বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"মা ও চিঠি "
শ্রাবণ মাহমুদ
প্রিয় মমতাময়ী ,
'মা' অনেক বছর পেরিয়ে গেল, তবু
আজো তোমাকে ভুলতে পারিনি ।
পারিনি পলাশের
রঙ্গে রাঙ্গানো ফাল্গুনী প্রভাত
বেলা ভুলতে ।
তুমি কেমন
আছো মা ,আমাকে একা ফেলে গিয়ে ?
জানো মা ,সেদিনের কথা গুলো কেন
জানি আমি আজো ভুলতে পারিনি ।
মা,
মাগো, সেদিন অনেক অশ্রু
ঝরেছিল ,তোমার আঁখি বেয়ে , অনেক
স্বপ্ন পুষে রেখেছিলে -তোমার
বুকের
হোমানলে !
ঘুমহীন অনেক রাত কাটিয়েছিলে ,নীল
আকাশ পানে চেয়ে !
অথচ ,তুমি আমাকে কিছুই
বুঝতে দাওনি !
তুমি সেদিন কেন এমন করেছিলে মা ?
মা ,ও মা, যখন তুমি আমাকে তোমার
স্নেহ
মাখা, শুভ্র শাড়ির আঁচল
তলে লুকিয়ে রেখে বলতে,
খোকা ,তোকে বড় হতে হবে-!
জানতে হবে, এ বাংলার ইতিহাস ও
ঐতিহ্যকে !
জানতে হবে, রফিক ,শফিক, সালাম,
বরকতের মতো নাম না জানা অগণিত বীর
বাঙ্গাঁলির কথা ।
মা, মাগো, তোমার এ আদেশ
আমি ভুলতে পারিনি-
পারিনি, তোমার নিজ
হাতে গড়ে দেওয়া ঐতিহ্যকে ভুলতে !
আর
পারবো -ই বা কেমন করে,
ঐতিহ্যতো মানব শরীরের পোশাক নয়,
যে ইচ্ছে করলেই তাকে যখন তখন
বদলানো বা ছুঁড়ে ফেলা যাবে !
মা, ও
মা, আমাকে এই সর্বসংহা পৃথিবীর
বুকে একা ফেলে
তুমি আজ কোথায় লুকিয়ে আছো মা ?
আমাকে যে আর কেউ বলে না ।
খোকা বাড়ি ফিরতে এত রাত হলো কেন !
তোর কি এমন কাজ যাতে এত রাত
করে বাড়ি ফিরিস !
তোর খাবার নিয়ে এতো রাত
ভরে কে বসে থাকবে !
আমিও যে এখনো না খেয়ে আছি তোর
কী একটুও ভাবনায় আসে না !
যা হাত মুখ ধুয়ে খেতে আয় !।
মা, মারে, আমি না খেলে যে আর কেউ
বলে না,
খোকা খাবি আয় !
আর কেউ আমাকে বলে না,
খোকা আমার
চশমাটা দিয়ে যা তো বাবা !
মা, একটি বারের জন্যে ও কি তোর
হতভাগা খোকার সামনে আসতে পারিস
না !
দেখে যেতে পারিস না, আমার মতো তোর
অন্য
খোকা খুকীরা তোর
জন্যে কতটা বিষাদের
রং গায়ে মেখেছে !
মা, মাগো ,
ও মা, আর পারছি না !
তুই বিহনে তোর
স্মৃতি যে আমাকে প্রতিনিয়ত
কাঁদায় !
আমাকে কাঁদাতে কী তোর এতই
ভালো লাগে মা ?
মা, সেই কৃষ্ণচুড়ার
কথা মনে পড়লে আমি যে....... !
মা, ওমা , মারে ,!
ঐ যে, যেখানে বসে তুমি আমি,- খুকী ও
বাবার জন্য পথ
চেয়ে বসেছিলাম !
অনেকটা পর, খুকীকে নিয়ে বাবা তার
সাদা শার্টটিকে
লাল রংয়ে রঙ্গিন করে এনে- তোমার
কোলে লুটিয়ে পড়েছিল !
ঠিক সেই মুহূর্তে খুকীকে আমার
হাতে দিয়ে,-
তুমিও অভিমান করে ক্লান্ত শরীর
নিয়ে ,ঘুমিয়ে গেলে চির দিনের
মাতো !
মা, মা ,ও মা, মারে, মাগো ,কেন সেদিন
তুই এমন সুপ্তঘুমে মগ্ন হলি !?
আমি আজো জানিনা, কার উপর অভিমান
করে,
আমাকে ও খুকীকে একা করে চলে গেলি !
তোর শূন্যতা যে আমাকে বড়
একা করেছে এই ধরিত্রীর বুকে ।
একা পথ চলতে, চলতে, অনেক বিষাদ এখন
আমার দোসরে পরিণত ।
মা আমি ভুলিনি-
সেই বসন্তের ঝরা পাতার আর্তনাদ ও
কিছু দানবের হা -হা -হো -হো ।
ভুলিনি সেদিন , প্রকৃতিতে বসন্ত
বিরাজ
করলেও-
কোকিল নয়, ডেকেছিল কা -কা- কা ।
ফুল
ফোটেনি ,অগনিত ফুল বিকশিত না হতেই
ঝরেপড়েছিল !
মা, তুমি খুশি হবে কিনা জানিনা !
তোমার
স্মৃতিকে মুছে যেতে দেবে না বলে-
তোমার
হাজারো খোকা খুকীরা কৃষ্ণতলের
ছায়ায় তোমাকে স্বরণ ও ভালোবাসায়
সিক্ত করবে বলে সেখানে শহীদ
মিনার নির্মাণ করেছে !
সেখানে অরণীর মতো, ছায়াময়
প্রভাতে-
লাল সাদা গোলাপের
পাপড়ি দিয়ে তোমাকে ভালোবেসে শ্রদ্ধা জানাতে আসে ।
কেউ তোমার স্মৃতি মনে করে নিজের
আবেগটা বিসর্জন দেয়
তোমারী পদতলে !
কিন্তু জানো মা ,
আমার এখনো ভয় হয় !
তোমার গড়ে দেওয়া আমার প্রেমের
শহীদ মিনারে ঐ সকল
কিছু দানব ফুল দিতে আসে বলে,- ।
জানিনা, তোমার বুকে তারা ফুল
দিতে আসে নাকি সব ফুল
গুলো ছিনিয়ে নিতে আসে ।
এই উত্তর তুমিই দিতে পারো মা ! আর
পারছিনা মা ,অনেক শিশির
জমা হয়েছে !
কেউ দেখে ফেলতে পারে তাই.........!
ও,
মা ? জানো , তোমার খুকী আজ অনেক বড়
হয়েছে-!
ওকে আমি বাংলায় অনার্স পড়িয়েছি !
মাস্টার্সটাও কমপ্লিট করাব !
তোমার
দোয়া পেলে ।
জানো মা, খুকী যখন
বাংলাকে নিয়ে ইতিহাস বলে, তখন
আমার প্রান ভরে ওঠে !
এবং আবেগ আপ্লুত হয়ে যায় ।
দোয়া করো মা, ও যাতে আরো অনেক বড়
হতে পারে !
যাতে গর্ব করে বলতে,
পারে আমি বাঙ্গালি-
বাংলা আমার মা ।
ভালো থেকো মা,
ইতি-
তোমারী রেখে যাওয়া-
ছোট্ট সেই খোকা -খুকী ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now