বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#মেঘের_ওপারে_রৌদ্দুর__
writter:Imran khan
#পার্ট__১ম___
.
ইসস,কি বেহাইয়া ছেলে রে বাবা!চোখে বিন্দু পরিমানও লজ্জা শরম বলতে নাই৷
আমি আমার বাপের জন্মেও দেখি নাই৷
এত করে বলি তারপরও লজ্জা লাগে না৷
গন্ডারের চামরা নাকি?আমাকে এভাবে বললে তো কবেই মরে যেতাম৷বাপ মা মইরা আমাগো ঘাড়ের ওপর চাপাই দিয়া গেছে৷
.
কথাগুলো শুনতেই কেমন চোখটা ভিজে গেল৷
আপনা আপনি চোখ দিয়ে টলমল করে পানি পড়তে লাগল৷খুব বেশিই কষ্ট হচ্ছিল৷
মাত্র মুখে খাবার দিতে যাবো৷ঠিক তখনই পাশের রুম থেকে চাচি কথাগুলো বলছিল৷
.
কথাগুলো শুনেই বুকের মধ্যে কেমন ব্যথা শুরু হতে লাগল৷প্রত্যেকটা দিনই চাচি এমন কথা বলে তবে কিছুই বলতে পারিনা৷কি ই বা বলব?
ছোটবেলায় বাবা মা মারা যাওয়ার পর থেকেই চাচার ঘরে মানুষ হইছি৷.
.
চাচা খুব ভালো মানুষ৷আর চাচি ঠিক তার উল্টো৷অনেক আগেই এখান থেকে চলে যেতে চেয়েছিলাম৷কিন্তু চাচার জন্য পারিনি৷
শেষবার যখন বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলাম৷সেদিন চাচাই আমাকে যেতে দেইনি,
ছলছল দুটি চোখ নিয়ে আমার দিকে অনুরোধের হাত বাড়িয়ে বলেছিল,
.
--বাবা আবিদ!!তুই আমাকে ছেড়ে যাস না রে বাপ৷
জানি তোর চাচি তোকে সহ্য করতে পারেনা৷
কিন্তু তাই বলে কি আমাকে তুই কষ্ট দিয়ে চলে যাবি?বাবা রে,আমার নিজের সন্তানকেও আমি তেমন ভালোবাসি না যতটা তোকে বাসি৷তুই যাসনে বাবা,যাসনে
.
এইটুকু বলার পরই চাচা চোখ মুছতে মুছতে চলে গেল৷
সেদিন চাচাকে কিছুই বলতে পারিনি৷
আমার চাচা একজন অবসর প্রাপ্ত মানুষ৷বাসা ভাড়া দেয় আর সেই টাকায় সংসার চলে৷
আমি মাত্র অনার্স ২বর্ষে পড়াশোনা করছি৷টিউশনি করে কোনোমতে পড়াশোনার খরচ চালাই৷আর থাকা খাওয়া চাচার বাসায় করি৷আর যার কারনেই চাচির চোখের বিষ আমি৷
.
কিছুক্ষন আগে চাচির কথাগুলো শুনে এখনও খুব বেশি কষ্ট লাগছে৷জানিনা এত কষ্ট কেন লাগছে,তবে আজকে বাবা মাকে নিয়ে কথা বলায় হয়ত খুব বেশিই কষ্ট লাগছে৷বাবা মাকে খুব বেশি মনে পড়ছিল৷আর টপটপ করে চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছিলো৷
চোখদুটি মুছে খাবার রেখেই কলেজের জন্য তৈরি হয়ে কলেজে চলে গেলাম৷
.
কলেজের ভিতরে আনমনে হাটছি,আর খুব বেশি ভাবছি,আসলেই আমি ওদের বোঝা,চাচা ভালোবাসে বলে কিছু বলেনা,কিন্তু চাচি কেন আমায় ভালো চোখে দেখবে?আমি তো তাদের জন্য কিছুই করতে পারছিনা৷
ভাবতেই চোখটা ভিজে গেল৷আর তখনি কিসের সাথে যেন ধাক্কা৷কিছু বুঝে ওঠার আগেই
.
--ঠাসসসসসস ঠাসসসসসস,
ছোট লোকের বাচ্ছা!!!!আমার দামি কাপড়টাই নষ্ট করে দিল৷
.
থাপ্পর দুইটা খুব বেশিই জোড়ে লাগল৷গাল কেটে মুখ দিয়ে আমার রক্ত বের হয়ে গেল৷মাথা উচু করে তাকাতেই দেখলাম হয়ত কোনো ধনি মানুষের আদরের দুলালি৷
গালে হাত দিয়ে মাথাটা নিচু করেই উত্তর দিলাম
.
--মাফ করবেন,আসলে খেয়াল করিনি,দয়া করে আমায় মাফ করে দিবেন(গালে হাত দিয়ে অন্য হাতে রক্ত মুছতে মুছতে)
.
ঠিক তখণই তাদের সাথের একটা মেয়ে বলে উঠল
.
--লাবনী দেখ দেখ,ছেলেটার মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে
.
--রক্ত বের হচ্ছে তাতে আমার কি?ওর জন্য আমার দামি কাপড়টাই নষ্ট হয়ে গেল৷
আর এই ছোট লোকের বাচ্ছা,নেক্সট টাইম যদি আমার সামনে এসেছিস তো,, তোকে একদম খুন করে ফেলব৷
.
মাথাটা তখনও নিচু করেই রাখলাম৷কোনো উত্তর দিলাম না৷আর প্রতিবাদ করার সাহসটাও জন্মালো না৷কারন আমি জানি আমার টাকা নেই,আমি কোনো ধনী পরিবারের সন্তান না৷
এই সমাজে ধনী মানুষ অন্যায় করলেও সেটা সঠিক,তাদের অন্যায় কাজকে সাপোর্ট করার মানুষের অভাব নেই৷কিন্তু আমাদের মত গরীব মানুষরা উচিৎ কথা বললেও,অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেও যে আমাদের পাশে কেউ দাড়াবেনা৷
উল্টো টাকার দাপটে আমাকেই অন্যায় বানিয়ে ফেলবে৷
হা হা হা এটাই যে আমাদের সমাজ৷
.
মুখের রক্ত মুছতে মুছতে কলেজের ভিতরে গেলাম৷আজকে গুরুত্বপূর্ন একটা পরিক্ষা আছে৷তাই ভিতরে গেলাম৷নয়ত ভিতরে যেতাম না৷
.
ভিতরে যেতেই সবাই কেমন অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷পুরো মুখে আঙ্গুলের ছাপ বসে আছে৷তাই কারো সাথে কথা না বলেই সরাসরি ভিতরে চলে গেলাম৷
.
ভিতরে যেতেই রাজ,রনি সব বন্ধুরা চলে আসল৷আমার এই অবস্থা দেখেই তারা রেগে গেল৷বার বার জিজ্ঞাসা করতে লাগল
,
--আবিদ,তোর গালে কি হইছে?কে মারছে তোরে?কে এমন অবস্থা করছে বল আমায়৷(রনী)
.
--কিরে আবিদ কে এমন করছে?বলবি তো?কিরে চুপ কেন?
.
--দূর বোকা,কই কি হইছে?কিছু হয়নি(আমি)
.
--বল আবিদ কি হইছে তোর?(রনি প্রচন্ড রেগেই বলল কথাটা)
.
আমি জানি ওদেরকে যদি একবার বলি,তাহলে তারা পুরো কলেজে কিয়ামত শুরু করে দিবে৷কিন্তু এতে ওদের অনেক ক্ষতি হতে পারে৷আর আমি চাইনা আমার কারনে ওরা বিপদে পরুক৷
.
