বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মধ্যবিত্ত ছেলেদের জীবনের গল্প

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ‘মধ্যবিত্ত ছেলেদের জীবনের গল্পটা একটা ম্যাজিকবিহীন কল্পকাহিনীর মতো’ ---মোঃ ওবাইদুল্লাহ (অভি) অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ছেলেরই প্রথম প্রেম (ক্রাশ বলা ভালো) হয় ক্লাসের সুন্দরী টিচার অথবা পাশের বেঞ্চে বসা ঝুটি বাধা মেয়েটা। এই প্রেমগুলা আসে যেমন দ্রুত, হারায়ও তেমনি। আসল প্রেমের সময় হলো ভার্সিটির ফার্ষ্ট/সেকেন্ড ইয়ার। মধ্যবিত্ত প্রেমে ১০১টা সমস্যা। প্রিয় মানুষটাকে নিয়ে দামি রেস্টুরেন্ট বসা যায় না তাই পার্কের বেঞ্জ, সোয়ারেজ পাইপ অথবা লেকের ধারই সই। বিফ স্টেক, চিজ বার্গার, ক্রিম এ্যান্ড ফাজ থাকে না এই মধ্যবিত্ত ভালোবাসাগুলাতে, থাকে বাদাম, ঝালমুড়ি বা ইগলু। খাবার কম দামের হলেও প্রেমের দাম কমে না। সেই প্রেম খাদ থাকে না, ভালোবাসায় গভীরতা থাকে। দিন যায়, ভালোবাসা বাড়ে, টান বাড়ে; যৌবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলা দুইজন স্বপ্ন দেখতে দেখতেই কাটিয়ে দেয় দুইজন। এরপর পাস করে ছেলেটা চাকরিতে ঢোকে। ছোট চাকরি!! এটা পেয়েছে তাই না কতো!! কতো ছেলে পাশ করে বেকার হয়ে ঘুরছে, সে তো তাও চাকরি পেয়েছে!! এই চিন্তাভাবনাগুলো বেশিদিন আরাম দিতে পারে না ছেলেটাকে। চাকরি পাওয়ার সাথে সাথে অবধারিতভাবে কিছু দায়িত্বও পেয়ে যায় মধ্যবিত্ত ছেলেটা। ছোটভাইয়ের প্লে-স্টেশন, ছোট বোনটার এ্যান্ড্রয়েড ফোন। মা হয়তো ফোন করে বলে তোর বাবার প্রেসার মাপার যন্ত্রটা কিনে আনিস/ বাবা খাওয়ার টেবিলে বলে তোর মা'র তো এই সমস্যা অনেকদিন ধরেই, একটা অপারেশন করালে ভালো হয়? তুই কি বলিস? ছেলেটা কিছু বলে না, চুপ করে থাকে। সকল মধ্যবিত্ত মা-বাবাই নিজেরা যা পারে না তা তাদের সন্তানদের দিয়ে করাতে চায়, সকল মধ্যবিত্তের কল্পনাতেই তাদের সন্তানেরা একসময় 'অনেক বড়' হয়। এই আকাঙ্খা ছেলেটাকে উচ্চাভিলাষী হতে শেখায়, স্বপ্ন দেখতে শেখায়, 'অনেক বড় হতে হবে' ভাবতে শেখায় এবং সবশেষে কিছুই করতে না পারে টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত থেকেই বাকি জীবন স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে বাধ্য করে। এই দেশে বোধহয় এমন কোনো মধ্যবিত্ত ছেলে নাই যে জীবনে একবারের জন্য হলেও তার বাবা/মা কে বলতে শোনে নাই যে 'আমরা যা করতে পারিনি, সেটা তুই করবি'। এরমধ্যে আছে মনের মানুষের চাপ। সিনেমাতে যেমন ভিলেন থাকে, বাস্তবেও থাকে। মধ্যবিত্ত ছেলেদের জীবনের গল্পের ভিলেন হলো মেয়েটার মা-বাবা। “উচ্চশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত পাত্র, বিয়েটা এইবার মনে হচ্ছে হয়েই যাবে, তুমি ম্যানেজ করো, আমার অসহায় লাগতেসে”..... ছেলেটারও অসহায় লাগে। বাসায় মা-বাবা-ভাই-বোন আর বাইরে এই মানুষটা; ২০ হাজারের চাকরি দিয়ে ২০ জনকে সন্তুষ্ট করা তো সম্ভব না, তাই না? সময়ের বিবর্তনে ছেলেটা হয়তো আসলে আর 'ম্যানেজ' করতে পারে না, মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায় আরেক জায়গায়। মা-বাবা আরও অসুস্থ হন, ভাই-বোনগুলা বড় হতে থাকে, দায়িত্ব কমে না, উল্টা বাড়ে। সপ্তাহে ৫ দিন ১০-৫টা অফিস, মাস গেলে বেতন আর হিসাব করে পুরা মাস খরচ করা; এই বৃত্তে মধ্যবিত্ত ছেলের জীবন বন্দী হয়ে যায়। ছেলেটা এখন আর স্বপ্ন দেখে না কারণ সে বাস্তবতা বুঝে গেসে। যে একবার বাস্তবতা বুঝে যায়, সে স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়। তারপরও মধ্যবিত্ত ছেলেগুলা ভালো হয়। স্বপ্ন হয়তো অনেক থাকে কিন্তু সেগুলা প্রকাশ হয় না। আবেগ হয়তো অনেক বেশি থাকে কিন্তু নির্বোধ হয় না, নূন্যতম বিবেক থাকে। ভালোবাসা উপচে পড়ে না জীবনের বাস্তবতার কারণে কিন্তু ভালোবাসার কমতি থাকে না। সেই ভালোবাসা সযতনে ছুঁয়ে যায় তার আশেপাশের মানুষগুলোকে, তারা ভালোবাসা টের পায় নীরবে। দিন শেষে বাসের প্রবল ভীড়ে সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা মধ্যবিত্ত ছেলের চোখে হয়তো স্বপ্নের ঝিলিক থাকে না কিন্তু দৃঢ়তা থাকে। সেই দৃঢ়তা দেখতে ভাললাগে, দেখে মনে হয় ভরসা করা যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মধ্যবিত্ত ছেলেদের জীবনের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now