বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেঘের আলাপন

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X রাব্বি তোর কপালে কোন মেয়েই জুটবে না। (রিফাত) - কেন? (আমি) - তোর যে রাগ এতে তো আমারি ভয় লাগে। - চুপ কর তো। এখন কাজে মন দে। নতুন প্রজেক্ট কত দূর করলি? - হচ্ছে? - কাল পড়শু সাবমিট করা লাগবে কিন্তু। - ইয়েস বস মনে আছে। - তো এখন চল। অফিসের সবাই চলে গেছে। - আরে তুই এই কথা বলছিস? অতঃপর আমি আর রিফাত বাসার উদ্দেশ্যে বের হলাম। - আচ্ছা দোস্ত একটা কথা বল। - কি? - বিয়ে টিযে করবি না? - কেন? - আমার তো মনে হয় তুই এই কাজকে যদি পারতিস তাহলে বিয়ে করে নিতি। হা হা হা। - দাঁত কেলাবি না। - ওকে ওকে। হা হা হা। - আবার হাসিস? - ওকে সরি। সামনে মনে হয় একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। - তো? - তো মানে? রাত ১২ টা বেজে পার। আর এতো রাতে কোন মেয়েকে রাস্তাতে একা ছাড়া উচিত? - চুপ করে বসে থাক। আর না হলে তুইও নাম। - প্লীজ দোস্ত। প্লীজ গাড়ীটা থামা। অবশেষে রিফাতের জোড়াজুড়িতে গাড়ীটা থামালাম। - এক্সকিউজমি। আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি? (রিফাত) - নো থ্যান্ক্স। (মেয়েটি) - দেখুন এতো রাতে কোন গাড়ী পাবেন না। আবার জায়গাটাও তেমন সুবিধার না। - আমি একা যেতে পারবো। - আমি আপনাকে আপনার বাসা পর্যন্ত ছেড়ে দিতে পারবো। - এভাবে বিরক্ত করছেন কেন? বললাম না আমি একাই যেতে পারবো? - রিফাত তোকে না বললাম দরকার নাই। তবুও কেন আগে থেকে উপকার করতে চাস? (আমি) - সরি ম্যাম। গাড়ী নিয়ে চলে আসতে লাগলাম তখনি মেয়েটি বললো.. - আমাকে একটু লিফ্ট দিবেন? (মেয়েটি) - সম্ভব না আর। (আমি) - সমস্যা নেই আপনি উঠুন। (রিফাত) - আসলে বুঝতেই পারছেন মেয়ে মানুষতো আর এতো রাত হয়ে গিয়েছে। - না না। আমরা বুঝতে পেরেছি। - একদম কথা বলবেন না। একদম চুপ করে থাকবেন। কোথায় নামবেন ঠিকানা বলুন। (আমি) মেয়েটি ঠিকানা বলে চুপ করে বসে আছে। - আপনি কিছু মনে করবেন না। আমার বন্ধু এমনিই। - ইটস ওকে। - আমি রিফাত। - জানি তো। - কিভাবে? - ঐযে তখন তিনি আপনার নাম ধরে ডাক দিলেন। আমি তানিয়া। - ওওও। সুন্দর নাম। - আপনার নাম কি? - রাব্বি । (কিছুটা অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়েই জবাবটা দিলাম) - রাগ দেখানোর কি আছে। রিফাত আর মেয়েটা কথা বলছে। আর আমি গাড়ী চালাচ্ছি। - নামুন? (আমি) - কেন কেন? গাড়ী থামালেন আবার নামতে বলছেন যে? এই কোন বদ উদ্দশ্য আছে নাকি? (তানিয়া) - এটা আপনার ঠিকানা? - ও হ্যাঁ তো। খেয়াল করি নি। সরি। - না না সমস্যা নেই। (রিফাত) - থ্যান্ক্স। - ইউ আর ওয়েলকাম। ক্ষানিক বাদে বাসাতে চলে এলাম। - নেক্সট টাইম কাউকে রাতে গাড়ীতে তুলতে বলবি না। (আমি) - না রে দোস্ত। মেয়ে মানুষতো তাই ওমনটা করেছে। (রিফাত) - আরে বলে কি কুমতলব আছে নাকি। - কুমতলব না। বদ উদ্দেশ্য, বদ উদ্দেশ্য। মেজাজটা আরে রাগিয়ে দিল। কিছু বলতে যাবো ওমনি মনের সুখে গান ধরে ওয়াশরুমে চলে গেল। . সপ্তাহ খানেক পর... দুপুরে অফিসের কাজে বাহিরে এসেছিলাম। গাড়ীতে