বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাইশা দেখতে সুন্দরী, শুধু সুন্দরী না অসম্ভব সুন্দরী। অথচ এখন পর্যন্ত তাকে কোনো ছেলেই প্রপোজ করে নি।
করবেই বা কি করে ?
তারা তো ভালোভাবে মাইশাকে দেখেই নি!! ছোটোবেলা থেকেই তাকে পর্দা করা শেখানো হয়ছে, পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকেই ঢিলেঢালা বোরকা ছাড়া বাইরে বের হয় না। তাই অসম্ভব সুন্দরী হয়েও পাড়ার মহল্লার ছেলেদের আলোচনার হট টপিকে সে নেই...
কলেজ ড্রেসের সাথে মিল রেখে হালকা নীল রঙের বোরকা পরে কলেজে যায় মাইশা। সাথে যায় তার আরো দুই বান্ধবী। ইদানিং সে লক্ষ্য করেছে কলেজে যাওয়ার পথে প্রায় প্রতিদিনই পাড়ার মোড়ে ছেলেগুলো দাড়িয়ে থাকে। তাদের চোখে অদ্ভুত দৃষ্টি দেখতে পায় সে। ছেলেগুলো তাদের দিকে একনজরে তাকিয়ে থাকে। একটু বিব্রত হয়ে নিজেই চোখ ঘুরিয়ে নেয় সে...
এস.এস.সি পরীক্ষার পর লম্বা ছুটিতে ফেসবুকে একটা একাউন্ট খুলেছিলো মাইশা রহমান। কলেজে উঠে নীল সাদার জগতে বেশ নিয়মিতই আসতে লাগলো মাইশা। প্রথম প্রথম খুব বেশি সে বোঝে না। ম্যাসেজ আসলে রিপ্লাই দেয়, ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসলে একসেপ্ট করে আর প্রতিদিন সকাল আর রাতে গুড মর্নিং বা শুভ রাত্রি টাইপ স্ট্যাটাস দেয়...
নতুন মোবাইল কিনে দিয়েছে মাইশার বাবা। এস.এস.সিতে জিপিএ ৫ পাওয়ার গিফট এটি। এখন প্রায় সারক্ষণই সাদা নীলের রাজ্যে মাইশা ঘুরে বেড়ায়। প্রায়ই সেজেগুজে সেলফিগুলো পাবলিক করেই আপলোড করে বসে। পাবলিক প্রাইভেসিতেই হুটহাট লিখে বসে "What's on your mind" বক্সে নিজের একাকীত্বের অনুভূতিগুলো। লাইক কমেন্টের অভাব হয় না কোনেটিরই। ঘন্টায় ঘন্টায় প্রপোজ দিয়ে ম্যাসেজ আসছে ইনবক্সে, প্রায় সবগুলোতেই একটা হাসির ইমো দিয়ে ব্লক করে দেয়। তার বাসার অন্য কেউ অবশ্য এসবের কিছুই জানে না। মোবাইল টিপার রহস্য জানতে চাইলে আছে, কিছু না, তোমরা বুঝবে না, টাইপ কথাবার্তায় কৌশলে এড়িয়ে যায়...
.
-এই মেয়ে দাড়াও তো..
-জ্বি আমাকে বলছেন ?
-না না !! তোমার ঐ বান্ধবীকে..
-এই তোকে বলছে..
-ক.. কি আমি ?
-হ্যাঁ তুমি মাইশা না ?
-আমাকে কিভাবে...
-আমি আবিদ। ফেসবুকে আবিদ খান, সেদিন তোমাকে ফেসবুকেও বলেছিলাম আর তুমি ব্লক করে দিলে ! আচ্ছা থাক সেকথা তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে। আই লাভ ইয়্যু মাইশা...
-দেখুন এসবে আমি নেই
-প্লিজ মাইশা ভেবে দেখো
-যেতে দিন.. পথ ছাড়ুন বলছি
-দেখো মেয়ে এক সপ্তাহ সময় দিলাম তারপর যদি না রাজী হও তবে কিন্তু...
....সপ্তাহখানেক পর
-এই সুন্দরী
-দেখুন আমার কলেজের দেরি...
-এএএহ কলেজ ! আগে আমার প্রপোজের জবাব দাও..
-দেখুন ভাই আগেই বলেছি এসবে আমি নেই। আমি প্রেম করি নি, করছি না আর করবোও না..
-তারমানে আমার সাথে প্রেম করবা না ?
-না
-শালী দেমাগ দেখাও ! চেহারার দেমাগ দেখাও ! তোমার টুট টুট
-...ঠাস্
-কাজটা ভালো করলি না রে। জানোস না আমি কে! টুট টুট খাড়া ব্যবস্থা করতেছি...
মাসদুয়েক পর...
ঘরের বড় আয়নাটা ইচ্ছে করেই ভেঙে ফেলেছে মাইশা। তার ড্রেসিং টেবিলে নেই কোনো পারফিউম বা ক্রীম বরং ওয়ারড্রোবে নেকাবওয়ালা বোরকার সংখ্যাটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। সারাক্ষণ জানালাটা বন্ধ করে একটা অন্ধকার পরিবেশ করে রাখে মাইশা। ফেসবুক আইডিটা অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছে। লেখাপড়াটা চালিয়ে যাওয়াও এখন তার কাছে একটা বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে।
কলেজ ব্যাগ থেকে ছোট্ট আয়নাটা বের করে নিজের মুখটা একবার দেখেই ডুকরে কেঁদে উঠলো মাইশা।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে বয়ে বেড়াতে হবে অসহ্য এসিডের দগদগে চিহ্নগুলো....
Be private Be safe...
লিখাঃ বিশ্বাসঘাতক
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now