বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিয়াদ এক মধ্যবিও পরিবারের ছেলে।তার মা ও বাবা গত হয়েছেন। সে একটা ছোট কোম্পানিতে কাজ করে। প্রতিদিন খাবার রান্না করে খাওয়া, নিজের কাপর ধুয়া তার জন্য খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে তাই সে ঠিক করে সে একটা বিয়ে করবে। সে তার বিয়ের জন্য এক মেয়েকে পছন্দ করে। বাবার আদরের দুলালি।মধ্যবিও পরিবারে আসবে তা কি সেই তেই কথা??সে পাঁচ দিনের মধ্য বিয়ের ঝামেলা শেষ করতে চায়...তাই সে খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে কাজ শেষ করলো যাতে কোম্পানিতে গিয়ে বাড়তি আয় করতে পারে।তো সবার মতো তারও আজ বাসর রাত....সে বউয়ের কাছে গেল।
রিয়াদ ঃ-তুমার নাম কি গো সুন্দরী??
বউঃ-বাঃ..... বিয়ে করছো আর বউয়ের নাম জানো না..... আমার নাম রুনা। পুরো নাম রুনা বেগম রিয়া।
রিয়াদ ঃ- ও!!.তুমি রিয়া আমি রিয়াদ। হাহাহা " দ " সরালে রিয়া।
রুনাঃ;হুম...... আচ্ছা আমরা হানিমুনে যাবো কোনদিন??
রিয়াদঃ- হ হ্যা যাবো তো ক কয়েকদিন বাদে ((তার কাছে তো এ পরিমাপ টাকাও নেই তা মিথ্যা আশ্বাস দিল))
রুনা ঃ-আচ্ছা ...... আর হ্যা আমার পড়ালেখা করাবে তো?
রিয়াদঃ- অবশ্যই!!.. তো আর কতদিন পর তুমার পড়ালেখা কমপ্লিট হবে??
রুনা:-প্রায় একবছর!...
রিয়াদ :-আরো এএএকবছর!!.. ((কারণ রিয়াদের কাছে পড়ানোর মত এত টাকা নেই তাই))
রুনা ঃ-আচ্ছা শুনো,,,,, প্রতিদিন আমাকে একটা কারে করে কলেজ থেকে নিতে আসবা হুমম??
রিয়াদ:-কার??? আরে কি যে বলো কারে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে..... তাই রিকশায় করে চলি না?হুম??(( কার করে আনার এত টাকা নেই তাই এরকম))
রুনাঃ- আচ্ছা তাও হবে!..আমার স্বামির তবুও দম বন্ধ হতে দিব না হিহিহি....। এই আরেক কথা কলেজ থেকে আসতে দেরি হবে তাই প্রতিদিন একটা ভালো রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে খাব,,,,, ওকে??
রিয়াদ:- না,,,,,,, এসব আমার গ্যাস্ট্রিক হয় তাই ডাক্তার এসব খেতে মানা করছে আ আ আমরা বাসায় এসে খাব,,,,, হ্যা??((কারণ ভালো রেস্টুরেন্টের ভালো পয়সাওয়ালা কাস্টোমার সে নয়))
রুনাঃ-আচ্ছা,,, যাই হোক। চলো এখন ঘুমাই........
রিয়াদ ঃ-হুমম চলো।
তারপর প্রতিদিন রিয়াদ রুনাকে রিকশায় করে কলেজে দিয়ে তারপর সে অফিসে যায়। তার বিয়ে করে এখন বাড়তি টাকা লাগে। বৌয়ের এই সেই পূরণ করতে হয়। তো এভাবে চলছিল রিয়াদের রিকশার চাকা মতো জীবন।একদিন কলেজে যাবার সময় তাদের মাঝে কথা...
রিয়াদঃ-এই জলদি করো.... আমার অফিসে লেট হয়ে যাচ্ছে।
রুনাঃ-একটু ওয়েট করো....আর একটু তারপর মেকআপ শেষ।
রিয়াদঃ-তুমরা মেয়েরা কেন এসব আটা সুজি মাখো আল্লাহ জানে,,,,,আর আরেকটু জলদি করো।
রুনাঃ-আর জলদি করতে পারবো না,,,,, মেয়ে হিসেবে একটু সাজগুজ করতে দিচ্ছো না...এই মেকআপ এর উপকরণ কি তুমার টাকা দিয়ে কেনা? অবশ্য না...... বিয়ে করার সময় তো কি বড় বড় কথা বলছিলে যে গাড়ি দিবে,,,, বাড়ি দিবে,,,, আর এখন শুধু ঝাড়ি দিচ্ছো।
রিয়াদঃ-এই তুমি যে পড়ালেখা করছো তার টাকা কি তুমার বাপ দিচ্ছে? কথামতো তো পড়াশোনা করতে দিচ্ছি,,,,, অন্য কোনো পুরুষ হলে পড়ালেখা কি মার কপালে জুটতো তুমার।
রুনাঃ-কি??এত বড় কথা??তুমার খাবার রান্না জন্য দেরি হয়েছে তাই রেডি হতে দেরি,, বুঝচো??
রিয়াদ(খাবার টেবিলে গিয়ে খাবার হাতে নিয়ে))এই রুটি,,,, এটাকে রুটি বলে?? লাগছে গরুর চামড়া,,,,,,এই আলু ভাজি?? লাগছে জ্বালানো কোনো লাকড়ি। হু।
রুনা ঃ-তুমি চলে যাও আমার কোনো লাগবে না কলেজে নিয়ে যাওয়া আমি একাই যেতে পারবো।
রিয়াদঃ-যাও যাও,,,,, ((বলে দুপুরের খাবারের টিফিন না নিয়ে বেরিয়ে পরলো রিয়াদ))
রুনা রেডি হয়ে দেখলো রিয়াদ টিফিন না নিয়ো চলে গেছে তাই সে মনে মনে বলল:-
""" ধূর,,,আমি যদি কথা না বাড়াতাম তাইলে এত কিছু হতো না,, টিফিন না নিয়ে চলে গেল,,,কি খাবে দুপুরে??না খেয়ে থাকবে?? থাকুকক তখন বুঝবে বউয়ের কদর....
তা বলে রুনা কলেজে চলে যায়। রিয়াদ তার অফিসের অনেক কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। তার ওপর আজ রুনা সঙ্গে ঝগড়া করে দেরি করে আসছে তাই বসের ভয়ও কাজ করছে তা মাথায়।এরিমাঝে তার কলিগ এসে বললঃ-বস আপনারে যাইতে বলছে....
রিয়াদঃ-কেন??
কলিগঃ-আজ দেরি করে আসার কারণে বোধহয়।
রিয়াদঃ-আচ্ছা আজ কতক্ষণ দেরি হয়চে??
কলিগ:-চল্লিশ থেকে পঞ্চাস মিনিট
রিয়াদ:-ওও
কলিগঃ-অন্য দিন তো একঘন্টাও হয়।
রিয়াদঃ-চুপপ,যা এখান থেকে আমি আসছি!
এই বলে রিয়াদ বসের রুমে যাচ্ছে।
চলবে.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now