বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেটলতিফ এবং প্রেম!
লুবনার বাম হাতটা হাতে নিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে হাতের রেখাগুলো বোঝার চেষ্টা করছে রাজিব।অদ্ভুত ধরনের এই মেয়ে জানতে চায় তার কয়টা বিয়ে হওয়ার সম্ভবনা আছে!
সম্প্রতি রাজিবের এই উত্থান ঘটেছে,টুকটাক হাত দেখে দেওয়া।ছেলেরা তেমন দাম না দিলেও হাত দেখানোর ব্যাপারে মেয়েদের সীমাহীন আগ্রহ লক্ষ্য করছে রাজিব।বেশিরভাগেরই প্রশ্ন বিয়ে-প্রেম সংক্রান্ত।
“রাজিব,গত পনেরো মিনিট ধরে ঝিম ধরে আছো।কিছু বলবে,না কি?”
রাজিব মাথা চুলকাল।এই মেয়ের হাতের রেখায় সমস্যা আছে বলেই ধারনা তার।আড়াইটা কারো বিয়ে হতে পারে নাকি!কথাটা লুবনাকে বলা ঠিক হবে কি-না ভাবছে।“ইয়ে লুবনা,দেখ ইয়ে...আসলে হয়েছে কি...” রাজিব বাক্য শেষ করতে পারল না।
নিচে তাকিয়ে দেখে একজোড়া পা!
পায়ের মালিকের মুখের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলল রাজিব...ফালাক!এই মেয়ে আবার এখানে কি করছে!
বান্ধবীর দিকে তাকিয়ে ফালাক কড়া গলায় বলল,“ এই লুবনা,উঠে আয়,এক্ষুণী!”
“এখন উঠতে পারব না রে,রাজিব আমার হাত দেখছে”।
“ছাই দেখছে,উঠ বলছি!”
খানিক গাইগুই করে লুবনা উঠ পড়ল।
চলে যেতে যেতে ফালাক বলল, “কি মিয়া,এইসব ধান্ধাবাজী করে আর কয়দিন?”
রাজিব মিনমিন করে বলার চেষ্টা করল,“ধান্ধাবাজী!তুমি কিরোর নাম শোননি?বিখ্যাত হস্তরেখাবিদ...”
“আরে রাখো তোমার কিরো!বল দেখি চল্লিশ কদম একসাথে হাঁটলে কি হয়?”
রাজিব মাথা চুলকাতে থাকে!
মেয়েটি টাইম মেশিন,ছেলেটি লেট লতিফ।মেয়ে কালোতে উষ্ণ,ছেলের পছন্দ ছুঁয়ে যায় আসমানী নীল!লোকে বলে মেয়েটি রামগরুড়,ছেলেটি সার্কাস ভালবাসে।
শাবানা-আলমগীরের সিনেমার মতো তারা প্রায়ই রাস্তায় ধাক্কা খায়।ধাক্কা খেয়ে ছেলেটি বোকার মতো হাসার চেষ্টা করে কিন্তু মেয়েটি খ্যাত বদমেজাজী হিসেবে।ধাক্কা খেয়ে মনে মনে ছেলেটিকে আচ্ছাকরে বকা দেয়।মাঝে মাঝে তার মনে হয় ছেলেটি ইচ্ছা করে ধাক্কা খায়।নয়ত একই সময়ে একইভাবে কেউ ধাক্কা খায়?বেলা সাড়ে এগারোটায়!আজব ছেলে একটা!
সকাল এগারোটা বিশ,ফালাকের হাতে একগাদা বই,আজ ওর মনটা বেশ ভাল।বই কিনলে তার মন ভাল থাকে।কিন্তু রুটিনের অন্যথা হলনা,খানিক এগিয়ে যেতেই ধাক্কা।হাতের বই মাটিতে।
“ এই ছেলে,চোখে দেখনা নাকি?জলজ্যান্ত একটা মানুষ আমি।রোজ রোজ ধাক্কা খাচ্ছো?বলি চোখের মাথা খেয়েছ?”
