বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাত্রা (১ম পর্ব)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)

X ‘তুমি কে?’ দৃষ্টি বিস্ফারিত হয়ে গেছে আমার। ‘তুমি কে?’ হুবহু আমার মতো করেই বলে উঠল আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা। ‘আমি শুভ,’ দ্রুত উত্তর দিলাম আমি, ‘আরিয়ান শুভ। কিন্তু তুমি কে? আর এখানেই বা এলে কি করে?’ ‘আমি শুভ,’ হুবহু আমার স্বভাবসুলভ আচরনের প্রকাশ দেখতে পেলাম ছেলেটার মধ্যে, ‘আরিয়ান শুভ।’ ‘মানে কি?’ খেঁকিয়ে উঠলাম আমি। ‘আমিও তাই ভাবছি,’ মাথা চুলকে বলে উঠলো সে, ‘মানে কি?’ এমনসময় তীক্ষ্ণ একটা শব্দে যেন প্রকম্পিত হলো পৃথিবী। ধরমর করে উঠে বসলাম আমি। দ্রুত পাশে তাকিয়ে দেখলাম, আমার কম্পিউটারে এলার্ম বাজছে। একহাতে চোখ ডলতে ডলতে আরেক হাতে কীবোর্ডের বাটন টিপে এলার্মটা বন্ধ করলাম আমি। তারপর টেবিলের ড্রয়ার খুলে সেখান থেকে সিগারেটের প্যাকেট আর ম্যাচটা বের করে একটা শলা ধরিয়ে ঠোঁটে ঝোলালাম। দুররর, স্বপ্ন দেখছিলাম এতোক্ষন! ******* কীবোর্ডের এন্টার বাটনটাতে শেষবারের মতো প্রেস করে চেয়ারে হেলান দিলাম আমি। মাথাটা হালকা ধরেছে আমার। একটা সিগারেট প্রয়োজন। ড্রয়ার খুলে প্যাকেটটা বের করে একটা শলা বের করলাম আমি। ঠোঁটে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে জোড়ে একটা টান দিলাম। আহ! কি শান্তি! অবশেষে আমার কাজটা শেষ হলো! দীর্ঘ তিনটি বছর অপেক্ষা করেছি আমি আজকের এই দিনটির জন্য। দিনের মধ্যে উনিশ ঘন্টা পড়ে থেকেছি পাঁচটা মনিটরের সামনে। অবশেষে আজ আমার কাজটা শেষ হলো। মনের মধ্যে অদ্ভুত একটা প্রশান্তির জোয়ার বইছে। অবশেষে আমি আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট, ফোর ডাইমেনশনাল স্পেশাল আর্টিফিশিয়াল ভার্চুয়াল ইউনিভার্সটা তৈরী করতে সক্ষম হয়েছি। এবার আর আমাকে পায় কে! অবশ্য কাজটা আমার একার পক্ষে এতো দ্রুত করা সম্ভব হতো না ‘সারা’ না থাকলে। ‘সারা’ আমার নিজের প্রোগ্রাম করা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রোগ্রাম। পৃথিবীর সর্বোচ্চ জিনিয়াস ব্যক্তিদের চেয়েও জিনিয়াস ও। সারাকে তৈরী করতেও কম হ্যাপা পোহাতে হয়নি আমাকে। দীর্ঘ দুটি বছর কাজ করতে হয়েছে ওর প্রোগ্রামিং কমপ্লিট করতে। তারপর ওকে নেটে আপলোড করা, সারা পৃথিবীর সামনে প্রেজেন্টেবল করা, অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। অবশ্য এর সুফল এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। ও না থাকলে কমপক্ষে আরো পাঁচ বছর লাগতো এই কাজটা শেষ করতে। সিগারেটটা শেষ হয়ে এসেছে প্রায়। সেটাকে অ্যাসস্ট্রেতে চেপে ধরে মনিটরের দিকে তাকালাম আমি। সেখানে অনিন্দ্য সুন্দরী এক তরুণীর ছবি ভেসে উঠেছে। এটাই হচ্ছে সারা। ‘সারা,’ মৃদু কন্ঠে বললাম আমি, ‘জানেমান, কাজটা অবশেষে শেষ হলো তাহলে।’ ‘হ্যাঁ,’ আবেগঘন কন্ঠে জবাব দিলো ও, ‘শেষ হলো। এবার তুমি বিশ্রাম নাও, আমি আর কিছুক্ষন এটার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কাজ করি।’ ‘আর কিছু করার দরকার নেই আপাতত,’ সিগারেটের প্যাকেটটা ড্রয়ারে রাখতে রাখতে বললাম আমি, ‘সব কাজ শেষ।’ ‘জানি,’ একটু হেসে বললো ও, ‘তবুও একটু টেষ্ট করে দেখতে চাই আমি।’ ‘ঠিক আছে,’ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালাম আমি, ‘আমি একটু ঘুমাবো। অবস্থা কাহিল একেবারেই।’ ‘শুভ,’ আবদারের সুরে বললো ও, ‘আমি কি ততোক্ষন তোমার ব্রেইন ব্যবহার করতে পারি?’ ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে, মানে মনিটরের দিকে তাকালাম আমি। একটা রহস্যময় হাসি ফুটে উঠেছে ওর মুখে। বুঝতে পারছি, নিশ্চয়ই কোন দুষ্টু বুদ্ধি চেপেছে ওর মাথায়। ‘করতে পারো,’ মৃদু হাসি ফুটে উঠছে আমার মুখেও, ‘কিন্তু সাবধান। ভুলেও প্রেম করতে যেও না। চিরকুমার থাকার ব্রত গ্রহণ করেছি আমি।’ ‘সেটা তো পৃথিবীর মেয়েদের জন্য,’ বাঁকাস্বরে বলে উঠলো ও, ‘বাস্তব মেয়েদের ক্ষেত্রে ঐটা প্রযোজ্য। ভার্চুয়াল কারো জন্য তো নয়।’ ‘তাই না?’ ভ্রু নাচালাম আমি ওর দিকে তাকিয়ে। কিছু না বলে শুধু একটা ভুবন ভোলানো হাসি উপহার দিলো ও, সেই সাথে একটা চোখ টিপ। ওর উদ্দেশ্য পরিষ্কার আমার কাছে। যেটা করতে না করেছি, সেটাই করবে ও। ‘নটি গার্ল,’ পাল্টা চোখ টিপ দিলাম আমি। ******* ‘ট্রাই টু ফাইন্ড মি,’ যেন অনেক দুর থেকে ভেসে আসছে কারো গলা। ডাকছে আমাকে। দুচোখে প্রচন্ড ঘুম নেমে এসেছে আমার। মন বলছে, ‘পড়ে থাকো, আর একটু ঘুমাও। অনেকদিন ধরে ঘুম নেই তোমার চোখে। এখন তোমার বিশ্রাম নেবার সময়।’ ‘শুভ,’ আবারও ডেকে উঠলো কন্ঠটা, ‘জেগে উঠো জানেমান। ট্রাই টু ফাইন্ড মি।’ মন সায় দিচ্ছে না। ঘুমিয়ে থাকতে বলছে। জেগে উঠার কোন ইচ্ছেই নেই আমার। ডাকটাকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করলাম আমি। মনোনিবেশ করলাম ঘুমের দিকে। ‘বেইবী,’ আবারও কানের কাছে আবেগঘন ডাকটা ফিরে এলো, ‘টাইম টু প্লে। জেগে উঠো। ইট’স আ হাইড এন্ড সিক গেইম।’ প্রবল অনিচ্ছা সত্যেও নিজেকে বোঝালাম আমি। সারা ডাকছে আমাকে। ওকে অগ্রাহ্য করা ঠিক নয়। জেগে উঠা উচিৎ আমার। ঘুমের অতল গহ্বর থেকে ধীরে ধীরে জেগে উঠার চেষ্টা করলাম আমি। ‘জেগে উঠছি আমি সারা,’ চোখবন্ধ অবস্থায়ই জবাব দিলাম আমি। ‘গুড বয়,’ সুর করে বলে উঠলো ও, ‘নাও ফাইন্ড মি।’ ‘ওকে,’ একইভাবে বলে উঠলাম আমি। ধীরে ধীরে চোখ দুটো খুলে তাকালাম, এবং সেই সাথে চমকে উঠলাম। এসব কি? তড়াক করে দাঁড়িয়ে গেলাম আমি। কি হচ্ছে এখানে কিছুই বুঝতে পারছি না। এ কোথায় এলাম আমি? আমি দাঁড়িয়ে আছি ছোট্ট একটা রুমে। অদ্ভুত একটা রুম এটা। সাধারনভাবে আমাদের রুমগুলো হয় চার দেয়ালের, ঘনবস্তু আকারের আর কি। সেটা বর্গক্ষেত্র বা আয়তাকার হয়। কিন্তু এটা তা নয়। যদিও এটার দেয়ালের সংখ্যাও চারটি, কিন্তু বর্গাকার বা আয়তাকার নয়। ‘এটা কি সারা?’ অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম আমি, ‘আমি কোথায়?’ ‘তুমি একটা হাইবারকিউবের মধ্যে আছো,’ মৃদু কন্ঠে জবাব দিলো ও, ‘এখন তোমার কাজ হচ্ছে আমাকে খুঁজে বের করা।’ ‘মানে কি?’ ভ্রু কুঁচকে বললাম আমি, ‘হাইবারকিউবের মানে বোঝো তুমি? একটা হাইবারকিউবকে লক্ষ লক্ষ প্যাটার্নে সাজানো যায়। এটাকে কোন প্যাটার্নে সাজিয়েছো, জানা নেই আমার। এর মধ্যে কিভাবে খুঁজবো তোমাকে?’ ‘এটাই তো খেলা,’ রহস্যময় কন্ঠে জবাব দিলো ও, ‘দেখি তোমার মাথায় কতো বুদ্ধি। আর একইসাথে নতুন প্রোগ্রামটারও একটা টেষ্ট হয়ে যাবে।’ ‘এটা,’ কিছুটা খুশী হয়ে প্রশ্ন করলাম আমি, ‘এটা কি নতুন প্রোগ্রামটার সাহায্য সাজিয়েছো?’ ‘হ্যাঁ,’ মৃদু হাসির আভাষ ওর কন্ঠে, ‘এতে তোমার জন্য সহজই হবে মনে হচ্ছে।’ ‘ওকে,’ পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পেরে খুশী হলাম আমি। জগতটা আমার বানানো, তাই এটাকে যত প্যাটার্নেই সাজানো হোক না কেন, সেটা বের করে ফেলতে পারবো। কাজটা তেমন একটা কঠিন হবার কথা নয়। সারার বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয়। সত্যিই, দুর্দান্ত একটা টেষ্টের আয়োজন করেছে ও। ‘তোমাকে কিছু টিপস দিচ্ছি আমি,’ রিনরিনে গলায় বলে উঠে ও, ‘সেটা হলো, এটা একটা টেসেরেক্ট। ৪-কিউব আর কি, মানে ফোর ডায়মেনশনাল কিউব।’ দ্রুত চিন্তা করতে লাগলাম আমি। ৪-কিউব, মানে হচ্ছে ঘনক্ষেত্র^৩ বা ঘনক্ষেত্র*ঘনক্ষ েত্র*ঘনক্ষেত্র। খাইচে! ১৮৮৮ সালে চার্লস হাওয়ার্ড হিন্টন তার বই ‘এ নিউ ইরা অফ থট’ এ সর্বপ্রথম টেসেরেক্ট শব্দটা ব্যবহার করেছেন। এই বইতেই তিনি সর্বপ্রথম ৪-কিউবের ধারণার উদ্ভব ঘটান। ‘হাওয়ার নাতি,’ মনে মনে চার্লস হাওয়ার্ড হিন্টনকে গালি দিয়ে উঠি আমি। ফোর ডাইমেনশনাল ভার্চুয়াল ইউনিভার্স তৈরী করার সময় টেসেরেক্ট সম্পর্কে আমাকে অনেক পড়াশোনা করতে হয়েছে। তাই এ সম্পর্কে অনেককিছুই জানি আমি। একটা ৪- কিউবে সাধারনত আটটি কিউবিক্যাল সেল, ছয়টি চতুর্ভুজ, বত্রিশটি বাহু থাকে। অবশ্য ইচ্ছে করলে এই প্যাটার্নকে যেকোনসময় চেঞ্জ করা যায়। ছয়টির জায়গায় ষোল লাখ ঊনআশি হাজার ছয়শো ষোলটি চতুর্ভুজ বানানোর রেকর্ডও আছে। ‘সারা,’ দৃঢ়কন্ঠে বলে উঠলাম আমি, ‘আমি খেলাটা খেলবো না। বাদ দাও।’ ‘সরি,’ সুর করে বলতে লাগলো ও, ‘তুমি এখান থেকে এটা শেষ না করে বের হতে পারবে না।’ ‘মানে কি?’ এক অজানা আশংকা চেপে ধরলো আমাকে যেন। ‘মানে হচ্ছে এই,’ গম্ভীরগলায় বলে উঠলো ও, ‘তুমি এখানে আটকা পড়ে গেছো। এই জগত থেকে বের হতে হলে তোমাকে এই খেলাটা কমপ্লিট করতেই হবে। তা না হলে অনন্তকাল এখানেই কাটাতে হবে তোমাকে। বাস্তব জগতে আর যেতে পারবে না।’ ‘হোয়াট দ্য...,’ খেঁকিয়ে উঠতে চাইলাম আমি। ‘আমার কিছুই করার নেই শুভ,’ কন্ঠটা অনেকটা মোলায়েম শোনালো এখন, ‘এটা তোমার নিজেরই বানানো। এভাবেই তুমি তৈরী করেছো এটা। আমার কোন হাত নেই এতে।’ একেই বলে কপাল! নিজের বানানো চতুর্থ মাত্রার জগতে নিজেই ফেসে গেছি আমি। ‘ঠিক আছে,’ মনস্থির করলাম আমি, ‘খেলার রুলসগুলো বলো আমাকে। যা হবার হবে! ‘শোন,’ ধীরে ধীরে বলে চললো ও, ‘তোমার চারপাশে ছয়টা তল দেখতে পাচ্ছো তুমি, প্রত্যেকটা তলে এগারো ডিজিটের একটা করে নাম্বার দেয়া আছে, এবং সেই সাথে আছে একটা করে প্যানেল। তোমাকে বের করতে হবে এদের মধ্যে প্রাইম নাম্বার কোনটা। তারপর সেই নাম্বারের পাশের প্যানেলে তোমার হাতের ছাপ বসাতে হবে। তাহলেই মুক্তি পাবে এই রুম থেকে। যেতে পারবে পাশের রুমে। সেটা ডানে- বামে, সামনে- পেছনে, উপরে বা নিচে যে কোন রুমেই হতে পারে। পঞ্চম প্রাইম নাম্বার, মানে এগারোটা রুম পার হতে হবে তোমাকে।’ ‘ঠিক আছে,’ মুখে মৃদু হাসি দিয়ে বললাম আমি, ‘তাহলে আমাকে দ্রুত নেটের সাথে যুক্ত করো।’ ‘না,’ একটা হাসির শব্দ পাওয়া গেলো, ‘এটা তো সম্ভব হবে না। তোমাকে কাজগুলো করতে হবে নিজের মাথা খাঁটিয়ে। নেটের সাথে যুক্ত করা যাবে না তোমাকে। কিংবা কোন যন্ত্রের সাহায্যও নিতে পারবে না তুমি। শুধু কাগজ আর কলম ছাড়া। তোমার সুবিধের জন্য একটা কলম আর একটা ডায়েরী দেয়া হয়েছে।’ ‘মানে কি?’ অবাক হলাম আমি, ‘নেটের সাহায্য না পেলাম, একটা কম্পিউটার বা নিদেনপক্ষে একটা সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর তো লাগবে। না হলে এই কাজ করা প্রায় অসম্ভবের পর্যায়ে বলতে গেলে।’ ‘মোটেও অসম্ভব নয়,’ একই কন্ঠে বলে উঠলো ও, ‘অবশ্যই সম্ভব। মাথা খাটাও শুভ। মাথাটাকে ভালোভাবে খাটাও। তাহলেই পারবে।’ ‘কিভাবে?’ খেঁকিয়ে উঠলাম আমি এবার, ‘এগারো ডিজিটের একটা সংখ্যা থেকে সেটা প্রাইম নাম্বার নাকি সাধারন নাম্বার, এটা বের করা এতো সহজ নয়। সতেরোটা বেজে যাবে ব্রেইনের।’ ‘এটাই তো খেলা,’ চ্যালেঞ্জের সুরে বললো ও, ‘ট্রাই টু ফাইন্ড মি। মনে রেখো, মোট এগারোটা রুম পার হতে হবে তোমাকে। তারপর এই হাইপারকিউব থেকে ছাড়া পাবে, তার আগে নয়। এটাকে তুমি এই খেলার প্রথম লেভেল বলতে পারো। এটা পার হলে সিদ্ধান্ত নেবো যে খেলাটাকে আরো চালানো যাবে কি না।’ ‘সারা,’ চেঁচিয়ে উঠলাম আমি, ‘দিস ইজ ম্যাডনেস। ড্রপ ইট। সারা...’ আরো বেশ কয়েকবার ডাকলাম আমি ওর নাম ধরে। কিন্তু কোন সাড়া নেই সারার কাছ থেকে। মেজাজ পুরোটা খারাপ হয়ে গেছে আমার। ‘দুররর বাল,’ মেঝের উপর বসে পড়লাম আমি। ভাবছি আমি। কাজটা ঠিক হয়নি। সারাকে আমার ব্রেইনটা ব্যবহার করতে দেয়া ঠিক হয়নি। তাহলে ও আমাকে এভাবে ঝামেলায় ফেলে দিতে পারতো না। আমি এখন একটা অদ্ভুত চার দেয়ালের মাঝে বন্দী। ******* প্রথম সংখ্যাটা হচ্ছে 14785236903। মেঝের মধ্যে খুবই ছোট করে লেখা একটা নাম্বার। এটা প্রাইম নাম্বার কি না, সেটা খুঁজে বের করতে হবে আমাকে। প্রাইম নাম্বার হচ্ছে এমন একটা সংখ্যা, যাকে এক এবং ঐ সংখ্যা ছাড়া অন্য কোন সংখ্যা বা অংক দিয়ে ভাগ করা যায় না। যেমন, 2কে 1 এবং 2 ছাড়া আর কিছু দিয়ে ভাগ করা সম্ভব নয়। 3কে 1 এবং 3 ছাড়া আর কিছু দিয়ে ভাগ করা যায় না। একইভাবে 5, 7, 11, 13, 17, 19 এসব সংখ্যার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। শুনতে যতোটা সহজ মনে হয়, প্রাইম নাম্বার খুঁজে বের করা এতোটা সহজ নয়। তিন বা চার ডিজিটের হলে পরিশ্রম কম হয়, কিন্তু আমাকে এখন বের করতে হবে এগারো ডিজিটের প্রাইম নাম্বার। তাও একটা রুম থেকে ছয়টি এগারো ডিজিটের নাম্বারকে নিয়ে কাজ করতে হবে। মোট এগারোটা রুম, মানে ছেষট্টিটা নাম্বার নিয়ে কাজ করতে হবে আমাকে। সবই এগারো ডিজিটের। খাইচে! ঘন্টাখানেক হয়ে গেছে প্রায়। এর মধ্যে কয়েকবার সারার নাম ধরে ডেকেছি আমি, কিন্তু কোন সাড়া পাই নি। বুঝতে