বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মধুপুরের জঙ্গল

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sultan Mahmud (০ পয়েন্ট)

X পর্ব - ১ _____মধুপুরের জঙ্গলে ক্যাম্পিং করতে এসেছে ওরা কয়েকজন। রাকিব, ফয়সাল, জাহিদ আর বিল্টুসহ আরও বেশ কয়েকজন এসেছে ওরা। ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলের ক্লাস নাইনের ছাত্র ওরা সবাই। প্ল্যানটা ফয়সালেরই। ও-ই প্রস্তাবটা দিয়েছে অরণ্য অভিযানের। এখানে একটা রেস্ট হাউস আছে। ফয়সালের প্রভাবশালী মেজর চাচাকে ভজিয়ে রেস্ট হাউসে জায়গা করে নিতে ওদের তেমন বেগ পেতে হয় নি। আবদুল মোতালেব নামের এক লোক পাহারা দেয় ঘর। সে এখানকার দারোয়ান কাম বাবুর্চি। মোতালেবের সাথে ফয়সালের পরিচয় অনেক আগে। এখানে বছর দুই আগে একবার ছোট চাচার সাথে বেড়াতে এসেছিল ফয়সাল। প্রথম দিনেই তাকে রোমহর্ষক গল্পটা শুনিয়ে দেয় মোতালেব। নিষেধ করে তাকে জঙ্গলের পশ্চিম দিকে না যেতে। ওদিকে নাকি প্রায় একশো বছরের পুরনো একটা বাড়ি আছে। স্থানীয় লোকজন ওটাকে বলে হানাবাড়ি। দিনের বেলাতেও কেউ ঐ পরিত্যক্ত জমিদারবাড়ির ধারেকাছেও ঘেঁষে না। শোনা যায় ঐ বাড়ির শেষ মালিক ছিলেন পড়ন্ত জমিদার বীরেন্দ্র নারায়ণ। তাঁর নিজের কোনও সন্তান ছিল না। তবে মা-বাপ হারা একমাত্র ভাগ্নেকে তিনি নিজের সন্তানের মতোই ভালবাসতেন। অমরনাথের বয়স যখন পনেরো, তখন এক রাতে হঠাৎ এফেন্টিসাইটিস ফেটে মারা যান জমিদার বীরেন্দ্র নারায়ণ। নরক নেমে আসে অমরনাথের কপালে। কারণ তার মামী অমরনাথকে দুচক্ষে দেখতে পারত না। জমিদারের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বখে যাওয়া দুই শ্যালক স্বর্গবাসী জামাইবাবুর স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি হস্তগত করতে খুলনা থেকে চলে আসে ঢাকায় এবং গ্যাঁট হয়ে বসে জমিদার বাড়িতে। মামী আর তার ভাইয়েরা মিলে এবার নিদারুণ অত্যাচার চালাতে থাকে অমরনাথের ওপর, যাতে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় অমরনাথ। তবে যাবার আগে সে একটি মারাত্মক কান্ড ঘটিয়ে যায়। তীব্র অবহেলা অপমান, অত্যাচার, লাঞ্ছনা তার বুকের ভেতর জাগিয়ে তুলেছিল প্রতিহিংসার আগুন। আর তারই প্রতিফলন ছিল মামী আর তার দুই ভাইয়ের নৃশংস মৃত্যু। মামীর দুই ভাইকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারাল কুড়োলের আঘাতে জবাই করার পর মামীকেও ঘুমন্ত অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছিল সে। তারপর দেওয়ালে রক্ত দিয়ে লিখে যায়, এই বাড়িতে কারোর অনুপ্রবেশ সহ্য করা হবে না। অমরনাথ কোথায় চলে যায় এরপর, কেউ আর তার হদিশ পায়নি কোনওদিন। কিন্তু পরিত্যক্ত জমিদারবাড়িতে কারোর প্রবেশের আর সাহস হয়নি কখনো। ওটা এখন রাজ্যের চামচিকে, ইঁদুর আর মাকড়শার নিশ্চিন্ত আবাসস্থল। বহুকালের