বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাধবিনী

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Jewel (০ পয়েন্ট)

X মাধবিনী ছাদে কাপড় নেড়ে দিচ্ছিল এমন সময় নিলা এসে বলল- -পিসিমা তোমায় ডাকছে? -কে? -তা আমি চিনিনা গো, এ বাসাতেও আগে দেখিনি। -আমাকে দরকার? ভালো করে শুনেছিস তো? -হুম, বলছিল মাধবিনী মুখার্জি আছেন কিনা, আমি নিজেই শুনেছি। -তার নাম ঠিকানা বলেছে কিছু? -সেতো জিজ্ঞেস করিনি পিসিমা! শুনে আসবো গিয়ে? -না থাক, আমিই নামছি। আর শোন বালতির কাপড়গুলো একটু নেড়ে দে ওপাশটায়, এ তেজে শুকাবে বলে মনে হয় না। মাধিবিনী নিজের ঘর থেকে চাদরটা গায়ে জড়িয়ে নিলো। সিঁড়ি ভেঙ্গে নামতে এখন কষ্ট হয়, আগের মত আর শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না, বুঝিবা তারও সময় ফুরিয়ে গেল। নিচে বসার ঘরে ঢুকেই মাধবিনী একটা ধাক্কার মত খেল, সামনে যে মানুষটি বসে আছে তাকে কতো যুগ পর দেখছে তা ঈশ্বরই মালুম। মাধবিনীকে দেখে নলিনী বাবু দাড়িয়ে গেল, জগতের আর সবকিছুও যেন মুহূর্তের জন্য স্থবির হয়ে গেছে। এই এক মুহূর্তেই যেন দুজনার হাজার কোটি অভিযোগ আর তার ব্যাখা খুব গোপনে বাতাসে ফিস ফিস করতে লাগলো। কারো মুখে টু শব্দটি পর্যন্ত নেই। কি বলবে? কিইবা বলার আছে? একটা জীবনের শেষ মুহূর্তে দাড়িয়ে অতীতে ফেরার আবেদনও বা করবে কি কারনে! যা হবার তা হয়েই গেছে ঈশ্বর যেভাবে চেয়েছেন। মৌনতা ভেঙ্গে নলিনী বাবুই বললেন- -বসতে বলবে না? -ছিঃ ছিঃ, বসুন না আপনি, দাড়িয়ে আছেন কেন? আর জলটাও বুঝি এতক্ষণে কেউ দেয় নি, আমি বলে আসছি। নলিনী বাবু কিছু বলার আগেই মাধবিনি চট করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। বাইরে এসে নিলাকে বলল- -কইরে নিচের বাবুকে জল খাবার কিছু দিলিনা এখনও? -দিচ্ছিগো এখনই দিচ্ছি। ও মা পিসিমা তোমার চোখে জল কেন? -হঠাৎ কোন পোকা এসে পড়ল দেখনা, কাজের সময় কতো কিছু যে হয়। মাধবিনীর গোপন অশ্রু নিজের অজান্তেই কখন প্রকাশ পেয়েছে সে বুঝতেই পারেনি, আঁচল দিয়ে চোখ মুছে বসার ঘরে আসলো মাধিবিনী। প্রথম ধাক্কাটা একটু কেটে গেছে, এখন আর সেরকম সমস্যা নেই। -আমি পুরাতন মানুষ, আমার জন্য এতো ব্যস্ত না হলেও চলবে মধু। কানে ধাক্কার মতো লাগে মাধবিনীর। মধু, এই নামে কতদিন কেউ তাকে ডাকেনি। ভেতরটা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বাইরে শান্ত স্থবির মাধবিনী। খুব নরম কিন্তু বলিষ্ঠ স্বরে বলল- -এ বাড়ির একটা রীতি আছে তাতো আপনি জানেন, বেশি বা কম কিছুই না। যা সবসময় হয় তাই আরকি। -আমি বেশিক্ষণ বসবো না মধু, চলে যাবো তাই ভাবলাম ধার কর্য পরিশোধ করে যাই। -যেতে চাইলে যাবেন সে আপনার