বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজকাল ‘লম্পট’ শব্দটা বেশ টাকনা দিয়ে বলতে ইচ্ছে করে রবীন এর l নিজেকে লম্পট বলাতে কোথায় যেন একটা স্বস্তি পাওয়া যায় l নাহলে guilt trip এ চড়ে পড়লেই মুশকিল l ফের সেই মাল, মেয়েছেলে, rehab, detox l আর ভালো লাগেনা l জীবনটা দুর্বিসহ একেবারে l এই তো আজই চাঁপা তাড়িয়ে দিল যাসসেতাই গালাগাল দিয়ে l রবীন নাকি চাঁপার গলির নতুন মেয়েটাকে লম্পটের চোখে দেখেছে l ‘লম্পট তো ওই চোখেই দেখবে, তার আর আলাদা চোখ কই’ যেই না বলা, বাস আর যায় কোথায় .. ‘সালা তুই বেরিয়ে যা আমার ঘর থেকে, আমাতে আর মন ওঠে না, তাই না? এখন লতুন পায়রা উড়াবি, বুঝি?’ হাই হীল এর চটি ছুড়েছে এর পরে চাঁপা … পালিয়ে বেঁচেছে রবীন l পকেটে এক পয়সাও নেই l চাঁপার বাড়ি থেকে ছুটতে ছুটতে বাড়ি l কাল দুপুরের পর থেকে খাওয়া হয়নি l মাল আর মাল, আজ সকালেও খালাসীটোলা থেকে সোজা চাঁপার ওখানেই গিয়েছিল … ভাতের গন্ধে জিভে জল পর্য্যন্ত এসে গিয়েছিল l এর মধ্যে তাড়া খেয়ে এই ছুট l ভাগ্য বিপর্যয় আর কাকে বলে l
বাড়িতে এসেই প্রথমেই কিচেনে l ‘থালা কই ?ধুস কে খোঁজে এখন l’ ভাতের ডেকচি ডাইনিং টেবিল এ উপুড় করে ফেলেছে, সঙ্গে ডাল, মাছ, তরকারী ঢেলে দু হাতে মরণের খাওয়া খেতে বসেছে রবীন l এই সময়ই রোমা ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে l এখন এই অসামান্য পাশবিক খাবার একমাত্র দ্রষ্টা সে l নাক থেকে সিকনি বেরিয়ে মিশছে মুখে তোলা গ্রাসের সাথে, কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই লোকটার, দুই নোংরা হাত দিয়ে রাক্ষুসে খাওয়া চালিয়ে যাচ্ছে l ‘ও মা অত্ত গুলো ভাত এভাবে নষ্ট করলে …… what the hell is going on ‘ – রোমার চিত্কার কানে গেলে তো !! পিসমা ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন চিত্কার শুনে … ‘আহা খাক, কাল থেকে খায়নি ছেলেটা, আমি রান্না করে দেব তোমাদের l’
‘হা, লাই দিয়ে দিয়ে বাঁদরটাকে আরো মাথায় তুলুন পিসি, আমি আর জোজো আর এখানে থাকতে পারব না বলে দিলাম l লম্পট একখানা … মাতাল …. ছোটলোক l’
দড়াম … দরজা বন্ধ হয়ে গেল রোমার ঘরের l
ছেলে বেরিয়ে এসে – ‘WTF’ বলে আবার ঘরে ঢুকে গেল … কানে হেডফোন … বেশি কথা বলার সময় নেই তার l
এর পর, ঘর থেকে বেরিয়ে রোমা একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলল বোধহয় … এক ধাক্কায় রবীন কে মাটিতে আর সেখান থেকে কোনমতে টানতে টানতে বাড়ির বাইরে … রবীন ও এতটা আশা করেনি … বৌএর পয়সাতে খেতে হয়, চাকরি গেছে … তাই বলে এরকম রোমা কখনো করেনি আগে … এ কি ব্যবহার … বুড়ি পিসি বাধা দিয়েও থামাতে পারেনি … একেই বোধহয় বলে ‘শক্তি’, কি জানি বাবা … রবীন বেশ ভয় পেয়েছে … বাড়িটা তার আশ্রয় … এখন সে কোথায় যায় … তাই তো … মাথাটা একটু একটু পরিষ্কার হচ্ছে রবীনের l
হুম…… থালা নামিয়ে খায়নি বলে রাগ করলো … না হাঁড়ি ভর্তি ভাত টেবিলে ফেলেছে বলে .. নোংরা নিয়ে যেন কি বলতে শুনলো না … সে নোংরা? না তার শরীর ? না আচরণ ? না কি মন? ………. গুলিয়ে যাচ্ছে সব আবার …
ঠাকুরের দোকানে অনেকক্ষণ বসে রইলো রবীন l পাড়ার এরা সবাই ওকে চেনে, আগে মান্যি করত যখন রবীন সুটেড বুটেড হয়ে আপিস করত, এখন করে না … বাকিতে সিগারেট দিতেও চায় না, রোমার বারণ আছে … ওটা চাঁপার কাছেই মেনেজ করে রবীন l
অনেকক্ষণ বসে থেকে থেকে রবীন ভাবলো একটু লেকের দিকে যাওয়া যাক, ফ্রেশ হাওয়ায় হয়ত hangover টা কাটবে … লেক এর ধার দিয়ে অনেকটা হেঁটে এসেছে, হঠাত দুরে একটা নারীকন্ঠের চিত্কার শুনে থমকে যায় সে l একটা মোটর বাইক প্রায় আধ শোওয়া অবস্থায় পড়ে, মনে হলো একটি মেয়ে আর দুটো তিনটে ছেলে … কি মতলব, কাছে যাবে কিনা ভাবতে ভাবতে এগিয়ে গেল রবীন … যা ভেবেছে তাই … মেয়েটা পরিত্রাহি চেঁচাচ্ছে আর ছেলে দুটো উদ্যত অপকর্ম করতে l
‘সালা aaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaa –
বলে বাঘের হুন্কার ছেড়ে লাফ দেয় রবীন ছেলে দুটোর উপরে … মেয়েটাকে সরিয়ে বেমক্কা ঘুষি চালায় ছেলেদের … চিনে পটকা ছেলেরা এককালে জিম করা রবীনের সাথে পেরে উঠবে কেন … কোনমতে প্রাণ হাতে নিয়ে পালায় … তবে বাইক স্টার্ট করেই …
ওদের উড়ন্ত বাইকের দিকে তাকিয়ে, স্বগোতক্তি করে রবীন – ‘লম্পট!!’
আর তারপর হাত বাড়িয়ে দেয় অল্প ছিন্ন বসনা, ভীষণ ভয়ার্ত, মেয়েটির দিকে l
‘আয়, আয় মা তোকে তোর্ বাড়ি পৌঁছে দিই
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now