বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ওইতো মিহিন আসছে কিন্তু সাথে কে ওটা।আরে এটাতো সাগর।কিন্তু ওদের একসাথে দেখে আমার খুব খারাপ লাগছে।ওরা খুব হাসাহাসি করছে।কিন্তু আমাকে দেখেই ওর হাসি মাখা মুখটা কেমন যেনো অন্ধকার হয়ে গেলো।আমি তাই আরাল হয়ে গেলাম।আমি চাইনা ওর বিরক্তির কারণ হয়।কিছুক্ষন পর আমার চোখ থেকে পানি পরা শুরু হলো,আমি চাইলেই সেটা থামাতে পারবোনা।কষ্টোগুলো চোখ থেকে পানি হয়ে ঝরে পরছে।আল্লাহ তায়ালার কি এক নিয়ামত,মানুষ কষ্ট পেলে সেটা জল হয়ে চোখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।সত্যি এক অদ্ভুত খেলা আল্লাহ তায়ালার।
,,,,
কলেজে আর থাকলাম না,বারি চলে আসলাম।বারি এসে বালিসে মুখটা গুজে।চোখটা অঝরে কান্না করছে।যেটার সাক্ষি আমার বালিস আর চার দেিয়াল ছারা কেও যানেনা।কেউ শুনবেনা আমার মৃদু কান্নার আওয়াজ।কাদতে কাদতে কখন ঘুৃমিয়ে পরেছি নিজেই জানিনা।
,,,
ঘুম ভাংলো মায়ের ডাকে।
মা:বাবা রাফি তোর কি শরির খারাপ।
আমি:না,এমনি একটু খারাপ লাগছিলো তাই শুয় আছি।কখন ঘুমিয়ে গেছি টের পাইনি।মাকে বল্লাম,মা তুমি কি একটু ঘুম পারিয়ে দেবে আমায়।অনেক দিন হলো তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমায় না।
মাকেমন করে জানি আমার দিকে তাকিয়ে আছে।হয়তো বুঝতে পেরেছে আমার মন ভালো নেই)
মা:আগে খেয়ে নে তারপর তোকে ঘুম পারাবো।(মার চোখে হালকা একটু পানি দেখলাম।হয়তো ছেলের কষ্ট সইতে পারছেনা।)
আমি:আচ্ছা তুৃমি খাবার নিয়ে আসো।আজকে তোমার হাতে খাবো।
মা খাবার নিয়ে এসে আমাকে খাওয়ালেন।এরকম সময় হাজারো কষ্ট ভুলে যাওয়া যায় মায়ের নিষ্পাপ মুখটা দেখলে।খাওয়া শেষ করে মায়ের কোলে ঘুমিয়ে পরলাম।এরকম শান্তি কোথাও খুজে পাওয়া যাবেনা।
,,,,,
বিকেলের দিকে আমার ঘুম ভাংলো।একটু ফ্রেশ হয়ে বের হলাম।যখনি গেট দিয়ে বাইরে বের হলাম।তখনই মিহিনের সাথে দেখা।মিহিদের বারিতে আমরা ভারা থাকি।
মিহিন আমাকে দেখেই বল্লো,
মিহিন:আপনার কি লজ্জা শরম নাই।আপনাকে যেনো আমার চোখের সামনে না দেখি।
আমি:তার জবাবে কিছুই বল্লাম না।এক টুকরো মলিন হাসি বেরিয়ে গেলো আমার মুখ থেকে।
মিহিন:আপনাকে দেখলে আমার ঘেন্না লাগে।তুই আর আমার সামনে আসবিনা।
আমি:অনেক কষ্টে ওর সামনে থেকে চলে এলাম।না হলে যে ও আমার চোখের পানি দেখে ফেলবে।আমার চোখে পানি দেখলে হয়তো আরো কথা শুনাবে।।কিছুই ভালো লাগছে না।হ্যা রাফি এখন তোর ভালো লাগার সময় নই।তুই চাইলেও ভালো থাকতে পারবিনা।মিহিন তোকে কটাক্ষ করে কথা বলেছে।সেটা তোর হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করেছে।সেখানে রক্ত ক্ষরন হচ্ছে।সেই রক্ত তোর চোখ দিয়ে জল কণা হয়ে বেরিয়ে আসছে।,,,দোকানে গিয়ে একটা সিগারেট খেলাম।
