বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মায়াময় যুবকটি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মায়াময় যুবকটি -মুনতাসির মারুফ পঞ্চমবারের মতো ধরা পড়ে গেল বৃন্তা। লজ্জায় দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল সে। ছি ছি, কি ভাবছে ছেলেটা! তাকে নিশ্চয়ই নির্লজ্জ, বেহায়া মেয়ে মনে করছে। কিন্তু চোখ সরিয়ে রাখলেও মনটা তো সরিয়ে রাখতে পারছে না বৃন্তা। প্রথম দেখাতেই নিজের বুকের ভেতর ঢেউ আছড়ে পড়ার আওয়াজ শুনতে পেয়েছিল সে। তারপর থেকে শুধুই মায়াময় ঐ মুখটার দিকে চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু একটানা চেয়ে থাকতেও লজ্জা লাগছে। তাই কিছুক্ষণ পর পরই চোরা চোখে দেখে নিচ্ছে যুবকটিকে। যুবকটিও বোধহয় বুঝতে পেরেছে তা। দৃষ্টিরও কি স্পর্শের ক্ষমতা আছে? নইলে যুবকটি কি করে ঠিক সময়েই তাকাচ্ছে বৃন্তার দিকে - চোখাচোখি হয়ে যাচ্ছে? ও চোখে আমন্ত্রণ বা তাচ্ছিল্য কোনটাই নেই। স্বাভাবিক দৃষ্টি। তাতেই যেন আকর্ষণ আরও বেড়ে যাচ্ছে বৃন্তার। বৃন্তা যাচ্ছে বাড়িতে। জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার সাতপোয়া গ্রামে তার বাড়ি। পরীক্ষা শেষের ছুটি। ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে সে। হোস্টেলে থাকে। রুমমেট তিথির বাড়িও সরিষাবাড়ি। ছোটবেলার বান্ধবী। একসাথে স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় দুজনে। সাবজেক্ট অবশ্য ভিন্ন। তিথির সমাজবিজ্ঞান। ছুটিছাটায় একই সাথে বাড়ি ফেরে তারা। বাড়ি থেকেও একই সাথে আসে ঢাকায়। আজও সকালে একই সাথে হোস্টেল থেকে রওয়ানা দিয়েছে দুজনে। কমলাপুর স্টেশনে এসে টিকিট কেটেছে। ট্রেনের নাম অগ্নিবীণা। ট্রেন ছাড়ার পনের মিনিট আগেই ওরা ট্রেনের কামরায় উঠে বসেছে। ফার্স্ট ক্লাসের পাশাপাশি দুটি সীট ওদের। তিথি জানালার ধারে বসতে পছন্দ করে। বৃন্তাও সবসময় ঐ জায়গাটা তিথির জন্য ছেড়ে দিয়ে ভেতর দিককার সীটটায় বসে। ট্রেন ছাড়ার যখন মিনিট পাঁচেক বাকি, ফার্ষ্ট ক্লাসের ঐ কামরায় ঢোকে যুবকটি। বৃন্তা যেদিকে মুখ করে বসে আছে, সেদিকের দরজাটা দিয়েই ঢোকে সে। আরও কত মানুষই তো উঠছে ট্রেনে, কারো দিকেই একবারের বেশী দুবার তাকানোর ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু যুবকটির মুখের উপর থেকে চোখ সরাতে পারে না বৃন্তা। কি অদ্ভূত সুন্দর মায়াময় মুখটা। চোখে রাজ্যের নিষ্পাপ সরলতা। মাঝারি উচ্চতার সাথে মানানসই দেহ। পরনে কালো প্যান্টের সাথে বৃন্তার সবচেয়ে প্রিয় আকাশী রংয়ের ফুলহাতা শার্ট। স্মার্ট ভঙ্গিতে হেঁটে এসে যুবকটি বৃন্তার বাম দিকের সারির মুখোমুখি একটা সীটের সামনে দাঁড়ায়। হাতের