ঠিক তখনই কেউ একজন এসে বলে উঠল
,
--আবিদকে একটা মেয়ে মারছে!মেয়েটার সাথে আবিদের ধাক্কা লাগে,যার কারনেই আবিদকে এভাবে মারছে(অপরিচিত)
,
--কিহহহহহহ?এই আবিদদদদ?বল কে মারছে তোরে?সত্যি কথা বলললললল
.
--এই চুপ কর!নয়ত আমি আজকে পরিক্ষা না দিয়েই চলে যাবো(আমি)
.
--আচ্ছা তুই পরিক্ষা দে,কিন্তু এর জবাব আমি ওই মেয়েকে পরে ঠিকই দিব৷
.
ক্লাস শুরু হয়ে যাবে৷স্যার ক্লাসে এসে ক্লাস শুরু করে দিল৷ঠিক তখনই দরজার পাশ থেকে আওয়াজ আসল
.
--May I come in sir???(মেয়ে কন্ঠ)
.
---Yes,come in(স্যার)
,
মেয়েটা ভিতরে ঢুকতেই অন্যরকম লাগা শুরু করল৷কারন এই সেই মেয়েটাই যে আমাকে মেরেছিল৷স্যার সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠল
,
--ওর নাম লাবনি,আজ থেকে তোমাদের নতুন সহপাঠী৷আর ও খুব ভালো মেয়ে৷সবাই ওর সাথে বন্ধুর মত আচরন করবে৷
.
সবাই তাকে স্বাগতম জানালো৷আর তারপরই স্যার আমাকে ডাক দিল
,
--আবিদ(স্যার)
.
স্যারের ডাক শুনেও না শুনার মত নিচের দিকে তাকিয়ে রইলাম৷আর মেয়েটাকে দেখে মুখ লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলাম কিন্তু লাভ হলো না৷এর মধ্যেই স্যার আমার কাছে চলে আসল৷আর এসেই বলল
.
--আবিদ?তুমি নিচের দিকে তাকিয়ে কি করছো?
.
--কিছুনা স্যার(নিচের দিকে তাকিয়েই)
.
--আবিদ দাড়াও,,এই ছেলে কি বলছি তোমায় দাড়াও বলছি
.
স্যারের ধমক শুনেই দাড়িয়ে গেলাম৷
,
--তোমার মুখে কি হইছে?এমন হাতের আঙ্গুলের ছাপ কিসের?
.
--কই স্যার কিছুনা৷
.
--কেউ মেরেছে তোমায়?গাল এমন ফুলে আছে কেন?
.
--কেউ না স্যার৷আসলে স্যার বন্ধুদের সাথে মজা করতে করতে কখন যে অসাবধানতা বসত লেগে গেছে বুঝতেই পারিনি
.
কথাটা শুনেই মেয়েটা কেমন আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে৷৷
মেয়েটাকে স্যার আমার পাশেই বসতে বলল৷
আর মেয়েটাও আমার পাশেই বসল৷
মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দরী ছিল কিন্তু ওর দিকে তাকাতেই দেখলাম ওর চোখে ভয়ানক রাগের ছাপ৷
হয়ত আমাকে দেখেই এমন রেগে গেছে৷তাই
আমি অন্যদিকে তাকিয়েই ক্লাসটা শেষ করলাম৷আর ওই স্যারের ক্লাস শেষ হতে না হতেই ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলাম৷
কেন জানি খুব বেশি অসহ্য লাগছে৷আর ভয় হচ্ছে৷কারন বড়লোক মেয়েরা অনেক বেশিই অহংকারি হয়৷আর তাদের জেদের বলি হতে হয় অনেক নিরুপরাধ মানুষকে৷আমি চাইনা আমি ওর অহংকারের শিকার হই৷
.
