বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গ্রামের নাম চন্ডীপুর। সেখনকার মানুষের জিবিকার প্রধান বাহন মাছ ধরা।সেই গ্রামে থাকত রহিম মিয়া নামের এক গরিব লোক তার অভাবের সংসার। তার আট জন ছেলে মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্ট করে দিন জাপন করে। হটাৎ একদিন সে মারা যায়। তার পর থেকেই তাদের এমন করুন অবস্থা যে নুন আনতে পানতা ফুরায়।তার ছেলে মেয়েরা ঠিক মতো খেতে পায় না। রহিম মিয়ার বড় মেয়ে রাহিমা, সে ছোট থেকেই ডানপিটে সভাবের ছিল।সে সবসময়ই মনে করত আমি মানুষ না হয়ে মৎস কন্যা হলে ভালো হত।তাই সে সারাদিন নদীর পানিতে সতার কাটত যতক্ষণ তার শরিরে শক্তি থাকত। সে মাঝে মধ্যে মাছ ধরে আনত যাতে সে একটু ভালো খাবার খেতে পারে কিন্তু বাড়িতে গেলে মা তাকে বকাঝকা করত তার এই স্বভাবের কারণে আর তার মাছ পাশের বাড়িতে বেঁচে যা চাল পেত তাই দিয়ে তাদের আট ভাই বোন কোন রকম ভাগাভাগি করে খেত।রহিমার চর মাছ ভাত খাওয়া হয়না।কোন দিন মরিচ পোরা, আবার কোনদিন অন্যের জমির শাক পাতা খেয়ে তাদের জীবন যাপন করতে হয়।এদিকে রহিমার বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে।তার বিয়ে হয় পাশের গ্রামের সালাম মিয়ার সাথে।যার আরো দুই বউ ছিলো! সে ছিল খুবই বয়স্ক লোক। তার পরও তাকে মেনে নিতে হয় রহিমার।সে যে দিন তার শশুর বাড়িতে যায় তার শাশুড়ী তাকে জিজ্ঞেস করে বলত বউমা মাছ ভাত ভালো না শাক ভাত ভালো? রহিমা জানেনা কি উত্তর দিবে। সে চুপ করে রইল।তখন তার শাশুড়ী তাকে ধমকের সুরপ বললো কি বউমা বললেনা মাছ ভাত ভালো না শাক ভাত ভালো?তখন রহিমা ভয়ে ভয়ে বললো শাক ভাত ভালো। তখন শাশুড়ী বললো ঠিক বলছো, আমরা হইলাম গরিম মানুষ আমাগো শাক ভাতই ভালো।রহিমার আবার সেই মাছ ভাত খাওয়ার কথা মনে পড়ে যায়। তার সামি সালাম মিয়াও মাছ ধরে। তাই একদিন সে তার সামিকে বলে তার মাছ ভাত খেতে মন চায়।তাই সালাম মিয়া এক দিন মাছ বিক্রি না করে সেই মাছ নিয়ে আসে রহিমার জন্য।রহিমার মাছ দেখে অনেক আনন্দ হয়। তখন সে মাছ গুলো নিয়ে কুটতে বসে। তখন তার সামি সালাম মিয়া দেখে রহিমা পটকা মাছও নিচ্ছে। তখন সে রহিমাকে বলে পটকা মাছে বিষ থাকে।এই মাছ খায়না ফালাইয়া দেও।কিন্তু রহিমা বলে সে পটকা মাছের বিষ ফালাইতে জানে।সালাম মিয়া আর কথা বাড়ায় না।রহিমা অনেক সন্তপর্নে মাছ রাধে।তার অনেক দিনের সখ মাছ ভাত খাওয়া আজ পূরণ হচ্ছে। কিন্তু এই মাছ খাওয়াই ছিলো রহিমার জিবনের প্রথম ও শেষ মাছ খাওয়া। পরদিন সকালে কোন এক পত্রিকার কোনায় লেখা ছিলো মাছ খেয়ে এক পরিবারের তিনজন মারা গেছে.......
হয়ত সবার জীবনে কিছু চাওয়া থাকে যা পূরণ হয় আবার হয়না। কারো ইচ্ছে পূরণ হয় যা তার জীবনের কাল হয়ে দারায় এই রহিমার মতো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now