বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-‘ আপনি ... আপনি... মিনহাজ শরফুদ্দীন ?? ’ প্রশ্নটা মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেলো হঠাৎ করে তার। ঢিবঢিব বুকে অপেক্ষা করতে লাগলেন কায়েস চৌধুরী।
‘ঠিক ধরেছো তুমি চৌধুরী,’ ভয়ানক একটা হাসিতে মুখটা ভরে গেলো মিনহাজ শরফুদ্দীনের- ঠিক যেরকম হাসির বর্ণনা দিয়েছিলেন কায়েস চৌধুরী তার ‘পলাতক রাজকুমার’ উপন্যাসের দ্বাদশ অধ্যায়ে- ‘আমিই মিনহাজ। আর আমার যা প্রাপ্য, ...আমি তা ঠিকই আদায় করে নেই !!’
‘কিন্তু... কিন্তু... মানে তোমরা হঠাৎ কেনো...’ প্রশ্নটা মুখেইআটকে যায় কায়েস চৌধুরীর, ঘাড় ফিরিয়ে একবার রেজা হায়দারের স্টলের দিকে তাকান তিনি।
যেন তার অসমাপ্ত প্রশ্নটা বুঝতে পেরেই চুরুটের ধোঁয়া ছাড়েন মিনহাজ সাহেব, কায়েস চৌধুরী তাকে সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ইউরোপে অস্ত্র আর নারী পাচারকারী রিং লিডার হিসেবে- সেই বনেদীয়ানা বইয়ের মতোই বাস্তবেও বজায় রাখেন তিনি। ‘হ্যাঁ, আপনি ঠিক ধরেছেন। রেজা হায়দারও নেই। গুলজারিলালের কাজ ওটা। ... আসছি, আমরা সবাই আসছি। রেজা হায়দার নেই, কাজী আনোয়ার হোসেন আর গোবিন্দ রায়ও বাদ যাবেন না। তুমিও প্রস্তুত থেকো।’
‘কিন্তু... কেনো ?? কী কারণে...’ বহু দূর থেকে ভেসে এলো যেন কায়েস চৌধুরীর গলাটা।
‘চৌধুরী,’ ফিসফিস স্বরে তার বুকে কাঁপন তুলে দিলো মিনহাজ শরফুদ্দীন। ‘ বলতে পারো, নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধেও কতগুলো অপরাধ করতে হয়েছে আমায় ?? কেবল তোমার কলমের খোঁচায় ?? কত মানুষ হত্যা করেছো তুমি আমাকে দিয়ে, হিসেব রেখেছো তার ?? ...’‘কিন্তু ওসব তো কল্পনা !!’ আর্তনাদ করে ওঠেন কায়েস চৌধুরী। ‘তাই বলে লেখককে- তোমাদের জন্মদাতাকে সরিয়ে দিতে হবে তোমাদের ??’
‘তোমার হাত ধরেই আমি নিজ হাতে সায়ানাইড মিশিয়ে নিজের বাপকে মেরেছিলাম চৌধুরী, মনে নেই ??’ ক্রুর একটা হাসিতে ফেটে পড়লো মিনহাজ শরফুদ্দীন। ‘ভেবো না, তোমার মরণ তুমিই নিজ হাতে লিখেছো- ঈশ্বর নন। আমি তোমায় কেবল বিদায় জানাতে এলাম। ... সলোমন আসছে।’
নীল ফ্লানেলের স্যুট হারিয়ে গেলো লোকের ভিড়ে।
মাথাটা যেন একটু একটু টলছে কায়েস চৌধুরীর। সেই অবস্থাতেই লোকের ভিড় ঠেলে আবার এসে নিজের স্টলে বসলেন তিনি। এবসার্ড, অবাস্তব কিছু একটা ঘটছে এই সম্মেলনে; বুঝতে পারছেন। বাস্তব জীবনের রহস্যভেদ করা বইয়ের পাতার চেয়ে অনেক কঠিন মনে হলো তার। সলোমন আসছে- দিদিয়ের সলোমন !! সেই নৃশংস ভাড়াটে খুনী, ‘লেখকের মৃত্যু’ উপন্যাসে যাকে জন্ম দিয়েছিলেন তিনি নিজে- যাকে একাধিকবার চেষ্টা করেও ধরতে ব্যর্থ হয়েছে রাশেদ হাসান। সেই খুনী দিদিয়ের সলোমন আসছে !!
