বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেঘলা আকাশ এবং সৈকত

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X মেঘলার মনে হচ্ছে আজ বৃষ্টি হবে। সে ভাবছে ভিজবে কি না। আসলে সে যেন কিরকম অন্যমনস্ক হয়ে গেছে। কি ভাবছে কেন ভাবছে তাও সে বুঝতে পারছেনা। সেই মুহুর্তে তাঁর মনে হলো। বাবা বলেছে তাঁর বিয়ের কথা। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। এ জন্য ইচ্ছা থাকলেও তাঁর শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্নটা মনে হয় পূরন হবেনা। সে সবার বড় ভাই বোনদের মধ্যে। তাঁর ছোট আরো তিনজন তাঁরাও লেখাপড়া করছে। বাবা ছোট একটি ব্যাবসা করেন। আর মেঘলার'ও যে বিয়ের বয়স হয়নি তা বললে ভুল হবে। তবে মেঘলার ইচ্ছে সে ডাক্তার হবে পরে পরিবার আর ছোটদের লেখাপড়া'র কথা চিন্তা করে বিয়েটা করে ফেললে খারাপ হয়না। তখনি মাথায় আসে। কে হবে আমার বর? কেমন হবে? সে কি আমাকে খুব ভালবাসবে? নাকি.. এসব ভাবতে ভাবতে বৃষ্টি'ই থেমে গেলো। আর সাথে সাথে তাঁর ভাবনা'ও। সকালে বাবা বলেন, "কিরে মা" কিছু ভাবলি? মেঘলা কিছুমাত্র বুঝার আগেই বললো, আপনি যা মনে করেন তাই'ই হবে। তারপর বাবা সমন্ধ আসলে ছেলের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেন। আগে সমন্ধ আসলে সে সোজাসুজি মানা করে দিতেন। একদিন একটা সমন্ধ আসলো। ঘটক সব কিছু বললেন ছেলের ব্যাপারে। মেঘলা'র বাবা বলেন এবং মেয়ে দেখার দিন ঠিক করলেন। কথামতো ছেলেপক্ষ দেখতে আসে মেয়েকে। ছেলেপক্ষ'র হয়ে শুধু ছেলের মামা আর মামী। দেখা হলো পরে মেঘলা'র বাবা ছেলের মামাকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা বলছিলাম কি, ছেলের মা, বাবা ওনাদের তো দেখলাম না। তারপর ছেলের মামা সব খুলে বললেন যে। আকাশ আর তাঁর পরিবার এর মধ্যে সম্পর্ক নেই। কি জন্য নেই জিজ্ঞেসস করতেই বলে, আকাশ ছিলো অন্যরকম তাঁর পরিবারের সবাই দেশের বাহিরে গিয়ে লেখাপড়া করেছে আকাশকে বলেছলো সে যায়নি। সে দেশেই থাকতে চায়। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। বাপপ,দাদার পরিচয় নিয়ে বাঁচবে না। আমার কাছে গত দের-বছর হলো আছে। মেঘলার বাবা বুঝলেন এবং ছেলেকে তাঁর পছন্দ হয়। রাতে মেঘলা তাঁর বাবার কাছ থেকে জানতে পারলো। ছেলেটার নাম আকশ। বাবা বলেন, " শুন মা " তোর যদি পছন্দ হয় তাহলে আমরা এগোবো। তাঁরা তোকে পছন্দ করেছে। মেঘলা লজ্জায় বাবার সামনে থেকে উঠে যায়। মেয়ের লজ্জা মাঁখা মুচকি হাসি দেখে বাবার বুঝতে অসুবিধে হলোনা যে মেয়ে বিয়েতে রাজি। তিনি তাঁরপর বাঁকি কথাবার্তা বলে বিয়ের দিন ঠিক করলেন। পুরো বাড়ি আ লত বাতিতে হেসে উঠলো। শানাই বাজলো মধুর সুরে। বর এলো মেঘলা বিয়ের সাজে সাজলো। আয়নার সামনে দাঁড়াতেই কিরকম লজ্জা লাগছে তাঁর। বিয়ে সম্পূর্ণ হওয়ার পর যখন মেঘলা নিজের বাড়ি ত্যাগ করবে। সে সময় তার কান্না আর ধরে রাখতে পারছিলোনা। বাবা,ছোট, দুটো ছোট ভাই এমনিতেও মা নেই। মেঘলা তাঁদের বোন আর মা দুটোই ছিলো। তাঁরাও কান্না আরম্ব করলো। তবে কোন এক মুরুব্বী বুঝতে পেরে তৎক্ষণাৎ মেঘলাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিলেন। মেঘলার মন ভীষণ ভার হচ্ছে। আকাশ তাঁর থেকে অনেকটা দূরেই অবস্থান করে বসেছে। মেঘলার চোখে পানি দেখে আকাশ বললো, আপনি কাঁদবেন না আর দয়া করে। আকাশের কথা শুনে সে চুপ করলো। আকাশের মামার বাড়িতে গেলো। কি সুন্দর করে বাসর সাজানো হয়েছে। মেঘলা নবযৌবনা বধূর মতো ঠিক বসে আছে ঘোমটা দিয়ে। তাঁর অপেক্ষা শেষ। আকাশ আসলো তাঁর পাশে বসলো। মেঘলার ঘোমটা সরানোর অনুমতি পেয়ে ঘোমটা সরালো। আর বললো, আপনি আসলেই অনেক অপরুপা। শুনে মেঘলা খুশি হলো আবার কিঞ্চিৎ পরিমাণ মনের ভীতরে রাগ হলো। তাঁর স্বামী কেন তাঁকে আপনি করে বলবে? কিন্তু সে মুখে বললোনা। লজ্জানত হয়ে চোখ নিচে নামিয়ে রাখলো। একপর্যায়ে আকাশ বললো, আপনি তো কিছুক্ষণ আগে নিজের বাড়ি ত্যাগ করলেন তবে চিরদিনের জন্য নয়। মেয়েরা বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতেই থাকে এটাই স্বাভাবিক। আর আমি তো তিন বছর আগে ঘর ছেড়েছি চিরদিনের জন্য। তারপর মেঘলা আকাশের জীবন কাহিনি শুনলো। বেশ কষ্টের, পরিবারের থেকে আলাদা একেবারে। সরল, সহজ হিংসে নেই। এতো কোটিপতি বাবার ছেলে হয়েও। মেঘলার মনে আকাশের জন্য শ্রদ্ধবোধ বেড়ে গেলো। বাসর রাতটা স্বাভাবিক'ই কাটলো দুজনের। সকালে সবাই একসাথে নাশতা করলো। মামীর সাথে মেঘলা দুজনে মিলে একদম'ই অন্যরকম লেগেছে। মামার এক মেয়ে এক ছেলে। ছেলে পড়ে অষ্টমে আর মেয়ে অনার্স মেয়েতার নানু বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। আকাশ, সিফাত আর মামা। মেঘলা এবং মামীকে রান্নার জন্য প্রশংসার সাগরে ভাসিয়ে দিলেন। তাঁরা দুজন খুশির চেয়ে লজ্জা'ই বেশি পেলো। এভাবে খুব সুখে শান্তিতেই দিন যাচ্ছে তাঁদের। আকাশ একটা চাকুরী নিলো। একদিন হটাৎ আকাশের কাছে তাঁর মায়ের ফোন। সে খুব আশ্চর্যসহ বিস্মিত হলো। অন্য কেউ হলে ফোন তুলতোনা। মা বলে কথা সে ফোন তুলাত মাত্রই মা বললেন, কেমন আছিস খোকা? আকাশ রেগে গিয়ে বলে, আপনার সন্তান তিন বছর আগে মরে গিয়েছে। সে ধন-সম্পত্তি চেয়েছিলোনা। কি বলবেন তারাতারি বলেন। মা নরম কণ্ঠে বললেন, তুই নাকি বিয়ে করেছিস তুর বউয়ের মুখটা দেখাবিনা? আকাশ বললো, দেখুন আমার বউ কোন শিল্পপতির মেয়ে নয় সাধারণ ঘরের মেয়ে তাঁকে দেখতে হবেনা রাখছি। বলে কেটে দিলো আকাশ। মেঘলাকে সে বলে। মেঘলা বলে, তাহলে আমাকে একবার দেখুক না? আকাশ বললো, তুমি আমার পরিবারকে চেনোনা। তাঁরা টাকা দিয়ে মানুষ বিচার করে। মেঘলা বললেও আকাশ রাজি হয়না। তাঁদের সুখের সংসার ভালই যাচ্ছে এখন তাঁদের পরিবারে নতুন মেহমান আসার সময় হয়েছে। মামা, মামী, মেঘলা আকাশ সবাই খুশি ব্যাপার টা নিয়ে। কারোরি তর সইছে না। অবশেষে সবার অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। অনেক সুন্দর একটি ছেলে। সবাই ছেলেকে নিয়েই মেতে থাকে। নাম রাখা হয় সৈকত। অন্যরকম মায়া আর হাসি নিয়ে জন্মিয়েছে সৈকত। অপর দিকে আকাশের বাবা তাঁর মাকে বললেন, শুনলাম আকাশের নাকি ছেলে সন্তান হয়েছে? শুনে মা বললেন, হ্যা, " অনেক সুন্দর হয়েই। বাবা