বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভাইয়া একটু শুনবেন?
-কেনো কি সমস্যা?
-একটু শোনেন না
-আচ্ছা বুঝতে পারছি। ছেলেটার নাম আর বাসার
ঠিকানা লিখে রেখে যাও। কাজ হয়ে যাবে।
-না ভাইয়া তেমন কিছু না।
-তাহলে?
-একটু আসুন না প্লিজ?
আবিদ সচারাচার মেয়েদের আশে পাশে যায় না।
কারণ টা হল একটা মেয়েকে ভালোবেসে
ঠকেছিল। যায় হোক লোনার মত একটা সুন্দরি
মেয়ে এত বার করে ডাকছে না এসে কি থাকা
যায়...?
-হ্যা বলো কি সমস্যা?
-আপনার নাম্বারটা পেতে পারি?
-কেনো আমার নাম্বার দিয়ে কি হবে?
-না এমনিতেই যদি কখনো লাগে।
-যখন লাগবে তখন নিয়ে যাবা ওকে? এখন যাও।
বিরক্ত করো না।
মেয়েটার মায়ালু চোখের দিকে তাকিয়ে আবিদ
বললো
-আচ্ছা ঠিক আছে। ০১৭-----৪৬
-অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
-হুম্ম। কিন্তু অকারণ এ মোটেই ফোন দিবা না।
-জ্বি ভাইয়া।
-হুম্ম। আর কিছু বলবা?
-না ভাইয়া
-আচ্ছা যাও।
সচারাচার আবিদের কাছে মেয়েরা যায় না। আবিদ
একজন সন্ত্রাসী। মানুষ খুন করতে ও বিন্দু মাত্র
দ্বিধাবোধ করে না। তবে আবিদের একটা ভালো
গুন আছে সে নিরাপরাধীকে কখনো শাস্তি
দেয় না। বা তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে না।
কিন্তু আবিদ কোনো মেয়েদের সহ্য করতে
পারে না। মেয়েদের দেখলেই সেখান
থেকে সরে যায় অথবা খারাপ ভাষায় কথা বলে। সব
কিছুর পেছনে একটাই কারণ পুরানো প্রেম মিতা।
মিতাকে অনেক ভালোবাসত আবিদ। শিক্ষিত ঘরের
ছেলে আবিদ। দুই ভাই আর মা বাবা ছোট্ট সংসার।
বাবা একজন বিজনেসম্যান মা একটি সরকারি
কলেজের প্রিন্সিপ্যাল।আবিদ বড় আর ছোট ভাই
আশিক এবার ইন্টার ফার্ট ইয়ার। যাহোক মোটামুটি
ভালোই চলছিল আবিদের university, friend,
girl friend মিতা। সবকিছু নিয়ে বেশ ভালোই
কাটছিলো দিনগুলো। হঠাৎ একদিন মিতা ফোন
কিরে বলল আমার পক্ষে আর তোমার সাথে
রিলেশন রাখা সম্ভব না। আবিদ কিছু জিগাসা করার
আগেই ফোনটা কেটে দিয়ে সিম বন্ধ করে
ফেলে।আবিদ কিছুই বুঝতে না। পরে খোজ
নিয়ে জানতে পারে আবিদের ই এক বন্ধু টিটুর
সাথে নতুন করে রিলেশন শুরু করেছে। আবিদ
ছুটতে ছুটতে গিয়ে একটা চাকু দিয়ে টিটুকে
আঘাত করে। ঘটানায় টিটুর মৃত্যু হয়। আবিদের জেল
হয়। কিন্তু টাকার জোরে অল্প কিছুদিনের মধ্যে
বেরিয়ে আসে। তারপর থেকেই এমন হয়ে
গেছে। মাসে দু একবার বাসায় যায়। টাকা পয়সা নিয়ে
কোনো চিন্তা নেয়। প্রতি মাসে বাবা এসে
১০/২০ হাজার দিয়ে যায়। আর এ পথ থেকে ফিরে
আসতে বলে চলে যায়। এভাবেই চলছে আবিদ।
দাদাগিরি করে বেড়ায়। সারাদিন চায়ের দোকানে
বসে আড্ডা দেয়। চায়ের দোকান টা লোনাদের
বাড়ির পাশেই। ওদের একটা দল আছে। প্রায় সবাই
ছেকা খাওয়া পাবলিক। সবাই ভালো পরিবারের
ছেলে। ওদের ভিতর সবদিক থেকে সুপুরুষ
আবিদ। অনেক মেয়েই ওর সাথে রিলেশন
করতে চায়। কিন্তু ও তাদের অজস্র গালাগালি দিয়ে
বিদায় করে দেয়। কিন্তু লোনা কে যে
কেনো দিলো না কিছু বললও না বুঝতে পারছিল না
আবিদ। রাত দশটা। হঠাৎ ফোনের শব্দ
-হ্যালো
-জ্বি। আবিদ ভাইয়া।
-হুম্ম। কে?
-আমি লোনা।
-লোনা কে?
-ওই যে সকালে দেখা হলো আপনার নাম্বার
নিলাম।
-ও। কি সমস্যা?
-জ্বি ভাইয়া কোনো সমস্যা না।
-তাহলে ফোন দিছো ক্যান। আমি রাখছি।
-না না ভাইয়া সমস্যা আছে
-কি সমস্যা?
-আমার ঘুম আসছে।
-তার জন্য আমি কি করতে পারি?
-না ভাইয়া আপনি যদি কিছু সময় কথা বলতেন তাহলে
ঘুম আসত।
-কেনো আমি কি ঘুমের ট্যাবলেট নাকি?
