বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- চলো না মা ছাদে যাই!
- এত রাতে ছাদে কেন মা?
- কয়টা বাজে এখন?
- রাত ২ টা বাজে!
- চলোনা মা! যেতে ইচ্ছে করছে খুব!
- আচ্ছা চল...
.
....
- আঁকাশের তাঁরাগুলো অনেক সুন্দর তাইনা মা?
- হ্যাঁ মা, অনেক সুন্দর!
- জ্বল জ্বল করে অনেক সুন্দর করে জ্বলছে নিভছে তাইনা?
- হ্যাঁ মা!
- আচ্ছা মা, তোমার কোন রং সবচেয়ে বেশি পছন্দ?
- নীল রং! কেন?
- আঁকাশের রং ও তো নীল তাই না মা?
- হ্যাঁ মা!
- নীল রং অনেক সুন্দর তাই না?
- জানিনা মা! তবে আমার খুব ভালো লাগে!
- পরের বার আমার জন্মদিনে কিন্তু একটা নীল শাড়ি উপহার দিবে আমায়, ঠিক আছে? আমি পরবো!
- হিহিহি!
- হাঁসছো কেন? আমি কি হাসার মত কিছু বলেছি নাকি?
- হাসার মতই তো! বলে কয়ে কি কেউ উপহার দেয় নাকি!
- তাও ঠিক! তবে কি দিবে মা?
- তা তো বলা যাবেনা! তবে অনেক সুন্দর একটা কিছু উপহার দিবো!
- আচ্ছা, পৃথিবীটা অনেক সুন্দর তাইনা মা?
-হ্যাঁ মা,অনেক সুন্দর, যা বলে বুঝানো যাবেনা! সবুজের সমারহ!
- হু সুন্দর! সুন্দরই তো! দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলে মেয়েটি!
- আচ্ছা এখন বাসায় চল ঘুমাবি! অনেক রাত হইছে!
- আরেকটু থাকিনা মা! অনেক ভালো লাগছে!
- না! এখন আর থাকতে হবেনা চল!
- থাকিনা আরেকটু!
- একটুও না! কালকে আবার, চল এখন!
- আচ্ছা ঠিক আছে চলো তাহলে!
.
.......
১ বছর পর-
- আজকে আঁকাশে অনেক তাঁরা তাই নারে?
-......
- কি রে কথা বলিস না যে?
দু হাতে চোঁখ মুছে বললো মেয়েটি; না মা! আজকে আঁকাশে তাঁরা উঠেনি! অন্ধকার রাত!
- তুই কাদছিস?
- কই নাতো মা! কাদছি না!
- মন বলছে কাদছিস! আয় কাছে আয় দেখি! মেয়েটিকে বুকে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলাতে থাকলো!
.
মায়ের বুকে মাথা গুজে মেয়েটি আবারো বলল; আচ্ছা মা! সব মায়েরা কি তোমার মতই এতো ভালো হয়?
- হা হা হা বোকা মেয়ে! মা তো মা-ই!
- এমনটা করলে কেন মা?
- কেমন?
- এই যে আমার অন্ধকার জগতে তুমি! তোমার রংঙ্গিন জগতে আমি!
- তোকে বলেছিলাম মনে আছে, সুন্দর একটা কিছু উপহার দিবো?
- হ্যা মনে আছে মা!
.
মিষ্টি হেসে এবার মা বললো; জন্ম দিয়ে পৃথিবীটাকে তোকে উপহার দিলেও, সৌন্দর্য দেখার ক্ষমতা দিতে পারিনি! তাই এবার তোকে পৃথিবীর সৌন্দর্য উপহার দিলাম!
মেয়েটি এবার কেঁঁদে ফেললো এবং বললো; আমি তো এমন উপহার চাইনি মা! এভাবে পৃথিবীও দেখতে চাইনি!
.
- আমি তো এটাই চেয়েছিলাম পাগলী!
- কি চেয়েছিলে?
.
মেয়েটির চোখ দু হাতে মুছে দিতে দিতে মা বললো; এই যে আমি মারা যাওয়ার পরও তোর মাঝে বেঁচে থাকবো! তোর চোখে সমস্ত পৃথিবীটাকে দেখবো! এরচেয়ে পাওয়া পৃথিবীতে কি হতে পারে?
.
মাকে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরে মেয়েটি বললো; এসব অলুক্ষনে কথা মুখে আনবেনা কখনো! আমার কষ্ট হয়! !
.
- আচ্ছা যা আর বলবোনা! মা বললো!
.
কিছুক্ষন নিরবতা! অতঃপর মেয়েটি আবার বললো;
- মা....
- হু বল ..
- এত ভালো কেন তুমি?
- ঐ যে বললাম; মা তো মা-ই পাগলী....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now