বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড"*বাংলাদেশী ভার্সন(ফার্মগেটের ফার্মে)

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mehedi Hasan Prova (০ পয়েন্ট)

X আমি মুরগির গ্রিল.......এ্যাঁ সরি। এহম....... আমি বেয়ার গ্রিলস। আমি আপনাদের দেখাব কীভাবে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে হয়। আজকে আমি আর আমার ক্যামেরাম্যান এসেছি বাংলাদেশের ফার্মগেট নামের একটা জায়গায়। আমি সারা পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গাগুলোতে অ্যাডভেঞ্চার করতে গিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশে কখনো কোনো অভিযানে আসিনি। কারণ আমাকে পৃথিবীর সব বিখ্যাত অভিযাত্রীরা বলেছেন, "শোন পোড়া মুরগি, মানে বেয়ার গ্রিলস। তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক জায়গায় অ্যাডভেঞ্চার করতে যাও, কোন সমস্যা নেই। কিন্তু জীবনে কখনো বাংলাদেশের কোনো জায়গায় অ্যাডভেঞ্চার করতে যাবে না। বাংলাদেশ শুধুমাত্র বাংলাদেশীরাই জয় করতে পারে।" কিন্তু আমি বাংলাদেশ জয় করার প্রত্যয় নিয়ে এসেছি। তাই বাংলাদেশ জয় না করে আমি বাড়ি ফিরব না। আমার বউকেও আমি এটা বলে এসেছি। বউ বলেছে তাড়াতাড়ি বাংলাদেশ জয় করতে। তা নাহলে বউ তার বাপের বাড়ি চলে যাবে। যদিও এর আগে গুলিস্তান জয় করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি। তবে গুলিস্তানই সব না। কারণ কবি বলেছেন, "একবার না পারিলে দেখ শতবার।" -শতবার দেখতে দেখতে তো তুই বুড়া হইয়া যাবি। --এই ক্যামেরাম্যান, তুমি চুপ থাকো। তো শুরু করছি আজকের অভিযান। ************************************************** আপনারা দেখতে পারছেন যে আমি এখন ফার্মগেটে আছি। জায়গাটা হলো ফার্মগেট মোড়। বাংলাদেশে যেদিন ল্যান্ড করেছিলাম সেদিনই আমি এখানে আসি। ঐদিন আমার কিডনি বিক্রি করে কেনা একমাত্র আইফোন ইলেভেন চুরি হয়ে গিয়েছিল। এটা শুনে আব্বা অনেক রাগ করেছিল। তবে ঐটা পরে গুলিস্তান থেকে পাঁচশো টাকা দিয়ে আবার কিনেছিলাম। -ওই, তোর বাপের না একটা কিডনির দোকান আছে? --তাতে কী হইছে? আইফোন টেন কেনার সময়ও একটা কিডনি বিক্রি করছি। তখন আব্বা লাগায়া দিছিলো। কিন্তু ইলেভেন কেনার পর আব্বা কইছিল আমার জন্য নাকি আব্বার কিডনিতে হার্ট অ্যাটাক হবে। কিডনির ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে। এইজন্য আর কিডনি লাগায়া দেয় নাই। এই দুঃখ কোথায় রাখি! -দোস্ত! বলতেছি তোর তো আরেকটা কিডনি আছেই। আমাকেও একটা আইফোন ইলেভেন কিনে দে না! প্লিইইইজ! --এই ক্যামেরাম্যান তুমি চুপচাপ ভিডিও করো। ************** ফার্মগেটে নেমেই আমি প্রথমে খাবারের ব্যবস্থা করতে শুরু করে দিলাম। কারণ গুলিস্তানে যে খাবার খেয়েছিলাম সেটার জন্য আমরা দুইদিন বাথরুমে ছিলাম। পরে ফুটপাথের একজন ল্যাংটা বাবার কাছ থেকে বিশ টাকা দিয়ে একটা আংটি কিনে সুস্থ হইছি। আংটির সাথে ল্যাংটা ড্যাডি আমাদেরকে স্পেশাল পাউডারও খাইয়েছিল। এরপর থেকেই আমাদের আমাদের পেট একদম শক্ত-পোক্ত হয়ে গিয়েছে। যাইহোক খাবারের জন্য প্রথমেই একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম। যেটার নাম ছিল "মায়ের দোয়া ফাইভ স্টার হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট।" হোটেলে ঢোকার পরপরই........ -স্যার কি খাইবেন? একবার কন। সব খাওয়ায়া দিমু!