বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তাই....তাই.....তাই....মামার বাড়ি যাই.....ছড়াটা পড়তে পড়তে কখন যে শৈশব টাই হারিয়ে গেল বুঝতে পারি নি......।হাটি হাটি পা পা....যেখানে খুশি সেখানে যা.....শুনতে শুনতে যে কবে হাটতে হাটতে অনেক দূর চলে গিয়েছি.....আন্দাজ করতে পারি নি..।সেই ছেলেবেলা থেকে লুকোচুরি খেলতে খেলতে কবে যে মায়ের আচল থেকে বেরিয়ে সবার আড়াল হয়ে গেছি তাও জানি না....।মেঘে মেঘে বেলা এখন অনেক হয়ে গেছে...।।আমি আবকাশ সবার থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি বছর ১৫ আগে...।মায়ের একমাত্র ছেলে হিসেবে আদর যত্ন একটু বেশিই পেতাম।।মাই ছিল আমার জীবনের সবকিছু...।মাকে ছাড়া এক মূহুর্তও থাকতে পারতাম না.....।।একদিন মা আমার ২ বোনকে নিয়ে গেলেন নানার বাড়ি নানাকে দেখতে.......।।আমার পরীক্ষা ছিল বলে মা আমায় নিলেন না.....।।আমায় বলে গেলেন ১ দিন পরেই চলে আসবেন....।কিন্তু গিয়ে দেখলেন নানা ভীষণ অসুস্থ....।তাই ১ দিনের বদলে ১ সপ্তাহ থাকলেন।এদিকে আমার তো প্রাণ আর মানে না.....।২ দিন অনেক কষ্টে থাকলাম চাচির সাথে.......।পরীক্ষা খারাপের নিম্ন পর্যায়ে গেল......।কিন্তু ২ দিন পর আর পারলাম না থাকতে..।।রাতের বেলায় বেরিয়ে পরলাম.......।এদিকে আমায় নিয়ে বাড়িতে হুলুস্থুল কান্ড।।কেউ খুঁজে পায় না.....।যখন মা দেখল আমি ওখানে মা প্রথমে বকাবকি করলেন এত রাত্রে যাওয়ার জন্য।তার ওপর আবার কাউকে না বলেই গিয়েছিলাম।।কিন্তু মায়ের মন বলে কথা...।আমায় পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ ফিরে পেলেন....।।।এরপর থেকে মা আমায় ছেড়ে আর কোথাও যাননি।।আর আমৈর বোনদুটি ছিল ভীষণ দুষ্টু....।ওদের সাথে মারামারি না করলে আমার দিনই যেত না....।।এসবের জন্য কতবার যে মায়ের কাছে বকুনি খেয়েছি......হিসাব নেই......।তারপরেও মায়ের ছিলাম আমি.......আর আমার ছিল মা.....।মায়ের কারণে পড়াশুনাতেও সবার থেকে এগিয়ে থাকতাম।।আমার যখন রেজাল্ট দিত তখন মা অাগে থেকেই মিষ্টি আনিয়ে রাখতেন.....।।আমি এর কারণ জানতে চাইলে মা বলতেন আমি জানি তুই ফার্স্ট হবিই.....।।।এভাবে মা আর বোনদের নিয়ে কাটতে লাগল জীবন.....।।।আমাদের বাবা নেই আমার যখন বয়স বছর দুয়েক।তখন থেকেই মা আর আমরা.....।।তো আমার S.S.C.পরীক্ষার রেজাল্ট যখন বেরোলো আমার মায়ের চাইতে খুশি পৃথিবীতে কেউ হয়নি...............।এত ভালো রেজাল্ট করে কেন আমি এখানে পড়ব এই নিয়ে মায়ের সাথে খালা কথা বলল।খালা বললেন আমি ওকে আমার সাথে আমেরিকা নিয়ে যাব।পড়া শেষ করলে আবার আসবে।।মা এই কথা শুনে তো কেদেই ফেললেন...।।আমিও রাজি হলাম না যাওয়ার জন্য।কিন্তু সবাই মাকে বোঝাল মাত্র ৫ বছরের ব্যাপার......যেতে দাও......এভাবে ওকে আটকে রাখলে ও জীবনে উন্নতি করবে কেমনে..???পরে যদি বলে তোমার জন্য আমি বড় কিছু করতে পারলাম না....।।