বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"মদনকুমারী"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X ফোন ধরছিস না কেন? ৩ দিন ধরে দেখা হয় না তোর সাথে৷ তোর মুখ থেকে মদনকুমারী ডাকটা শুনতে পাচ্ছি না কিছুদিন ধরে৷ হুট করে ফোন দিয়ে "বিরিয়ানী রান্না কর, আমি আসছি" এই কথাটাও মিসিং কিছূদিন ধরে৷ আমার মন খারাপের সময় যখন তোকে ফোন দিয়ে বলতাম, শুভ্র আমার মন খারাপ৷ মনের আকাশে মেঘ জমেছে আমার৷ কালো মেঘ৷ আমি দিগ্বিহারা হয়ে যাবো৷ " আর তুই তখনই আমাকে বকা দিতি তোকে কোথাও হারাতে দিবো না মেয়ে৷ আর মন খারাপ কিসের জন্য? আগে বলবিনা আমাকে? আমি আছি কিজন্য মেয়ে?" কথাগুলোর অভাব আমি হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছি৷ আরো হাজারটা কথা বলে ঠিকই আমার বিষণ্ণতা কাটিয়ে দিতি৷ তোর কি হয়েছে আমাকে বল৷" . ভার্সিটির মাঠের কোণায় বসেছিলাম একা৷ অন্যসময় হলে নিরু থাকতো আমার পাশে৷ দিন ১৫হলো মেয়েটাকে এড়িয়ে চলছি৷ যেদিন শুনেছি, নিরুর প্রেমিক হয়েছে একটা৷ সেদিন থেকেই মনটা ভার হয়ে রয়েছে৷ আমি জানি না এই অনূভূতিটা কেমন! এই অনূভূতির নাম কি! নিরুকে এড়িয়ে চলার বিপরীতে আজ এসে ঝেড়েছে ইচ্ছেমতো৷ আমি এই কথাগুলোর প্রতুত্যরে কি বলব ঠিক ভেবে পাই না৷ আমারও খুব বলতে ইচ্ছে করে, তুই শুধু অামার বুঝলি মেয়ে? তোকে ছাড়া আমার এক মূহূর্তও কাটবেনা৷ তোকে ছাড়া শরতের আকাশটা ও আমার কাছে বর্ষার কালো মেঘের গুমোঢ় আকাশ৷" কথাগুলো কন্ঠনালির কাছে এসেই আটকে যায়৷ আর বলা হয়ে উঠে না নিরুকে৷ . -কিইছে চুপ কেন? উত্তর দে৷ হাতের কনুইয়ের গুঁতো দিয়ে বসে নিরু৷ তারপরও মুখ দিয়ে কথা বেরইনা আমার৷ -তুই বলবি? না চলে যাবো? -চলে যা৷ কথাটা বলতেই আমার ভেতরটা মুচড়ে উঠে৷ মনে মনে প্রার্থনা করি নিরু যেন বসেই থাকে৷ -আচ্ছা শুভ্র, তুই যদি কোন কারণে রেগে থাকিস বল আমাকে৷ আমার মাঝে মাঝে কি মনে হয় জানিস? -কি? -আল্লাহ তোকে ভুল করে ছেলে বানিয়ে ফেলেছে বুঝলি৷ ছেলে মানুষ এত্তো অভিমান থাকা ভালো না৷ বুঝলি? কথাটা বলেই নিরু হাসে৷ খিলখিল করে হাসে৷ নিরুর ঝকঝকা দাঁতগুলোতে রোদ পরছে হালকা৷ হাসি দিয়ে মুক্ত ঝরে পরছে৷ হাসিটা দেখে এক নিমেষেই আমার অভিমানগুলো গাঁয়েব হয়ে যায়৷ পরক্ষণেই আবার মনে হয়, মায়ার পরে লাভ কী? কিছুদিন পরেইতো অন্যের হয়ে যাবে মেয়েটা৷ -আচ্ছা শোন৷ হাসি থামিয়ে বলে নিরু৷ -হুম বল৷ -কাল কি উপহার দিবি শুনি৷ -কাল আবার কি? -কাল বছরের প্রথম দিন জানিস না? -ওহ৷ -ওহ মানে? -আমি কেন গিফ্ট দিবো শুনি? তোর প্রেমিককে গিয়ে বল গিফ্ট দিতে৷ -ও তো অনেক দূরে৷ কাছে থাকলে কি তোর কাছ থেকে চাইতাম৷ নিরুর কথাটা শুনে আমার গলা ধরে আসে৷ চোখ দু'টো হুট করে টলমল হয়ে উঠে৷ আমার কেন জানি মনে হয়, আমি আসলেই নিরুর দূরের কেউ হয়ে যাচ্ছি৷ অল্পকিছুদিনের মধ্যেই নিরুর স্মৃতিতে বিলীন হয়ে