(হোটেলের বেয়ারা) --মেনু কি? -মোরগ পোলাও-বিরিয়ানি-ইলিশ খিচুড়ি-ডিম খিচুড়ি-সাদা ভাত-ডাইল-ইলিশ মাছ-রুই মাছ-মুরগির মাংস-গরুর মাংস-খাসির মাংস-হাঁসের মাংস-ডিম ভাজি-মাংস ভাজি-তেহারী-নেহারী-শিক কাবাব-বডি কাবাব-মুরগির গ্রিল-চিকেন কাটলেট-চিকেন ঝাল ফ্রাই-কচু ভর্তা-শিং মাছ ভর্তা-শুটকি ভর্তা-মগজের ঝো...... --আচ্ছা থামো। তুমি তাহলে আমাকে নিয়ে.... ও সরি মুরগির গ্রিল নিয়ে আস। -মুরগির গ্রিলতো এহন পাইবেন না। সকাল বেলা তো এগুলা থাকে না। --তাহলে এতক্ষণ ধরে যে মেনু বলছিলা তার কিছুই এখন পাওয়া যাবে না? -না! --এই মেনু বললা কেন তাহলে? -আপনে তো মেনু জিগাইছেন। সকালে কি খাওয়া যাইবো হেইডা তো জিগান নাই! --আচ্ছা সকালে কি খাওয়া যাবে? -পরোটা-ভাজি-মুগডাইল-সবজি-ডিম-চা-কফি-রুটি-শিংগাড়া-সমুচা! এগুলা সকালের নাস্তা..... কি দিমু খালি একবার কন। --ওহ যাক! পরোটা, মুগডাল আর সবজি দাও...... -সবজি আর মুগডাইল তো আলাদা দিতে পারবো না! --কেন? দিলে কি হবে? -মানে সবজিটাই ডাইল আর মুগডাইলটাই সবজি! --কী বলতেছ তুমি? ডাল কীভাবে সবজি হয়! -আসলে ডাইলের মধ্যে সবজি আর সবজির মধ্যে ডাইল। --তুমি বুঝাইতেছ যে দুইটা মিক্সড করা? -হ্যাঁ হ্যাঁ। এতক্ষণে বুঝছেন! --ওরে মিচকে শয়***! ওটাই নিয়ে আয়...... ****************** আমরা শেষ পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া করতে পারলাম। এখন বুঝতে পারছি যে কেন এই দেশ সবচেয়ে অভিজ্ঞ লোকটাও জয় করতে পারে নাই। তবে আমি হার মানবো না। এখন আমি পানির ব্যবস্থা করবো। এইযে রাস্তার পাশে ড্রেনে অনেক পানি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আমি এটা খাব না। কারণ এদেশের ড্রেনে অনেক বিশ্রী জিনিস ভাসতে থাকে। সব ময়লা এদেশের মানুষ ড্রেনেই ফেলে দেয়! তাই আমি পানি কিনে খাব। -মামা এই পানি পরিষ্কার তো? --হ মামা। এক্কেরে মিনারেল পানি! দোকান থেকে হাফ লিটারের এক বোতল পানি কিনে নিলাম। আমি অল্প একটু খেলেও ক্যামেরাম্যান পুরাটা শেষ করে ফেলেছে। -চুপ থাক মুরগি। নিজের চরকায় তেল দে! --বলদ! আমার কোনো চরকা নাই। পানি শেষ করে বোতলটা ফেলে দিলাম। কয়েকটা টোকাই সাথে সাথে ওটা নিয়ে নিল। এটা দিয়ে ওরা কি করবে কিছুই বুঝলাম না। ***************** বাংলাদেশ জয় করতে হলে আগে লোকাল বাস জয় করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশ জয় করা কোনোভাবেই সম্ভব না। তাই আমরা ফার্মগেট মোড়েই বাসের জন্য অপেক্ষা করতে শুরু করলাম। আর গুলিস্তানের মতো দুই ঘন্টা অপেক্ষা করারও প্রস্তুতি নিলাম। কিন্তু.......... -এই ক্যামেরাম্যান, দেখ একটা বাস দেখা যাচ্ছে!(আমি) --তুই ভুল দেখছস। মনে হয় কোনো এক ব্যাডায় বাঁশ নিয়া যাইতেছে! ঐটারে তুই বাস ভাইবা ভুল করছোস।(ক্যামেরাম্যান) -না সত্যি বলছি। সামনে দেখ তুমি। --এ্যাঁ, আরে...... আরে মুরগি! তুই দেখি সত্যি কথাই বলতেছিস। মাত্র পাঁচ মিনিটেই একটা বাস চইলা আসলো। কেমনে সম্ভব! ---আরে ভাই! তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি! আর এতক্ষণে বাস আসছে!!(পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা লোক) এরপর....... -এই চিড়িয়াখানা, দশ নাম্বার, শ্যাওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, তেজকুনিপাড়া, শ্যামলী, আনসার ক্যাম্প, ক্যান্টনমেন্ট........(হেলপার মামা) -আমি আগে উঠমু। --এইযে ধাক্কা দিচ্ছেন কেন? ---আরে মিয়া! আমি আগে বাস দেখছি তাই আমি আগে উঠব। -ওই তুই একটা **** --...... ******************* বাসে অনেক কষ্টের পর উঠলাম। আর জীবনে প্রথমবার বাংলাদেশের বাসে খালি সিট পেয়ে আমি আর আমার ক্যামেরাম্যান বসে পড়লাম। ইয়াহু! -চুপ থাক মুরগি! বাংলাদেশের বাস হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কমেডি শো। এখানে পৃথিবীর সকল কমেডিয়ানরা তাদের কলাকার দেখায়। এই যেমন..... -আপনার হাতে ব্যথা, পায়ে ব্যথা, মাজায় ব্যথা, গজায় ব্যথা সব ব্যথা দূর করবে এই ঝান্ডু বাম। দোকানে ত্রিশ টাকা আর আমার কাছে বিশ টাকা।