বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ম্যারিটাইম ধর্ষণ

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান M.H.H.RONI(guest) (০ পয়েন্ট)

X সকাল বেলা এক কাপ চায়ের সাথে প্রথম আলো পত্রিকা হাতে নিলাম। বলা হয়, যা কিছু ভালো তাঁর সাথে প্রথম আলো। আর আমি বরাবরই সব ভালোর সাথে। সেই সুবাধে আমি প্রথম আলো পত্রিকার নিয়মিত একজন পাঠক। পত্রিকার ভাঁজ খোলতেই একটি কলাম দেখে চমকে উঠলাম। পত্রিকার একদম ফ্রন্ট পেইজে বড় বড় অক্ষরে লেখা, একজন দানব স্বামীর রে*পিস্ট হয়ে উঠার গল্প। কলামের সাথে আমার বন্ধু রিফাতের ছবি দেওয়া। কিছু বুঝে উঠতে না পেরে মনযোগ সহকারে পুরো কলামটি পড়তে শুরু করলাম। কলাম পড়ে যা বুঝলাম রিফাতের বউ তাঁর নামে থানায় রেইপ কেইসের মামলা করেছে। রিফাত ঠিক কিভাবে আর কতদিন ধরে তাঁর স্ত্রীকে রেইপ করে যাচ্ছে সেটাই লম্বা কলামের আলোচ্য বিষয়। কলামটি এতই লম্বা যে, পড়ার পর কিছুক্ষণ আমি সবকিছু অস্পষ্ট দেখছিলাম। এখানেই শেষ নয়। কলামের নিচে দেখলাম এটি একটি সিরিজ কলাম হবে। অর্থাৎ পুরো একমাস জুড়ে পত্রিকায় নিয়মিত রিফাতের রেপিস্ট হয়ে উঠার বিভীষিকাময় বর্ণনা দিয়ে কলাম লেখা চলমান থাকবে। আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না প্রথম আলো এতদিনে তাঁদের মনের মতো একটি টপিক পেয়েছে। তাই এত সহজে এই টপিক ছেড়ে দেওয়ার পাত্র তাঁরা নয়। আমি এটাও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করলাম যে, প্রথম আলো এবার রিফাতের দফারফা করে তবেই ছাড়বে। পত্রিকা রেখে দ্রুত রিফাতের বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। বাসায় পৌছুতেই দেখি রিফাতের স্ত্রী সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে টিভিতে সিরিয়াল দেখছে। আমাকে দেখেই সে মুচকি হেঁসে বলল, আরে ভাই আপনি এসেছেন? কি খবর আপনার? আমি কোন প্রতি উওর না করে বললাম, ভাবী আপনি এটা কি করেছেন? রিফাতের নামে রেইপ কেইস দিয়েছেন কেন? প্রতি উওরে রিফাতের স্ত্রী গা-ছাড়া ভাব নিয়ে বলল, আমার ইচ্ছা ভাই। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আপনি একদম আসবেন না। আমি বললাম, আমি না এলেও প্রথম আলো ঠিকই চলে এসেছে। আপনি প্রথম আলো পত্রিকায় এত দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিলেন কিভাবে? এবার তো রিফাতের অবশিষ্ট যা মান-সম্মান ছিল তাও থাকবে না দেখছি। আমার কথায় রিফাতের স্ত্রী অবাক হয়ে বলল, আমি তো কোন সাক্ষাৎকার দেইনি। তাঁরা শুধু আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিল, আমিই মামলাটি দিয়েছি কিনা। প্রতি উওরে আমি শুধু হ্যাঁ বলেছিলাম। আমি আর কিছু না বলে তৎক্ষনাৎ সেখান থেকে বিদায় নিলাম। আমার বুঝতে বাকি রইলো না, প্রথম আলো মনের মাধুরি মিশিয়ে তাঁদের অলীক কল্পনাগুলো কাহিনী আকারে সাজিয়ে বিশাল লম্বা কলাম লিখে যাবে একমাস যাবৎ। মাঝে মাঝে আমার খুব ইচ্ছে করে, একটি নোবেল বানিয়ে তাঁদের পত্রিকা অফিসে গিয়ে দিয়ে আসি। কোন একসময় হলেও তাঁদের একটি নোবেল দিব বলে