বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ক্লাস নাইন অথবা টেনে পড়ি তখন। কি যেন এক ঝামেলা বাঁধালাম। সম্ভবত প্রেম ঘটিত ব্যাপার স্যাপার। আমার পড়ার টেবিলের ডয়ারে মা একটা চিঠি পেলেন। কাউকে দেয়ার জন্য মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখেছিলাম।
.
মা চিঠিটা কিভাবে যেন ডয়ার থেকে উদ্ধার করলেন। আমাকে প্রচণ্ড ঝাড়িঝুড়ি দেয়া হলো। খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হলো।
.
আমি ঘাড় ত্যাড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো। আমি টই টই করে ঘুরে বেড়াচ্ছি। ক্ষুধায় পেট চো চো করছে।
.
আমি আর থাকতে না পেরে প্রচণ্ড ভয় ও পেট ভর্তি ক্ষুধা নিয়ে সন্ধ্যার দিকে চুপিচুপি লুকিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়লাম। ঢুকেই দেখি মা বাড়িতে নেই। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। আমি ধীরেধীরে পা টিপে ঘরে ঢুকে পড়লাম। ঘরে ঢুকে পাতিল থেকে ভাত আর তরকারি নিয়ে গপগপ করে খেতে শুরু করলাম।
.
মজা করে খাচ্ছি। খাওয়ার মাঝ পথে হুট করেই দেখি, মা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে পানি টলমল করছে। আমার চোখে চোখ পড়তেই মা দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। বাচ্চাদের মত ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, ‘খা বাবা খা, পেট ভরে খা। জানিস, সেই সকাল থেকেই সারা পাড়া তোকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। তুই কই ছিলি রে পাগল...
.
আমার মুখে আর ভাত যাচ্ছে না। আমি স্তব্ধ হয়ে গেছি। কিছু কিছু ভালবাসা সহ্য করা যায় না। আমিও সহ্য করতে না পেরে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলাম। মায়ের কান্নার বেগ আরও বেড়ে গেল। ভাতের প্লেট সামনে নিয়ে দুই মা-ছেলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। বড় মর্মান্তিক সে দৃশ্য। বড় ভালবাসাময় সে দৃশ্য।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now