বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাস্তানি ২

"ক্রাইম" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাকারিয়া আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X পুলিশ হেফাজতে আছি। গতকাল আদালত থেকে আমার ৭ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে। গতকাল থেকেই টর্চার শুরু করেছে। কিন্তু যার মনের মাঝে দাবানল জ্বলছে তারকাছে শারীরিক অত্যাচার কিছুই না। আমি জানি আমাকে এখান থেকে বের হতেই হবে যেকোন ভাবে। আমার বিরুদ্ধে কোন প্রমান এখনো পুলিশ জোগার করতে পারেনি, আর পারবেই বা কিভাবে যা করেছি সবাই জানে কিন্তু কেউ নিজের চোখে কিছুই দেখেনি। টর্চার এর এক পর্যায়ে নেহা এসে দাড়ালো কারাগারের সামনে। তখন আমার উপর টর্চার বন্ধ করে পুলিশ গুলো বাইরে চলে গেলো আর নেহা ভেতরে ঢুকলো। - মিঃ নিলয়, এখনো সময় আছে সবকিছু স্বীকার করে নিন। নাহলে আরো ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। আমি শুধু হাসছি। কারন আমি জানি নেহাকে একবার বিশ্বাস করে আজ এই কারাগারে এসেছি, আর ওর কথার প্রলোভনে পরলে সরাসরি ফাসির মঞ্চে উঠতে হবে। নেহা আমার হাসিতে বেশ বিব্রত বোধ করলো। ও বুঝতে পারছিলো না আমি কেনো হাসছি। - মিঃ নিলয়, আপনি যদি সবকিছু স্বীকার করে নেন তাহলে আমি আদালতে সুপারিশ করবো আপনার সাজা যেনো কম হয়, আমি চাইনা আপনার মতো একজন মেধাবি ছেলে ফাসির দড়ি গলায় পরুক। - সরি মিস নেহা। আমি কিছুই করিনি, তাই স্বীকার করারো কিছু নেই। (আমি জানি আমি এখানে যা বলবো তা সবকিছু রেকর্ড হবে তাই সব কিছু ভেবে চিন্তেই বলতে হবে। ) - কিছুই করেন নি? আপনার সৎ মাকে কে খুন করেছিলো? - সেটা আমি জানলে আজ আমার যায়গায় সেই লোক এখানে থাকতো। - দেখুন একদম চালাকি করবেন না। - মিস নেহা, আপনার সাথে আমার কোন শত্রুতা নেই, তাহলে আমার হাতে আপনি নিজেই পিস্তল দিয়ে আমাকে এভাবে গ্রেপ্তার করলেন কেনো? আমি তো এখানে এসেছিলাম পড়ালেখা করে মানুষ হওয়ার জন্য। কিন্তু আপনি আমাকে ফাসিয়ে দিলেন। - বুঝেছি মিঃ নিলয়। আপনি এভাবে কোন কিছু স্বীকার করবেন না, ভালবাসা, সম্পর্ক, মনুষত্ব নিয়ে আপনি যতই লেকচার দেন না কেনো আপনার মতো অমানুষেরা নিজেরা কখনো এসব কিছুর দাম দিতে পারে না। আমি শুধু হাসছি, এই হাসি বিদ্রুপের হাসি। আর মনে মনে ভাবছি ভাল হতে চেয়ে যেই ভুল আমি করেছি সেই ভুল আর আমি আরেকবার করতে চাই না। এই দুনিয়াটা ভালো মানুষের যায়গা না। নেহা চলে গেলো। ৭ দিন রিমান্ড শেষে আমাকে আবার আদালতে হাজির করলো। এর মাঝে আমার গ্যাং এর ছেলেদের কাছে খবর চলে গেছে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতে গিয়ে দেখলাম ওরা আমার জন্য ব্যারেস্টার ঠিক করেছে। আমাকে আদালতে হাজির করেছে নেহা। আমার পক্ষে ব্যারেস্টার দেখে নেহা আশ্চর্য হয়ে গেলো, ওর মুখের দিকে তাকিয়ে সেটা বুঝতে পেরে আবারো নেহার প্রতি বিদ্রুপের হাসি হাসলাম। আদালতের কাজ শুরু হলে পুলিশ আমার বিপক্ষে কোন রকম সাক্ষী পেশ করতে পারে নি। আমার পক্ষের ব্যারেস্টার তখন আদালতে আর্জি করলো আমাকে উদ্দেশ্যপ্রোনোদিত ভাবে ইন্সপেক্টর নেহা গ্রেপ্তার করেছে, এবং আমাকে যেই পিস্তল সহ গ্রেপ্তার করেছে সেটা ইন্সপেক্টর নেহাই আমার হাতে দিয়েছিলো সেটা প্রমান করলো। আদালত আমার জামিন মঞ্জুর করলো, কিন্তু পুলিশ এর পক্ষ থেকে আমার বিপক্ষে প্রমান যোগার করার জন্য সময় চাইলো, তাই আদালত আমাকে পরবর্তি তারিখে পুনরায় হাজিরা দিতে বললো। আদালত থেকে বের হয়ে আবারো হাজতে যেতে হবে, আদালত থেকে জামিনের কাগজ হাজতে পৌছালে তবেই আমি ছাড়া পাবো। তাই আদালত থেকে ফেরার সময় নেহার সাথেই ফিরছিলাম। আমি তখন নেহাকে বললাম। - মিস নেহা। এই দুনিয়ার নিয়ম কানুন আমি শিখতে চাইনি, আর কেউ আমাকে বলেও দেয়নি। এই দুনিয়া নিজেই আমাকে তার নিয়ম কানুন শিখিয়েছে। তুমি যেই আইনের ক্ষমতায় আমাকে গ্রেপ্তার করেছিলে সেই আইন তৈরী করে ক্ষমতাশালীরা। আর ক্ষমতাশালীরা এমন আইন কখনোই তৈরী করবে না যেই আইনে তারা নিজেরাই বিপদে পরে। এখানে আইন তৈরী করা হয় ক্ষমতাশালীর ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য। আর আমার মতো মানুষেরাই ওদের ক্ষমতা। তারমানে এখানে আইন তৈরীই হয় আমাদের রক্ষা করার জন্য। - মিঃ নিলয়। আপনি অনেক বুদ্ধিমান, বুদ্ধির জোরে এবার বেঁচে গেলেও সাজা আপনাকে পেতেই হবে। - সে না হয় পরে দেখা যাবে? তবে ধন্যবাদ তোমাকে, ভালো হতে চেয়ে যে ভুল আমি করতে যাচ্ছিলাম সেটা ধরিয়ে দেয়ার জন্য, কিন্তু আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার শাস্তি তোমাকে পেতে হবে। নেহা আর কোন কথা বলেনি। তারপর হাজত থেকে সেদিন সন্ধায় বের হই। তারপর কেনো যেনো প্রথমেই দেখা করতে চলে যাই সেই স্যারের কাছে। স্যার আমাকে দেখে একটু অবাক হয়। - নিলয় তুমি? (স্যার) - স্যার এই শহর ছেড়ে চলে যাবো তাই যাবার আগে একবার আপনার সাথে দেখা করতে আসলাম। - নিলয় জীবন সম্পর্কে তুমি অনেক বেশি জানো, হয়তো আমার চাইতেও অনেক বেশি। আমি তোমার ব্যাপারে সবকিছু শুনেছি। আমার বিশ্বাস তুমি ভূল কোনকিছু করবে না। আজ তোমাকে একটা কথা বলি। এই পৃথিবীতে এমন অনেক অন্যায় হয় যার বিচার আইন করতে পারে না, এদের বিচার করতে তোমার মতো নিলয়ের দরকার হয়। লোকে তোমাকে যতই মাস্তান বলুক আমার বিশ্বাস এই মাস্তানিই একদিন তোমাকে মানুষ এর চাইতেও অনেক উপরে নিয়ে যাবে তোমাকে। - ধন্যবাদ স্যার। তবে এখানে এসেছিলাম একজন ভালো মানুষ হয়ে বেচে থাকতে কিন্তু এরা আমাকে ভালো মানুষ হয়ে থাকতে দিলো না। আবার মাস্তানি শুরু করবো, কিন্তু যাবার আগে একটা কথা বলতে চাই স্যার। - বলো কি বলতে চাও। - স্যার আপনার ছাত্রদের পাঠ্যবই যাই পড়ান কিন্তু জীবন সম্পর্কে এইভাবেই বুঝাতে থাকবেন, তাহলে হয়তো আমার মতো আরেকজন নিলয় এর জন্ম হবে না। - নিলয় আমি হয়তো আমার ছাত্রদের বুঝাতে পারবো, কিন্তু তুমি চাইলে সারা দেশকে বুঝাতে পারবে। আর আমি চাই তুমি সেটা করো, লোকে তোমাকে মাস্তান বললেও আমার জীবনের সেরা ছাত্র হয়েই আজীবন থাকবে তুমি। আর হ্যা আরেকজন কে যেনো তোমার মতো নিলয় না হতে হয় সেই কাজ টা তুমি করবে এটাই তোমার কাছে আমার আশা। - স্যার আমি মাস্তান নিলয়। আবার ফিরে যাচ্ছি আমার আগের জীবনে জানিনা কি করবো। তবে চেষ্টা করবো আপনার কথা রাখার। কথা গুলো বলেই বিদায় নিলাম স্যারের কাছ থেকে। আজ থেকে আবার মাস্তান নিলয়ের জীবন শুরু, তবে এই নিলয় আগের থেকে ভয়ংকর। এবার এই দেশ দেখবে নিলয়ের মাস্তানি। চলবে.....................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মাস্তানি ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now