মনস্থির করে থানায় হাজির হলাম। রিফাতের সাথে দেখা করা প্রয়োজন। থানায় প্রায় দেড় ঘণ্টা যাবৎ বসে আছি। রিফাতের সাথে দেখা করার অনুমতি মিলছে না। কেননা, সে একজন রেপিস্ট। আর রেপিস্টদের কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে রাখা হয়। ওসি সাহেবকে অনেক অনুনয়-বিনয় করার পর মাত্র ৫ মিনিটের জন্য রিফাতের সাথে দেখা করার অনুমতি মিললো। রিফাত আমাকে দেখেই সেলের কাছে চলে এলো। তাঁর চোখে মুখে স্পষ্ট ভয় আর আতঙ্কের ছাপ ফুটে উঠেছে। আমি রিফাতকে উদ্দেশ্য করে বললাম, ছিহঃ রিফাত! তুই এভাবে তোর বউকে ধর্ষণ করতে পারলি? আমার কথাশুনে রিফাত বিস্মিত হয়ে বলল, এভাবে মানে? কিভাবে? আমি বললাম, পত্রিকায় তোর ধর্ষণ করার বর্ণনা পড়লাম। পড়ার পর তো আমার গা শিউড়ে উঠছে। তোকে তো এখন বন্ধু বলে পরিচয় দিতেই লজ্জা লাগছে আমার। রিফাত এবার অগ্নিঝরা কণ্ঠে বলল, তুমি আমার সাথে ফাইজলামি করতে এসেছ এখানে? পরক্ষণেই রিফাত শান্ত কণ্ঠে বলল, তুমি তো জানোই। আমার বউ টিকটক স্টার। সন্ধায় অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরার পর সে তাঁর সাথে টিকটক করতে বলেছিল। আমি না করাতেই সে রেগে গিয়ে মামলা করে দেয়। আমি কিছু বলতে যাব অমনিই একজন পুলিশ এসে সময় শেষ বলে আমাকে জোর করে ধরে বাইরে পাঠিয়ে দিল। বিয়ে নিয়ে বরাবরই আমার ফ্যান্টাসি তুঙ্গে ছিল। কিন্তু এবার রিফাতের এমন করুণ পরিস্থিতি দেখে মন থেকে বিয়ের চিন্তা ঝেড়ে ফেললাম। মনে মনে ভাবলাম, কোন চিরকুমার সংঘে যোগ দিব অথবা সন্নাসী হতে হিমালয় চলে যাব। তবুও বিয়ে করবো না। কিন্তু আমার এই ভাবনা খুব বেশি দিন স্থায়ী হলো না। আমার শ্রদ্ধেয় মা একপ্রকার জোর করে আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য করলেন। তাঁর একটাই কথা। মৃত্যুের আগে তিনি তাঁর প্রাণ প্রিয় পুত্র বউয়ের মুখ দর্শন করে তবেই মরতে চান। সাথে নাতী-নাতনীর কথাও বলেছিল কিন্তু আমি তাতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করি নি। জীবনের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার পর এমন অস্বস্তি কাজ করবে তা স্বপ্নেও ভাবি নি। একপ্রকার ভয়ে ভয়ে বাসর ঘরে ঢুকতেই দেখলাম আমার স্ত্রী রিহা লম্বা ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। আমি সেদিকে বিন্দুমাত্র খেয়াল না করে চুপচাপ একপাশে বসে রইলাম। বসে বসে শুধু রিফাতের কথাই ভাবছি। নিজেকে আমার এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অসহায় মানুষ মনে হচ্ছে। খানিক্ষণ পর রিহা বিরক্ত হয়ে নিজেই নিজের ঘোমটা খোলে বলল, কি সমস্যা আপনার? আমি এতক্ষণ ধরে ঘোমটা দিয়ে বসে আছি অথচ আপনার কোন প্রতিক্রিয়া নেই। প্রতি উওরে আমি মলিন কণ্ঠে বললাম, আমার কোন সমস্যা নেই। রিহা বলল, সমস্যা না থাকলে শুরু করুন তাহলে। আমি বিব্রত কণ্ঠে বললাম, কি শুরু করবো? পরক্ষণেই রিহা বিরক্তির কণ্ঠে বলল, আপনি জানেন না কি শুরু করবেন?