হার্টের দূর্বলতাটা অনেকদিন চাপা দিয়ে রেখেছিলেন কায়েস চৌধুরী, এই মুহুর্তে সেটা ফিরে এসেছে প্রবলভাবে। কায়েস চৌধুরী কোন কিছুর দিকে দৃষ্টি না দিয়ে নেশাগ্রস্তের মতো পা বাড়ালেন সম্মেলনকেন্দ্রের প্রবেশ মুখের দিকে। দ্রুত- খুব দ্রুতই বের হতে হবে তাকে। যত দ্রুত সম্ভব বের পৌঁছতে হবে বাড়িতে। বাড়িতে একবার পৌঁছতে পারলেই হয় শুধু, এপার্টমেন্টের বাইরেরর নিরাপত্তা দ্বিগুণ করে নেবেন তিনি।
হঠাৎই, এই ঘোলাটে মস্তিষ্কেও নতুন সম্ভাবনাটা মাথায় আসতেই কায়েস চৌধুরী সাবধান হয়ে হলেন। এই ভিড়ের মাঝেও তো কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারে দিদিয়ের সলোমন ?? গেটের নিরাপত্তারক্ষীদের ফাঁকি দেয়াটা কোন ব্যাপারই নয় তার মতো ট্রেইন্ড এসাসিনের কাছে। ভিড়ের মাঝে সাইলেন্সার লাগানো ছোট পিস্তলে তাকে গুলি করতেও সমস্যা হবে না সলোমনের, জানেন কায়েস চৌধুরী। ছোট একটা লাইটার জ্বালানোর মতো শব্দ হবে কেবল- খুনীর ধরা পড়ার সম্ভাবনা নেই কোন। কাজেই সতর্ক হতে হবে তাকে।
সাবধানে সমস্ত ভিড় এড়িয়ে প্রবেশ পথের কাছে পৌঁছে গেলেন কায়েস চৌধুরী, প্রথমেই বাইরে না গিয়ে ফোন করলেন তার ড্রাইভারকে। ঝুঁকি নিতে চান না তিনি প্রবেশ পথ থেকে পার্কিং স্পেসের মাঝের তিন মিনিটের হাঁটা পথটায়। প্রায়ই অন্ধকার থাকে ওখানটায়।
ড্রাইভার বেলাল সাড়া দিলো ফোনের অপরপ্রান্তে। কায়েস চৌধুরী তাকে বললেন গাড়ি নিয়ে ঠিক গেটের সামনেই পার্ক করতে, এরপর যেন সে ভেতরে ঢুঁকে নিয়ে যায় তাকে। ড্রাইভার বেলাল করিতকর্মা যুবক। তাই মিনিট দু’য়েক- যেটাকে কায়েস চৌধুরীর মনে হয় দু বছর- পরেই তাকে দেখা যায় প্রবেশ পথের সিকিউরিটি চেকিং পেরিয়ে ভেতরে ঢুঁকতে। কায়েস চৌধুরী লম্বা দম নিয়ে এগিয়ে যান বেলালের দিকে এবং ঠিক সেই মুহুর্তেই বেলালের পেছনে লম্বা ধূসর ওভারকোটের দিদিয়ের সলোমনকে তিনি দেখতে পান।
সেই মুহুর্তে হঠাৎ সব গোলমাল হয়ে গেলো কায়েস চৌধুরীর। তিনি জানেন ধূসর ওই ওভারকোটের ভেতরের দিকে একটা আলাদা খোপের মতো জায়গায় রয়েছে দিদিয়ের সলোমনের সিরিঞ্জটা, সলোমনের প্রিয় অস্ত্র। ‘এপোলো এক্সপ্রেস’ উপন্যাসের দ্বিতীয় অধ্যায়েই এই দিয়েই সলোমনের হাতে তিনি বধ করেছেন মার্থা বোকোভা’কে। সলোমনকে দিয়ে করানো তার অগণিত হত্যাকান্ডের আরো একটি...
ঘুরে দাঁড়িয়েই ছুট লাগালেন কায়েস চৌধুরী। ছুট। ছুট। ছুট। শ্বাস আটকে আসছে তার। বুকের ভেতর কেমন যেন অসহ্য ব্যাথা। হৃৎপিণ্ডটা যেন ফেটে বেরিয়ে আসবে তার। সব অন্ধকার দেখাচ্ছে ...
