেকে দেখুন। কোনো পেত্নি আপনার সাথে লাইনও মারবে না। আর আমি রুমে থাকতে আসিনি। আমার প্রিয় পুতুলগুলো নিতে এসেছি। হুহ... নিলা পুতুলগুলো নিয়ে রাগ দেখিয়ে চলে যায়। আবির মনে মনে বেশ আমোদেয় হাসতে থাকে। নতুন শহর, শহরের চারপাশটা আবিরের তবুও চেনা। শহরের মানুষগুলো কে সে চেনে, চেনে তাদের অস্তীত্ব। আবির গা থেকে স্যুট বুট খুলে জিন্স আর টিশার্ট পরে ব্যালকনির দিকে যায়। পাঁচতলা বাড়ির এই ব্যালকনি থেকে শহরের অনেক কিছুই যেন চোখে পড়ে ওর। আবির তাকিয়ে দেখে মেহরাব সাহেবের বাড়ির কয়েক বাড়ি পরেই একটা ছোট্ট ভাঙা বাড়ি। সেই বাড়ির সামনে ছোট্ট একটি উঠান। উঠানের সামনে একটা পিচ্চি মেয়েকে একজন মহিলা খুব জোরেই মারছে। হয়ত মহিলাটি ঐ পিচ্চি মেয়েটার মা হবে। আবির তাকিয়ে দেখে, একজন লোক হাঁমাগুড়ি দিতে দিতে এসে মেয়েটাকে সেই মহিলার থেকে কেঁড়ে নেয়। মহিলার মুখের ভাব দেখে আবির বুঝে গিয়েছে মহিলাটি সেই লোক আর পিচ্চি মেয়েটাকে গালি দিচ্ছে। আবির অপলক হয়ে সে দিকে তাকিয়ে আছে। তখনি খেয়াল করে ওর পিছনে কে যেন এসে দাঁড়িয়েছে। ঘুরে তাকিয়ে দেখে মেহরাব সাহেব এসে দাঁড়িয়ে আছে। - স্যার আপনি, আমাকে ডাকতেন আমি নিজেই যেতাম। - আরে কোনো ব্যাপার না। খাবে চলো। খাওয়ার পর তোমার সাথে অনেক কথা আছে। - জ্বি স্যার, আপনি যান আমি আসছি। মেহরাব সাহেব চলে গেলেন। আবির ভ্রুঁ কুঁচকে তাকায়। আবারো সে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে। সেই ভাঙা বাড়ির দিকে চোখ যায় ওর। ফর্সা, সুন্দর মেয়েটার ডান হাতের কব্জি কেটে রক্ত বের হচ্ছে। আবির তা দুর থেকেই খেয়াল করেছে। ময়লা একটি কাপড়, হাতে ছোট সাদা বস্তা। হাঁটতে হাঁটতে মেহরাব সাহেবের বাড়ির সামনে চলে আসে মেয়েটা। আবির স্পষ্ট দেখে, পিচ্চি মেয়েটা বাড়ির সামনে থেকে প্লাস্টিকের বোতল কুঁড়িয়ে নিয়ে বস্তায় রাখছে। কিছুক্ষন সেখানে খুজাখুজির পর মেয়েটা চলে যায়। আবির ঘুরে চলে আসতে যাবে তখনি দেখে পাশের ব্যালকনিতে নিলা দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। - হেই নিলা, এখানে কি করছেন? নিলা বিরক্তি নিয়ে তাকায় পাশের ব্যালকনিতে। ছেলেটাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিলা। নিলা কেবল গোসল করে ব্যালকণিতে এসে দাঁড়িয়েছে। নিলা এমনিতেই কথা কম বলতে পছন্দ করে। সাথে যারা কথা কম বলে তাদেরকে সে বেশি পছন্দ করে। আর যারা বকবক করে নিলা তাদেরকে একদমই সহ্য করতে পারে না। নিলা বিরক্তি নিয়ে বলে.. - মশা মারছি, মারবেন? - মশা মরছে তো? - মানে? - না মানে এত কোমল হাতে যদি মশা মারেন তো মশারা মরবে কিনা সন্দেহ হচ্ছে। - ও হ্যালো, আপনাকে পুলিশের চাকরি কে দিয়েছে? আপনি এক নাম্বারের টিজার,যত্তসব। নিলা রাগ দেখিয়ে চলে যায়। আবির মুচকি হাসে। তবে এটা আমোদের হাসি নয়। এই হাসির একটা আলাদা বিদঘুটে স্বাদ আছে। যা নিলার বলা কথাতে প্রকাশ পেয়েছে "কে চাকরি দিয়েছে?" আবির মনে মনে কথাটা