বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেয়েটি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ` মেয়েটি অবাক দৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে। খানিকটা ঘাবড়ে গেছে বোঝাই যাচ্ছে। অবশ্য এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ঘাবড়ে যাওয়ারই কথা। আমিও হয়ত ঘাবড়ে যেতাম। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না মেয়েটি এখনও এমন চুপ আছে কেন!! " মনে হয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে চিল্লানি দেবে কিনা! হয়ত সে সিদ্ধান্তটাই নিতে পারছে না। কারণ তাতে যে শিওর আমি পাবলিকের হাতে মাইর খাবো। অবশ্য মেয়েটি এতসব ভাবছে কিনা তা আমি বুঝতেও পারছি না! তাছাড়া মেয়েটি আমার জন্য এতসব কেনই বা ভাব্বে! আর আমি যেমনটা করেছি তাতে অবশ্য মেয়েটির চিল্লানি দেওয়ারই কথা। " আমি মেয়েটির চোখের দিকে তাকালাম। কি অপরূপ তার চোখ। এমন চোখে চোখ রেখে হারিয়ে যাওয়া যায় সহজেই। কিন্তু আপাতত এখন আমার মাথায় এতকিছু আসছে না। অন্তত এখনই কিছু করা দরকার নতুবা পাবলিকের কেলানি একদমই ঠেকানো যাবে না। " মেয়েটি এখনও অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। তাকে অভয় দিয়ে আমি বললাম, প্লিজ আপনি চিল্লানি দিবেন না। আমি এটা বলবো না কাজটা ইচ্ছাকৃতভাবে করিনি আমি। কারণ যতই অনিচ্ছাকৃতভাবেই হোক একটু ইচ্ছা না হলে কোনো কাজ করা যায়না। তবে এটা বলছি পুরোপুরি ইচ্ছাকৃত নয় এবং এমনটা আমার কখনোই করার ইচ্ছা ছিল না। " আমার কথায় মেয়েটি যেন আরো অবাক হয়ে গেল। বুঝতে পারছে না কি করবে সে! হয়ত সে আমার কথার আগামাথা কিছুই বোঝেনি। ওর কথা কি বলবো আমি নিজেই যেন সবকিছু গুলিয়ে ফেলছি। সেকারণে ওকেও বোঝাতে পারছি না। " নাহ! মাইরটা বোধহয় আর আটকানো গেল না। কি করবো আমি এখন!! বেশি প্যাচগোচে না গিয়ে ডিরেক্টলি বলি। তাহলেই হয়ত ভালো হবে ব্যাপারটা। " ওই মেয়েগুলোকে দেখেছেন? পাঁচজন মেয়েকে দেখিয়ে মেয়েটিকে বললাম আমি। মেয়েটি ওদিকে তাকালো। তারপর আবার আমার দিকে। ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই আমি আবার বলতে শুরু করলাম, ওরা আমার কাজিন। ওদের সাথে বাজি ধরেই আমি কাজটা করেছি। " কাজিনদের সাথে ঘুরতে এসেছি 'বনকলি' নামক এ জায়গাটায়। জায়গাটা বেশ দারুণ। কথা বলতে বলতে ফাজলামির ছলেই কথা দিয়ে দেই ওরা যা করতে বলবে তাই করবো কিন্তু বিনিময়ে ওরা আমায় ৫ হাজার টাকা দেবে। আর না করলে আমি দেবো। ওরা সংখ্যায় বেশি তাই ৫ হাজার টাকা ওদের কাছে কিছু মনে না হলেও আমার কাছে বিশাল ব্যাপার। " কিন্তু ওরা যে এমন একটা প্রস্তাব করে বসবে বুঝিনি। একটা মেয়েকে দেখিয়ে বলল সোজা যেয়ে ওই মেয়েটার হাত ধরে বসবি। আমি ফেঁসে গেলাম এক গ্যাঁড়াকলে। এমনিতেই মেয়েদের দেখে আমি খানিকটা ভয় পাই। আর আমি