বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ম্যাথ টিচার--০১

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X তন্নিদের কলেজে নতুন ম্যাথ টিচার এসেছেন।ম্যাথ টিচারের নাম জয়। প্রিন্সিপাল স্যারের ভাতিজে। তন্নি ইন্টার দিত্বীয় বর্ষে পড়ে। জয়কে দেখে কলেজের প্রায় সারা কলেজেরই ছাত্র-ছাত্রী এমনকি শিক্ষিকারা সবাই হা হয়ে গেছে। আবার অনেকে হিংসা করা শুরু করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত অনেকের ব্রেকাপ ও হয়ে গেছে যেমন ধরুনঃ মেয়েটি তার বফকে বলছে, মেয়েটিঃ - দেখেছো আমাদের নতুন ম্যাথ টিচার কি সুন্দর। মেয়েটির বফঃ - রেগে গিয়ে বলল,তো যাও ওই জয় ব্যাটার সাথে গিয়ে প্রেম করো। মেয়েটাঃ - আরে তুমি এমন করে বলছো কেনো? আর স্যারকেই বা এমন করে সম্বোধন করছো কেনো? মেয়েটির বফঃ - কেনো স্যারকে এভাবে বলায় তোমার কষ্ট হচ্ছে বুঝি? মেয়েটিঃ - আরে কষ্ট হবে তো জীবনের প্রথম ক্রাশ খেলাম। আর তুমি কিনা আমার প্রথম ক্রাশ কে কি বাজে ভাবে সম্বোধন করছো? মেয়েটির বফঃ - ওও তাই। তাহলে যাও তোমার প্রথম ক্রাশ এর কাছে যাও এখানে আমার সাথে বসে আছো কেনো? তোমার এতোই শখ যদি হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে প্রেম করবে তাহলে আমার সাথে রিলেশন করলে কেনো? মেয়েটিও রেগে গেলো আর বলল, মেয়েটিঃ- হ্যা,যাবো তোমার মতো ক্ষ্যাতোর সাথে এখানে বসে থাকবো না। মেয়েটির বফঃ - আরে যা যা তর জয়ের কাছে যা। এই ক্ষ্যাতোর সাথে আর রিলেশন করতে হবে না। মেয়েটিঃ - হুম যাবোইতো। তবে এই রিলেশন শেষ করে যাবো। আজ থেকে ব্রেকাপ। মেয়েটির বফঃ - আরে যা ব্রেকাপ। তোর মতো থার্ডক্লাশ মাইয়ার সাথে প্রেম করে লাভ নেই। মেয়েটিঃ - আরে যা তুই তো একটা ক্ষ্যাত মার্কা ছেলে। এই সামিয়ার সাথে অনেকে প্রেম করার জন্য হাবুডুবু খাচ্ছে। অতঃপর ঝগড়া শেষ। আর রিলেশনের ও বারোটা বেজে গেলো। মানে ব্রেকাপ হয়ে গেলো। এখন তন্নির কিছু বর্ণনা দিইঃ - তন্নি অতিরিক্ত সুন্দরি। তবে বাচ্চা স্বভাবের। বড়লোক বাবার মেয়েতো বটেই। তবে অনেকটা পাগলি স্বভাবের। জয় এম,এ দিচ্ছে। চাচ্চুর অনুরোধে ম্যাথ টিচার হিসেবের নিয়োজিত হলো এই কলেজে। বড়লোক বাবার ছেলে হয়েও কলেজে পড়াতে হচ্ছে। শুধু তার চাচ্চুর জন্য। । তন্নিদের দিত্বীয় ক্লাস জয়ের। জয় ক্লাসে ডুকলো। ক্লাসের সবার দৃষ্টি তখন জয়ের দিকে। কেউ কেউ এক দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে। জয়ঃ - গুড মর্নিং অল। ছাত্র-ছাত্রীঃ - গুড মর্নিং স্যার। জয়ঃ - সবাই কেমন আছো? ছাত্র-ছাত্রীঃ - ভালো স্যার, আপনি? জয়ঃ - আমিও ভালো। যেহেতু