বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মফিজের বর্শিতে মাছ উঠে না ক্যান......... ??

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X মফিজ প্রতিদিন লালদীঘির পাড়ে বসে থাকে আর উদাস চোখে দেখে কত কত লোক এসে দীঘিতে বর্শি ফেলে বড় বড় মাছ ধরে খুশিতে দাঁত কেলিয়ে বাড়ির দিকে ছুটে যায়। কত ধরণের মাছ যে তারা ধরে - রুই, কাতলা, বোয়াল, মৃগেল, চিতল, কোরাল, পাঙ্গাস, শোল - নামের আর শেষ নেই। মফিজ উদাস হয়ে দুঃখি দুঃখি চোখ করে কেবল দেখেই যায়। কারণ তার বর্শি নেই, তাই মাছ ধরার মুরোদও নেই। তবে হঠাৎ করেই একদিন মফিজ একটা বর্শি পেয়ে যায়। আসলে হয়েছে কী, মফিজদের পাড়ার বৃদ্ধ চেটু চৌধুরীর ছিল বিশাল এক বর্শি। সে সেই বর্শি দিয়ে নিয়মিত মাছও ধরতো। হঠাৎ একদিন নিজের বাড়ির উঠোনে নিজের গরুর কাঁচা গোবরে পা পিছলে আছাড় খেল সে। আর সেই রাম-আছাড়েই সে পটল ক্ষেতে পটল তুলতে নেমে গেল। চেটু চৌধুরীর তিন কুলে কেউ ছিল না এক বোন ছাড়া। মফিজ সেই বোনের হাতে পায়ে ধরে, অনেক কান্নাকাটি করে সেই বর্শি বাগিয়ে নিল। তবে শর্ত একটাই - যত মাছ ধরবে তার তিন ভাগের দুই ভাগ চেটু চৌধুরীর বোনকে দিতে হবে। মফিজ তাতেই রাজি। বর্শি পাওয়া গেছে এই খুশিতেই সে আত্মহারা। মাছের হিসাব কিংবা হিস্যা তখন তার কাছে মূল্যহীন। তো প্রথম দিন মফিজ অনেক আয়োজন করে মাছ ধরতে গেল। তবে ঐ পর্যন্তই। সারাদিন বসে থেকেও একটা মাছ ধরতে পারলো না। ওদিকে তার আসেপাশে কত লোক যে টপাটপ বর্শি ফেলে ধপাধপ মাছ ধরে হাসি মুখে বাড়ি চলে গেল, তার কোন গোনা গুনতি নেই। মফিজ তো অবাক ব্যাপার কী তার বর্শিতে মাছ ওঠে না ক্যান?!! দ্বিতীয় দিনেও একই ঘটনা - মফিজের বর্শির ফাঁতনা ভাসতেই থাকে ডোবে না। আর অন্য লোকে পানিতে বর্শি ফেলা মাত্র টুপ করে ফাঁতনা ডুবে যায় আর টান দিলে মাছ উঠে আসে ধুপ করে। মফিজ দীঘির পাড়ে বসে বসে বিষণ্ন মনে ভাবতে থাকে কাহিনী কী? মাছ উঠে না ক্যান? ভাবতে ভাবতে কখন সন্ধ্যা ঘনায় মফিজ খেয়াল করে না। তার হুঁশ হয় কার ডাক শুনে। কে যেন তার নাম ধরে ডাকছে - মফিজ, ও মফিজ, ঐ মফিজ্জা ! সন্ধ্যার ঘনায়মান আঁধারে মফিজ কাউকে দেখতে পায় না। সবাই তখন যার যার বাড়ি চলে গেছে। মফিজের গা ছম-ছম করে ওঠে, ঘাড়ের রোম খাড়া হয়ে যায় - তবে কী এই নির্জনতায় অশরীরি কেউ ডাকছে তাকে?!! তখন দীঘির পানিতে একটা খল খল শব্দ হয়। মফিজ তাকিয়ে দেখে সেখানে একটা মাছের আভাস দেখা যাচ্ছে। সেখান থেকেই আবারো কন্ঠ ভেসে আসে - হ রে মফিজ, আমি এক কাৎলা মাছ কতা কইতাসি ডরাইস না। আমি তরে কিছু কথা কইতে আইছি। কথাগুলা তোর কামে লাগবো। মফিজ সাহস ফিরে পেয়ে প্রশ্ন করে - কী কথা? কাৎলা বলে - শুন তুই যেরম বর্শি বাইতাসোস তাতে জীবনেও মাছ পাবি না। কুনো মাছ তো বর্শিতে উডবো না। মফিজ জিজ্ঞেস করে - ক্যান ? আমার বর্শি কি খারাপ? নাকি বর্শিতে যে আদার দেই তা মাছেগো পছন্দ না? কাৎলা বলে - না তোর সবই ঠিক আছে। খালি তোর কফালে কুনো সিল নাই। আগে কফালে একটা সিল লাগা দেখবি বর্শিতে লাফায়া লাফায়া মাছ উডবো। মফিজ বলে - তোর এই কথার কোন মানে বুজলাম না। সিল আবার কী জিনিস? কাৎলা হাসে, বলে - আরে পাগল! ভালো কইরা খেয়াল কইরা দেক, এই দীঘিতে যারা মাছ দরতে আসে তাগো পোত্তেকের কফালে একটা সিল আছে। যার সিলের জোর যত বেশি তার বর্শিতে তত বড় মাছ উডে। কেউর কেউর সিলে এতো জোর যে হেরা শুকনা খটখইট্টা দীঘিতে বর্শি ফালাইলেও আৎকা মাছা উইঠা আইবো। মফিজ মাথা চুলকায়। কাৎলা ধমকে ওঠে - কিরে পাগলা, অহনও বুজতারোস নাই?! মফিজ বলে - হ, বুজছি। এই লাইগাইতো কই - যারা মাছ ধরতে আসে হেগো কপালে এমন ইংরাজি অক্ষর লেখা কেন! কেউর কপালে 'A', কেউর কপালে 'B' আবার কেউর কপালে 'J'। আরো নানা অক্ষরও দেখি। কিন্তু সেইগুলা সংখ্যায় কম। কাৎলা বলে - এই তো ধরতারসোস ব্যাফারডা। এইসব সিলের আবার সিজন আছে। হেই লাইগা সিজন বুইঝা একটা সিল লাগা কফালে দেকবি মাছের আর অভাব থাকবো না। মফিজ প্রশ্ন করে - কিন্তু এইসব সিলের অর্থ কী ? কাৎলা হেসে বলে - আরে গাধা তাও জানোস না ? A মানে আম্লিক, B মানে বিম্পি, J মানে জা'মুতি। বুজলিরে পাগলা এইসব সিল ছাড়া এইহানে কারো কুনো খাওন নাই। মফিজ বলে - হ বুঝছি এইবার। যাই তাইলে আগে কপালে একটা সিল মাইরা আসি। কাৎলা মাথা নাড়ে - হ, যা । জলদি গিয়া কফালে সিলের ব্যাবস্থা কর।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মফিজের বর্শিতে মাছ উঠে না ক্যান......... ??

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now