সবুজ রংয়ের ব্যাগটা উপরে লাগেজ রাখার জায়গায় রাখে। ট্রেনের ভেতরদিককার সীটটায় বসার আগে এদিক-ওদিক তাকায়। বৃন্তার চোখে চোখ পড়লেও বেশীক্ষণ স্থির থাকে না ওখানে দৃষ্টি। অথচ বৃন্তা বিশ্বাস করে, ওকে দেখে কেউ, সে পুরুষই হোক বা নারী, দ্বিতীয়বার দৃষ্টি ফেরাবে না এটা হতেই পারে না। সে যে সুন্দরী, এ ব্যাপারে সে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু এই যুবকটি অন্য ছেলেদের মতো হ্যাংলা দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলো না, আবার শারীরিক অভিব্যক্তিতে তাচ্ছিল্য বা অহংকারও ফুটে উঠলো না। যুবকের এই ব্যক্তিত্ব আরো ভালো লাগে বৃন্তার। তার মনের ভাবটা বুঝতে পারে তিথি। সেও দেখেছে যুবকটিকে। ‘ কি রে? কথা বলবি নাকি?’ ফিসফিসিয়ে সে জিজ্ঞেস করে বৃন্তাকে। ‘যাহ!’- ঈষৎ রক্তিম হয় যেন বৃন্তার গাল। সে চোখ ফিরিয়ে তিথির দিকে মনোযোগ দিতে চেষ্টা করে। ক্যাম্পাসের গল্প, বাড়ির গল্প, তিথির ভালবাসার মানুষটির গল্প করে যুবকটিকে মনোযোগের বাইরে রাখতে চেষ্টা করে। ঝাঁকি দিয়ে ট্রেন চলতে শুরু করে। জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে মানুষ-যানবাহন আর বাড়িঘরের পিছলে পিছনে চলে যাওয়া দেখে বৃন্তা। কিন্তু বেশীক্ষণ অন্যদিকে মনোযোগ রাখতে পারে না। আবার চোখ ঘুরে যায় যুবকটির দিকে। মুখোমুখি তিন সীট সামনে বসা যুবকটি মনোযোগ দিয়ে খবরের কাগজ পড়ে, ট্রেনের কর্মচারীরা নাস্তা নিয়ে এলে নাস্তা খায়, চা খায়- সব লক্ষ্য করে বৃন্তা। যুবকের পাশের ফাঁকা আসনটায় গিয়ে বসার ইচ্ছেটাকে অনেক কষ্টে রোধ করে। গফরগাঁওয়ে ট্রেনটা থামে একবার। থামার সময়টায় যেন বুকে হাতুড়ির বাড়ি পড়তে থাকে বৃন্তার। নেমে যাবে না-তো যুবকটি? নাহ। তাকে পরম স্বস্তি দিয়ে সীটেই বসে থাকে যুবকটি। যাক। তাহলে আরও কিছুক্ষণ দেখা যাবে তাকে। বৃন্তার মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে তিথি, কিছু বলে না। ট্রেন আবার ছাড়ার পর যুবকটি যখন উঠে টয়লেটের দিকে যায়, তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না বৃন্তা। সে-ও উঠে টয়লেটের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কোন ছুতোয় যদি তার সাথে কথা বলা যেত! টয়লেট থেকে বেরিয়ে যুবকটি তাকে দেখে যেন খানিকটা চমকে ওঠে। কিন্তু দ্রুতই সামলে নিয়ে পাশ কাটিয়ে যায়। বৃন্তারও কিছু বলা হয় না। নিজের উপরই মেজাজ খারাপ হয় তার। মিছেমিছি কতকটা সময় টয়লেটের ভেতর দাঁড়িয়ে থেকে বেরিয়ে আসে সে। ময়মনসিংহ স্টেশনে ট্রেন থামতেই উঠে দাঁড়ায় যুবক। আবার হাতুড়ির বাড়ি পড়ে বৃন্তার মনের মাঝে। চোখ চলে যায় উপরের তাকের দিকে। হালকা সবুজ রংয়ের ব্যাগটা ওখানেই