যাবো আমি৷ আমার চুপ থাকা দেখে নিরুও হয়তো বুঝতে পেরেছে, কথাটা এভাবে বলা উচিত হয় নি৷ আমি টুপ করে নিরুর পাশ থেকে উঠে পরি৷ এই গোলগাল চেহারার মেয়েটার পাশাপাশি থাকা যাবে আর৷ আমি নিরুর দিকে তাকাই না আর৷ কিভাবে তাকাবো? তাকালেই ধরা পরে যাবো মেয়েটার কাছে যে আমার চোখগুলো টলমল হচ্ছে৷ কথার জবাব দিলেই বুঝে যাবে আমার গলা ধরে এসেছে৷ শেষবেলায় এসে নিরুর কাছে ছ্যাচকাঁদুনে ছেলে হয়ে যাবো৷ ছেলে হিসেবে যা একদম বেমানান৷ . রুমে ঢুকেই উপুত হয়ে শুয়ে পরি আমি৷ কন্ঠনালীর মৃদ্যু ব্যাথাটা এখনও আছে একটু আধটু৷ বুকের বাঁপাশটাতেও ব্যাথা লাগে আমার৷ মাথার নিচের বালিশটা বুকে এনে শক্ত করে চেপে ধরি আমি৷ বেদনাগুলো যদি বালিশচাপা দিয়ে মারা যেত! কতইনা ভালো হতো তাইনা! আমার মতো অনেকগুলো মানুষ প্রাণখুলে হাসতে পারতো৷ বেদনায় খুঁড়ে খুঁড়ে কেউ মরতোনা৷ . রুমের দরজায় টুকটূক আওয়াজে ঘুম ভাঙে আমার৷ মা এসেছে৷ হাতের ফোনটা আমার দিকে এগিয়ে দেয়৷ -নিরু ফোন দিবে৷ কথা বলিস৷ আমি জিজ্ঞেস করার অপেক্ষা না করেই বলে দেয় মা৷ আমি মাথা নেড়ে সায় দিই মায়ের কথাই৷ মৃদ্যু হেসে আমার ললাটে মমতাময়ী চুমু দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে পরে মা৷ মিনিট দুয়েক পরেই ফোনটা বেজে উঠে৷ "বৌ মা" নাম দিয়ে সেইভ করা৷ আমার কেন জানি হাসি পেলো৷ নিরুর সাথে আমার বন্ধুত্ব ৩বছরের৷ মায়ের সাথে ও নিরুর তিনবছরের পরিচয়৷ মা ও হয়তো নিরুকে ছেলের বৌ ভেবে নিয়েছে৷ আচ্ছা মা কি কষ্ট পাবে আমার মতো? পাবেইতো৷ সন্তানদের মনগুলোতো মায়েদের মনের কার্বন কপি৷ সন্তানদের সবকিছুই ছুঁয়ে যায় মায়েদের৷" রিং বাজতে বাজতে কেটে যায় নিরুর ফোন৷ পরেরবার রিং হতেই রিসিভ করি৷ নিরুর শ্বাসের শব্দ শুনি আমি৷ -শুভ্র! -হু৷ -আমাদের বন্ধুত্বটা শেষ তাহলে? -হু অনেকটা তেমনই৷ -আমাকে মিস করবি? -সেটা নাইবা জানলি মেয়ে৷ -জানিস, তুই যখন কথার শেষে মেয়ে মেয়ে করিস৷ এই ব্যাপারটা আমার ভালো লাগে৷ -আমারো অনেককিছু ভালো লাগে৷ এখন আর এসব বলে লাভ নেই৷ কেন ফোন দিয়েছিস বল৷ -শেষ একটা উপকার করবি আমার? -বল৷ -সাইমন দেশে নেই৷ এদিকে বাবা আমার বিয়ে দিতে চাচ্ছে৷ অনেক বলেছি, বাবা আমার পছন্দ আছে৷ কিন্তু বাবা বলছে, পছন্দ থাকলে এখনই দেখাতে৷ অন্তত কথাবার্তা পাকা করা দরকার৷ জানিস তো, বাবার হার্টের ব্যাথাটা বেড়েছে৷ কখন কি হয় তার ঠিক নেই৷ -আমার কি করতে হবে বল৷ -পরিপাটি হয়ে আসবি৷ ছন্নছাড়া হয়ে আসলে ঠ্যাং ভেঙে ফেলব৷ -কিন্তু.. -কিন্তু কি? -পরের ব্যাপারটা কেমন হবে? যখন তোর প্রেমিক দেশে ফিরবে? তখনতো তোর বাবা এমনিতেই হার্ট এটাক করবে! -সেটা পরে দেখা যাবে৷ বুঝিয়ে ঠিক করে ফেলবো৷ তুই আয়৷" . গত জন্মদিনে নিরুর দেয়া মেরুন রঙ্গের শার্টটা পরে রওনা দিই নিরুদের বাসায়৷ মোটা ফ্রেমের চশমা পরে পত্রিকা পড়ছে নিরুর বাবা৷ পাশে নিরু বসে আছে৷ আমি