আমি তোমাদের নতুন টিচার আর সত্যি বলতে আমি টিচার না আমিও ছাত্র পড়াশুনা করি। যাই হোক এখন পরিচয় পর্ব শুরু করা যাক। জয় তার পরিচয় দিলো। একে সবাই পরিচয় দিলো। তন্নিও পরিচয় দিলো। যেহেতু প্রথম দিন তাই কিছু পড়ানো দরকার জয় কয়েকটা অঙ্ক করে দিলো। জয় একে একে সবার খাতা চেক করলো লাষ্ট বেঞে যেতেই দেখলো একটা মেয়ে ছবি আঁকছে। মেয়েটি তন্নিই। জয়ঃ - এই মেয়ে তুমি ম্যাথ রেখে খাতায় এসব কি আঁকিবুঁকি করছো? জয়ের কথা শুনে তন্নি খাতা পিছনে লুকিয়ে নিলো দাড়িয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল, তন্নিঃ - কিছু না স্যার। জয়ঃ - কিছু না মানে তোমাকে খাতায় কি সব আঁকিবুঁকি করতে দেখলাম? কি লিখছিলে দেখি? তন্নিঃ - কিছু না স্যার। কিছুই আঁকিবুঁকি করছিলাম না। জয়ঃ - তাহলে খাতা দেখি। অঙ্ক কোথায় করেছো দেখি? তন্নিঃ - অঙ্ক করিনি স্যার। জয়ঃ - কেনো করনি? তোমার খাতাটা দেখি। তন্নি কিছু না বলে দাড়িয়ে আছে। জয় ধমক দিয়ে বলল, জয়ঃ - এই মেয়ে খাতা দেখাতে বলেছি না। খাতাটা সামনে আনো। তন্নি ধমক খেয়ে মুখ কান্না-কান্না ভাব করে খাতাটা জয়ের দিকে এগিয়ে দিলো। জয়ঃ - এটা কি এঁকেছ? তন্নিঃ - ছবি। জয়ঃ - বুঝলাম ছবি। কার ছবি এঁকেছ? তন্নিঃ -...................................চুপ করে রইলো। জয় রেগে গিয়ে বলল, জয়ঃ - কি হলো কথা বলছো না কেনো? তুমিতো ভারী বেয়াদব মেয়ে। তন্নিঃ - আপনার ছবি। ( কান্না কান্না কন্ঠে বলল)। তন্নির কথা শুনে সবাই তন্নি আর জয়ের দিকে থাকিয়ে আছে। জয়ঃ - পড়াশুনা রেখে দুষ্টুমি করা হচ্ছে? কান ধরো। তন্নি কেঁদে দিবো এমন ভাব করছে। জয়ঃ - কি হলো কান ধরতে বলেছি না? কান ধরো বলছি। (ধমক দিয়ে বলল)। তন্নি কান্না করে দিলো। তন্নিঃ - ভ্যাএএ ভ্যাএএ। জয়ঃ - আরে আরে কান্না করছো কেনো? আমি কি তোমাকে মেরেছি নাকি? তন্নিঃ -................................... তন্নি কথা না বলে জোরে জোরে কাঁদছে। ক্লাসের সবার কাছে এটা সাধারণ ব্যাপার তন্নিকে কেউ কিছু বললে বকা-ঝকা করলে তন্নি কেঁদে দেয়। জয়ঃ - আচ্ছা তোমার কান ধরতে হবে না বসো। তন্নি বসে পড়লো চোখ মুচতে লাগলো। সারা ক্লাস তন্নি একটা কথাও বলল না। মুখ ফুলিয়ে বসে থাকলো। জয় সেটা লক্ষ্য করেছে। আর তন্নি মনে মনে জয়ের গুষ্টি উদ্ধার করছে। কি খারাপ লোকটা। প্রথম দিনই আমাকে বকা দিলো। আমি কি করেছি। শুধু ওনার ছবিই এঁকেছিতো তাই জন্য আমাকে কতোগুলা বকা দিলো। এই ম্যাথ স্যার টা খুব খারাপ। উনি এতো সুন্দর তাইতো উনার ছবি আঁকছিলাম। জয়ের বাচ্চা জয়। তন্নি আবার ভাবে দূর কি বলি? উনার বাবার নাম তো জয় না যে জয়ের