অব্যবহৃত জানলা দরজাগুলো সাঙ্ঘাতিক নড়বড়ে, সামান্য বাতাস বইলেই মাকড়শারজালে বোঝাই কড়ি বরগাগুলো থেকে ভীতিকর আওয়াজ বেরোতে থাকে। অনেকেই নাকি রাতের বেলা ঐ বাড়ি থেকে মানুষের গলায় বুক হিম করা আর্ত করুণ স্বর শুনতে পেয়েছে। অপঘাতে মরা লোকগুলোর আত্মা বাড়িটাকে পাহারা দিয়ে রাখে, এই ভয়ে স্থানীয় কেউ ভয়ে ঐ পথ ভুলেও মাড়ায় না। বাড়িটা এখন সরকারী সম্পত্তি। তবে ভূমি জরিপকারী কোনও সরকারী অফিসারকে কস্মিনকালে ঐ বাড়ির ধারে কাছেও যেতে দেখা যায় নি। তা সেবার মোতালেবের মুখে বাড়িটার ব্যাপারে শুনে যতটা না ভয় পেয়েছিল ফয়সাল, তার চেয়েও বেশী আগ্রহ জেগেছিল বাড়িটাকে কাছ থেকে দেখতে। কিন্তু ক্যান্টনমেন্টে কি একটা জরুরী কাজ পড়ে যাওয়ায় ছোট চাচা তাড়াতাড়ি তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এসে সেই হানাবাড়িটাকে কাছ থেকে দেখা বা তার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা থেকে তাকে নিবৃত্ত করে দেয়। এবার অবশ্য ফয়সাল এসেছে একটা অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে। সেকথা পরে বলছি। ফয়সালের প্রাণের বন্ধু হল রাকিব আর জানের শত্রু হল বিল্টু। বিল্টু ওদের ক্লাসের ফার্স্ট বয়। বিল্টু ওদের স্কুলে ভর্তি হবার আগে এক নম্বর রোলটা ফয়সালেরই ছিল। কিন্তু বিল্টু এসে প্রমাণ করে দিল, তার কাছে ফয়সাল কিস্যু না। মফস্বলের একটা ছেলে এভাবে তাকে এসে ল্যাং মারবে, কল্পনাও করতে পারে নি ফয়সাল। শুধু পড়াশোনা কেন, বিল্টুর মতো দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে পারে না স্কুলের আর কেউ। ফলে অল্পদিনেই টিচারদের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠে বাদল রায় ওরফে বিল্টু। ওদিকে স্মার্ট ছেলে বলে খ্যাত ফয়সালের জনপ্রিয়তা নেমে গেছে হু হু করে। বিল্টুকে বিট করার নানা কৌশল খাটিয়েছে ফয়সাল; কিন্তু প্রতিবারই আশ্চর্য উপায়ে তার সমস্ত মতলব আগে থেকে টের পেয়ে সাবধান হয়ে গেছে বিল্টু। ফলে বিল্টুকে ফাঁসাবার ফয়সালের সমস্ত চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। শেষে মরিয়া হয়ে শেষ চালটা চেলেছে ফয়সাল। বলেছে, চলো, মধুপুর ঘুরে আসি। ওখানে একটা হানাবাড়ি আছে। সাহস থাকলে একটা রাত কাটিয়ে এসো। ফয়সালের চ্যালেঞ্জ হাসিমুখে গ্রহণ করেছে বিল্টু। ভূত-টূতের ভয় তার একদমই নেই। সে মধুপুর যেতে রাজি হয়েছে জঙ্গল এডভেঞ্চারের লোভে। বিল্টু জানে, ফয়সাল তাকে পছন্দ করে না। বন্ধুত্বটা স্রেফ লোক দেখানো। তবুও তার আচরণে কোনওদিন এমন কিছু প্রকাশ পায় নি যাতে সহপাঠীদের মনে কোনওরকম সন্দেহ জাগে। ফয়সালের সাথে হাসিমুখেই কথা বলে বিল্টু। সেধে তাকে ঘোড়া মিঞার একচালার দোকানের গরম সিঙাড়া খাওয়ায়। দুজনের সখ্যতা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এদের মধ্যে একজন আরেকজনের রক্তপান