সোফাই বসতেই নিরু উঠে পরে৷ সোফার পিছনের দিকটাই নিরুর রুম৷ পর্দার আড়াল থেকে নিরু তাড়া দেয় আমাকে৷ -চাচা৷ হ্যা বাবা বলো ৷ -আমি নিরুকে ভালোবাসি৷ বিয়ে করতে চাই৷ নিরুর বাবা চোখ থেকে মোটা ফ্রেমের চশমাটা নামিয়ে রাখে৷ এখন একটু কম ভয়ংকর দেখাচ্ছে৷ এতক্ষণ আমার প্রাক্তন স্কুলের হেডমাষ্টার মনে হয়েছিল৷ -কতদিনের সম্পর্ক তোমাদের? আমি নিরুর দিকে তাকালাম একবার৷ ঈশারায় বুঝাচ্ছে দ্রুত বল৷ আমার গলাটা আটকে আসছে৷ সামনে রাখা পানি টুকু গিলে বললাম, -চাচা তিন বছরের বন্ধুত্ব! বলেই জিহবায় কামড় খেলাম৷ ওদিকে নিরু কোমড়ে হাত দিয়ে অগ্নি দৃষ্টিতে চেয়ে আছে৷ -বন্ধুত্ব! -না মানে চাচা এই আরকি৷ -বন্ধুত্ব ভালো৷ আয় লাইক ইট৷ প্রেম ট্রেম ওসব বিয়ের পর হবে৷ তা তোমার বাবা -মা উনাদের খবর দাও৷" এই কথার উত্তর কি দিবো! হৃৎপিন্ডটা শক্ত করে চেপে ধরে নিরুর দিকে তাকালাম৷ আমাকে অবাক করে দিয়ে মুচকি হাসে৷ আমার ইচ্ছে করছিল, এই মূহূর্তে গিয়ে গুলুমূলু গালগুলো টেনে লাল করে দিই৷ আমি চুপ থাকি কিছুক্ষন৷ নিরু ততক্ষণে সরে পরেছে৷ চাচা ডাক দেয় নিরুকে৷ চা নাস্তার ব্যবস্থা করতে৷ আচ্ছা আমার কি পালানো দরকার এই মূহূর্তে? মা কে মানানো গেলেও বাবাকে অসম্ভব৷ নিশ্চিত বের করে দিবে আমাকে৷ মিনিট পাঁচেক পর নিরু আসে শরবত নিয়ে৷ আমার হাতে তুলে দেয়ার অপেক্ষা না করেই গ্লাসের শরবতগুলো গিলে ফেলি আমি৷ আমাকে চরম অবাক করে দিয়ে নিরু বলে, -শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ফোন দিয়েছি আমি৷ আসছে! নিজের শরবতের গ্লাসটা হাতে নিয়ে উঠে পরে নিরুর বাবা৷ আমি নিরুর দিকে তাকালাম ভালোমতো৷ -এটা কি হলো শুনি? -কি হলো মানে? এটা কি দেখেছিস? -হ্যা৷ গ্লাস ৷ খালি গ্লাস৷ -আরেকটা কথা বললে, এটা তোর মুখে পুরে দিবো বুঝলি ছেলে৷ আমার জন্য যে দেবদাস হয়ে যাচ্ছো সেটা আমি বুঝি! বুঝেছো ছেলে? -আমার ডায়ালগ কপি করিস কেন? -তোর মানে? তোর মানেই আমার৷ -সরাসরি বললেই পারতি৷ এত ঢং করলি ক্যান? -তোকে মদন বানাবো বলে৷ আর আমাকে পাওয়া এত সহজ নাকি হুহ৷ ঠিক করেছি তোকে মদন ডাকবো বিয়ের পর৷ -আমি মদন বৌ ডাকবো মেয়ে৷ -কেন ছেলে? মদনকুমারীই ভালো৷ আমার পছন্দ নামটা৷ -হুম৷ কিন্তু... -কিন্তু কি? -না থাক৷ -তোর শয়তানী আমি বুঝি, বুঝলি ছেলে৷ এবার গিফ্ট দে৷ -কিসের গিফ্ট? -নতুন বছরের৷ -ভাবছি নতুন বছরটা চুমু দিয়েই শুরু হোক৷ -কেন এই বুদ্ধি কেন? ভ্রু কুঁচকিয়ে বলে নিরু৷ ছোটবেলায় আম্মু বলেছে, বছরের প্রথমদিন পিটুনি খাইলে সারাবছর পিটুনিই খাবি৷ তাই আমি আজ চুমু খাবো৷ যাতে বছরের প্রতিদিনই........ -আগে বিয়ে কর তারপর ওসব৷ আমি যাই এখন৷ -কই যাবি? -বিরিয়ানী রাঁধতে! -আহ! যা এই না হলে আমার বৌ৷ তারাতারি যা৷ লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "মদনকুমারী"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now