বাচ্ছা জয় বলব। স্যারকে জিগ্যেস করতে হবে স্যারের বাবার নাম কি? এই ব্যাটাকে কি জিজ্ঞেস করবো? পচা লোক একটা। জয় তন্নি চেহারা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছে। কি অপরুপ সুন্দর!! পাগলি মেয়ে একটা। তন্নির ছবি আকা খুব ভালো। ক্লাস শেষে জয় তন্নির কাছে গেলো, জয়ঃ - মন খারাপ করো না। তন্নি জয়ের কথা শুনে দাড়িয়ে গেলো। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে। জয়ঃ - সরি!! আসলে রেগে গিয়েছিলাম তাই তোমাকে।। তন্নি মুখ গোমড়া করে বলল, তন্নিঃ - আপনি খুব পচা। খারাপ লোক একটা। জয় হেসে দিয়ে বলল, জয়ঃ - কেনো? তন্নিঃ - আপনি আমাকে পচা পচা কথা বলেছেন। জয়ঃ - মানে!! তন্নিঃ - আপনি আমাকে বকা দিয়েছেন। জয় মুচকি হেসে বলল, জয়ঃ - আচ্ছা সরি, ক্লাসে আর দুষ্টুমি করো না। তখন আর বকা দিবো না কেমন? তন্নিঃ - পিচ্চি মেয়ের মতো বলল,আচ্ছা। আর মনে মনে বলল,যতোই ভালো কথা বলো তোমাকে আমি দেখে নিবো। জয়ঃ - আচ্ছা তোমার ঐ পেইন্টিং টা দিবে আমাকে? তন্নিঃ - কোন পেইন্টিং? জয়ঃ - আমার ছবি এঁকেছিলে যে। তন্নিঃ - আমতা আমতা করে বলল,ঐটাতো নষ্ট করে দিয়েছি। জয় অবাক হয়ে বলল, জয়ঃ - মানে। তন্নি মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল, তন্নিঃ - মানে,জোকার বানিয়ে দিয়েছি আপনাকে। জয়ঃ - দেখি ছবিটা। তন্নি খাতার ভেতর থেকে ছবিটা বের করে দিলো। জয় যা দেখলো। তার নাকের উপর একটা লাল বল,মুখের সব অংশে বিভিন্ন রঙ,চুলগুলো এলোমেলো আর মুড়ানো। জয় ছবিটা দেখে না হেসে পারলো না। জয়ের হাসি দেখে তন্নিও ফিক করে হেসে দিলো। জয় তন্নির হাসির দিকে থাকিয়ে আছে। বাচ্চামি হাসি। জয়ঃ - ছবিটাতো ভালোই হয়েছিলো তাহলে নষ্ট করে দিলে কেনো? তন্নিঃ - আপনি যে আমাকে কতোগুলা বকা দিলেন তাই। জয় হাসছে। জয়ঃ - দুষ্টুমি করলেতো বকা দিবই। আর দুষ্টুমি করবেনা আর আমিও বকা দিবো না। তন্নিঃ - বললেই হলো। আর আমি কি দুষ্টি নাকি। ( আস্তে আস্তে) জয়ঃ - কিছু বললে। তন্নিঃ - না স্যার। স্যার একটা কথা। জয়ঃ - কি? তন্নিঃ - আপনার বাবার নাম কি? জয়ঃ - কেনো? তন্নিঃ - বলুন না। জয়ঃ - আসিফ চৌধুরী। এখন বলো কেনো? তন্নিঃ - কিছু না স্যার আপনি যান। জয় আর কিছু বলল না। তন্নি মনে মনে বলল, আসিফের বাচ্চা জয়। হি হি। বলে নিজেই হেসে দিলো। ক্লাসের সবাই কেমন চোখে থাকাচ্ছে জয় আর তন্নির দিকে। অনেকে হিংসে চোখে থাকাচ্ছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৪০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ম্যাথ টিচার--০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now