,,,,
বাসায় চলে আসলাম।মার হাতে খাবার খেয়ে নিজের রুমে গিয়ে ভাবছি। এই কি সেই মিহিন যে আামাকে এক বেলা না দেখলে কান্নার বন্যা বইয়ে দিতো।নানান অজুহাতে আমাদের বাসায় আসতো।একটি বার শুধু আমাকে দেখার জন্য।সময়ের ব্যাবধানে অনেক কিছুই হারিয়ে যায়।হয়তো মিহিনের ভালোবাসাটাও আবেগ ছিলো।জানিনা কি দোষ করেছিলাম তার কাছে।সেটার উত্তর আজো আমার অজানা।এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পরেছিলাম।
,,,,,,
সকালে মায়ের ডাকেই ঘুম ভাংলো।
মা:বাবা রাফি বলতো তোর কি হয়েছে।কিছুদিন হলো দেখছি তুই আনমনা হয়ে থাকিস।
আমি:না মা,তেমন কিছুই হয়নি।আজকাল জানিনা কেনো এমন হয়।তুমি ভেবোনা আমি একদম ঠিক হয়ে যাবো।
মা:আচ্ছা ঠিক আাছে তুই তারাতারি ফ্রেশ হয়ে আয় আমি খাবার দিচ্ছি।
আমি:আচ্ছা তুমি যাও আমি আসছি।
মা চলে গেলেন আমি ফ্রেশ হয়ে খেলাম।তারপরে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলাম।,,,,,
,,,
যখন কলেজে পৌছালাম তখন দেখলাম আজকেও মিহিন সাগরের সাথে লাইব্ররির দিকে যাচ্ছে।তাতে আমার মনে একটু ক্ষতের সৃষ্টি হলো।যেটা কেউ দেখতে পাবেনা।আমি ক্লাসে ঢুকার সময় দেখলাম সাগর আর মিহিন হাসাহাসি করতে করতে ক্লাসে ঢুকছে।আমি মিহিন কে ডাক দিলাম।মিহিন একটু শুনো,তোমার সাথে কথা আছে।
মিহিন:সাগর তুমি ওকে বলে দাও আমি ওর সাথে কথা বলতে চাইনা।
আমি:আার কোন কথা না বলে ক্লসে চলে আসলাম।মিহিন আর সাগর একই সিটে বসে আছে।স্যার ক্লাসে পরাচ্ছেন কিন্তু আমি, চিন্তার জগতে চলে গেছি।হঠাত করেই একটা জিনিস আমি বুঝতে পারিনি বলে স্যারকে বল্লাম।
আমি:স্যার আমি এই জিনিসটা বুঝতে পারিনি।কিন্তু আমি জানতাম না এটা আমাকে হাসির পাত্র বানিয়ে দেবে।স্যার ও অনেক মজা করলেন সবার সাথে।সবার অজান্তেই এক ফোটা চোখের জল শহিদ হয়ে গেলো।আজও একটু কষ্ট,অপমান,আার হতাশা নিয়ে বারি ফিরলাম।,,,
,,,,
রাতে মার সাথে ডিনার করার সময় বল্লাম মা আমি আর এই কুতিশৎ শহরে থাকবোনা।আমি ট্রান্সফার নেবো।
মা:কেনো?তুই হঠাত এরকম করে বলছিস কেনো।
আমি:এই শহরের সবাই স্বার্থপর মা।কেউ ভালোনা।আমার চোখ থেকে টপ টপ করে জল পরছে।
মাওখান থেকে উঠে এসে আমায় জরিয়ে ধরলেন)বল্লেন,তুই এভাবে কাদিস না।তুই ছারা আমার আর কে আছে বল।