চড়তেই কোথায় থেকে সেই মেয়েটি সামনে এসে বললো-- - আরে আপনি? - সরি আপনাকে চিনলাম না? (না চেনার ভান) - চিনে না চেনার ভান করছেন নিশ্চয়। - মানেটা কি? - যদি না চিনেন তাহলে মনে করিয়ে দেই। আমাকে গত সপ্তাহে রাতে আপনি লিফ্ট দিয়েছিলেন। আর তবুও যদি আপনার না মনে পড়ে তাহলে তো কিছু করার নেই। - ও হ্যাঁ মনে পড়েছে। - একটু লিফ্ট দিবেন প্লীজ। - না। - প্লীজ প্রচুড় তাড়া আছে। - সময় নাই। বলেই গাড়ীতে উঠে বসে পড়লো। তখনতো আর নামনো যাবে না। পাবলিক প্লেস বলে কথা। - আচ্ছা আপনি কি এই রকমই? - মানে? - এই যে গোমড়া মুখো। -............. (রাগ ওঠে গেল) - এই দাড়ান দাড়ান আপনার একটা ছবি তুলে নেই। হেব্বি লাগছে গোমড়া মুখে। - আপনি নামুন তো। (গাড়ী থামিয়ে) - এভাবে একটা মেয়েকে মাঝ রাস্তাতে নামিয়ে দিবেন? - নামুন বলছি। - ওকে যান আপনাকে আর গোমড়ামুখো বলবো না। এবার খুশি? - আর একটা কথা বললে... রাগ সামাল দিব কিভাবে এটা ভাবছি। অবশেষে মেয়েটাকে তার ঠিকানাতে পৌছে দিয়ে অফিসে চলে আসলাম। - কিরে এতো দেরী করলি যে? (রিফাত) - শখে করছি? - শখ? আবার তোর? নো চান্স। - আরে ভাই ঔ মেয়েটা আবার লিফ্ট চাইছিলো। - কোন মেয়েটা? - আরে ঔ যে হ্যাংলা চিকনা করে, লম্বা টাইপের, সেদিন রাতে লিফ্ট দিলাম না? কি নাম জানি। - তানিয়া? - হ্যাঁ ঔই। - তুমি তারে কই পাইলা? - ঔই যে কাজে গেছলাম ওখানে। - বাপরে! মনে হয়তো তুমি তার প্রেমে পড়ে গেছো। ভালোবেসে ফেলছিস নাকি? - প্রেম, ভালোবাসা আর আমার? নো চান্স। - তুই এগুলা এতো এভোয়ড করিস কেন? - আমার মনে হয় এগুলা শুধু সময় নষ্ট আর পড়ে ছেড়ে চলে গেলে কপাল চাপড়ান লাগবে। সো বুঝতেই পারছিস? - হ তোর তো সব জানো আগে থেকেই। - ঔ এখান থেকে সড় তো। তোর কেবিনে যা। কাজের দিকে নাই সাড়া দিন খালি হাসের মতো প্যাক প্যাক করা। রিফাত চলে গেল। আমিও কাজে মন দিলাম। কয়েকদিন পর.... - দোস্ত দেখ কে এসেছে। (রিফাত) - কে? (আমি) - আরে গোমড়ামুখো আমি আমি। (তানিয়া) - একি আপনি? আপনি এখানে কেন? - একটা কাজে এসে ছিলাম। যাওয়ার সময় দেখি রিফাত ভাইয়া এখানে। - বুঝেছি। আর বলা লাগবে না। - আচ্ছা আমি আজকে যাই। - হ্যাঁ যান। - চলুন আপনাকে নামিয়ে দিয়ে আসি। (রিফাত) - না থাক আপনাকে কষ্ট করতে হবে কেন? আমি চলে যেতে পারবো। - না না তা কি করে হয়? রাব্বি একটু এদিকে আয়। - কি? বল। (আমি) - যা না ভাই মেয়েটাকে একটু নামিয়ে দিয়ে আয়। - ফাজলামো করতেছিস? - নারে ভাই সিরিয়াস। দেখ তুই যদি না যাস তাহলে তোর সাথে বন্ধুত্বই রাখবো না। - ইমোশনাল ব্ল্যকমেইল করিস কেন? - তাহলে.. - হুম ঠিকাছে ঠিকাছে। (রাগিস্বরে) কিছুক্ষন পর... - সামনে একটু দাড়াবেন? (তানিয়া) - আপনার বাসাতো আরো সামনে। (আমি) - হ্যাঁ। একটু দরকার আছে সামনে। - প্যাকেটে কি আছে? - এই একটু খাবার আছে। - এই তিনটা প্যাকেট মিলে একটু খাবার আছে? - না আসলে ঘরে কিছু নেই তাই বাচ্চাদের জন্য বাহির থেকেই নিলাম। - আপনাকে দেখে মনে হয় না আমি বিবাহিত। - হা হা হা। - হাসির কি বললাম? ওকে আপনার বাসাতে পৌছে গিয়েছি। - ধন্যবাদ। - আচ্ছা তাহলে আজ আমি আসি। - সেকি বাসা