-না ভাইয়া তা না।প্লিজ ভাইয়া একটু বলেন না
-আচ্ছা জাস্ট ৫ মিনিট।
-ওকে ভাইয়া।
এভাবে প্রায় প্রতিদিন ই কথা হয় দুজনের।আবিদ
মেয়েটাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে ও পারে
না। ধীরে ধীরে মেয়েটার দু একটা কথা
রাখতে শুরু করে।
একদিন রাতে কথা বলার সময় লোনা বলল
-ভাইয়া আমি যদি আপনাকে তুমি বলি তাহলে কি রাগ
করবেন?
-হঠাৎ তুমি কেনো?
-না ভাইয়া খুব ইচ্ছা করছে।
-আচ্ছা বলো। কিন্তু আমার কাছ থেকে এর বেশি
কিছু আশা করো না।
-জ্বি।ভাইয়া আর একটা কথা ছিলো।
-হুম্ম বলো।
-আমি আপনাকে আর ভাইয়া বলল না।
-তো কি মামা বলবে?
-ভাইয়া!
-আচ্ছা সরি।কি বলবে?
-আবিদ
-তুমি কি জানো আমি তোমার কত সিনিয়র?
-তাতে কি?
-না।
-কি না?
-আবিদ বলবে না।
-আমি তোমাকে ভালোবাসি আবিদ
-তোর যদি লজ্জা থাকে তাহলে আর কখনো এই
নান্বারে ফোন দিবিনা
লোনা খুব কষ্ট পেলো। ফোনটা কেটে
দিলো।
লোনার সাথে এমন ব্যবহার করায় আবিদের
অনেক খারাপ লাগলো।কল দিল লোনার নাম্বারে।
আবিদ প্রায় দুদিন ধরে লোনাকে ফোন করছে
কিন্তু লোনা রিসিভ করছে না। আবিদ
ভেবেছিলো লোনার প্রতি ওর কোনো ফিলিংস
ই নেই। কিন্তু ও ফোন রিসিভ না করায় এমন
কেনো হচ্ছে আবিদের।মনে হচ্ছে আপন
কেউ হারিয়ে যাচ্ছে আবিদের কাছ থেকে। ও
চায়ের দোকানে গিয়ে বসে থাকে লোনার
জন্য। আগে প্রতিদিন লোনা একবার করে জানালার
কাছে এসে দাঁড়াত আবিদ কে দেখার জন্য। এতে
আবিদের অনেকটা রাগ হতো। আজ এক সপ্তাহ
হয়ে গেলো মেয়েটা জানালার ধারে আসছে না।
আবিদ পাগলের মত হয়ে যায়। প্রায় সারাদিন ফোন
করতে থাকে কিন্তু আগে তো রিসিভ হতো না
এখন তো ফোন ও যায়না বন্ধ দেখায়।
৯ দিনের মাথায় আবিদ দেখে লোনা ওদের গাড়ি
থেকে নামছে কিন্তু ও ওর মায়ের কাধে হাত
দিয়ে খুঁড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছে কেনো। আবিদ
কোনো কিছু না চিন্তা ভাবনা করেই লোনাদের
সাথে ওদের বাড়িতে ঢুকে যায়। ঢোকার সময়
আবিদ কিছুটা অবাক হয়। কেউ ওকে ভেতরে
যেতে মানা করছে না। মনে হচ্ছে যেন সবাই
ওকে খুব ভালো করে চেনে। লোনাকে ওর
মা রুমে নিয়ে গিয়ে বসাই আবিদ ও পিছু পিছু যায়।
আবিদকে দেখে লোনার মা
-বসো বাবা আমি আসছি।
বলেই তিনি চলে যান।আবিদ লোনার পাশে এসেই
ওকে জড়িয়ে ধরে প্রচন্ড কাদে। লোনা ও
কাদে। আবার নতুন করে আবিদ ফিরে পায় নতুন
পথের দিশা।কোনো ছলনাময়ীকে নয়
সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে আবিদ।
(তিন বছর পর)
- এই আবিদ শুনছ বাবুটাকে একটু সামলাও না।
দেখো কি জ্বালাতন করছে। এখনি হাটতে
শেখেনি তাই এই।
-তুমি একটু কষ্ট করো না প্লিজ। অফিসে দেরি
হচ্ছে আব্বু খুব বকা দিবে।
-আচ্ছা তাহলে আম্মাকে একটু এঘরে পাঠিয়ে দাও
না।
-আচ্ছা দিচ্ছি। মা,ওমা, তোমার নাতিকে একটু সামলাও
তো।
আবিদ এখন অনেক ভালো একটি ছেলে। শুধু
ভালো ছেলে না ভালো বাবা, ভালো বরও। এসব
কিছুর পেছনে একমাত্র কারণ হলো লোনা।
সেদিনে নিজে পা কেটে যে ক্ষতটা
করেছিলো সেটা এখনও লুকায়নি, কিন্তু আবিদের
ক্ষতটা যে লুকাতে পেরেছে এটায় লোনার
কাছে অনেক।
হায়রে মানুষ! একজন জীবন নষ্ট করল আর
একজন সেই জীবনে নতুন করে আশার
আলো দেখালো। মেয়ে দেরকে বলছি সবাই
লোনার মত হওয়ার চেষ্টা করো। কেউ মিতার মত
হয়ে আবিদের মত ছেলেদের নষ্ট করোনা।
সমাজে এমন অনেক মিতা আছে যারা এমন অনেক
আবিদের জীবন নষ্ট করে দেয়। কারও
জীবনে আলোর দিশারি হয়ে লোনা আসে
কেউবা থেকে যায় অন্ধকারে......
লেখা: Nirob Ashik
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now