বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মার্ক টোয়েন

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)

X মার্ক টোয়েন প্রথম ঘটনাঃ মার্ক টোয়েন সকাল বেলা একটা শার্ট বের করে পরতে গিয়ে দেখেন একটা বোতাম নেই। নিজের মনেই গাল দিয়ে সেটি ছুঁড়ে ফেলে দ্বিতীয় একটা সার্ট বার করে পরলেন। দেখা গেল, সেটিরও একটি বোতাম নেই! বেশ একচোট গালিগালাজ দিয়ে তিনি তৃতীয় একটা সার্ট গায়ে চড়ালেন। হায়, সেটিতেও একটা বোতামের অভাব। এবার আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রাণভরে অকথ্য কুকথ্য ভাষায় গাল দিলেন কিছুক্ষণ। রাগটা কমলে যখন চতুর্থ সার্ট বার করছেন, তখন দেখলেন ওঁর স্ত্রী পিছনে দাঁড়িয়ে। স্বামীকে অপ্রস্তুত করার জন্যেই ওঁর রুচিশীলা স্ত্রী আস্তে আস্তে মার্ক টোয়েনের প্রত্যেকটি গালিগালাজ স্পষ্ট করে উচ্চারণ করলেন। মার্ক টোয়েন লজ্জিত ভাবে সেটা শুনে বললেন, তোমার শব্দগুলো সব ঠিকই আছে, কিন্তু ইমোশনটা মিসিং !! দ্বিতীয় ঘটনাঃ অনেক বছর আগের কথা। সে সময় আমেরিকান ট্রেনগুলো বেশ ধীরগতিতে চলত। লেট করত ঘণ্টার পর ঘা। সকাল ৮টার ট্রেন রাত ৮টায় আসবে কি না সে বিষয়ে সবাই থাকত সন্দিহান। এমনই এক সময়ে বিখ্যাত রম্যসাহিত্যিক মার্ক টোয়েন একবার কোথাও যাওয়ার জন্য ট্রেনে চেপে বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর কামরায় উঠল টিকিট চেকার। মার্ক টোয়েন গম্ভীর মুখে চেকারের দিকে একটা 'হাফ টিকিট' বাড়িয়ে দিলেন। বুড়ো মানুষের হাতে 'হাফ টিকিট' দেখে টিকিট চেকার অবাক! তাঁর প্রশ্ন, 'কী মশাই, আপনি হাফ টিকিট কেটেছেন কেন? গোঁফ-মাথার চুল সবই তো সাদা। আপনি কি জানেন না চৌদ্দ বছরের বেশি হলে তার বেলায় আর হাফ টিকিট চলে না?' মার্ক টোয়েনের সোজা জবাব, 'যখন ট্রেনে চড়েছিলাম, তখন তো বয়স চৌদ্দই ছিল। কে জানত, ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছতে এত লেট করবে!' তৃতীয় ঘটনাঃ মার্ক টোয়েনের ছেলেবেলার একটি কাহিনী। তখন স্কুলে ভর্তি হয়েছেন তিনি। স্কুলের নিয়ম ছিল কোনো ছাত্র যদি স্কুলের টেবিলে দাগটাগ দেয়, তাহলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। এক রকম শাস্তি সে বেছে নিতে পারে-সবার সামনে বেত খেতে হবে অথবা পাঁচ ডলার জরিমানা দিতে হবে। মার্ক টোয়েন একদিন টেবিলে দাগটাগ দিয়ে ফেললেন, ধরাও পড়লেন। মাস্টারমশাই বললেন, ‘কোন শাস্তি চাও? সবার সামনে বেত খাবে, না পাঁচ ডলার জরিমানা দেবে? কাল এসে বলবে।’ বাড়িতে এসে বাবাকে সব কথা খুলে বললেন মার্ক টোয়েন। বাবা হয়তো সবার সামনে বাচ্চা ছেলের বেত খাওয়াটা পছন্দ করলেন না। তিনি মার্ক টোয়েনের হাতে পাঁচ ডলার দিলেন। সে সময়ে পাঁচ ডলারের অনেক দাম, কিন্তু সবার সামনে বেত খাওয়া এমন কিছু সাংঘাতিক ব্যাপার নয়। সুতরাং, জীবনে মার্ক টোয়েন সেই প্রথম রোজগার করলেন-পাঁচ ডলার! চতুর্থ ঘটনাঃ একবার এক ছাত্র মার্ক টোয়েনের কাছে এসে বলল-আমি ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দিয়েছি। এখন সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের উপকার করতে চাই। মার্ক টোয়েন উত্তর দিলেন-তুমি ডাক্তারী পড়া ছেড়ে দিয়ে এমনিতেই মানবজাতির অনেক উপকার করেছ। আর উপকার না করলেও চলবে!পঞ্চম ঘটনাঃ মার্ক টোয়েন একবার উনার এক সাংবাদিক বন্ধুকে বললেন- "বছর দশেক লেখালেখি করার পর বুঝতে পারলাম,এ ব্যাপারে আমার কোনও প্রতিভা নেই।" "তাহলে এটা বুঝবার পরও তুমি কেন লেখালেখি চালিযে যাচ্ছ?"-বন্ধু জানতে চাইল। মার্ক টোয়েন উত্তর দিলেন-"কি করব, ততদিনে আমি রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে গেছি যে!" ষষ্ঠ ঘটনাঃ মার্ক টোয়েন তখন মিসৌরির এক খবরের কাগজের সম্পাদক। একদিন এক পাঠক ফোন করে বলল, ‘আপনার কাগজে একটি মাকড়সা ছিল। এটা খারাপ লক্ষণ নাকি ভালো লক্ষণ, বলবেন?’ মার্ক টোয়েন উত্তর দিলেন, ‘কুসংস্কার ঝেড়ে ফেলুন। বাস্তব দৃষ্টিতে দেখলেই বুঝবেন, আসলে মাকড়সাটা কাগজ পড়ছিল। দেখছিল কোন কোন কোম্পানি এই কাগজে বিজ্ঞাপন দেয়নি, যাতে সে নিশ্চিন্ত মনে তাদের গুদামে এবং অফিসে গিয়ে পরিপাটি করে জাল বিছাতে পারে!’ সপ্তম ঘটনাঃ এক ব্যাংকের কর্মকর্তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেলে তিনি একটি পাথরের চোখ লাগান। এবং চোখটি এত নিখুত ছিল কেউ ধরতে পারত না কোনটা নকল চোখ। মার্ক টোয়েন একবার ঐ ব্যাংকে টাকা উঠাতে গেলে ঐ কর্মকর্তা মজা করার জন্য মার্ক টোয়েনকে বলেন- আপনি যদি বলতে পারেন আমার কোন চোখটা নকল তবে আমি আপনাকে টাকা দেব। মার্ক টোয়েন কিছুক্ষণ লোকটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলেন-আপনার বাম চোখটা নকল। লোকটি বিস্মিত হয়ে জানতে চায়-কিভাবে বুঝলেন? মার্ক টোয়েন উত্তর দেন- কারণ আপনার বাম চোখের মাঝেই এখনও দয়া ও করুণার কিছু আভা দেখা যাচ্ছে! অষ্টম ঘটনাঃ সমাধীস্থলের চারদিকেল দেয়ালের জন্য মার্ক টোয়েনের কাছে চাঁদা চাইতে গেলে তিনি উত্তর দেন-সমাধীস্থলের চারদিকে দেয়াল দেয়ার কোন প্রয়োজন দেখি না। কারণ যারা ওখানে থাকে তাদের বাইরে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা নেই। আর যারা বাইরে থাকেন তাদের ওখানে যাবার কোন ইচ্ছে আছে বলে আমার মনে হয় না। (সংগৃহীত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মার্ক টোয়েন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now