করার জন্য তৃষ্ণায় ব্যাকুল হয়ে আছে। ফয়সাল কি উদ্দেশ্যে তাকে মধুপুরের জঙ্গলে নিয়ে যেতে চাইছে, বিল্টুর তা অজানা নেই। মধুপুরের জঙ্গলের হানাবাড়ির গল্প ফয়সাল বিল্টুকে একাধিক বার শুনিয়েছে। তবে ফয়সাল একটু বেশী চালাক বলে বিল্টুর রহস্যময় হাসির মানে বুঝতে পারে নি। যদি ঘুনাক্ষরেও টের পেত, ওকে নিয়ে বিল্টুও কি এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ফেঁদেছে, তাহলে মধুপুর দূরে থাক, বাড়ি থেকেই বের হবার সাহস পেত না। ঢাকা থেকে মধুপুর খুব বেশী দূর নয়। ভাড়া করা মাইক্রোবাসে চেপে ছেলেদের দলটা দুপুর নাগাদ পৌঁছে গেল মধুপুর। ওরা দুদিন থাকবে এখানে। শুক্র-শনি স্কুল বন্ধ। রবিবারই আবার ঢাকা ফিরে আসবে। শুক্রবার রাতে রেস্ট হাউসে বসে দলের ছেলেদের কাছে হানাবাড়ির গল্পটা বলল ফয়সাল। এটাও জানাল, পরদিন রাতে ঐ পোড়ো বাড়িতে একা এক রাত কাটিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে বিল্টু। শুনে আঁতকে উঠল ওদেরই এক সহপাঠী সুমন। ভূতের ভয় ওর সাঙ্ঘাতিক। চোখ বড় বড় করে বলল, খবরদার ও কাজ করতে যেও না বিল্টু। জানে মারা পড়বে। বলে গড়গড় করে কিছুদিন আগে সোনি টিভিতে দেখা হরর সিরিজ আহট এর একটা গল্প বলে ফেলল সে। ওই এপিসোডেও এক বন্ধু বাজি ধরে হানাবাড়িতে রাত কাটাতে গিয়েছিল। পরে তাকে ছুরিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। হানাবাড়ির পিশাচরা ওকে মেরে ফেলেছে। গল্পটা শুনে ওকে প্রায় তেড়ে মারতে এল জাহিদ। বলতে লাগল, আরে যা, যা, তুই আছিস শুধু হরর সিরিয়াল আর ছবি নিয়ে। ওসব ভূতপ্রেত শুধু সিনেমা-টিভিতেই দেখা যায়। দিনরাত হরর ফিল্ম দেখে আর ভূতের গল্প পড়ে পড়ে তোর মাথাটাই গেছে। তারপর বিল্টুর দিকে ফিরে বলল, বিল্টু, ঘাবড়াস নে দোস্ত। দরকার হলে আমি তোর সঙ্গে গিয়ে ও বাড়িতে এক রাত কাটিয়ে আসব। বাধা দিল ফয়সাল। বলল, তার দরকার হবে না। আমি নিজে বিল্টুকে কাল রাতে ও বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাব। ওকে ওখানে রেখে আবার ফিরে আসব। ফয়সালের কথায় মৃদু হাসল বিল্টু। বলল, রাতের অন্ধকারে একা ফিরতে পারবে তো ক্যাম্পে? ভয় করবে না তো ? চটে উঠতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিল ফয়সাল। তীব্র ব্যঙ্গ ঝরে পড়ল ওর গলায়। বলল, কে ভয় পায় তা প্রমাণ হয়ে যাবে কাল। দরকার হলে কাল আমি ও বাড়িতে থাকব তোমার সাথে। কোনও মন্তব্য করল না বিল্টু। ঠোঁটের কোনায় সেই পিত্তি জ্বালানো হাসিটা রয়েই গেল। পরদিন রাত দশটায় বিল্টুকে নিয়ে সেই পোড়ো বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল ফয়সাল। সঙ্গে আছে টর্চ, মোমবাতি আর রাতে খিদে পেলে কিছু শুকনো স্ন্যাকস। সুমন ওকে পইপই করে বারণ করল যেতে; কিন্তু বিল্টু শুনল না। ফয়সাল ওর পথ প্রদর্শক। টর্চের আলোয় লম্বা লম্বা পা ফেলে ফয়সাল এগোচ্ছে