অন্যদিকে আমি কলেজ থেকে বের হতেই লাবনি আমার সম্পর্কে ভাবতে লাগল৷ছেলেটা স্যারকে সত্যি কথা বলল না কেন?আচ্ছা করলে তো আমায় ধরিয়ে দিতে পারত৷তাহলে দিল না কেন৷হি হি হি নিশ্চয় আমাকে অনেক ভয় পাইছে৷কাল থেকে ওর সাথে বেশি বেশি মজা করব৷বলেই মনে মনে একটা ভয়ানক হাসি দিল৷
কলেজ থেকে বের হয়েই রাস্তা দিয়ে আনমনে হাটছিলাম৷
বাসায় ফিরতেই আবারও চাচির সেই অপমানজনক কথা৷রোজগার করতে পারিনা?খালি খাইতে পারি৷এটা সেটা,কত কিছু বলছে৷
কিন্তু কোনো কিছুই কানে আসছেনা৷
সবকিছু বাদ দিয়ে বই পড়তে শুরু করলাম৷
ঠিক তখনি চাচাতো ভাইটা আসল৷
এসেই বলল
.
--ভাইয়া ভাইয়া,আমাকে তুমি বই পড়াবে?আমি তোমার কাছে পড়ব?
.
--হুম পড়বে,কিন্তু আমি তো তোমার স্যারের মত এত ভালো করে পড়াতে পারব না৷
.
--স্যার ভালো পড়ায় না৷খালি মারে,আর অযথাই টাইম শেষ করে চলে যায়৷আমি কিচ্ছু বুঝিনা৷
তুমি আমায় পড়াবে বলো?
,
--হুম পড়াবো৷আমার ভাইটাকে আমি পড়াবো
.
ঠিক তখনই চাচি আসল৷এসেই বলল
.
--এই ছেলে?তোমার কি সাধারন জ্ঞানটুকু নেই?তোমার লেবেল আর ওর লেবেল কি এক নাকি?তোমার স্থান কোথায় আর ওর সাথে তুমি কেন মিশছো(রেগে)
.
--আসলে চাচি,ও বলছিল আমার কাছে পড়বে৷
.
--কি আমার স্যার হইছে?নিজের পড়াই পড়তে পারেনা৷আবার ওরে পড়াবে?জানো ওর পড়ার জন্য স্যারকে কত দেওয়া হয়?৫হাজার টাকা দেওয়া হয়৷
.
কিছুই বলতে পারলাম না৷এর আগেই চাচাতো ভাইকে নিয়ে চাচি চলে গেল৷
.
পরেরেদিন আর কলেজ গেলাম কিন্তু কলেজে গেলেই মেয়েটা বিভিন্ন ভাবে আমাকে অপমান করত৷বই ফেলে দিত,নয়ত ধাক্কা মেরে কাদায় ফেলে দিত৷খুব জোড়ে চুল টেনে ছিড়ে ফেলত৷কখনও বা গালের মধ্যে ইচ্ছামত থাপ্পর মারত৷কিন্তু কেন এমন করত?তার উত্তর মিলত না৷শুধু একটা কথাই বলত আমি ছোটলোক৷আস্তে আস্তে এমন পরিস্তিতি হয়ে হয়ে গেল,কলেজে গেলেই আমার জীবনটা নরকের জ্বালায় ছটফট করে৷মেয়েটা আমার জীবনটাকে নরক বানিয়ে ফেলছে৷৷ এর ভিতর খুব অসুস্থ হয়ে গেলাম৷বাসায় চাচির অবহেলা নিয়েই বাসায় প্রচন্ড জ্বর নিয়ে দিন কাটাতে লাগলাম৷৩-৪দিন পর শরীরে প্রচন্ড জ্বর নিয়েই কলেজে গেলাম৷কারন বাসায় চাচি একদমি শান্তি দিচ্ছিলো না৷ কলেজে যেতেই ওই মেয়েটা কেমন আমার দিকে আসতে লাগল৷
মেয়েটাকে আমার দিকে আসতে দেখেই কেমন ভয় পেয়ে গেলাম৷চুপ চাপ সামনে হাটছি৷ঠিক তখনই মেয়েটা আমার কাছে এসে গেল৷ঠিক তখন বুকটা অনেক বেশি ধুকধুক করতে লাগল৷
কারন আমি যে মধ্যবিত্ত৷আমার পাশে যে কেউ নেই
.
.
চলবে........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now