বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আম্মু আম্মু দরজা খুলো।
আম্মু আম্মু আয়ায়া আম্মু দরজা খুলো।
ঝুমের মা : কি হয়েছে ঝুম।কি হয়েছে স্বপ্ন
দেখেছিস আবার।
,
(কেঁদে কেঁদে) না আম্মু আবার আ আবার
।
,
ঝুমের মা ; আবার কি ঝুম।কাঁদিস না বল আবার কি।
,
(ভয়ে কথা বলতে পারছিল না ঝুম।আম্মুকে জরিয়ে
ধরে কাঁদতে লাগলো। ঝুমের কান্না শুনে ঝুমের
বাবাও উঠে এলো।)
,
ঝুমের বাবা ; কি হয়েছে বাবু কাঁদছিস ক্যান।ভয়
পেয়েছিস।
,
মুখে কোনো কথা বলছিল না ঝুম শুধু হাত দিয়ে
নিজের রুমের দিকে ইশারা করছিল।ঝুমের মা বাবা
ঝুমকে নিয়ে ওর রুমে গেলো। সারা ঘর খুঁজে ও
কিছু পেলো না। কিন্তু জানালার দিকে চোখ পরতেই
অবাক হয়ে গেলো ঝুমের মা বাবা।জানালার গ্রিলের
সাথে ঝুলে আছে ঝুমের কম্বল।
,
ঝুমের মা : ঝুম কম্বল জানালার সাথে কেন।
,
ঝুম : আম্মু আ আ আমি জানিনা।কম্বল আমি ওখানে
রাখিনি। ও রেখেছে।ও নিয়ে যাচ্ছিল আমার গায়ে
থেকে কম্বল। (ঝুমের চোখে মুখে ভয়ের
ছাপ)
,
ঝুমের বাবা : ও ও টা কে ঝুম,,!
,
ঝুম : জানিনা আমি দেখিনি কে ও। কি কি কিন্তু
রোজ রাতে আমার কম্বল ধরে টানাটানি করে।আজ
আমি জেগে ছিলাম। ঘুমের ভান করে। এটা দেখার
জন্য যে কে কম্বল ধরে টানে।যখনি অনুভব
করলাম কেউ আমার কম্বল ধরে টানছে সাথে সাথে
উঠে দেখি কেউ নেই। আবার যখন শুয়ে পরলাম
আবার টানছিল।আমি চুপ করে ছিলাম দেখি কি করে
বলে।টেনে টেনে কম্বল নিয়ে জানালা দিয়ে
চলে যাচ্ছিল।আমি চিৎকার করে উঠতেই থেমে
গেলো।
,
,
মেয়ের কথাগুলো শুনে গল্প কাহিনি মনে হয়নি
ঝুমের মা বাবার।কারণ এই নতুন বাসাতে ভাড়া আসার পর
এমন অনেক কিছুই ঘটেছে। এমনকি তাদেরও কম্বল
ধরে কেউ টেনেছে মনে হয়েছিল।কিন্তু
ঘুমের ঘোরে অনুভুতি ভেবে পাত্তা দেইনি।
আজকের মত ঝুম ওর মা বাবার সাথেই ঘুমালো বাকি
রাত।সকাল বেলা ঝুমের মা বাড়ির কেয়ারটেকার কে
ডেকে পাঠালো।
,
কেয়ারটেকার : আসসালামু আলাইকুম আপা।আমাকে নাকি
ডেকেছেন।
,
ঝুমের মা : ওয়ালাইকুম আসসালাম।হ্যা।আপনার থেকে
কিছু কথা জানার ছিল।
,
কেয়ারটেকার : হ্যা বলেন কি কথা।
,
ঝুমের মা : না মানে,,আচ্ছা এই বাড়িতে কি কোনো
সমস্যা আছে।
,
কেয়ারটেকার : কি সমস্যা আপা।
,
ঝুমের মা : না বলছিলাম যে, আচ্ছা এই বাড়ির মালিকেরা
কই থাকে।
,
কেয়ারটেকার : উনারা এখন দেশের বাইরে থাকে ৪
মাস হল আমি এই বাড়িতে আছি আপা।কেন কোনো
সমস্যা হয়েছে কি।
,
ঝুমের মা : নাহ মানে বললে কি ভাববেন জানি না।
এখানে আসার পর কেমন অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে।
বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে গেলে কেউ কম্বল
ধরে টানে।
,
কথাটা শুনে কেয়ারটেকার চমকে উঠল।
,
কেয়ারটেকার : কি বলছেন আপা। আপনাদের ও এমন
হয়।আমিও এমন অনুভব করি জেনো কেউ রাতে
কম্বল ধরে টানে।কিন্তু কিছু দেখতে পাইনি।
,
ঝুমের মা আর কথা বাড়ালো না। কেয়ারটেকার চলে
গেলো। আজ রাতে ঝুম কিছুতেই একা ঘুমাতে
চাইছেনা। তাই ঝুমের বাবা ঝুমের রুমে শুতে
গেলো আর ঝুম ওর মায়ের সাথে শুয়ে পরলো।
রাত প্রায় ১;৩০ বাজে ঝুমের বাবা ঘুমে আসছন্ন।
গায়ে খুব শীত অনুভব করছিল। ঘুমের মধ্যে
হাতরাচ্ছিল কম্বল কিন্তু পাচ্ছিল না।আলো জালিয়ে
দেখে কম্বল নেই।সারা ঘর খুঁজেও পেলো না।
তার খুব ভালো করে মনে আছে যে শুবার সময়
কম্বল জরিয়ে শুয়েছিল আর জানালার গ্লাস লাগিয়ে
দিয়েছিল।কিন্তু এখন তাকিয়ে দেখে জানালার গ্লাস
খোলা।টর্চ লাইট দিয়ে বাইরে চারিদিক দেখে
নিলো একবার।কেউ ইচ্ছে করলে জানালা দিয়ে
উঠতে পারবে না।কারণ ২ তলার উপর থাকে তারা।জানালার
সামনে এমন কোনো গাছও নেই যেটা বেয়ে
আসবে।পরেরদিন সকালে ঝুমের মা কে সব কথা
খুলে বলে দিলো ঝুমের বাবা।
,
,
ঝুমের মা : আচ্ছা ঝুমের রুমের পাশেই তো
ফুলের বাগান চলো তো একবার ঘুরে আসি।
,
ঝুমের বাবা : চলো,,
,
বাগানে অনেক ফুলের গাছ থাকলেও সেগুলোর
যত্ন নেবার কেউ নেই।আগাছাতে ভোরে
গেছে বাগান।সারা বাগান ঘুরে আসতেই ঝুমের
মায়ের চোখ পরে ঝুমের রুমের সোজাসুজি
নিচে কিছু একটা জিনিসের উপর।
এগিয়ে গেলো ঝুমের বাবা মা সেই দিকে।
,
ঝুমের বাবা : আরে এইতো এইতো আমাদের
কম্বল।
,
ঝুমের মা : হুম তাইতো। দাড়াও ধরো না ওটা। খেয়াল
করে দেখো কম্বল টা কেউ খুব সুন্দর করে
বিছিয়েছে। আর মনে হচ্ছে কম্বলের নিচে উঁচু
কবরের মত।
,
,
ঝুমের বাবা এগিয়ে গেলো কম্বলের কাছে।
কম্বের গায়ে হাত দিতেই থমকে গেলেন তিনি।
একটা ছোট হাত এসে উনার হাত চেপে ধরলো।
এক ঝটকা মেরে নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে
দুজনেই দৌড়াতে লাগলো। পিছনে জেনো খুব
ঝড় তুফান হচ্ছিল এমন আওয়াজ আসছিল।আর কারো
ভয়ানক গলায় ভেসে আসছিল,,,, দেবো না
দেবো না আমি কম্বল দেবো না)
ঝুমের মা বাবা এক মিনিট ও দেরি না করে ঝুমকে
নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে পাশের এক
মসজিদে ইমামের কাছে।সব কথা খুলে বলে
ইমামের কাছে।ইমাম সাহেব ঝুমদের রাত অব্দি
অপেক্ষা করতে বললেন।
,
রাত ৮ দিকে ইমাম সহ আরও ২ টা লোক ঝুম আর
ঝুমের মা বাবা বাড়ি ফিরে এলো। সবাই মিলে