সরু আল ধরে। পেছনে ওকে নিঃশব্দে অনুসরণ করছে বিল্টু, কাঁধে একটা হ্যাভারস্যাক ঝুলিয়ে। অদ্ভুত, সরু চোখে তাকিয়ে আছে ফয়সালের দিকে। বিল্টুকে হানাবাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফেরার কথা থাকলেও ফিরল না ফয়সাল। চিন্তায় পড়ে গেল রাকিব। ওকে স্বান্তনা দিল জাহিদ। বলল, চিন্তা করিস না। ফয়সালের হয়ত একা ফিরতে ডর লাগছিল তাই বিল্টুর সাথে ও বাড়িতে থেকে গেছে। যদি বলোত, চলো, আমরাও গিয়ে পাত্তি লাগাই। এত রাতে জঙ্গল ঠেঙিয়ে ভূতুড়ে বাড়িটাতে যাবার কথা চিন্তা করেই বুক শুকিয়ে গেল রাকিবের। ফয়সাল, বিল্টু বা জাহিদের মতো সাহসী সে মোটেও নয়। এসব বাজি টাজি ধরাতেও তার আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ফয়সালের অনুরোধ ফেলতে না পেরে তাকে এখানে আসতে হয়েছে। শত হলেও জিগরি দোস্ত। তবে বিল্টুকে খামোখা ভয় দেখানোর প্রস্তাব ওর মনঃপূত হয় নি। ফয়সালকে নিষেধও করেছিল। আরে, ব্যাপারটাকে এত সিরিয়াসভাবে নিচ্ছিস কেন? ওর পিঠ চাপড়ে বলেছিল ফয়সাল, ফান ইজ ফান। আসলে ব্যাটাকে ডর দেখিয়ে সাইজ করতে চাইছি। ব্যাটাকে নিয়ে এমন খেলা খেলব যে জীবনেও আমার সামনে আর চোখ তুলে তাকাতে আসবে না। দেখিস নিজেই সাইজ হয়ে যাসনে যেন, সাবধান করে বলেছিল রাকিব। হা হা করে হেসে উঠেছিল ফয়সাল। বুক চাপড়ে বলেছিল, আরে আমার নাম ফয়সাল আহমেদ খান। একবার যার ওপর রোখ চাপে আমার, তার চিতার ছাই উড়িয়ে দেখি আমি। সেরাতটা ভাল ঘুম হল না রাকিবের। শেষ রাতের দিকে বিকট এক দুঃস্বপ্ন দেখে তার ঘুমটা ভেঙে গেল। ঠেলে জাগিয়ে তুলল জাহিদকে। বলল, চল, ওরা কি করছে দেখে আসি। এককথায় রাজি হল জাহিদ। মুখটুখ ধুয়ে রেডি হয়ে নিল সে। সুমন প্রথমে বলছিল, যাবে না। কিন্তু এত বড় রেস্ট হাউসে ওর একা থাকতেও ভয়। মোতালেব চাচারও জ্বর। সে তাই নিজের বাড়িতে। অগত্যা মুখখানাকে বাংলার পাঁচের মতো করে সে- ও ওদের সঙ্গে চলল। মাইল খানেক হাঁটতে হল ওদের হানাবাড়ি পৌঁছতে। দূর থেকে চাঁদের আলোয় ভৌতিক কাঠামোটাকে দেখে বুকের ভেতর গুড়গুড় করে উঠল সুমনের। নভেম্বর মাস। বেশ শীত করছে। কুয়াশার একটা পাতলা চাদর ঘিরে আছে কাঠের প্রকাণ্ড বাড়িখানাকে। যতই সামনে এগোল, বুকের ভেতর একটা চাপ অনুভব করল সুমন। দ্রুত একবার জাহিদ আর রাকিবের মুখের দিকে তাকাল সুমন। জাহিদের চেহারায় উত্তেজনার ছাপ সুস্পষ্ট। যেন গুপ্তধন আবিষ্কার করতে চলেছে। তবে মুখ কালো করে কি যেন ভাবছে রাকিব। কালো, আবলুস কাঠের সদর দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল তিনজনের দলটা। ধাক্কা দিতেই ক্যাঁ..চ....চ শব্দ করে খুলে গেল কবাটটা। ঠিক সেই মূহুর্তে দোতলা থেকে কার তীব্র আর্ত চিৎকার ভেসে এল। চিৎকারটা শুনে তিনজনের প্রতিক্রিয়া হল তিন রকম। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে জাহিদ ভাবল, যাক ফয়সাল ওরা তাহলে ঠিকই আছে। সে জানে চিৎকারটা নকল। টেপ রেকর্ডারে রেকর্ড করা কৃত্রিম চিৎকার। ফয়সাল ওকে আগেই বলে রেখেছিল, বিল্টুকে ভয় দেখাতে সে চিৎকার চেঁচামেচি, কুকুরের ডাক, পায়ের শব্দ রেকর্ড করে এনেছে। এই কাজটা সে করেছে দলবল নিয়ে মধুপুরে আসার আগের দিন। তার এই কুকর্মের সঙ্গী ছিল যথারীতি রাকিব। হানাবাড়িতে রেকর্ডার, সাউন্ড বক্স এমনভাবে ফিট করে রেখেছে যাতে অটোমেটিক ভাবে ওগুলো বাজতে থাকে। এখন তাই বাজছে। তীক্ষ্ণ চিৎকারটা শুনে ভয়ে নীল হয়ে গেল সুমন। খামচে ধরল জাহিদের কনুই। ওর দিকে তাকিয়ে অভয়ের হাসি দিল জাহিদ। বলল, খামোখাই ভয় পাচ্ছিস। ফয়সাল আসলে আমাদের ভয় দেখাতে এসব করছে। কিন্তু সবজান্তা শমসের তো আর জানে না ওর এসব ট্রিকসের ধান্দাবাজি আমি ধরে ফেলেছি। এসব আসলে রেকর্ডিংয়ের আওয়াজ। কি করে বুঝলি? অবিশ্বাসের সুর সুমনের গলায়। ওই দ্যাখ, সিঁড়িঘরের দিকে হাত প্রসারিত করল জাহিদ, সিঁড়ির শেষ ধাপের নীচে তাকা। ওখানে একটা লুকনো সাউন্ড বক্স দেখতে পাবি। সত্যিই তাই। পাঁচ ব্যাটারির টর্চের জোরাল আলোয় সিঁড়ির শেষ ধাপের নীচে একটা সাউন্ড বক্স দেখা গেল। জাহিদের প্রতি ভক্তি বেড়ে গেল সুমনের। সত্যিই, জাহিদটার সাহস আছে। আর পর্যবেক্ষণ শক্তিও সাঙ্ঘাতিক তীক্ষ্ণ। রাকিব নিজেও অবাক হয়ে গেল। তবে চেহারায় সেই ভাব ফুটে উঠতে দিল না। বলল, চল দোতলায়, দেখি ওরা ওখানে আছে নাকি....বলতে বলতে সে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। সিঁড়িতে সবে পা রেখেছে রাকিব, হঠাৎ দোতলা থেকে ভেসে এল একটা অস্পষ্ট পায়ের শব্দ। কে যেন পা ঘষটাতে ঘষটাতে এদিকেই আসছে। ফয়সাল! গলা চড়িয়ে ডাকল রাকিব। অমনি থেমে গেল পদশব্দ। ফয়সালটা দেখি ফাজলামো শুরু করেছে আমাদের সাথে, বিরক্তি প্রকাশ করল জাহিদ, শালাকে লাগাব এক চড়। ওর কথা শেষও হল না, অমানুষিক গলায় কেউ দোতলা থেকে রক্ত হিম করা আর্তনাদ করে উঠল। চিৎকারটা প্রলম্বিত, ভয়াবহ। জাহিদের গায়ের লোম পর্যন্ত খাড়া হয়ে গেল। ফ...ফয়সাল!, কাঁপা কাঁপা গলায় বৃথাই জোর আনার চেষ্টা করল সুমন, ভা...ভাল হবে না বলে দিচ্ছি। যেভাবে শুরু হয়েছিল, সেভাবেই হঠাৎ থেমে গেল চিৎকারটা। ওরা তিনজন এবার জুতোর শব্দ তুলে তড়িঘড়ি উঠে এল দোতলায়। এদিকওদিক তাকাল। দেখা যাচ্ছে না কাউকে। ওদের সাড়া পেয়ে কয়েকটা ধাড়ি ইঁদুর ওদের পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেল। আঁৎকে উঠল সুমন। ওর অবস্থা দেখে হেসে ফেলল জাহিদ । কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে, হঠাৎ একটা থপ...থপ.... থপ আওয়াজ শুনে থেমে গেল সে। শব্দটা ক্রমশ কাছে আসছে। কেউ যেন কাঠের মেঝের ওপর হাতির মতো পা ফেলে ফেলে এগিয়ে আসছে। To be Continued..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মধুপুরের জঙ্গল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now