বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছেলেটি একটি কোম্পানিতে ম্যানেজারিয়েল পোষ্টের জন্যে ইন্টারভিউ দিচ্ছিল। ইন্টারভিউ খুব ভালো হলোনা। শেষের দিকে বসের চোখ পড়লো তার ট্রান্সকিপ্টে। ভালো প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া, রেজাল্টও ভালো কথা বার্তায় তেমন চটপটে নয়। বস ভাবলেন আর একটু ঝালিয়ে দেখা যাক।
- খুব ভাল কলেজে পড়াশুনা করেছেন, খরুচে প্রতিষ্ঠান।
- জী স্যার
- খরচ কে দিতেন, বাবা ?
- আমার বাবা নেই স্যার, মা আছেন।
- উনি কি করেন?
- উনি অন্যদের কাপড় ধুয়ে দেন আমাদের বাসায় এনে।
- হুম, আপনার মাকে কাপড় ধোয়ায় সাহায্য করেছেন কখনো?
আপনার হাতটা দেখি...
...
- মা বলেন, আমার চেয়ে উনি অনেক দ্রুত কাজ করতে পারেন, তাই আমার উচিত লেখাপড়াটা ঠিক মত করা।
বস ছেলেটার হাতটি নেড়ে চেড়ে দেখলেন। কোমল হাত। তারপর বললেন আজ বাসায় গিয়ে আপনার মায়ের হাতটি একবার ধুইয়ে দেবেন। কাল আবার দেখা হবে।
ছেলেটি বাসায় ফিরে দেখলো মা জায়নামাজ থেকে উঠছেন। ছেলেকে দেখে বললেন
- তোর মুখটা শুকনো লাগছে কেন বাবা?’
ছেলে সে কথার উত্তর না দিয়ে বললো
- মা তোমার হাত টা একটু দাও তো?
- আমার এখন অনেক কাজ বলে মা বাইরে গেলেন শুকাতে দেয়া কাপড় আনতে।
রাতের খাবারের পর ছেলে বললো
- মা আজ তোমার হাতটা আমি ধুইয়ে দেই!’ ছেলের জোরাজুরিতে মা হার মানলো। তাঁর হাতটি ধরে নির্বাক হয়ে গেল ছেলেটি। শীর্ণ, হাড্ডিসার দুটি হাত। হাতের তালু দেখে চোখ দুটি জলে ভরে গেল তার। চামড়া উঠে যাওয়া, অসংখ্য দাগ আর কাটাকুটিতে ভরা।
ছলছল চোখে ছেলেটি দেখছে আর ভাবছে... তার লেখাপড়ার খরচ, প্রতিটি পরীক্ষা, প্রতিটা সফলতার মূল্য শোধ করেছে মায়ের হাতের প্রতিটি দাগ। হাত ধোয়াবার সময় এক আধবার ব্যথায় কাতরেও উঠছিলেন মা। সেই রাতে মাকে কোন কাজ করতে দেয়নি ছেলেটি। রান্না ঘর, শোবার ঘর গোছানো থেকে শুরু করে সব কাজই সে করলো। অনেকদিন পর রাত জেগে মায়ের সাথে গল্প করলো। বিছানায় গিয়েও ঠিক মত ঘুম হলো না। একটু পরপর জলে ভরে যেতে লাগলো তার চোখ।
পরের দিন আবার ইন্টারভিউ। বসের কোন প্রশ্নের ঠিক মত উত্তর দিতে পারলোনা। ভেতর থেকে কান্নায় কথা বন্ধ হয়ে আসছিল বার বার। বস বললেন মায়ের হাতটি কি ধুইয়ে দিতে পেরেছিলেন?
এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না ছেলেটি। হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল, বলল, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ স্যার। আমার চাকরি হোক আর না হোক আমার মায়ের হাত ধুইয়ে দিতে গিয়ে আমি অনেক কিছু শিখেছি’।
বস বললেন ম্যানেজার হতে গেলে দু’টি জিনিষ দরকার এক, যাদের জন্যে আপনার এই অবস্থান তাঁদের মনে রাখা। আর দুই, আপনি যাদের ম্যানেজার তাঁদের কষ্ট অনুভব করা।
আপনাকে স্বাগতম..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now