কায়েস চৌধুরী আর কোনদিন রহস্য উপন্যাস লিখবেন না।
*******
হট্টগোল, প্রচুর হাঁকডাক, মানুষের ইতস্তত কথা বলার আওয়াজে গমগম করছে সম্মেলনকেন্দ্রের ভেতরটা। টিভি ক্যামেরার উজ্জ্বল আলো আর ফটোগ্রাফারদের ফ্ল্যাশলাইটের মাঝেও কাজী আনোয়ার হোসেন, রেজা হায়দার আর গোবিন্দ রায়দের ম্লান দেখাচ্ছে।
‘কায়েস চৌধুরীর মতো তরুণ ও প্রতিভাবান রহস্য-লেখক হারানো আমাদের জন্যে একটা অপূরণীয় ক্ষতি।’ ক্যামেরার দিকে মুখ করে বললেন রেজা হায়দার। ‘ তার লেখার মধ্য দিয়ে আমরা দেশের রহস্য-উপন্যাসের জগতে নতুন একটা যুগের সূচনা দেখতে পারছিলাম। ... কিন্তু নিয়তির ওপর তো আর মানুষের হাত নেই। আর কায়েসও তো কোনদিন কাউকে জানায়নি যে তার হার্টের সমস্যা ছিলো। বড্ড হঠাৎ করেই যেন রোগটা কেড়ে নিলো কায়েসকে...’
পেছনে দাঁড়ানো অন্যান্য লেখকেরা সম্মতির ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন। কেউ যেন এখনো মেনে নিতে পারছেন না কায়েস চৌধুরীর এই অকাল প্রয়াণ।পুলিশ এসে সন্দেহজন কিছুই পায়নি, তদুপরি ডাক্তার বরকত মৃধা- যিনি নিজেও ছিলেন কায়েস চৌধুরীর লেখার একজন ভীষণ ভক্ত- নিশ্চিত করেছেন হার্ট হঠাৎ ফেল করাতেই মৃত্যু ঘটেছে কায়েস চৌধুরীর। তবে কেউই বুঝতে পারছে না কী দেখে আতঙ্কিত হয়ে হঠাৎ দৌড়াতে শুরু করেছিলেন তিনি।
সম্মেলনকেন্দ্রের সিকিউরিটি চীফ আসিফ আহমেদ করিতকর্মা লোক। পুলিশের লোকেরা ফিরে যেতেই প্রথমেই সাংবাদিকদের সম্মেলন ডেকেছেন। লেখকেরা বিবৃতি দিচ্ছেন সেখানে টিভি আর প্রিন্ট মিডিয়ায়। এই অবসরে সাধারণ দর্শকদের ধীরে ধীরে বের করে দিলেন আসিফ আহমেদ। ছবি তোলা হচ্ছে হরদম- টিভি চ্যানেল- দর্শক আর প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার...
... সমস্ত কাজ শেষ করে সম্মেলনকেন্দ্র থেকে বেরোতে রাত ১১টা বেজে গেলো রেজা হায়দারের। পিঠের ব্যাকপ্যাকটা নিয়ে ডাক দিলেন তিনি একটা খালি রিকশাকে। চড়ে বসলেন রামপুরা বনশ্রীর উদ্দেশ্যে। অক্টোবর শেষের হালকা শীতের বাতাস রাস্তায়, রেজা হায়দার একটা সিগারেট ধরালেন।
কাজটা সহজেই চুকে গেছে, ঝামেলা হয়নি একদম। নগর নাট্যদলের কাজ করে, তার এমন দুই বন্ধু অভিনয় করেছে অলিভার আনিস আর মোটর ফাইয়াজের চরিত্রে- ‘প্র্যাকটিকাল জোক’ বলে তাদের আগেই সন্দেহমুক্ত করে নিয়েছেন তিনি। এরপরেও কেউ এই নিয়ে প্রশ্ন তুললে গুলজারিলাল সম্পর্কে তার বানানো গল্পটা কাজ করবে দেয়াল হিসেবে, বলে দেয়া যাবে কোন পাগলা ভক্তের রসিকতা এটা। আর মিনহাজ শরফুদ্দীন আর দিদিয়ের সলোমনের চরিত্রে অভিনেতা হিসেবে তিনি নিজেই তো বেশ চমৎকার উতরে গিয়েছেন বোঝা যাচ্ছে। কাজটা কঠিন ছিলো না মোটেই- কেবল ফ্লানেলের স্যুটটা খুলে নিয়ে উপরে লম্বা ওভারকোটটা চাপাতেই হয়ে গেছে। মিনহাজের পরচুলাটা তিনি নিজেই কিনেছেন, যেটা এই মুহুর্তে রয়েছে তার ব্যাকপ্যাকে- ফ্লানেল স্যুটটা রয়েছে সম্মেলনকেন্দ্রের তেতলার ওয়াশরুমে আর ওভারকোটটা ফেলে এসেছেন নিজেরই স্টলে। দু’টোর মাঝে যোগসূত্র আবিষ্কার করতে পারবে না কেউ নিশ্চয়ই। কাল নিয়ে আসবেন ওভারকোটটা। ব্যাস- খেল খতম।
