বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
উজ্জ্বল বাদামী রংের কৃত্রিম চামড়া দিয়ে বানানো চমৎকার একটি মানিব্যাগ উপহার পেল ধ্রুব। তারপর তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু রবির বাসায় গিয়ে সে বললো, "রবি আমাকে একশো টাকা ধার দেবে, প্লিজ? বেতন পেলেই ফেরত দিয়ে দেবো। আসলে, আমি একটা মানিব্যাগ উপহার পেয়েছি। কিন্তু সেটা ফাকা থাকলে কেমন দেখায়!!" রবি সানন্দে টাকা ধার দিলো বন্ধুকে।
টাকা নিয়ে ধ্রুব গেলো তার প্রেমিকার সাথে দেখা করতে। প্রেমিকা তাকে দেখে খুবই খুশি হলো। কারন, তখন তার কোনো একটা কাজে টাকার খুবই প্রয়োজন ছিল। সে বললো, "ধ্রুব, আমাকে কিছু টাকা দিতে পারবে? মিনিমাম একশো টাকা হলেই হবে।" ধ্রুব তার সুদৃশ্য মানিব্যাগ বের করে সেখান থেকে টাকা নিয়ে প্রেমিকাকে দিলো এবং বললো, "তুমি একটু অপেক্ষা করো, আমি আসছি একটু পরেই।" আবার ছুট লাগালো রবির বাসায়।
সেখানে গিয়ে পুনরায় বললো, "রবি, আমার মানিব্যাগটা আবার ফাকা আরও একশো টাকা ধার দাওনা।" আর টাকা কিভাবে খরচ হয়েছে সে কথাও খুলে বললো। রবি দিয়ে দিলো। গিয়ে দেখে তার প্রেমিকা বসে আছে তার বান্ধবির সাথে। তার প্রেমিকা তাকে বললো, "প্লীজ, দোকানে গিয়ে একটা কেক বা অন্যকিছু কিনে নিয়ে এসো না! অনেকদিন পর ওর সাথে দেখা। খালি মুখে বসিয়ে রাখলে কেমন দেখায় বলো?"
ধ্রুব তৎক্ষণাৎ উত্তর দিলো, "যাবো, যদি টাকাটা তুমি দাও। আমার কাছে অবশ্য একশো টাকা আছে, তবে সেটা খরচ করে ফেললে আমার মানিব্যাগ গড়েরমাঠ হয়ে যাবে।" ভারি অবাক হয়ে তার প্রেমিকা বললো, "এ আবার কেমন কথা! আমার একটা ব্যাগ আছে সবুজ রংের সবুজ রংের কোনো ম্যাচিং ড্রেস আমার নেই বলে সেটা নিয়ে কোথাও বেরোতে পারিনা। কিন্তু মানিব্যাগ নিয়ে ঘুরতে হলে তো সেই সমস্যা নেই।"
ভয় পেয়ে গেল ধ্রুব। এখন আবার তাকে সবুজ ড্রেস কিনতে বাধ্য করবে না তো!! একথা ভেবে চটপট বেরিয়ে পড়লো ওখান থেকে। আবার টাকা চাইতে গেলো রবির কাছে। এবার সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও টাকা দিলো এবং দেওয়ার সময় বিড়বিড় করে কিসব যেন বললো। এরপর ধ্রুব কেক কিনে প্রেমিকার কাছে ফিরলো। কিন্তু এতো দেরি করে আসায় প্রেমিকার সেই বান্ধবি ততোক্ষণে চলে গেছে প্রেমিকার সেজন্য ভীষন মন খারাপ, অভিমান করে মুখ গোমড়া করে বসে আছে সে।
প্রেমিকার মান ভাংাতে অগত্যা ধ্রুবকে যেতে হলো ফুল কিনতে। যাওয়ার সময় রবির বাসায় আবারো ঢু দিলো সে। সরাসরি বললো, "রবি, আমার যে আরও একশো টাকার দরকার!। রাগে গজগজ করে রবি বললো, "বুঝলে ধ্রুব, তোমাকে দেখলেই এখন আমার মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে।" তবে সে ঠিকই ধ্রুবকে টাকাটা দিলো। ফুল কিনে প্রেমিকার কাছে গেল ধ্রুব। এতো সুন্দর ফুলগুলো দেখে প্রেমিকার মানও ভেংে গেছে।
বাসায় ফিরতে তার এতো রাত হলো যে, ট্যাক্সি নেয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিলনা। ট্যাক্সির ভাড়া মেটাতে সে আবারো গেল রবির বাসায়। রবি তখন বেঘোর ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখছিল যে, তার বাসার সামনে ধ্রুব তার বাসার সবাইকে নিয়ে লাইন বানিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর প্রত্যেকে তার কাছে একশো টাকা করে চাইছে! দরজার কলিংবেলের শব্দে তার ঘুম ভেংে গেল। দুঃস্বপ্নটা কেটে যাওয়ায় সে খুশি হলো। এটা যে সত্যিই ঘটেনি তাই ভেবে সে আনন্দে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে দরজা খুললো।
দরজা খুলে ধ্রুবকে দেখে তার মাথায় যেন বাজ পড়লো। অন্যদিকে ধ্রুব ব্যাকুল হয়ে বললো, "রবি আর একশো টাকা না দিলে যে একেবারেই চলছে না! এইবারের মতো দাও, প্লীজ। আমাকে ট্যাক্সির ভাড়া মেটাতে হবে। আমার কাছে অবশ্য আছে একশো টাকা।কিন্তু নতুন মানিব্যাগটা টাকাহীন নিয়ে ঘুরে বেড়াবো সেটা কেমন হয়, বলো? নতুন মানিব্যাগ ফাকা থাকলে ব্যাপারটা খুব লজ্জাজনক হয়ে যায়না?"
এদিকে অপেক্ষা করতে করতে অতিষ্ঠ হয়ে ট্যাক্সি ড্রাইভার সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে এলো। ড্রাইভারকে দেখে ধ্রুব মিনতিপূর্ণ স্বরে বললো, "প্লীজ, ওকে একশো টাকা দিয়ে দাও।" ওকেও দিতে হবে? প্রশ্ন করেই রবি জ্ঞান হারিয়ে ফেললো। আর ধ্রুব উপায়ন্তর না পেয়ে ব্যাগে থাকা সেই একশো টাকাটাই ড্রাইভারকে দিয়ে বিদায় করলো।
পরদিন রবি জিজ্ঞেস করলো ধ্রুবকে, "তুমি সত্যিই আমাকে তোমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু মনে করো?" প্রবল প্রত্যয়ের সাথে ধ্রুব জবাব দিলো, "অবশ্যই"। রবি এরপর বললো, "যদি তাই হয় তবে, তোমার মানিব্যাগটা আমাকে উপহার হিসেবে দিয়ে দাও।" অতঃপর গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রিয় মানিব্যাগটা রবিকে দিয়ে দিলো। তৎক্ষণাৎ, রবি ধ্রুবকে বলে উঠলো, "ধ্রুব আজকে অন্তত একশোটা টাকা ফেরত দাও প্লীজ! দেখছ না, নতুন মানিব্যাগটা একদমই ফাকা, নতুন মানিব্যাগ ফাকা থাকা খুবই লজ্জাজনক!!!"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now