করবো এ কাজ!! " না করলেও আবার ৫ হাজার টাকা দিতে হবে ওদের!! ৫ মাসেও শোধ করতে পারবো না আমি এটা। তাই বাধ্য হয়েই কাজটা করার সিদ্ধান্ত নেই। জানিনা আজ কপালে কি আছে! " যাওয়ার আগে ওদের বলি এখনই ফোন করে একটা এ্যাম্বুলেন্স আনিয়ে রাখ। আর কোন হাসপাতালে নিয়ে যাবি সেটা তোরাই সিদ্ধান্ত নে। কারণ তোরা তো হারামী। নিয়ে উঠাবি এক সস্তা হাসপাতালে তা গ্যারান্টি দিয়েই বলছি। কিন্তু এখান থেকে সস্তার কোনো ভ্যানে করে নিয়ে যাইস না। অন্তত এত্ত অপমান করিস না। করুণ মুখে কথাগুলো বললাম আমি। আর কথাগুলো শুনে ওরা এমনভাবে হেসে উঠলো যেন আমি মিরাক্কেল মঞ্চে সেই লেভেলের এক জোক্স বলেছি। " মেয়েদের সামনে সহজেই স্বাভাবিক হতে পারিনা আমি। অস্বস্তি ফিল করি নিজের মধ্যে। তাই সবকিছুই গুলিয়ে যাচ্ছে। আমি মনে হয় মেয়েটিকেও ঠিকমতো বোঝাতে পারছি না ব্যাপারটা। মনের মধ্যকার ভয়টা এখনও কাজ করছে। এই বুঝি মাইর খাবো আমি। " দেখুন মাত্র দু-তিন মিনিট আপনি আমার সাথে একটু হেসে কথা বলুন তাহলেই কাজটা হয়ে যাবে। আর টেনশন নিবেন না আমি যা পাবো তার অর্ধেক ভাগ আপনি পাবেন। মানে ফিফটি ফিফটি। পুরা আড়াই হাজার টাকা। " কথাগুলো বলেই আমি একটা হাত আমার গালে রাখি। অবশ্য তখনও এক হাত দিয়ে আমি মেয়েটির একটা হাত ধরে রেখেছি। কারণ আমার ধারণা ছিল এ কথা শুনেই মেয়েটি আমারর গালে জোরে থাপ্পড় মেরে বলবে ফাজলামির আর জায়গা পান না তাইনা!!? এইসব ভণ্ডামি কবে থেকে শুরু করছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। " কিন্তু না। তার কিছুই হলো না। বরং মেয়েটি আমার কথায় ফিক করে হেসে দিল। ইয়াক!! কি বিশ্রী হাসি! কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব! এত সুন্দর একটা মেয়ের হাসি বিশ্রী টাইপের হতে পারেনা। কিছুতেই না। নিশ্চয়ই আমার মধ্যে হেলসিনেশন হচ্ছে। টেনশনে মাথা কাজ করছে না। থাপ্পড় মনে হয় হাসিটা শেষ করেই মারবে। " মেয়েটি আমায় জিজ্ঞেস করলো নাম কি আপনার? জি, আ..আ..আরেফিন। আমার কথায় মেয়েটি আবারও হাসলো। বলল, এমন তোতলাচ্ছেন কেন!!? আমার মধ্যে এক অতিমাত্রার অস্বস্তি কাজ করছে। তার কথায় আমি একটু মুচকি হাসলাম। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হল, হাসিটা মুচকি হাসি হয়নি বরং ভয়পাওয়া এক হাসি হয়েছে। " মেয়েটি আমায় বলল, আরেফিন সাহেব! আপনি কিন্তু অনেক সাহসী একটা কাজ করেছেন। এরকমটা কিন্তু সবাই পারে না! আমি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার নামটা কি বলবেন প্লিজ!? মেয়েটি হাসিমুখে উত্তর দিল 'নিশি'। " মেয়েটি আমায় জিজ্ঞেস করলো আপনার কি ভয় করছে? আমি বললাম সেকি! এটা করতে আবার ভয় কিসের!! ওমা তাই নাকি!! আপনি দেখছি বেশ সাহসী ছেলে। কথাটা বলতে বলতেই মেয়েটি আমার হাত ছেড়ে নিজেকে একটু গুছিয়ে নিচ্ছে। ঠিক কাউকে ঠাসঠাস দেয়ার আগে