পেরেছি, খেলাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর কোন কথা বলবে না ও আমার সাথে। তাই বাধ্য হয়ে নিজের কাজে লেগে গেছি আমি। রুমের চারদিকে নজর বুলালাম আমি। দেয়ালগুলো পুরোপুরি কালো রঙের। কোত্থেকে যেন মৃদু আলো এসে কিছুটা আলোকিত করে তুলেছে একে। চার পাশের দেয়াল থেকে চারটা মইয়ের মতো ধাপ উঠে গেছে ছাদ পর্যন্ত। এছাড়া দেখার মতো আর কিছুই নেই এখানে। ‘একটা কাজ করা যায় তো,’ দ্রুত মাথার মধ্যে একটা আইডিয়া এলো আমার, ‘সবগুলো প্যানেলের মধ্যেই হাতের ছাপ দিয়ে চেক করি। ছয়টার মধ্যে একটা তো খুলবেই। তাহলে আর আমাকে কষ্ট করে প্রাইম নাম্বার খুঁজে বের করতে হবে না।’ বুদ্ধিটা খারাপ না। যেহেতু সঠিক প্যানেলে হাত দিলেই দরজা খুলবে, সেহেতু সবগুলো প্যানেলে হাত রাখলে শুধু সঠিক দরজাটাই খোলার কথা। বাকিগুলো তো খুলবে না। এভাবে খেলাটা শেষ করা তেমন কঠিন হবার কথা নয়। এক সেকেন্ড দেরি না করে দ্রুত উঠে দাঁড়ালাম আমি। মেঝেতে ডায়েরী আর কলমটা পড়ে রইলো। সরাসরি সামনে থাকা দেয়ালটার কাছে হেটে দিয়ে সেটার গায়ে থাকা নাম্বারের পাশের প্যানেলটা ডান হাতের তালু দিয়ে চেপে ধরলাম। আশ্চর্য! শান্তিপূর্ণভাবে দরজামতোন একটা কিছু খুলে গেলো। আমি পদার্পণ করলাম পাশের রুমটাতে। আবার সাথে সাথেই বন্ধ হয়ে গেলো দরজাটা। চমকে উঠে দ্রুত সেখানে হাত দিলাম আমি। কিন্তু কোন দরজা বা ফাটল জাতীয় কিছুই খুঁজে পেলাম না। নিরেট দেয়াল দেখা যাচ্ছে। কাহিনী কি? নতুন রুমটার দিকে নজর দিলাম আমি। এটাও চার দেয়ালের একটা রুম। হুবহু আগেরটার মতোই, শুধু আগেরটার উল্টো। দ্রুত ডানপাশের দেয়ালের দিকে এগিয়ে গেলাম আমি। তারপর চাপ দিলাম প্যানেলে। দেখা যাক কি হয়! একইভাবে এখানেও একটা দরজা সৃষ্টি হলো, এবং খুলে গেলো। ‘বাহ!’ মনে মনে খুশী হলাম আমি, ‘খেলাটা তো অনেক সহজ!’ খুশী মনে পরের রুমটাতে পা দিলাম আমি। এবং সাথে সাথেই আমার পেছনে বন্ধ হয়ে গেলো দরজা। ‘রুমটার দিকে নজর দেয়া যাক।’ এক পা এগুতেই হঠাত করেই কিছু একটা এসে আঘাত করলো আমাকে। ধাক্কা লেগে মেঝের মধ্যে ছিটকে পড়লাম আমি। কি হচ্ছে বোঝার আগেই আবারও আমার উপর নেমে এলো ভারী কিছু একটা। ধীরে ধীরে চোখের সামনে একটা অন্ধকারের পর্দা নেমে আসছে যেন। ‘গেইম ওভার,’ কানের খুব কাছ থেকে ভেসে এলো সারার কন্ঠ। (গল্পটি চার পর্বের


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মাত্রা (১ম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now