আমি:কন্নার জন্য কথা বলতে পারছিনা।তবুও বল্লাম আমার ট্রন্সফারের সব ব্যাবস্থা হয়ে গেছে।শুধু তোমার অনুমতি চাই।
মা:আচ্ছা ঠিক আছে বাবা।তোর সুখেই আমার সুখ।
রাতে ঘুমিয়ে পরলাম।কাল সকালেই হয়তো সব কিছু শেষ করে দিয়ে এই শহর ছেরে আমি চলে যাবো।
,,,,
সকালে কলেজ গেলাম।ওখানকার সব কাজ ক্লিয়ার।এখন শুধুই রাতের বাসেই চলে যাবো এই সার্থপর শহর ছেরে।কলেজ থেকে ফেরার পথে মিহিনকে একবার দেখে নিলাম।হয়তো আর ওকে দেখতে পাবোনা।
,,,
বাসায় এসে কাপচোপর গোছালাম।রাতেই রওনা দেবো তাই।আমার মুখে হাসি নেই,যেনো আমি হাসতে ভুলে গেছি।
,,,,
আমি এই শহরে চলে এসেছি আজ একমাস হলো।প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো।রাতে শুয়ে কান্না করতাম।কিছু কিছু রাত ছাদেই কাটিয়ে দিতাম।মাঝে মাঝে মনে হতো মরে যায়।কিন্তু না আমার মায়ের জন্য আমাকে বাচতে হবে।
হঠাত এক রাতে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে।আমি প্রথম বার ধরলাম না।আবার আসলো ধরলাম না।তৃতিয় বার ফোনটা ধরলাম।আমি:কে বলছেন।
ফোন ভয়েস:চুপ করে আছে।
আমি:দেখুন কথা বলুন।না হলে আমি ফোন কাটতে বাধ্য হবো।
কান্নার আওয়াজ পেলাম।ফুপিয়ে কান্না করছে ওপাশ থেকে।
বল্লো।হ্যালো।
মিহিন?সে কেনো আমাকে ফোন দেবে।
আমি:আপনার পরিচয় দিন।আর নয়তো ফোন রাখুন।
মিহিন:এতো তারাতারি ভুলে গেলে।
আমি:হুম।
মিহিন:কিছু কথা বলতে চাই একটু সময় হবে কি?
আমি:না।আপনার অবহেলার মাঝে আমি হারিয়ে গেছি।সেখান থেকে আর ফিরে আশা সম্ভব নয়।(আমি কান্না করছি কিন্তু ওকে বুঝতে দেওয়া যাবেনা।)
মিহিন:আমি তোমায় ভুল বুঝে ছিলাম।কিন্তু তুমিতো আমার ভুলটা ভাঙ্গাতে পারতে।
আমি:সরি, কিসের ভুল।আর আপনি কোন ভুল করেন্নি।ভুলটা ছিলো আমার।
মিহিন:প্লিজ তুমি বারিতে আসো তোমার সাথে কথা আছে।
আমি:আপনার সাথে কথা বলার কোন ইচ্ছে নেই।রাখলাম বাই।
ফোনটা কেটে দিয়ে অনেক কান্না করলাম আমি।,,,
,,,,
আজ একবছর পর বাসায় আসলাম।মা ফোন দিয়ে কন্নাকাটি করতো খুব।আমার পরাশোনাও শেষ।ভালো একটা চাকরি পেয়েছি নিজের শেই পরিচিত শহরে।যেখানে রয়েছে হাজারো সৃতি।মারয়ের দেখা করলাম।মাতো খুশিতে কেদেই ফেল্লো।
আমিও মাকে জরিয়ে ধরে খুব কান্না করলাম।,,,
,,,
পরের দিন বিকেলে ঘুরতে বেরিয়েছি।একটু নদির পারে যেতে হবে।সেখানে গিয়েই আমি মিহিনকে দেখতে পেলাম।মিহিন এখানে কি করছে।ওকে দেখেই চলে আসছি তখনি মিহিন ডাক দিলো।
মিহিন:আচ্ছা আমিকি তোমায় এতটায় কষ্ট দিয়েছি যে আমাকে ক্ষমা করা যায়না।
আমি:আচ্ছা আপনি কি চান বলুনতো?