যেটুকু প্রস্তুতি প্রয়োজন সেটুকুই। " এ দেখে আমার ভয়টা আবার চরমমাত্রায় কাজ করছে। তার কথার প্রতিউত্তর হিসেবে আমি বললাম জি তেমনটাই। তবে আমি কিন্তু বেশ জোরে দৌড়াতেও পারি। আমার এ কথায় মেয়েটি আবার হেসে দিল। " আমি আমার কাজিনদের দিকে তাকালাম। তাদের ভাব দেখে মনে হচ্ছে তারা সরাসরি কোনো শ্যূটিং দেখছে এবং বিষয়টা খুব উপভোগ করছে। বরং ওদের যে ৫ হাজার টাকা গচ্ছা গেল সে জন্য কাউকে মোটেই বিচলিত হতে দেখা গেল না! আচ্ছা ওরা আবার বাজির টাকাটা মেরে দেবে না তো! তাইলে আমি শ্যাষ!! সব কয়টারে রিমান্ডে নিমু। এত্ত রিস্ক সত্ত্বেও কাজটা করলাম! " মেয়েটি আমায় বল, আরেফিন সাহেব! আপনি কিন্তু বেশ ভালো কথাও বলতে পারেন! তার কথার বিপরীতে আমি একটু হাসলাম। না! এবার আর মেয়েটিকে দেখে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখছি না। মনের ভয়টাও বেশ স্বাভাবিক হয়ে আসছে। " এবার নিশিই আবার আমার হাত ধরে বলল, আরেফিন সাহেব! চলেন একটা কাজ করি। আমি জিজ্ঞেস করলাম কি কাজ? তখন নিশি বলল, মাত্র দু'তিন মিনিট হেসে কথা বলে আর কিই বা হবে! তারচেয়ে বরং চলেন আগামী এক ঘন্টার জন্য আমরা দুজন প্রেমিক প্রেমিকা হয়ে যাই। " আরে!! এ মেয়ে বলে কি! আমি শিওর এ কোনো স্বাভাবিক মেয়ে হতে পারেনা। নিশ্চয়ই এ মেয়ের মাথার স্ক্রু ঢিলা। শেষমেশ আমি আবার কোনো পাগলির খপ্পরে পড়লাম না তো! " মেয়েটি হাসছে। অদ্ভুত সে হাসি। না, এখন আর হাসিটা বিশ্রী টাইপের লাগছে না। বরং অনেকটাই ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আমার জন্যই এ হাসি। এ হাসির একমাত্র দাবিদার যেন আমিই। " সত্যিই অপরূপ সুন্দর মেয়েটি। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আমি তার দিকে। নাহ! মেয়েটির কথাটা অবশ্যই রাখা উচিৎ আমার। ক্ষণিকের জন্য হলেও এত সুন্দরী একটা মেয়ের প্রেমিক হতে পারাটাই বা কম কিসে!! " কাজিনদের দিকে তাকিয়ে আমি একটু মুচকি হাসলাম। আমার হাসিতে তারা বিভ্রান্ত হয়ে গেল। এখন নিশ্চয় ওদের কাছেও সব গুলিয়ে যাচ্ছে। যাক গুলিয়ে। এখন তো গুলিয়ে যাবারই সময়। " হাতে হাত রেখে উঠে দাঁড়ালাম আমি আর নিশি।কোন দিকে মোড় নিচ্ছে এসব! ক্ষণিক থেকে অনেকের দিকে কি!! দেখাই যাক না কাহিনী কতদূর যায়! অন্তত এখন এক ঘন্টার প্রেমিক তো হই!!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বই প্রেমী মেয়েটি
→ সেই মেয়েটি ২
→ সেই মেয়েটি পর্ব ১
→ আমার জীবনের অংশ সেই মেয়েটি
→ পর্ব ১৪ অচেনা মেয়েটি
→ অচেনা মেয়েটি পর্ব ১৩
→ অচেনা মেয়েটি পর্ব ১২
→ অচেনা মেয়েটি পর্ব ১১
→ আচেনা মেয়েটি পর্ব ১০
→ অচেনা মেয়েটি পর্ব ৯
→ অচেনা মেয়েটি পর্ব ৭
→ অচেনা মেয়েটি পর্ব ৮
→ অচেনা মেয়েটি পর্ব ৬
→ অচেনা মেয়েটি পর্ব - ১
→ অচেনা মেয়েটি পর্ব ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now