আছে। তার মানে, যাচ্ছে না যুবকটি। হয়তো কিছু খেতে বা এমনিই স্টেশনে নামছে যুবকটি। বুকের ধুকপুকানি কমে আসে। আরও কিছুক্ষণ, অন্তত জামালপুর স্টেশন পর্যন্ত যুবকটিকে দেখতে পাবে এই আনন্দে নেচে ওঠে বৃন্তার মন। জামালপুরের আগে আর কোন স্টেশনে থামবে না ট্রেন। এই সোয়া এক -দেড় ঘন্টার ভেতর যেমন করেই হোক, ছেলেটার সাথে কথা বলবেই সে, মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে বৃন্তা। ফোন নম্বরটা নিতেই হবে। নয়তো আজীবন হয়তো নিজেকেই দোষারোপ করে যাবে সে ঠিক সময়ে লাজ ভেঙে একটুখানি সাহসী হয়ে উঠতে পারে নি বলে। জানালার পাশ ঘেঁষে হাঁক দিয়ে যাওয়া বাদামওয়ালার কাছ থেকে বাদাম কেনে তিথি। প্রতিবারই কেনে ওরা, প্রতিবারই দেখা যায়, বাদাম ততটা ভাজা-ভাজা হয়নি। প্রতিবারই প্রতিজ্ঞা করে, এখান থেকে আর বাদাম কিনবে না ওরা। প্রতিবারই প্রতিজ্ঞা ভুলে যায়। বাদাম খেতে খেতে তিথি খোঁচায়- ‘লাভ এট ফার্ষ্ট সাইট! একদম প্রথম দেখায়ই কুপোকাত! ফোন নম্বর যোগাড় করে দেব? তুই কথা না বলতে পারলে বল ,আমি গিয়ে চেয়ে নিচ্ছি।’ ‘তোর কিছু করা লাগবে না। তুই বাদাম খা। কিছু করা লাগলে আমিই করবো।’ তিথিকে কৃত্রিম ঝাড়ি দেয় বৃন্তা। ট্রেন ছাড়ার হুইসেল শোনা যায়। যেসব যাত্রী নিচে নেমেছিল তারা উঠে আসে। কিন্তু যুবকটির দেখা নেই। একটুখানি অস্থিরতা বোধ করে বৃন্তা। জানালা দিয়ে মুখ বের করে যুবকটিকে দেখার চেষ্টা করে। তিথি-ই আগে দেখতে পায়। হাত ইশারায় দেখায় বৃন্তাকে। ওদের বগির কয়েক বগি সামনে প্ল্যাটফর্মে একটা বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে যুবকটি। কি একটা ম্যাগাজিন হাতে নিয়ে পড়ছে। একবার মুখ ঘুরিয়ে তাকায় ওদের বগির দিকে। বৃন্তা হাত বের করে নাড়ায়। যুবকটি দেখে কি না বোঝা যায় না। কিন্তু নড়ে না সেখান থেকে। ট্রেন চলতে শুরু করে। আরে! ট্রেনে উঠবে না নাকি লোকটা? তাহলে ব্যাগ? ব্যাগটার কথা কি বেমালুম ভুলে গেছে সে? কি ভুলো-মনা রে বাবা! চটজলদি সিদ্ধান্ত নেয় বৃন্তা। যুবকটি যে সীটে বসে ছিল, দৌড়ে যায় সেখানে। সবুজ-রঙা ব্যাগটা টান দিয়ে নামায়। তিথির কাছে ফিরে এসে জানালা দিয়ে মুখ বের করে। তিথি সরে গিয়ে জায়গা করে দেয়। ট্রেনটি ধীরে ধীরে গতি বাড়াতে শুরু করে। ওদের বগি পার হয়ে আসে যুবকটিকে। মুখ বাড়িয়ে যতটা সম্ভব চেঁচিয়ে ডাক দেয় বৃন্তা- ‘এ-ই যে..’ শুধু যুবকটিই নয়, আশেপাশের অনেকেই মুখ ঘুরিয়ে তাকায়। ‘ব্যাগটা..’ -বলে চেঁচিয়ে জানালার বাইরে অনেকখানি শরীর ঝুঁকিয়ে প্ল্যাটফর্মের উপর ব্যাগ ছেড়ে দেয় বৃন্তা। তিথি পিছন থেকে তাকে টেনে ধরে- ‘কি করছিস? পড়ে যাবি তো।’ সোজা হয়ে ট্রেনের ভেতর মাথা ঢোকানোর পর পরই বৃন্তা দেখতে পায়, একটা লোহার খাম্বা ট্রেনের গা ঘেঁষে দ্রুত পিছনে চলে গেল। আরেকটু সময় মাথাটা বাইরে রাখলে কি দুর্ঘটনাটাই না ঘটতো! তবে, কি ঘটতে পারতো সেই শংকার চেয়ে যুবকটির কোন উপকারে আসতে পেরেছে এই অনুভবই বৃন্তার মন জুড়ে থাকে। ট্রেনের অন্য যাত্রীরা কৌতুহলী দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ ওর দিকে চেয়ে থাকে। তবে কেউ কিছু বলে না। কিছুক্ষণ পর সবাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু বৃন্তার মন জুড়ে তখনো যুবকটিকে নিয়ে এলোমেলো ভাবনা। আরেকটু সময় পেলে ব্যাগের সাথে ছোট এক টুকরো কাগজে তার নিজের ফোন নম্বরটাও লিখে দিতে পারতো সে। ব্যাগটার ভিতরে কি কাঁচের কিছু ছিল? সে তো প্ল্যাটফর্মে সাবধানেই ফেলেছে ব্যাগটা। তবু যদি ভেঙে যায় ভেতরের কিছু। তাতে নিশ্চয়ই মাইন্ড করবে না যুবকটি। অন্তত ব্যাগটা তো ফেরত পাচ্ছে সে। ট্রেন থেকে নেমেও যুবকের ভাবনা মাথা থেকে যায় না বৃন্তার। তিথিকে ওর বাসায় নামিয়ে দিয়ে সেই ভাবনা সাথে নিয়েই বাড়িতে ঢোকে সে। এই ব্যাকুল ভাবনাই কি ভালবাসা? বাড়িতে ঢুকতেই মুখে একরাশ উদ্বেগের রেখা ফুটিয়ে ছুটে আসে মা আর কলেজ পড়–য়া ছোট ভাই। - ‘তুই ঠিক আছিস তো? কোন সমস্যা হয় নি তো? মোবাইল বন্ধ কেন? তিথির মোবাইলেও তো পেলাম না। ’ ভ্রƒ কুঁচকায় বৃন্তা- ‘ মোবাইলের চার্জ শেষ, তাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দুজনেরটাই। কেন? কি হয়েছে?’ ‘ময়মনসিংহ স্টেশনে নাকি বোমা ফেটেছে? দুইজন মারা গেছে। টিভিতে বলছে। তোরা দেখিসনি কিছু? জানিস না?’ ‘না তো! কখন!’ ধ্বক করে ওঠে বৃন্তার বুকের ভেতরটায়। ‘এই তো দুপুরে, পৌনে একটার দিকে।’- ভাই বলে। তার একটু আগেই তো ট্রেনটি ছেড়ে এসেছে ময়মনসিংহ! যুবকটি কি তখন ছিল প্ল্যাটফর্মে? খারাপ কিছু ঘটে নি তো তার? যুবকটির জন্য দুশ্চিন্তায় মাথা ঘুরে ওঠে বৃন্তার। ব্যাগটা হাত থেকে যেন খসে পড়ে মাটিতে। ভেতর থেকে ছোট বোন চেঁচিয়ে ওঠে। - ‘আবার দেখাচ্ছে। আবার দেখাচ্ছে।’ দ্রুত গিয়ে ভেতরের ঘরে ঢোকে বৃন্তা। নিউজ প্রেজেন্টার মহিলা তখন বলছেন, ‘ঘটনাস্থলে আছেন আমাদের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি সারোয়ার আলম। আমরা তার সাথে ফোনে কথা বলছি। সারোয়ার, আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন?’ টিভির পর্দায় সারোয়ার আলমের স্টিল ছবি। কন্ঠ ভেসে আসে টেলিফোনে - ‘জ্বি ফারহানা নিশো, আমি শুনতে পাচ্ছি।’ ‘আপনি আমাদের ওখানকার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান।’ ‘জ্বি, ধন্যবাদ। আপনারা এর আগে জেনেছেন, বেলা পৌনে একটার দিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে একটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ দুইজন মারা গেছেন। আহত পাঁচ জনকে ভর্তি করা হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকা থেকে তারাকান্দিগামী অগ্নিবীণা ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণটি ঘটে। রেলও্েয়র এক কর্মচারীর সাথে এইমাত্র আমরা কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, ট্রেনটি ময়মনসিংহ স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় প্রথম শ্রেণীর চেয়ার কোচ থেকে এক তরুণীকে একটি ব্যাগ প্ল্যাটফর্মে ছুঁড়ে ফেলতে দেখেন তিনি। ট্রেন চলে যাওয়ার পর সবুজ রংয়ের ঐ ব্যাগটির কাছে গিয়ে তিনি তাতে তালা মারা দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুলিশে খবর দেন এবং প্ল্যাটফর্মে জড়ো হওয়া লোকজনকে দূরে সরিয়ে দিতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ সেখানে আসার আগেই ঐ ব্যাগটি বিস্ফোরিত হয়। কৌতুহলী কয়েকজন নির্দেশমতো দূরে সরে না যাওয়ায় তারা বিস্ফোরণের শিকার হন। পুলিশের ধারণা, ঐ ব্যাগটিতে টাইম-বোমা অথবা রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এরকম কোন বোমা ছিল। বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে কোন জঙ্গি সংগঠন পরিকল্পিতভাবে এ নাশকতামূলক কাজ করেছে বলে পুলিশ আশংকা করছে। তবে, এখনও পর্যন্ত কোন সংগঠন এ বোমা হামলার দায় স্বীকার করেনি। ঢাকা থেকে এরই মধ্যে বিস্ফোরক-বিশেষজ্ঞ বিশেষ টিম রওয়ানা দিয়েছে বলে জানা গেছে। রেলওয়ের ঐ কর্মচারী বলেছেন, ব্যাগ ছুঁড়ে দেয়া তরুণীটির বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। তার পরনে ছিল আকাশী রংয়ের জামা। তরুণীটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য বলে পুলিশের ধারণা। পুলিশ তরুণীটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।...’ ‘আপু তোমার পরনেও আকাশী জামা।’ বলে হাসতে থাকে বৃন্তার এগারো বছর বয়সী ছোট বোনটি। কিন্তু হাসি আসে না বৃন্তার মুখে। হিম শীতল একটা স্রোত বয়ে যায় মেরুদন্ড বেয়ে। পুলিশ খুঁজছে তাকে? খুঁজে খুঁজে চলে আসবে বাড়িতে? যদি চলে আসেই, কি বলবে সে তাদের? কিভাবে বিশ্বাস করাবে যে সে নির্দোষ? তার কথা, তিথির কথা আদৌ বিশ্বাস করবে কি কেউ? এসব চিন্তা ছাপিয়েও বড় হয়ে ওঠে আরেকটি ভাবনা। বৃন্তার জীবনে প্রথম ভাললাগার দোলা-জাগানো নিষ্পাপ দৃষ্টির মায়াময় চেহারার যুবক ব্যাগটি ফেলে রেখে গিয়েছিল ট্রেনের কামরার ভেতরেই! যদি সেটা বৃন্তা বাইরে ছুঁড়ে না দিত?....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মায়াময় যুবকটি
→ মায়াময় যুবকটি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now