বললেন, দেখতে হবেনা কার নাতী। তখন তাঁর মা রেগে বললেন, নিজের নাতী বলতে লজ্জা করেনা? বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন শুধু মাত্র টাকা পয়সার জন্য। বাবা শুনে কাঁদোকাঁদো হয়ে বললেন। সেটাই তো ভুল ছিলো আমার। নাহয় আজ আমার ছেলে, বউ দাদুভাই আমার কাছেই থাকতো। আকাশের ছেলের মুখটা দেখতে দুজনেই পাগল হয়ে যায়। কিন্তু কি করে সম্ভব? তাঁররা যেভাবে আকাশকে বাড়ি থেকে এক প্রকার তাড়িয়ে দিয়েছিলো অপমান করে। কোন এক ভাবে আকাশের মা তাঁর ছেলেকে দেখেছিলো। তারপর মা তাঁর বাবাকে বললেন, জানেন" আকাশের ছেলেটা না পুরো আপনার মতো হয়েছে। নাক , কান, মুখ, মাথার চুল সব। কিন্তু চোখগুলো হয়েছে পুরো আকাশের মতো। তাঁদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া কোন উপায় ছিলোনা। সৈকত বড় হয়। তাঁকে একটি কিন্ডারগার্ডেনে ভর্তি করিয়ে দদেয়া হয়। প্রতিদিন আকাশ নাহয় মেঘলা সৈকতকে নামিয়ে দিয়েযায় আবার নিয়েযায়।আকাশের বাবা প্রতিদিন দূর থেকে সৈকতকে দেখে যায়। তার বউমা'ও অনেক লক্ষিতা তাও তিনি বুঝতে পারেন ভালো করে। একদিন তিনি আর দূর থেকে দেখতে পারছিলেন না। খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো গিয়ে তাঁর নাতীর কাছে যেতে। একটু আদর করবে বলে। তিনি গেলেনও। সৈকত আরর তাঁর মা দাঁড়িয়ে আছে। হটাৎ মধ্যবৃদ্ধ একটি লোক কোর্ট টাই পড়া তাঁদের সামনে আসলো। বৃদ্ধের সৈকত এর প্রতি তাঁকানো দেখে মেঘলার বুঝতে অসুবিধে হলোনা যে তিনি আকাশের বাবা। তাই বৃদ্ধ কিছু বলার আগেই মেঘলা বলে উঠলো, বাবা? এ ডাক শুনে বৃদ্ধের চোখে পানি আসতে দেরি করলোনা। বললেন, হ্যা বউমা" তুমি আমাকে চেনো? মেঘলা উত্তরে বললো, আপনার চাহনি দেখে সৈকত এর প্রতি যে কারোরি বুখতে অসুবিধে হবেনা। মেঘলা যখন শুনলেন তিনি আকাশের বাবা তখন'ই সালাম করে। তা দেখে সৈকত বলে উঠলো, কি করছো আম্মু? ইনি কে? শুনে আকাশের বাবা বললেন, আমি তোমার দাদু দাদুভাই। সৈকত ছোট মানুষ খুশি হলো বললো, ও দাদুভাই? তারপর সৈকতকে কিছু চকলেট আর খেলনা কিনে দিয়ে চলে যায়। মেঘলা রাতে আকাশকে সব বলে। প্রথমে রাগ হলেও বাবা ভুল বুঝতে পেরেছেন বুঝে তাঁর খুব ভালো লাগলো। একদিন সৈকত এর স্কুলের সামনে আকাশের বাবা, মা দাঁড়িয়ে আছে। আজ সৈকতকে আকাশ নামিয়ে দিতে আসছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই সামনে থেকে এসে তাঁর বাবা তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। লোকটার বুকের গন্ধ বলে দেয় ইনি আর কেউ নয় তাঁর নিজের বাবা'ই। কিছুক্ষণ কান্নাকাটিতে সব রাগ, অভিমান, কষ্ট দূর হয়ে যায়। আকাশের বাবা আকাশকে বলে, বউ, সন্তান নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসতে। দুদিন পর আকাশ মেঘলা আর সৈকতকে নিয়ে তাঁর পিতার বাড়ি মানে নিজের বাড়িতে যায়। আকাশ, আকাশের বউ আর তাঁর সন্তানকে পেয়ে এ পরিবারের সুখের প্রাণ যেন ফিরে পেয়েছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মেঘলা আকাশ এবং সৈকত

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now