বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-- আম্মু আজকে আমি তোমার সাথে স্কুলে যাবো,
-- ঠিক আছে আব্বু আমি স্কুলে নিয়ে যাব তোমায়।
-- আম্মু আব্বু কেমন জানি আমার কথা শোনে না, আব্বু পঁচা তাই না আম্মু?
-- না আব্বু, তোমার আব্বু পঁচা না, আব্বু তোমায় কত্ত কিছু কিনে দেয় না? খেলনা কিনে দেয়, মজা কিনে দেয়, আব্বুকে পঁচা বলতে নেই আব্বু।
-- আচ্ছা আম্মু আমার আব্বু কি সব থেকে বেষ্ট আব্বু?
-- হ্যাঁ সোনামণি তোমার আব্বু সব চাইতে সেরা, বেষ্ট আব্বু ।
-- আম্মু আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবে না?
-- চলো সোনামণি কোথায় যাবে বলো?
-- তুমি যেখানে নিয়ে যাও সেখানে যাব।
-- আচ্ছা তোমার আব্বু অফিস থেকে ফিরে আসুক, তার পর দুইজন বুদ্ধি করে তোমায় বেড়াতে নিয়ে যাব ঠিক আছে আব্বু?
-- আচ্ছা আম্মু, লাভ ইউ আম্মু
-- লাভ ইউ আব্বু উম্মাহ (কপালে চুমু দেয় ছেলেকে)
আম্মু তার সন্তানকে ছোট বেলা থেকেই কোনো কিছু দিতে ত্রুটি রাখেন নাই। সন্তান আজ অনেক দূর পর্যন্ত লেখা পড়া করেছে । মহান একটা মন গড়ে দিয়েছেন তার আম্মু। আব্বু দিয়েছেন মানুষকে কি ভাবে সম্মান করতে হয় কি ভাবে ভালবাসা দিয়ে কথা বলতে হয় সেই শিক্ষা । আজ তার বাবা মা সব চাইতে বেশি স্বার্থক। কারণ বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান হয়ে ছেলে তার বাবা মায়ের মন জয় করে তাদের সকল কথায় এবং সকল শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পেড়েছে।
কিন্তু ছোট বেলা থেকেই ছেলেটার যে ভালবাসা ছিলো বাবা মায়ের প্রতি সেটা এখনো কাটে নাই। এখনো যদি কোথাও যেতে চায় তার সাথে তার আব্বু আম্মুকেও নিয়ে যায়। এতই ভালবাসে আব্বু আম্মু কে। যেন চোখের আড়াল হলেই বুকের ভেতর ব্যথা অনুভূত হতে থাকে ।
-- আব্বু চলনা আজে কোথাও বেড়াতে যাই?
-- তোমার আব্বু আসলেই যাব, রাতে তোমার আব্বুকে বলেছিলাম বেড়াতে যাবার কথা?
-- সত্যি আম্মু? (মহা খুশি হয়ে)
-- হ্যাঁ আব্বু সত্যি, তোমার আব্বু আসলেই যাব, তুমি তৈরি হয়ে নাও, যাও।
-- ঠিক আছে আম্মু, লাভ ইউ সো মাচ????
-- লাভ ইউ ঠু আব্বু।
ছেলেটা খুব আনন্দে আজ আব্বু আম্মু সাথে বেড়াতে যাবে, ভেবেই যেন খুশির একরাশ ঢেউ খেলে যায় তার বুকের ভেতর দিয়ে, ছেলেটা বড় হয়ে গেছে পড়ে লেখাত অনেক দূরে চলে গেছে, ইউনিভারসিটি তে লেখা পড়া করে ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে। তাও যেন যে এখনো আব্বু আম্মুর ছোট পুঁচকে ছেলেই হয়ে আছে। আসলেও আম্মু আব্বুর কাছে তার সন্তান কখনো বড় হয় না, ছোট সন্তান, আদুরে ছেলেও,ছোটই থেকে যায়।
আব্বু আম্মুর সাথে ছেলেটা বেড়াতে বের হয়।
কিন্তু তাদের পরিবারের সবাই আর একসাথে ফিরতে পারল না।
গাড়িটা একটা খাদে পড়ে যায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে । প্রায় অর্ধেক যাত্রী নিহত হয়। গুরুতর আহত হয় বাবা ও সেই ছেলেটা । আম্মু আব্বু সাথে ছেলেকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করার পড় আম্মু আর সেই ছেলের ডাকের উত্তর দেয়নি। ছেলেটা যেন পাগল হয়েগেছে । তাকে বোঝবার মত তেমন কেউ নেই আর।
আম্মু তুমি কোথায় গেলে?
আমাকে নিয়ে গেলেনা কেন?
আমি কাকে আম্মু বলে ডাকব?
আমি কাকে নিয়ে চলব আম্মু? বলো আম্মু একবার কথা বলো আম্মু প্লিজ একবার চোখটা খোলো আম্মু!
আম্মু আমাকে কে ভালবাসবে আম্মু? তুমি আমাকে কেন নিয়ে গেলে না??
তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই, কাকে আম্মু বলে ডাকব? কে আমাকে আদর করে কপালে চুমু দেবে, কে আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবে? তুমি কেন চলে গেলে আম্মু?
ছেলেটার কান্না না থামাতে পেরে ডাক্টার তাকে ইঞ্জেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে রাখে এবং তার বাবার পাশে শুইয়ে রাখে।
বেশ কিছুদিন পর তার বাবা এবং সেই ছেলেটাও দুনিয়া ছেড়ে চলে যায় তার আব্বু আর তার আম্মুর কাছে।
পরিবার এর কেউ আর এই দুনিয়া বেঁচে নেই, আব্বু আম্মু আর সেই ছেলেকে পাশা পাশা কবরে রাখা হয়েছে, তারা হয়তো আল্লাহ্ তাআলা'র আদেশক্রমেই তাদের এই ভালবাসার সংসার আবার বেধে নিয়েছেন, আত্মার ভালবাসা, আত্মার সাথে আত্মার অবিরাম ভালবাসা চলতে থাকুক।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now