দেখেন, ২২ বছর ধরে এই রাতটির জন্য অপেক্ষা করছি। প্রতি উওরে আমি বললাম, আমিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু ২৩ বছরের আবেগে সারা জীবন জেলে কাটাতে চাই না। রিহা অবাক হয়ে বলল, জেলে কাটাতে হবে কেন বুঝলাম না। জবাবে আমি বললাম, কে জানে। পরে আপনি রিফাতের স্ত্রী এর মতো আমার নামেও বৈবাহিক ধর্ষণের মামলা ঠুকে দিতে পারেন। আবেগের বশে আমি ধর্ষক হতে চাই না। প্রতি উওরে রিহাও আর কিছু বললো না। সে রাগ আর একরাশ বিরক্তি প্রকাশ করে চুপচাপ ঘুমিয়ে পরলো। রিহা মেয়েটা দেখতে ফুলের মতোই সুন্দর। কিন্তু বসন্তের এই লগ্নে ভ্রমর হয়ে সেই ফুলের মধু আহোরণ করতে না পারার কষ্টে হৃদয়জুড়ে হাহাকার করতে শুরু করলো। মনের দুঃখে ওসি সাহেবকে কল দিলাম। কেননা, তাঁদের ভয়েই আজ আমার এমন করুণ পরিস্থিতি। হ্যালো কে বলছেন? ওসি সাহেব আমি কি ধর্ষকের সাথে কথা বলছি? ওসি সাহেব রাগান্বিত কণ্ঠে- ধর্ষক মানে? আমি থানার ওসি। কে আপনি? আমি- আপনি ওসি হোন আর যেই হোন। আপনি ধর্ষক।আপনি আপনার বউকে ধর্ষন করেন। আমি আপনার নামে মামলা দিব। ওসি সাহেব এবার ডিরেক্ট তুইতুকারিতে নেমে গিয়ে হুংকার দিয়ে বললেন, কে তুই ফাজিল? তোর শরীরে তেল জমেছে তাই না? দাঁড়া তোর নাম্বার এখনি ট্রেক করছি। থানায় এনে কয়েকটা বাঁশ ঢলা দিলেই সব তেল বের হয়ে যাবে। প্রতি উওরে আমি বললাম, ধর্ষক হয়ে এত উঁচু গলায় কথা বলেন কেমনে? লজ্জা করে না আপনার? এবার আর প্রতি উওর এলো না। ওসি সাহেব রাগে গিজগিজ করতে করতে ফোন রেখে দিলেন। পুলিশকে বিশ্বাস নেই। সত্যিই নাম্বার ট্রেক করে ফেলতে পারে ভেবে সিম কার্ড খোলে রাখলাম। পরের দিন ওসি সাহেবের বাসার ঠিকানা বের করে তাঁর বাসায় গেলাম। নিশ্চিন্ত মনেই গিয়েছি। কেননা আমি জানি ওসি সাহেব এখন ডিউটিরত অবস্হায় থানায় আছেন। তাঁর স্ত্রীর সাথে কথা বলে তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার এটাই মোক্ষম সুযোগ। ওসি সাহেবের বাসায় কলিং বেল দিতেই এক ভদ্রমহিলা এসে হাঁসিমুখে দরজা খোললেন। আমি নিজেকে ওসি সাহেবের কাছের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে বাসার ভিতরে প্রবেশ করলাম। ওসি সাহেবের স্ত্রীও আমাকে বেশ খাতির যত্ন করলেন। অতিথী আপ্যায়নে কমতি রাখলেন না। নারী মাত্রই সন্দেহ প্রবণ। বিশেষত তা যদি হয় নিজের স্বামীর প্রতি তাহলে তো কথাই নেই। ওসি সাহেবের প্রতি সন্দেহ জাগাতে আমি বললাম, ভাই তো দেখি আগের ভাবীর চেয়েও সুন্দর ভাবী পেয়েছে। আমার কথাশুনা মাত্রই ওসি সাহেবের স্ত্রী বলল, আগের ভাবীর চেয়েও সুন্দর মানে? আগে আর কে ছিল? আমি মুচকি হেঁসে বললাম, আরে না ভাবী। কেউই ছিল না। আমি তো এমনিই বলেছি। ওসি সাহেবের স্ত্রী এবার গর্জে উঠে বলল, না। নিশ্চই কেউ ছিল। তুমি বলো ভাইয়া। ব্যাটা সবসময় সাধু সাঁজে। আমি আগেই জানতাম, অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। আমি এবার রহস্যময়তার ভঙ্গিমায় বললাম, একটা কথা মনে রাখবেন। চুর বেশিদিন সাধু সেজে থাকতে পারে না। আরেকটি প্রবাদ শুনেন নি? চুরের দশদিন, গৃহস্থের একদিন। সেই একদিন আপনার চলে এসেছে ভাবী। পানি দেন এক গ্লাস। ওসি সাহেবের স্ত্রী পানি আনতে টেবিলের দিকে যেতেই