...প্ল্যানটা তার মাথায় এসেছিলো ঢাকা ক্লাবের এক আড্ডায়, যখন কায়েস চৌধুরী নেশার ঘোরে মুখ ফসকে তার কাছে বলে দিলেন নিজের হার্টের দুর্বলতা। তখনই তার মনে হয়েছিলো, এই ব্যাপারটা কাজে লাগিয়ে কারো সন্দেহের উদ্রেক না ঘটিয়েই সরিয়ে দেয়া যায় কায়েস চৌধুরীকে। কায়েস চৌধুরীর লম্বা লম্বা বোলচাল অসহ্য লাগতো তার। ছোকরার নিজের বলতে কিছু ছিলো না, বিদেশী থ্রিলার এদিক ওদিক করেই নিজের নাম কামিয়েছিলো ব্যাটা। একজন সত্যিকারের রহস্য-লেখকের মাঝে পর্যবেক্ষণশক্তি আর বুদ্ধিমত্তা থাকা দরকার- এর কিছুই ছিলো না কায়েস চৌধুরীর। অনেক মাথা ঘামিয়ে প্লট তৈরি করে করে তিনি যখন উপন্যাস লিখতেন- ঐ কায়েস চৌধুরী বরং তখন তামাশা করতো তা নিয়ে। আজকে তাই এক ঢিলে দু’পাখি মেরে নিলেন রেজা হায়দার। রহস্য উপন্যাস পাঠকদের কাছে আবারো নিজের হারানো শীর্ষ ফিরে পাবার রাস্তাটা পরিষ্কার হয়ে গেলো তার, আর বুঝিয়ে দেয়া গেলো সত্যিকারের রহস্যর ক্ষমতা অনুকরণ করা রহস্যের চাইতে অনেক বেশি। কোন পাঠক জানবে না, কিন্তু রেজা হায়দার জানেন- এটাই তার তৈরি করা শ্রেষ্ঠ রহস্য !!
রেজা হায়দার একটা সন্তুষ্টির হাসি দিলেন। একটু বেশ জোরেই।
‘কি হইসে স্যার ??’ রিকশাওয়ালার স্বরেই বোঝা যায় রাতের শহরে এমন উদ্ভট হাসির আরোহী পেয়ে বিস্মিত সে। ‘ হুদাই হাসেন ক্যালা ??’
‘ও কিছু না,’ হাসি থামিয়ে গম্ভীর হবার চেষ্টা করতে করতে বলেন রেজা হায়দার। ‘তুমি চালাও।’
রিকশাওয়ালা বরং একথা শুনে রাস্তার একপাশে দাঁড় করিয়ে দেয় রিকশাটা। কথা বোঝেনি, নাকি পেচ্ছাব করবে সে- বোঝা যায় না।
‘কী হলো, কথা কানে যায় না ??’ রেজা হায়দার ধমকে ওঠেন। ‘বললাম না চালাও !!’মাথার গামছাটা খুলে নিয়ে ঘাম মুছে রিকশাওয়ালা কোন কথা না বলে কেবল একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। রেজা হায়দার খেয়াল করেন- রিকশাওয়ালার চোখজোড়া গাঢ় নীল।
‘চিনতে পারলেন- রেজা হায়দার সাহেব ??’ ফিসফিস করে বলে রিকশাওয়ালা।
নীল চোখের একটামাত্র মানুষকেই চেনেন রেজা হায়দার- ছদ্মবেশ নিতে সে দারুণ পটু, রক্তপাত ঘটিয়ে শিকার করা যার আরেক বৈশিষ্ট্য। রেজা হায়দার রচিত ‘রক্তের রঙ লাল’ উপন্যাসের খলনায়ক ইসরাফিল আব্বাসির আরেকটা সনাক্তকরণ চিহ্ন হলো, নিখুঁত হোমওয়ার্ক করে শিকারের সমস্ত গতিবিধি ছকে এনে নেয়া।
রেজা হায়দার ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলেন, ‘আব্বাসি!! তুমি ??’