মিহিন:এতো অভিমান আমার উপর
আমি:আমার কারো উপর কোন অভিমান নেই।কোন অভিমান নেই।
মিহিন:সেটাতো তোমার কথা শুনেই বুঝতে পারছি।
আমি:কিছু বল্লাম না।চুপ করে থাকলাম।
মিহিন:তখন খুব কষ্ট হতো তাইনা।
আমি:আমার কেনো জানি চোখ দুটো একটু ভিজে আসলো।
মিহিন:আমি অনেক বরো ভুল করেছি।আমায় মাফ করে দাও।(মেয়েটা অনেক কান্না করছে)
আমি:কিসের ভুল আমিতো কিছুই বুঝতে পারছিনা।
মিহিন:হুম,আমি অনেক বরো ভুল করেছি।একটাবার আমায় সুযোগ দাও প্লিজ।
আমি:তুমি চলে যাও মিহিন।একা থাকার অভ্যাস হয়ে গেছে।একা আছি অনেক ভালো আছি।যেখানে হারানোর কোন ভয় নেই।না আছে কোন পিছুটান।
মিহিন:তুমি মনে হয় করনি।
আমি:আমি আবার কি করলাম
মিহিন:তোমাদের বারিতে একটা মেয়ে এসেছিলো মনে আছে তোমার। তুমি ওকে প্রতিদিন রিক্সায় ঘুরাতে তখন আমার মনে হতো তোমাকে কেউ আমার কাছ থেকে কেরে নিয়ে যাচ্ছে।তারপর তোমার সাথে যোগাযোগ অফ করে দেই।তোমার ময়ের কাছ থেকে জানতে পারি।ওটা তোমার খালাতো বোন।প্লিজ আাময় আর একবার সুযোগ দাও।আমি কখনো তোমাকে অভিযোগ করতে দেবোনা।
আমি:তুমি আমাকে একবার জিঙ্গেস করতে পারতে।তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছো।আর আমি চাইনা আমার জন্য অন্য কেউ কষ্ট পাক।
মিহিন:বুঝলাম না তোমার কথা।
আমি:সাগরকে কি ভুলে গেছো নাকি।
মিহিন:ওতো আমার ফ্রেন্ড ছিলো আর কিছু না।
আমি:তোমরা যেভাবে চলতে সেভাবে কোন ফ্রেন্ড চলেনা।
মিহিন:সেটাতো তোমাকে দেখানোর জন্য ওভাবে চলতাম।
আমি:বিশ্বাস করতে পারছিনা তোমার কথা।কি গ্যারান্টি আছে।
মিহিন:হুট করেই ও আমাকে জরিয়ে ধরলো।আর খুব কান্না করছে মেয়েটা ।বলছে প্লিজ বিশ্বাস করো আমার কথা।আমি ভালো নেই তোমাকে ছারা।
আমি:তুমি তোমার ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেছো তোমার অবহেলায়।
মিহিন:তুমি আমাকে যে কোন শাস্তি দাও আমি মাথা পেতে নেবো।কোন কিছুই বলবোনা।যতো পারো কষ্ট দাও তবুও আামাকে ছেরে যেওনা।
আমি:মেয়েটা মনে হয় সত্যি কথাই বলছে।এখনো আমার বুকেই কান্না করছে।তার পর আমিও ওকে পরম মায়ায় জরিয়ে নিলাম।গধুলি লগ্নে এরকম একটা পরিবেশ খুবই ভালো লাগে।যেনো ভালোবাসা ময় একটা বিকেল। ভালো থাকুক ওরা।আর আপনারাও ভালো থাকুন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now