বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মায়ের পেটের অন্ধকার জঠর পেরিয়ে যে
মাটিতে প্রথম এসেছি, সেই মাটি আমার
ভালোবাসার। সেই মাটির সঙ্গে কত স্মৃতি! গভীর
ভালোবাসায় ও আমাকে হাঁটতে শিখিয়েছে। শিশু
থেকে কিশোরী হয়ে উঠেছি। হয়ে উঠেছি
মাটির আদুরে কন্যা। চারপাশে যা কিছু দেখি, সবই
ভালো লাগে। শরৎবেলায় কুয়াশাভেজা শিউলি,
হিজলের মালা, গাব ফুলের মালা। দূরে বেতঝাড়ে
কাঁটা খেয়ে বেথুন তুলি, পাখির বাসা খুঁজি—দিনমান মাছ
ধরে কাটাই দিঘিটায়। সঁাতার কাটি দিঘির এপার-ওপার। বর্ষায়
নৌকায় ঘুরে বেড়াই। পানসি নৌকায় নাইওর আনতে দূর
গ্রামে যাই। জামুর্কী হাট থেকে চিনিগজা কিনে
নিই। অনেক রাতে ফিরতে ফিরতে ঘুমিয়ে পড়ি।
দুলে দুলে ঘুম পাড়ায় নৌকা। আধো আধো ঘুমে
নৌকার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ কী যে মধুর লাগে!
আমাদের বাড়িটা অপূর্ব। বাড়ির সামনে বিশাল আমবাগান।
বৈশাখী ঝড়ে আম কুড়াই। বাড়ির পেছনে বিশাল
বাঁশবাগান। তার ওপারে বিরাট পুকুর। পুকুরে থইথই পানি।
ভরা মাছ। বাঁশবাগানে অসংখ্য পাখির কাকিল। বক, শালিক,
ডাহুক—নানান পাখির ডাকে মুখরিত বাগান। রাতে
থেকে থেকে পাখিদের ডেকে ওঠা।
ভোরে ডাহুকের একপাল বাচ্চা নিয়ে টক্ টক্
করে আমাদের আঙিনায় নির্ভয়ে খাবার কুড়ানো।
কী মধুর সেই দৃশ্য!
ঘরের আঙিনায় কামিনী, হাসনাহেনা, বেলি ফুল
ডালপালা ছড়িয়ে বিশাল এলাকা দখল করে রাখত। রাতে
ফুলের গন্ধে মাতাল হাওয়া, কুয়াশা লেপ্টে ঘুমিয়ে
যেত ফুলের ওপর আর চাঁদ জোছনা গলিয়ে
ওদের গায়ে ঢেলে দিত আলো।
মুঠোয় মুঠোয় ভালোবাসা আর আনন্দে ভরপুর
ছিল সেই সব দিন। কোথায় আমার ভালোবাসার
সেই দিনগুলো? এখন তো আর পাখির ডাকে
সন্ধ্যা নামে না। আমার ছেলেমেয়েরা বলে,
কী আছে ওই বাড়িতে? এখন তো নানিও নাই।
সত্যি! মা তো হারিয়ে গেল, তবু কেন মাটি এত
টানে? ধুলো পড়া স্মৃতির পাতা থেকে ধুলো
সরাতেই যে যাই। মাটির ডাক তো উপেক্ষা করতে
পারি না। আমার মা-ও যে ওই মাটিতেই ঘুমিয়ে
আছেন।
সেহেলী আহমেদ, ঢাকা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now