বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মান-সম্মান

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (০ পয়েন্ট)

X গল্পটা বাস্তব। আমাদের কলেজ লাইফের কথা। কলেজে আমাদের ব্যাচটা ছিল বেস্ট বলা চলে। তাই স্যারদের প্রায় নজরে থাকতাম। আমাদের এ ব্যাচটাকে বিনামূল্যে কলেজ হোস্টেলে থাকার অনুমতি দিলেন স্বয়ং প্রিন্সিপাল স্যার। আমাদের কলেজে মসজিদ ছিল না। তাই কলেজে করিডোরে সবাই মিলে নামাজ পড়ছি। তাও জায়গা সংকুলান। আমাদের ব্যাচের জন্য হোস্টেলের যে রুমটা দেয়া হয়েছিল তার দৈর্ঘ্য ছিল ২৫ ফিট এবং প্রস্থ ছিল ১৫ ফিট। তাই ১২ ফিটের ৫ টি নামাজ পড়ার পাটের চট কিনে আনলাম। আর তখন থেকে হোস্টেলে নামাজ পড়তাম। একজনকে ইমাম বানানো হলো আর আমি হলাম মুয়াজ্জিন। শুধু ফজরের নামাজ ও জুম্আ নামাজ দূরের মসজিদে গিয়ে পড়তাম। এভাবেই আমাদের কলেজ লাইফ কেটে যেতে লাগল। অতি অল্প সময়ে সবার চোখের মনি হয়ে উঠল সবাই। প্রথম বছর চলে গেল। বড় ভাইয়েরা পাস করে হোস্টেল ত্যাগ করল। এদিকে হোস্টেলের একটি রুম খালি ছিল। অনেক মজাও হয়ে কলেজ জীবনে। একটা মজার কথা শেয়ার করছি এখন। আমাদের ইমাম মানে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কে পছন্দ করল ঐ এলাকার একটি বাচ্চা মেয়ে। পড়ে ক্লাস সেভেনে। কি একটা ডেঞ্জারাস মেয়ে রে বাবা! অনেক কিছু করে ফেলেছে। লাভ লেটার থেকে শুরু করে গায়ে ঢিল পর্যন্তও। তবে আমার বন্ধু এতে মাথা ঘামাইনি। তবে মেয়েটা জিদের কারণে হাত কেটে রক্ত দিয়ে চিঠি লিখল। তাছাড়া আপেল, কমলা, আঙ্গুর, বিভিন্ন প্রকার ফল দিয়ে ছুড়ত। আর বলত এসব আমাদের জন্য। আমার বন্ধুর সন্দেহ হলো। বলল- ওকে ফলের ভেতর কোন কিছু দিল নাকি যাতে ওর প্রতি পাগল হয়ে যাই। আমি বললাম দূর ছাই। তুই খাইস না। আমরা খাই। কোন সমস্যা হবে না। এই সুবাদে বিনামূল্যে অনেক ফল খেয়েছি। হঠাৎ শুনলাম আমার বন্ধুর জন্য ও হাত কেটেছে। ওই মেয়ের সাথে আমি ও আমার বন্ধু দেখা করি। তবে ও মনে করছিল এ সম্ভব হবে। আমরা ওকে অনেক বুঝালাম। এটাও বললাম এটা মোহ। তুমি পাগলামি করো না। তুমি ১০ বছর অপেক্ষা করো আমি আমার বন্ধুকে রাজি করাব। আমরা আমাদের জীবনকে নিয়ে ভাবছি। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমাদের অনেক চাওয়া। এটা পূরন করি। তারপর দেখা যাবে। মনে হয় কথাটা বুঝল। তারপর কত কাহিনী, কত কিছু। তবে একটি ঘটনার উপর আমাদের মান - সম্মান ঝুলে ছিল। আমাদের কলেজের টেস্ট পরীক্ষা পর। আমাদের ব্যাচের বাইরে একজন বন্ধু একটি মেয়েকে হোস্টেল তুলল। ঘটনাটা বহুদূর গড়াল। সমস্ত দূর্নাম পড়ল আমাদের ব্যাচের উপর। আমরা নাকি এ উপভোগ করার জন্য এ কাজটি করেছি। সবাই ভেঙে পড়লাম। কারণ আমরা যে পরিবার থেকে এসেছি, আমাদের কারণে তারা খুবই কষ্ট পাবে। ইশার নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে আমাদের মান - সম্মান ভিক্ষা চাইলাম। কাঁদতে কাঁদতে সবার চোখ লাল। এমন সময় নাইট গার্ড এল আর বলল- আমি জানি তোরা ভাল ছাত্র। কিন্তু সমাজ তা এখন মেনে নিবে না। তবে আমি সব ব্যবস্থা করব। যে ওই মেয়েটিকে এখানে এনেছে ওর সাথে ওর বিয়ে দিয়ে দিব। তবে আমারে একটা কাজ করে দিতে হবে। আমরা সবাই রাজী হলাম। কাজী আসল। মেয়ে চাচা আবার এডভোকেট। আমরা সাক্ষীর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। মেয়ের চাচা বলল - দোষ করবে একজন। আর এর দায় নিবে ১২ জন। এটা হবে না। কারণ যদি মেয়ের কিছু হয় তবে এদের উপর প্রভাব পড়বে। কোন কারণেও লেখাপড়া বন্ধ হতে পারে। তাই বলছি একজন ছাত্রও সাক্ষী হবে না। আমরা বেচে গেলেম। নাইট গার্ড বলল। আমার ওছিলায় আল্লাহ তোমাদের বাঁচিয়েছে। আমাকে সাহায্য করো। কি সাহায্য? ধান কাটতে হবে আর মাড়াই করতে হবে আমার বাড়িতে। আমরা না করলাম। কারণ আমরা এসব করতে পারি না। নাইট গার্ড বলল তোমরা তো কথা দিয়েছিলে। তারপর যা হবার তাই হলো!!!! এরপর কলেজ পাস করে বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে এলাম। এখন ভাবি আল্লাহ আমাদের মান-সম্মান বাঁচিয়েছেন। এখন তা স্মৃতি হিসেবে বারবার মনে পড়ে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মান-সম্মান

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now