গেলো বাগানে কম্বলের কাছে।সকালে যেমন
ছিল এখন ঠিক তার উল্টা হয়ে আছে কম্বল।মনে
হচ্ছে কেউ শুয়ে আছে কম্বলের ভেতরে।
ইমাম সাহেব একটা পানির বোতল উনার সাথের একজন
কে দিয়ে বলল এই চারিদিক গোল করে ছিটিয়ে
দিতে।পানি ছিটিয়ে দিতেই অদ্ভুত ভাবে নরেচরে
উঠল কম্বল। ২ লোক সহ ইমাম সাহেব গোল
চিহ্নের ৩ দিকে বসে পরলো। ইমাম পকেট
থেকে একটা আতরের শিশি বের করে কিছু আতর
ছিটিয়ে দিলো কম্বলের উপর।তখনি কম্বল
অস্বাভাবিক ভাবে নরে উঠল আর একটা বাচ্চা মেয়ের
চেঁচামেচি কান্না শুরু হয়ে গেলো। ঝুম ভয়
পেয়ে ওর মা কে জরিয়ে ধরলো। সবার বুকের
মধ্যে আতকে উঠল।
,
,,,,,,,,আমায় মেরো না, আমায় মেরো না।আমায়
ছেড়ে দাও,,,,বাচ্চা মেয়ের কান্না বেরেই
চলেছে।
,
ইমাম : কে তুমি। আমি ছেড়ে দিবো তোমায়। কিন্তু
কে তুমি সেটা বল।আর কম্বল কেনো নিয়ে
এসছো।
,
,,,,,আ আ আমি মিলি,,,
,
ইমাম : মিলি। এখানে কি করছো তুমি।
,
মিলি : আমি এখানেই থাকি।আমি কিচ্ছু চাইনা শুধু এই কম্বল
নিবো আমার শীত করে।
,
ইমাম : তুমি কি আমাকে পাগল পেয়েছো।মৃত
মানুষের শীত তাও আত্মার।
,
মিলি : আমাকে তো শীতেই মেরে
ফেলেছে।দেইনি দেইনি কিচ্ছু দেইনি শীত
কাটানোর জন্য।
,
ইমাম : কে মেরে ফেলেছে তোমায় বল
আমাকে।
,
মিলি : রাহাত রহমান।ইমাম : রাহাত রহমান। উনি তো এই বাড়ির
মালিক।
,
মিলি : হ্যা।আমি গ্রাম থেকে এইখানে এসেছিলাম।
আমার বাবা খুব গরীব।তাই বাসা বাড়ি কাজের জন্য
গ্রামের এক মেয়ের সাথে এখানে এসেছিলাম।
রাহাত সাহেবের বাসাতে গরমের ৩ মাস কাজ করছি।
যখন শীতকাল আসলো তখন তারা আমাকে
শীতের কাপর দেইনাই। রাতে কাথা বা কম্বল দেইনি।
আমি খুব কাঁদতাম কস্ট পেতাম ওদের একটুও মায়া হত না।
খাবারও দিতো না পেট পুরে। কাজে ভুল হলে খুব
মারধর করতো আমায়। প্রতিরাতে শীতে কস্ট
করতে করতে আমার প্রাণ পাখিটায় চলে গেলো
দুনিয়া থেকে। আমার মরা দেহ এখানে পুঁতে
রেখে বাড়ি ছেরে চলে গেলো ওই পাষাণ গুলা।
,
,
মেয়েটার কথা শুনে ঝুম কেঁদে ফেললো।
,
,
ইমাম : মিলি তুমি কি মুক্তি পেতে চাও।তুমি চাইলে আমরা
তোমার লাশ তুলে জানাযা করে দাফন করতে পারি।
,
,
কথাটা শুনে মিলি খিলখিল করে হেসে উঠল। রাজি
হয়ে গেলো ইমামের কথায়। পরেরদিন সকালে
ইমাম সাহেব গ্রামের কিছু লোক ডেকে মিলির হাড়
গুলো তুলে জানাযা করে দাফন করলো
কবরস্থানে।
সেদিনের পর থেকে আর কোনো সমস্যা হয়নি
সেই বাড়িতে।তবে ঝুম এখনো স্বপ্ন দেখে মিলি
তার দিকে চেয়ে থেকে হাসছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now