এই কথা শুনে মা রাজি হলেন...।মা কখনওই চাননি আমরা পিছিয়ে থাকি......।।কিন্তু মা তো রাজি হয়েছেন বুকে পাথর রেখে......আমি বুঝেছি সে কথা......।মা রাজি হলেও আমি কিছুতেই মানতে পারলাম না যে আমি মাকে ছাড়া থাকব...।।মা আমার ভবিষৎ এর কথা ভেবে আমায় রাজি করালেন.....।মায়ের কথা আমি ফেলতে পারিনি বলেই আজ আমি মায়ের কাছ থেকে এত দূরে...।।তো সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চললাম অচিনপুরে......মাকে ছেড়ে বহুদূরে.......।আমেরিকায় সুখ দুঃখ মিশ্রিত দিনগুলো মোটামুটি ভালোই কাটল...।।সবচেয়ে খারাপ লাগত মায়ের সাথে কথা বলার সময়......বুঝতাম মা কাঁদছেন........।তাই মায়ের সাথে কথা বলার সময় হাসি ঠাট্টা করতাম মায়ের মন ভালো রাখার জন্য।।।এভাবে গেল ৫ টি বছর......।কিন্তু ফেরার পথ আর পাই না.......।একদিকে মায়ের কান্না......আর একদিকে প্রবাসের অশান্তি।।।।কত চেষ্টা করলাম ফিরে যেতে আমার মায়ের সেই মাটির ঘরে যেখানে সব সুখ জমা হয়ে আছে........যেখানে মায়ের আদর...বোনের ভালোবাসা দানা বেধে আছে.....।কিন্তু জীবন বড়ই কঠিন......!!!ফিরব কিভাবে করতে করতে ১০ বছর চলে গেল........হঠাৎ একদিন খবর এল তোমার মা আর নেই........তোমার বোনেরা খেতে না পেয়ে অসুখে পড়েছিল........তারাও নেই.........।নিজেকে মনে হলো সবথেকে বড় অপরাধী।।।আমি থাকলে এত কিছু হতই না.....।।যে মা আমার পৃথীবি ছিলেন সেই মা আর নেই.......!!!!!!মাকে শেষ দেখাও দেখতে দিল না এই নিষ্ঠুর প্রবাস জীবন......।মা আমায় ক্ষমা করে দিও মা.........তোমার অবকাশ তোমার জন্য কিচ্ছু করতে পারে নি......।।তুমি আমায় আড়াল করো না মা.......তোমার হৃদয়ে আমি নয়নমণি হয়েই থাকতে চাই........!!১৫ বছর পর পেলাম দেশে ফেরার সুযোগ..........চলে এলাম সেই স্মৃতির প্রাসাদে.......আমাদের মাটির ঘরে........।।আজ তুমি এই ঘরটাতে নেই আমার অপেক্ষায় বসে আমি জানি...কিন্তু তোমার স্নেহভরা ঘরটি আজও আছে মা...আর আছি অামি তোমার ছোয়ার ভেতর.....এই ঘরটাতে নেই ময়না...শালুক....আর ওদের সাথে ঝগড়া করা যাচ্চে না......কি নীরব এই ঘরটা......কি পাষাণের মতও দাঁড়িয়ে আমার আত্নচিৎকার শুনতে....।দেখছে এ বুকের ক্ষত.....।।।কিন্তু কেউ বলছে না তোর মা তোর বোনেরা তোর অপেক্ষায় বসে আছে তুই খাওয়ার ঘরে গিয়ে দেখ.......।।।।মা অামি তোমার অবকাশ হয়েই যেন সারাজীবন আমাদের এই মাটির প্রাসাদে হাজারো স্মৃতির ভিরে থেকে যেতে পারি.......
মা.......আমি এই স্মৃতির প্রাসাদে জীবনভর থাকব...।।
মা....যেনো আমার জীবন এই মাটির ঘরে....এই স্মৃতির প্রাসাদেই শেষ হয়........
যেখান থেকে শুরু সেখানেই শেষ...........................
মায়ের চাইতে বড় ত্যাগী কেউ হতে পারে না..........
স্মৃতির প্রাসাদে হাজারো সুখস্মৃতির ভীড়ে থেকে যাব এভাবেই...........!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now