আমি তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে কেটে পরলাম। স্বামীর ক্ষেত্রে একজন নারীর মনে সাধারণ সন্ধেহই অসাধারণ হয়ে উঠে। আমি সেই সাধারণ সন্ধেহটি ইতিমধ্যেই তৈরি করে এসেছি। আমি নিশ্চিৎ আজকে ওসি সাহেব বাসায় ফিরলেই সন্দেহটি অসাধারণ রূপ নিবে। মনে মনে এখন কিছুটা শান্তি লাগছে। কেননা, আমি যদি ওসি সাহেবের ভয়ে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে শান্তিতে না থাকতে পারি তবে তিনি কেন শান্তিতে থাকবেন? এবার নিশ্চই ওসি সাহেবের অবস্হা আমার মতোই হবে। এখন আমরা সমান্তরাল। প্রকৃতিও সমান্তরাল ভালোবাসে। তাই সে সর্বদা সবকিছুর ভারসাম্য বজায় রেখে চলে। মনের খুশিকে দ্বিগুন করতে প্রথম আলো পত্রিকা অফিসে কল দিলাম। ভাবছি নোবেলটা এবার তাঁদের দিয়েই দিব। কল দিতেই ঐপাশ থেকে একজনের কণ্ঠে ভেসে এলো, হ্যালো। কে বলছেন? জ্বী! নোবেল কমেটি থেকে বলছিলাম। এবছর আপনাদেরকে নোবেল বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ঐপাশের লোকটি আহ্লাদে গদগদ হয়ে বলল, সত্যি? আমি বললাম, মিথ্যা হবে কেন? শীঘ্রই নোবেল আপনাদের ঠিকানায় কোরিয়ার করা হবে। আমার কথাশুনে লোকটি বলল, কোরিয়ার করবেন মানে? নোবেল কি কোরিয়ার করা যায়? প্রতি উওরে আমি বললাম, জ্বী। এটি আমাদের নতুন ভার্সন। এখন থেকে নোবেলও কোরিয়ার করা হবে। আমার কথাশুনে লোকটি বলল, ওয়েট, ওয়েট। আপনি তো দেখি বাংলায় কথা বলছেন। নোবেল কমেটি তো বাংলায় কথা বলে না। জবাবে আমি বললাম, জ্বী। এটি একটি বাংলাদেশী নোবেল। পরক্ষণেই ঐপাশের লোকটি দাঁত কিড়মিড় করে বলল, হোপপ ফাজিল। ফোন রাখ তুই। কথাটি বলেই লোকটি ফোন কেটে দিল। ফোন কেটে দেওয়ায় আমি খুবই হতাশ হলাম। কেননা, লোকটির কথা আর কাজে কোন মিল নেই। সে আমাকে ফোন কাটতে বলে নিজেই কেটে দিল। তাই পুনরায় আমি আবারও সেই নাম্বারে কল দিলাম। লোকটি এবার ফোন ধরেই বিশ্রি এক গালি দিয়ে বলল, তুই আবার কল দিয়েছিস? প্রতি উওরে আমি মুচকি হেঁসে বললাম, আপনি না আমাকে ফোন রাখতে বললেন। অথচ নিজেই রেখে দিলেন। এটা কিন্তু ঠিক করেন নি। আপনার কথা মতো আমিই কল কেটে দিচ্ছি। কথাটি বলেই আমি ফোন রেখে দিলাম। ফোন কাটার আগে আরেকবার লোকটির বিশ্রি গালি আমার কানে এলো। তবে মনে এখন অদ্ভুত এক প্রশান্তি অনুভব করছি। সবকিছু রঙিন লাগছে। এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে যায়। রিহা আর আমার এখন অবদি কাছে আসা হয়নি। তাকে ছুঁয়ে অবদি দেখি নি। অনেক ভাবতে ভাবতে একদিন কাছে আসার অনবদ্য এক উপায় বের করে ফেললাম। সেদিন রাতে বেশ রোমান্টিক মোডে একখানা স্টেম্প পেপার নিয়ে রিহার কাছে গেলাম। রিহা আমার হাতে স্টেম্প প্যাপার দেখে বলল, এটা কেন এনেছেন? উওরে আমি বললাম, আপনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় আমার কাছে এসেছেন এবং কখনওই আমার বিরুদ্ধে কোন প্রকার মামলা করবেন না এই মর্মে সই দেন। তবেই আমি আপনার এই বিরহ ব্যথা উপশম করতে রাজি। প্রথম প্রথম রিহা বেশ রেগে গেলেও বেশ ক্ষানিক্ষণ পর সে সত্যি সত্যি সই দিতে রাজি হলো। অতঃপর