ইচ্ছা, তাতে আমি আগেও বাঁধা দিইনি, এখনও দেবার অধিকার আমার কোথায়! -অধিকার আদায় করে নিতে হয় মধু, কেউ আপনা আপনি কিছুই দেয় না। -জোর করে কিছু নেয়া সে আমাকে দিয়ে হবে না বাবু। -শাড়ির রং বদলেছে কতদিন হল? -দুবছর, ওসব আমার কপালে নেই বাবু। সবাইকে নায়ে তুলে দিবো তবেই না আমার নাও ঘাটে ভিড়বে! -কাশী যাবার বন্দোবস্ত করেছি, এদিকটায় আর আসবো না। শেষকটা দিন ওখানেই কাটিয়ে দেব। তাই এদিকের সব ঋণ শুধতে এলাম। বলেই একটা খাম মাধবিনীর দিকে বাড়িয়ে দিল নলিনী বাবু। মাধবিনী তা উপেক্ষা করে বলে- -কোন ঋণ শুধবেন বাবু? স্বার্থপরের মত ফিরে না আসার ঋণ কে শুধবে? -যে বৈশাখে আমার ফেরার কথা ছিল তার কিছুদিন আগেই মিথ্যে মামলায় জেল হাজতে যেতে হয় আমায় মধু। তিন বছর পর ক্ষীণ আসা নিয়ে এসেছিলাম আমি গাঁয়ে, তখন তোমার কোল জুড়ে সন্তান। তাই চুপি চুপি আবারো পালিয়ে এসেছি শহরে। -ছেলে মেয়ে বা গিন্নী কেউ সাথে যাচ্ছে বাবু? -না না, সংসার ধর্ম আমি গ্রহন করিনি মধু! মাধবিনী অনেক কষ্টে ভেতরের কান্নাটাকে চেপে রেখে বলল- -কেন বাবু, মধুর গরল হয়ে যাবার খবর পেয়েও কিসের অপেক্ষা ছিল আপনার? -কোন অপেক্ষা নয় মধু, যার সাথে মনের মিল হয়না তার সাথে শরীর মিলিয়ে ধোকা দিতে চাইনি তাই। -আর যার সাথে মনের মিল হল তাকে বিয়ে না করা বুঝি ধোকা দেয়া নয় বাবু? -তা নয়, আমার হাতে কিছু ছিল না শুধু অপেক্ষা ছাড়া। সময় আমার শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ধোকা সময় তোমাকে দিয়েছে মধু আমি নই। এবার মাধবিনী অবেগ জড়িত কন্ঠে বলল- -মিথ্যে কথা, আমাকে অপরাধী সাজিয়ো না বাবু! -জগতের সবচেয়ে বড় অপরাধী সময় মধু, তুমি আমি আমরা সময়ের খেলার পুতুল মাত্র। একথা বলেই নলিনী বাবু খামটা ছোট টেবিলটার উপর রেখে উঠে দাঁড়ালো। দরজার বাইরে বেরতেই মাধবিনী কপাট ধরে আকুতির স্বরে বলল- -শেষ একবার বলে যান বাবু আপনি সংসার ধর্ম গ্রহন করেছেন! আমার সবকিছু এলোমেলো করে যাবেন না বাবু, আপনার দুটি পায়ে পড়ি। নলিনী বাবু একবারের জন্যও পিছন ফিরে চায় না। মাধবিনী দরজা ধরে ওখানেই বসে পরে, ওর চোখে জল, মুখচ্ছবিতে অসহয়তার ছাপ। উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নলিনী বাবুর চলে যাওয়া পথে দিকে। শুন্যতার হাহাকার চারিদিকে। খট করে সদর দরজা লাগানোর শব্দ হল তবু মাধবিনীর সম্বিৎ ফিরল না! 'আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন তোমাতে করিব বাস দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনি, দীর্ঘ বরস-মাস'


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মাধবিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now