(হকার ভাই) --এইযে আমার কাছে পাচ্ছেন যষ্টি মধু। এটা খেলে কফ, সর্দি, কাশি সব ভালো হয়ে যাবে। মাত্র পাঁচ টাকা। ---আপনি কি কম আমল করে জান্নাতে যেতে চান? অল্প সময়ে ধনী হতে চান? শত্রুকে বশ করতে চান? আধ্যাত্মিক উন্নতি চান? তাহলে এই "এক হাজার দোয়ার ভান্ডার" বইটি কিনুন। সবার জন্য মাত্র দশ টাকা। মুখ টিপে হাসছিলাম। তখনই...... -ভাই ভাড়া দেন।(হেলপার মামা) --শ্যামলী ভাড়া কত?(একজন যাত্রী) -পঁচিশ টাকা ভাই। --বিশ টাকা না ভাড়া? -না ভাই। কি কন এইসব? --এই মিয়া নতুন আসছোস নাকি? আমার থেকে বেশি জানস? আমি রেগুলার এই এলাকা দিয়ে যাই। শুরু হলো ঝগড়া। যাত্রীরা দুই দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে। এক দল লোকটার পক্ষে। আরেক দল হেলপারের পক্ষে। তবে বেশিরভাগ যাত্রীই লোকটার পক্ষে। তবে প্রচন্ড জ্যামের কারণে মাত্র খামারবাড়ি পর্যন্ত এসেছি। তাই আমরা নেমে পড়লাম। বাস জয় না করেই। আমরা এবার থাকার ব্যবস্থা করতে শুরু করলাম। তবে তার আগে আমরা পাঁচ টাকার ঝালমুড়ি আর দশ টাকার লেবুর শরবত খেলাম। দুপুরের খাবারের জন্য আগের ঐ "মায়ের দোয়া ফাইভ স্টার হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট" এ গেলাম। আর পেট ভরে গলা পর্যন্ত কবজি ডুবিয়ে চামচ ছাড়া হাত দিয়ে সব রকমের খাবার অল্প অল্প করে খেলাম। বাংলাদেশের এইসব মজাদার খাবারের জন্যই দেশটা এতো ভালো লাগে আমার। কতদিন আর পোকা-মাকড় খেতে ভালো লাগে! ************* আমরা থাকার ব্যবস্থা করলাম ফুটপাথের এক পাশে। পলিথিন টাঙিয়ে। আরাম করে যেই মুহূর্তে শুয়েছি, ঠিক তখনই.......... -ওই কেরে তুই? নতুন আইছোস মনে হয়?(একটা লোক) --জ্বী ভাই। আমি পোড়া মুরগি মানে বেয়ার গ্রিলস। ইংল্যান্ড থেকে এসেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা জয় করার জন্য। অ্যাডভেঞ্চারে আসছি।(আমি) -তুই পোড়া মুরগি হ আর কাঁচা মুরগি হ এইটা আমার দেখার বিষয় না। আইছোস ভালো কথা। এখানে থাকার জায়গা বানাইছোস কেন্? --না মানে ভাই, অ্যাডভেঞ্চারে তো এইরকম জায়গাতেই থাকতে হয়। -আচ্ছা থাকবি তো থাক না। সমস্যা নাই। এখন পকেট থেকে কিছু বাইর কর্। --কি বের করবো ভাই? -বুঝস নাই! টাকার কথা কইতেছি। বাইর কর। --কিন্তু কেন? -কি কইলি? দিবিনা? ওই এরে তোরা বাইড়াইয়া একদম হাড্ডি গুড়া কইরা দে। কত্ত বড় সাহস! আমার এলাকার ফুটপাতে থাইকা আমারে চান্দা দিবো না। ধর শা***রে। হাসপাতালে পাঠা........ ****************** আমরা এখন হাসপাতালে ভর্তি। ঐ লোকগুলো খুব ভালো মানুষ! এজন্যই আজ বেঁচে আছি।মরে গেলে আমার বউটা কাকে তেলাপোকা খেতে দিত! তবে বাংলাদেশ জয় করা মনে হয় সম্ভব না। তাই অভিযান সমাপ্ত। *********সমাপ্ত হয়েছে। কারণ বাংলাদেশ জয় করা সম্ভব না।********** **************************************************** বিশেষ দ্রষ্টব্য: Inspired By: Bangla Talkies.(YouTube Channel) হয়তো একটু বেশিই বড় হয়ে গিয়েছে। তবে কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। অসংখ্য ধন্যবাদ। দেরি করার জন্য দুঃখিত। আমি আসলে খুবই অলস। এই গল্পটা যখন লিখছি তখনই মাথায় আরও বিশ-পঁচিশটার মতো গল্প গিঁজগিঁজ করছে। কিন্তু একটাও লিখিত রূপ পাচ্ছে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড"*বাংলাদেশী ভার্সন(ফার্মগেটের ফার্মে)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now