বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"মেঘ কন্যা"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X "কি আশ্চর্য এই ভাবে তাকিয়ে আছো কেন? অধরা কপাল কুঁচকে এইভাবে কথা টা বলাটা আমায় বেশ আকর্ষণ করে।  "না দেখছি।  "কি দেখছো?  "না মানে আগে কখনো তোমাকে শাড়ী পড়া অবস্থায় দেখিনি তো তাই দেখছি।  "তা আমাকে কেমন লাগছে।  "বউ বউ লাগছে।  "হয়েছে আর দেখতে হবেনা এবার ঐদিকে তাকাও  "সব কিছু ঠিক আছে। কিন্তু তারপরও কিছু একটা নেয়।  "কি নেয়?  "এই যে এটা। মেঘ কন্যার আচল টা তার মাথার উপরে নিয়ে আসি। আসলে আমি তাকে ভালোবেসে মেঘ কন্যা বলে ডাকি। তার নাম হল অধরা। "এখন একদম বউ বউ লাগছে। অধরা মাথাটা নিচু করে হাসে। "মেঘ কন্যা। আমার ডাকে অধরা কিছু না বলে মাথা ঝাকায়।  "একটু এদিকে তাকাবা।  "হুম।  "আজ আমাদের চার বছর হলো ভালোবাসার। প্রতিবারের মত এবারও আমার ভালোবাসার প্রতিক হিসাবে গোলাপ টা তুমি রেখো।  "আমি তো চায় না অনেক দামি উপহার। তোমার এই গোলাপ টায় আমার কাছে অমূল্য। পাপড়ি শুকিয়ে যাবে। ঝড়ে পড়বে কলি থেকে। তারপরও যত্ন সহকারে আমার কাছে রাখবো। "তুমি খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারো। অধরা বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। রাজপ্রাসাদের মত এক বিশাল বাড়ি। অভাব বলতে কোনো শব্দ আছে। এটা তার ডিকশনারিতে ছিলো না। মাঝে মাঝে তাকি জিগ্যেস করি। "তোমার কি মনে হয় না আমার সাথে প্রেম করে তুমি ভুল করছো? অধরা আমার দিকে শান্ত ভাবে তাকিয়ে বলে, "আমি জানিনা আমি তোমার সাথে প্রেম করে কোনো ভুল করছি কিনা। কিন্তু তোমার সাথে প্রেম না করলে যে আমার আরো বড় ভুল হবে সেটা আমি জানি। তার এমন উত্তরে আমি কিছু বলতে পারিনা। "এই নাও এটা তোমার জন্য। ঝকঝক করে মুড়ানো একটা পেকেট আমার দিকে এগিয়ে দেয় অধরা। আমি জানিনা এটার মধ্যে কি আছে। কিন্তু আমি এটা জানি এটার মধ্যে দামি কিছু আছে। "ফারাবি।  "হুম?  "সময় কত হলো? আমি পকেট থেকে মোবাইল টা যেই বের করতে যাবো  "কি করছো?  "মোবাইল নিচ্ছি সময় দেখার জন্য।  "তোমার হাতেই তো ঘড়ি আছে।  "নষ্ট। কথাটা শুনে অধরা আমার দিকে কেমন করে যেনো তাকায়। সে তাকানো নিয়ে আমাকে বলে, "নষ্ট ঘড়িটা পড়ে আছো যে? আমি একটু হেসে বললাম, "নষ্ট হলেও হাতে রাখি। খালি হাত আমার ভালো লাগে না। তার কিছুদিন পর আমাদের ভালোবাসার তিন বছর হলো আর সেদিন আমাকে একটা গিপট দেয়। ঠিক আজ যেমন ঝকঝকে কাগজে মোড়ানো সেদিনও তেমন করে মোড়ানো ছিল।  "খুল।  "এখন?  "হুম। আমি সেই ঝকঝকে কাগজটা খুব যত্ন সহকারে খুলি। ভিতরে একটা ঘড়ি ছিল যেটার মূল্য ছিল প্রায় ৫০০০ টাকার বেশি। "হাতটা দাও। সে আমার হাত থেকে পুরাতন ঘড়িটা খুলে তার বেগে নিয়ে নেয়। তার এমন কাজ দেখে তাকে জিগ্যেস করি, "ঘড়িটা তোমার বেগে নিলা কেন? অধরা আমার হাতে তার আনা ঘড়িটা পড়াতে পড়াতে বলে, "তুমি জেনে কি করবা? "না মানে এমনি জিগ্যেস করলাম।  "তোমার এত এমনি জানা লাগবে না। তার এমন কথা শুনে একটু হেসেছিলাম সেদিন। "অধরা।  "হুম।  "আজ আমি যে নীল পান্জাবি টা পরে তোমার পাশে বসে আছি এটা কে দিয়েছে জানো?  "হুম মনে আছে আমি দিয়েছিলাম ২ বছর আগে। কিন্তু আজ হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?  "তুমি জানো এটাই ছিল আমার লাস্ট পান্জাবী। আজ আমাদের ৪ বছর হয়ে গেলো তোমাকে একটা ভালো গিপট ও দিতে পারলাম না।  "দেখ ফারাবি আর একজন কি চায় এটা আমি জানিনা কিন্তু আমি এমন একজনকে খুজে ছিলাম যার চোখ দেখলে তার মনের কথা গুলো যেন আমি বুঝতে পারি। ফারাবি আমি সেই চোখ গুলো পেয়ে গেছি। তুমি একদিন দেখো আমাদের বিয়েটা এত তাড়াতাড়ি হবে যে আমার শাড়ি পড়া তোমার পান্জাবী পড়ার সুযোগ জবে না। "হুম। "ফারাবি? "হুম। "তোমার কি মনে আছে আমি তোমাকে যে কবিতাটি দিয়ে প্রপোজ করেছিলাম সে কবিতাটি? "হুম। সেদিন গিটারটি কাঁদে নিয়ে বাসার দিকে হাঁটছিলাম। "ফারাবি। "হুম বল। "তোমাকে কিছু বলার ছিল। "কি বল। "না এখানে না। "তাহলে কোথায়। "চল লেগের পাড়ে বসে বলি। "কিন্তু। "প্লীজ।  "আচ্ছা চলো। "হুম বল কি এমন কথা। "ফারাবি তুমি কি ভুলে গেছো? "না ভুলিনি, মেঘ কন্যা  আমার প্রতিটা নিশ্বাস জুড়ে তুমি, আমার প্রতিটা শব্দের ভিড়ে তুমি। আমার মনের গহিনে তুমি, আমার মনের মনি কোঠায় তুমি। আমার অলিক কল্পনায় ও তুমি।  আমি চোখ বন্ধ করলে এখন আর অন্ধকার দেখতে পায় না। এক মোটো স্বপ্ন দেখতে পায়। আমার মনের অন্ধকার অলি গলিতে এখন আর অন্ধকার নেয়।  তোমার আলোয় আলোকিত আমার শহর। মেঘ কন্যা আমি তোমাকে ইহকাল পরকাল সব সময় তোমাকে আমার চায়। মেঘ কন্যা,  আমি তোমাকে ভালোবাসি "আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি। "ফারাবি কোথায় তুমি? "এই তো বাসায় কেন? "তুমি এখনি কাজী অফিসের সামনে আসো। "মানে? "তোমাকে যেটা বলছি ঐটা করো। "কি হয়েছে? "বিয়ে। "কার? "আমাদের। "মানে? "মানে কিছু না তুমি এখনি আমাকে বিয়ে করবা। "অধরা তুমি যেটা বলছো ভেবে চিন্তা করে বলছো? "হুম। "তুমি আর একটু সময় নাও অধরা। চিন্তা করো। "আমার আর ভাবার সময় নেয় ফারাবি আজ ছেলে পহ্ম দেখতে আসলো। আমাকে তাদের পছন্দ হয়। তারা চায় এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়েটা করতে। "কিন্তু অধরা। "কোনো কিন্তু নয় চল তুমি এখনি আমাকে বিয়ে করবে। বিয়ে করে কাজী অফিস থেকে বের হলাম। বুঝতে পারছিনা কি করবো। "ফারাবি। "হুম তোমার কি মনে আছে আমি বলেছিলাম আমাদের বিয়েটা এত তাড়াতাড়ি হবে যে আমি শাড়ী পড়ার আর তুমি পান্জাবী পড়ার সুযোগ পাবেনা। "হুম আমার মনে আছে। অধরাকে নিয়ে হাটছি। না এখন আর কিছু ভাবতে চায় না। যা হবার হবে। লেখক:- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "মেঘ কন্যা"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now