ইসরাফিল আব্বাসি কথা না বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। রক্ত দেখতে দেখতে আজকাল তার বড় ক্লান্ত লাগে। ইসরাফিল আব্বাসি জানে, এই অপারেশনটা শেষ করলেই তার মুক্তি...মাথার গামছাটা খুলে নিয়ে ঘাম মুছে রিকশাওয়ালা কোন কথা না বলে কেবল একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। রেজা হায়দার খেয়াল করেন- রিকশাওয়ালার চোখজোড়া গাঢ় নীল।
‘চিনতে পারলেন- রেজা হায়দার সাহেব ??’ ফিসফিস করে বলে রিকশাওয়ালা।
নীল চোখের একটামাত্র মানুষকেই চেনেন রেজা হায়দার- ছদ্মবেশ নিতে সে দারুণ পটু, রক্তপাত ঘটিয়ে শিকার করা যার আরেক বৈশিষ্ট্য। রেজা হায়দার রচিত ‘রক্তের রঙ লাল’ উপন্যাসের খলনায়ক ইসরাফিল আব্বাসির আরেকটা সনাক্তকরণ চিহ্ন হলো, নিখুঁত হোমওয়ার্ক করে শিকারের সমস্ত গতিবিধি ছকে এনে নেয়া।
রেজা হায়দার ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলেন, ‘আব্বাসি!! তুমি ??’
ইসরাফিল আব্বাসি কথা না বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। রক্ত দেখতে দেখতে আজকাল তার বড় ক্লান্ত লাগে। ইসরাফিল আব্বাসি জানে, এই অপারেশনটা শেষ করলেই তার মুক্তি...শৈত্য প্রবাহ মেরুদণ্ড বরাবর বয়ে যায়
বাঁচিয়ে বাঁচাতে পারব তো
এ উত্তুরের অবাধ যাতায়াত ?
ঝরে যাওয়া পাতার সঙ্গতে
গাছেদের ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে
হিমশীতল রাত কাবার করতে পারব তো ?
কাঁপতে থাকা গায়ে
দূরে জ্বলতে থাকা আগুনের হল্কা লাগে লাগেনা
প্রাণ জড়তা রোদটুকু শুষে নেয়
বিশ্রামের আগার রুদ্ধদ্বারে মুড়ে ফেলার চেষ্টায়
ঘন হয়ে আসে কুয়াশা
শিশিরেরা ঘাসের বিছানা পাতে
হাতছানি দেয় বাঁচার সংগ্রাম ।
শীত , তোমার ঘর গোছানে সকালে
উজ্জ্বল প্রজন্ম রোদ
বন্দনা করুক জীবন প্রশান্তি ।বাবা:::: কোন অপছন্দের পাএের সঙ্গে তো তোকে বিয়ে দেয়া হচ্ছে না।যখন হচ্ছিল তখন আমি নিজে দাড়িয়ে তা বন্ধ করেছি।
মেয়ে:::: তাই তো তোমার উপর আমার ভরসা।
বাবা:::: যে মানুষটা ফিরে এসেছে বলে তুই আজ ঐ মানুষটাকে মনকষ্ট দিবি,সেই মানুষটা যেদিন তোকে ছেড়ে গিয়েছিল,তখন তোর মনের অবস্হা কি হয়েছিল,একবার মনে করে দেখতো????????
মেয়ে:::: ফিরে আসতে হলে চলে যেতে হয়,ও চলে যায়নি বাবা।।
বাবা:::: চলে যায়নি??তবে কি করেছিল??
মেয়ে:::: ও হারিয়ে গিয়েছিল।আর সে হাারিয়ে যাওয়াটাকেই আমরা চলে যাওয়া মনে করে আর তেমন খুজিনি।।
বাবা:::: বেশ,বেশ বুঝলাম..................তুমি কখনোই সব কিছু পেতে পার না, কারন সবকিছু
রাখার জায়গাও তোমার নেই।
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now