আমিও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বহু দিনের অপেক্ষারত বাসরকার্য সম্পন্ন করলাম। এবার থেকে রিহার কাছে যাওয়ায় কোন ভয় নেই। কেননা সে অলরেডি সাক্ষর দিয়ে দিয়েছে। এরপর থেকে আমার আর রিহার প্রতিটি দিন স্বপ্নের মতো কাটতে লাগলো। এরই মধ্যে একদিন বাইরে বের হয়ে আবার অন্য আরেকটি নাম্বার থেকে পত্রিকা অফিসে কল দিলাম। ঐপাশ থেকে সেই লোকটির কণ্ঠ ভেসে এলো, কি চাই? আমি আপনাদের পত্রিকার মাধ্যমে আমার সাথে হওয়া অন্যায় তোলে ধরতে চাই। ঐপাশের লোকটি কিছুটা চিন্তিত কণ্ঠে বলল, আপনার কণ্ঠ চেনা চেনা লাগছে। লোকটি চিনে ফেলার দ্বারপ্রান্তে আছে ভেবে চমকে উঠলাম। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, দেখেন, বিজ্ঞান বলে আমাদের মতো দেখতে আরও ৭ জন মানুষ পৃথিবীতে আছে। তেমনি একই কণ্ঠের একাদিক লোক থাকা কি অসম্ভব কিছু? আমার যুক্তি শুনে লোকটি কিছুটা হলেও প্রভাবিত হয়েছে বুঝতে পারলাম। পরক্ষণেই সে বলল, ঠিক বলেছেন। আচ্ছা আপনার সমস্যা কি বলেন। আমি বললাম, আমার স্ত্রী আমাকে ম্যারিটাইম ধর্ষণ করেছে। আমি এর বিচার চাই। আমার কথায় লোকটি বিরক্ত হয়ে বলল, কিন্তু আপনি তো পুরুষ। পরক্ষণেই আমি বললাম, পুরুষ বলেই কি আমাদের অধিকার নাই? আপনারাই তো বলেন নারী-পুরুষ সমান অধিকার। তাহলে নারীরা যদি এই মামলা করতে পারে তবে আমরা কেন পারবো না? লোকটি এবার দ্বিগুন বিরক্ত হয়ে বলল, আপনি কি পাবনা থেকে বলছেন? উওরে আমি বললাম, না তো। তাহলে অতি দ্রুত পাবনায় চলে যান। কথাগুলো বলেই লোকটি ফোন কেটে দিল। আমি একরাশ হতাশা নিয়ে পকেটে ফোন রাখতেই ফোন বেজে উঠলো। অচেনা নাম্বার থেকে কল এসেছে। কল রিসিভ করে সালাম দিতেই ঐপাশ থেকে কান্নাজড়িত স্বুরে ওসি সাহেবের কণ্ঠ ভেসে এলো, ওসি সাহেব বললেন, আপনি আমার সাথে এমন করলেন কেন? আমার সাথে আপনার কোন জন্মের শত্রুতা? বাসায় গিয়ে স্ত্রীর কাছে কিসব বলে এসেছেন। এখন সে জেলার এসপির কাছে আমার নামে মেরিটাইম ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। আমার নামে তদন্ত কমেটিও গঠন করা হয়েছে। উওরে আমি বললাম, আমি কি করতে পারি? ঐপাশ থেকে ওসি সাহেব বিনীত কণ্ঠে বললেন, দয়া করে আমার স্ত্রীর কাছে গিয়ে বলেন যা বলেছিলেন সব মিথ্যা। অন্যথায় আমার চাকরি তো যাবেই জেলও খাটতে হবে। কেন জানি ওসি সাহেবের কথা শুনে তাঁর জন্য ভীষণ মায়া হচ্ছে। তাই আমি ওসি সাহেবকে শান্তনা দিয়ে বললাম, আচ্ছা আমি দেখছি। ওসি সাহেব আমার কথাশুনে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ফোন রেখে দিলেন। ওসি সাহেবের অবস্হা দেখে কেন জানি খুব হাঁসি পাচ্ছে আমার। শাহবাগিদের আইনের প্যাচে পরলে কি ওসি সাহেব আর কি প্রেসিডেন্ট। সবাই ধর্ষক বনে যেতে বাধ্য। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, হাহ্! শাহবাগীদের আইনে মানুষ মূলত ধর্ষক। রম্য গল্পঃ ম্যারিটাইম ধর্ষণ লেখা: M.H.H.RONI


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ম্যারিটাইম ধর্ষণ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now