বিড়বিড় করে কয়েকবার বলে। হুট করেই যেন কেমন সব অচেনা মনে হতে থাকে ওর। তখনি খেয়াল করে মেহরাব সাহেব তাকে ডাকছেন। . আবির খাবার টেবিলের কাছে যায়। খাবার টেবিলে অনেক রকমের খাবার সাজানো আছে। সবাই সেখানে বসে আছে কেবল নিলা বাদে। আবির চেয়ারে বসতেই নিলা এসে বসে আবিরের সামনের চেয়ারে। - আবির, ফায়াজ স্যারের কথাতে তোমাকে আমার বাড়িতেই থাকতে দিলাম। লজ্জা পাবে না, নিজের বাড়ির মত মনে করবে। কিন্তু এটা ভেবে পাচ্ছি না, তোমার মত এরাকম একজন অফিসারের হয়ে ফায়াজ স্যার কথা বলবেন। সত্যিই অবাক করার বিষয়। আবির মুচকি হাসলেন। নিলাদের দিকে তাকাতেই দেখে নিলা ওর দিকে তাকিয়ে আছে। আবিরের হাসির কারনটা কেউ জানেনা। আবির কারন ছাড়া তেমন হাসে না। আর এখানে হাসির কারন হল ফায়াজ। ফায়াজ দেশের সিএম। যে সে মানুষ তো আর ফায়াজের সাথে কথা বলতে পারবে না। অথচ আবির একজন সামান্য পুলিশ হয়ে কি করে ফায়াজ তার জন্যই মেহরাব সাহেবকে কল করে বলে আবিরকে এখানেই থাকার জন্য। আবির কোনো উত্তর দেয় না। নিলার দিকে তাকিয়ে সে কথাগুলো ভাবছে। নিলা আবিরের দিকে বিরক্তি নিয়ে চেয়ে আছে। এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো ছেলেটা? অসহ্য, এই বান্দর ছেলের সামনেই বসতে হল আমার? উফফ ছেলেটাকে এখন থেকে আমার চোখের সামনেই দেখতে হবে। ভাবতেই গা জ্বলে উঠছে আমার। এদিকে আমার কাজিনদের দেখো, আবির নামের এই বজ্জাত আসাতে ওর পাশে ঘুরঘুর করছে। অসহ্য। আবির ইশারা করে নিলাকে ডাক দেয়। নিলা বিরক্তি নিয়ে চায়। আবির মুচকি হেসে বলে "সবসময় কি রেগে থাকেন নাকি?" নিলা কোনোরকমে খেয়ে উঠে চলে যায়। সবাই সবার মত করে খাবার টেবিল ছেড়ে চলে যায়। আবির যখন উঠবে তখন মেহরাব সাহেব বলেন "একটু লিভিং রুমে বসো আবির। দরকারী কথা আছে।" আবির ইশারায় সম্মতি জানিয়ে লিভিং রুমে আসে। কিছু সময় পর মেহরাব সাহেব আসেন। আবির ওনাকে দেখে দাঁড়াতে যাবে তখন উনি বলেন "বসে থাকো, দাঁড়াতে হবে না।" আবির বসে, মেহরাব সাহেব ওর পাশে এসে বসে বলে.. - তোমার সাথে কিছু কথা ছিল। - জ্বি স্যার বলুন। - আমি যতদুর শুনেছি, তোমাকে এখানে আনা হয়েছে কয়েকটি কারনে। - জ্বি স্যার। - কারনগুলো তুমি হয়ত সবটা জানো না। তুমি নিলয়ের নাম শুনেছো? আবির একটু হেসে মেহরাব সাহেবের দিকে তাকায়। মেহরাব সাহেব দাঁড়িয়ে একটি টেবিলের সাসনে গিয়ে কয়েকটি কাগজ হাতে নিয়ে আবিরের সামনে এসে দাঁড়ায়। কাগজগুলো আবিরের দিকে বাড়িয়ে বলে.. - এগুলো আমার স্বপ্ন। এগুলো খবরের কাগজ হলেও এটা আমার স্বপ্ন পূরণের আকাংখা। - মানে ঠিক বুঝলাম না স্যার। - কাগজগুলো ভালো করে দেখো। কাটা অংশে যে কালো কোর্ট মুখ ঢাকা মাস্ক, হাতে পিস্তল হাতে যে দাঁড়িয়ে আছে সে হল নিলয়। নিলয় হল ইন্ট্যারন্যাশনাল একজন মাস্তান, মাফিয়া। একজন রিয়েল রকস্টার। যার মাঝে কোনো অনুভুতি নেই, কোনো দয়া নেই। সে খালি বোঝে খুন, রক্তের তাজা গন্ধ। ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়ার্ল্ড তাকে মি. রাফিয়ান বলে ডাকে। সে কোথায় থাকে, কিভাবে থাকে, দেখতে কেমন,কি ভাবে প্ল্যান করে ওর সব কার্জক্রম করে তার কিছুই কেউ জানে না। এমনকি এ অবদি ওর কোনো লোক মানে ওর কোনো শত্রুকেউ আমরা প্রশাসনের লোক ধরতে পারিনি। কারনটা হল, ওর কোনো শত্রু নেই। ওর কোনো দূর্বল পয়েন্ট নেই। ও কখনো ওর শত্রুদের বাঁচিয়েও রাখে না। ভাবছো আমি এতকিছু তাহলে কি করে জানি? আমি না, সব পুলিশের একটাই ইচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল এই রাফিয়ানকে জ্যন্ত এ্যারেস্ট করা। খুব কষ্ট করে জেনেছি রাফিয়ান নিলয় এখন এই শহরে আছে। আর ওর সাথে খুব তাড়াতাড়ি বিদেশি মাফিয়াদের একটা ডিল হতে যাচ্ছে। যতদুর জানি তোমাকে এখানে আনা হয়েছে রাফিয়ানকে ধরার জন্য। কারন নিলয় হল একজন মাইন্ড গেইমার। তাকে ধরা তো বড় কথা তাকে দেখা অবদি যায় না। শুনেছি তুমিও নাকি একজন মাইন্ড গেইমার। অপরাধিদের ধরার ক্ষেত্রে তোমার প্ল্যান অপরাধীদের মতই হয়ে থাকে। এক পা ফেলার আগে অগ্রিম পাঁচ পা ফেললে কি হবে সেসব নাকি তুমি ভেবে চিন্তে করো। এ কারনেই রকস্টার রাফিয়ানকে ধরার জন্য পুলিশ রাফিয়ানেরই তো দরকার। আর আমার মনে হচ্ছে তোমাকে সবাই সাপোর্ট করে এ কারনেই ফায়াজ স্যার নিজ দায়িত্বে তোমাকে এখানে এনেছে। কিন্তু বুঝতে পারছি না কেনো তিনি আমাদের বাড়িতেই তোমাকে পাঠিয়েছে। . আবির মেহরাব সাহেবের দিকে তাকিয়ে একটু শব্দ তরে হাসলেন। মেহরাব সাহেব হাসির কারন জানতে চাইলেও আবির তা বলে না। আবির বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলে.. - তাহলে স্যার চলে যাচ্ছি, মেইবি আপনার এখানে থাকলে অনেক প্রবলেম হতে পারে। - আরে, আমি সেটা বলিনি। ধুর কি যে বলো। আমি কেবল বোঝাতে চেয়েছি আমি কেনো, আরো তো নেতা, বড় অফিসার আছে তাই না? - আমি তো এতকিছু জানিনা স্যার। তবে আমার মনে হয়, আপনি অনেক সৎ আর কমিশনার হিসেবে আপনার একটা বিশাল খ্যাতি আছে। অপরাধীরা আপনাকে খুব ভালো করেই চেনে। এ কারনে হয়ত উপর লেভেলের স্যারের ভেবেছে আপনার সাথে থেকে যদি রাফিয়ানকে ধরতে পারি। - হুম, রাফিয়ান, ইয়েস মি, রাফিয়ান নিলয়কে আমাদের ধরতেই হবে। শুনেছি তুমি কোনো মিশনে গেলে কোনো সিনিওরদের বলো না। কথাটা সত্য? - হুম স্যার, এটা নিলয়ের থেকে শেখা আরকি। ও তো কোনো মিশনে গেলে কাউকেই বলে না। আর ওর ব্যাপারে স্ট্যাডি করতে করতে ওর মত ভাবনা হয়ে গেছে। যেন ওকে খুব তাড়াতাড়ি ধরতে পারি। - গ্রেট। . আবির চলে আসে সেখান থেকে। হাতে তখনো সেই পুরাতন খবরের কাগজ কাস্তে দিয়ে কাঁটা আছে। মেহরাব সাহেব তারিখ লিখে সবগুলো বেশ গুছিয়েই রেখেছেন। আবির একটা করে দেখছে আর মুচকি হেসে, গোল করে পেঁচিয়ে বাইরে ছুড়ে মারছে। হাসির কারনটা কি? কেনো সে হাসছে? (waiting for next part)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মি.রাফিয়ান

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now