পর্যন্ত আসলেন আর ভেতরে আসবেন না? ভেতরে আসুন। - না আজ না অন্য একদিন। শেষে তানিয়ার জুড়াজুড়িতে ভেতরে গেলাম। কিন্তু যেটা দেখছি সেটা দেখে মাথা চক্কর মেরেছিল। - আপনার কি ১০ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল? (কিছুটা হতভম্ব হয়ে প্রশ্নটা করেছি) - মানে? - এতোগুলা বাচ্চা? আবার ওটার বয়সতো ১৪/১৫ বছর হবে। - আরে না না। আপনি ভুল বুঝছেন। এরা সবাই আমার মতো অনাথ। - আপনি বিবাহিত না? - একটা অনাথ মেয়ে যার পৃথিবীতে কেও নেই তাকে কে বিয়ে করবে? - এই তিন প্যাকেটে এই সাত জনের আর আপনার খাওয়া হয়ে যাবে? - না আসলে মাসের শেষ আবার হাতে টাকা পয়সাও নেই। তাই আর কি। - আপু আমাদের ভালোবেসে যতটুকু খাওয়াই তাতেই আমাদের পেট ভরে যায়। একটা ছোট ছেলে শার্টের নিচে টান দিয়ে বললো। কিছু বলার ভাষা খুজে পাই না। চলে আসলাম ওখান থেকে। কিছুটা খারাপও লাগছে এই ভেবে পৃথিবীতে একা একটা মেয়ে এতোগুলো অনাথের দায়িত্ব নিতে পারে কি করে। না না কি করে সম্ভব। পরেরদিন সকালে.. - আরে আপনি এতো সকালে? (তানিয়া) - জ্বী। (আমি) - কালকে ওভাবে চলে গেলেন যে? - ভেতরে আসবো? - হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই। - আপনার বাচ্চারা কোথায়? - ওরা ভেতরে আছে চলুন। - হুম চলুন। - আচ্ছা তোমাদের সবার নাম কি? (আমি) একে একে সবার নাম শুনলাম। - আচ্ছা তোমাদের সাথে আমার একটা কথা ছিল। - বলেন ভাইয়া। (তাদের মাঝের একজন) - তোমাদের এই আপুকে আমাকে দিবে? অনেক যত্নে রাখবো। - কেন দিব না? - আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না রাব্বি সাহেব। (তানিয়া) - উইল ইউ ম্যারি মি? - কেন সুযোগ নিচ্ছেন? আমি অসহায় তাই? - না। - তাহলে? আমাকে বিয়ে করবেন আপনার পরিবার সেটা মেনে নিবে? - পরিবার। মানে ফ্যামিলি? আমি নিজেই তো আপনাদের মতো অনাথ। - মানে? - বুদ্ধি হওয়ার পর দেখলাম রাস্তারধারে পড়ে থাকি। পৃথিবীতে ভালো লোক ছিল তাই তো রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একজন মানুষ করলো। তারো আমার মতো পৃথিবীতে কেও ছিল না। আমাকে পড়া লেখা শেখালো, মানুষের মতো মানুষ করলো। বাবা মাকে তো কখনো দেখি নি তাই তাকেই বাবা বললতাম। যখন কলেজে ওঠলাম তখন তিনিও মারা গেল। মারা যাওয়ার পর তার পেনশনের পাওয়া টাকা দিয়েই পড়ালেখাটা কমপ্লিট করেছি। আর এখন এ পর্যায়ে। -.............. - চলুন। (তানিয়া) আপনি না। চলো।(আমি) - কিন্তু... - কিন্তু? কিসের কিন্তু? ভাইয়া আপুরা তোমাদের কোন আপত্তি আছে?(আমি) - না ভাইয়া।(তাদের মধ্যে একজন) - কিন্তু আমি চলে গেলে এদের কে দেখবে?(তানিয়া - কে দেখবে? কেন আমি দেখবো। তুমি দেখবে।(আমি) -............. - ঠিক আছে। তাহলে আমি সবকিছুর ব্যবস্থা করি? - ঠিক আছে।(তানিয়া) হাসিমুখেই বললো। মানে রাজি আছে বিয়েতে। রিফাতকে ফোন দিলাম। সব খুলে বলার পর রিফাত বললো কাজী অফিসে যেতে আর বাকিটা ওদেখছে। হাল্কা কেনাকাটা করে দুপুরের দিকে বিয়েটা সম্পন্ন হলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মেঘের আলাপন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now