রাজীব মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।ফালাক রেগে আগুণ।সে হাতঘড়ির দিকে তাকালো,এগারোটা পঁচিশ।পাঁচ মিনিট লেট!এই ছেলে কি কোন কিছু টাইম মতো করতে পারেনা?ক্লাসে,পরীক্ষায় সবসময় লেট।
“এই তুমি ধাক্কা খেয়েছ ভাল কথা,পাঁচ মিনিট লেট কেন?”
রাজীব মনে মনে হাসল,মেয়েটা যে টাইম মেশিন এটা সে খুব ভাল করে জানে।ইচ্ছা করে আজ লেট করেছে,ফালাক ব্যাপারটা খেয়াল করে কি-না পরীক্ষা করতে!পরীক্ষায় পাশ!
“ লেট?কোথায় লেট করেছি?”
ফালাক বই তুলতে তুলতে বিড়বিড় করল, “কই লেট!ঢং যত্তসব!বই তুলে দেওয়ার নাম নেই!” মুখ টিপে হাসছে রাজিব,মেয়েটাকে রাগাতে এত ভাল লাগে কেন তার?
রাত দশটা থেকে এগারোটা ফালাক বারান্দায় হাঁটে।তার সবই ঘড়ি ধরা।হাটতে হাটতে গ্রীন টি খায়।এই সময় তার পরণে সাদা পোশাক থাকে।চুল খোলা,চোখে চশমা নেই।এসব রাজিবের মুখস্থ।প্রতিদিন ঐ সময় সে ফালাকের বাসার সামনে লুকিয়ে থাকে।ল্যাম্পপোস্টের হালকা হলুদ আলোতে মেয়েটাকে অন্য কোন দুনিয়ার মনে হয়।
প্রচন্ড শীতে রাজিব ঠকঠক করে কাঁপছে,মেয়েটা আজ বারান্দায় এল না কেন?ও তো কখনো এমন করেনা!কিছু হল না তো টাইম মেশিনটার?
ক্লাসেও অনুপস্থিত ফালাক।রাজিব লুবনার কাছ থেকে ফালাকের নম্বর নেওয়ার খুব চেষ্টা করল।লাভ হলনা, অনেক জোরাজুরি করার পর যে তথ্য পাওয়া গেল তাতে রাজিবের মাথায় হাত।মনে হচ্ছে ওর পুরো পৃথিবী ভেংগে পড়েছে।ফালাকের বিয়ে!
তবুও নিয়ম করে ও দাঁড়িয়ে থাকে, দশটা থেকে এগারোটা!যদি ওকে একবার দেখা যায়!দেখা যায়না,কত্তগুলো দিন কেটে যায়!ক্লাস বাদ দিয়ে চুপচাপ মাঠে বসে থাকে।
হেমন্তের এক ভোরে ফালাকের দরজায় একটা হলুদ প্যাকেট চলে এল।কটকটে হলুদে তার এল্যার্জি।কিন্তু আজ কেন যেন ওর খারাপ লাগল না।প্যাকেট খুলে এক বাক্স নরম নীল বের হল।নীল একটা শাড়ির শখ ও বহুদিনের।ফালাকের মনটা আলোতে ভরে গেল!
“এই ছেলে,ওঠ দেখি!”
রাজিব চমকে উঠল,ও কি স্বপ্ন দেখছে?
“দেখি হাঁটো আমার সাথে!”
রাজিব ফালাকের পাশে হাঁটতে শুরু করল,ফালাক এক-দুই করে গুণে চল্লিশ কদম হাঁটলো!চল্লিশ কদম হাটলে নাকি জনমের তরে বাঁধা পড়ে মানুষ!
“এই হল চল্লিশ!এখন বসো এখানে,আর মুখে তালা লাগিয়েছ কেন?এমনি সময় তো খুব হি হি করে বেড়াও!হাত দেখতে নাকি পারো?হাত দেখে বল আমার ভাগ্য!”
“আচ্ছা বাদ দাও,নিজের হাত দেখে বল কেমন বউ আছে তোমার কপালে?”
“যে হাত দেখে সে নিজেরটা বলতে পারেনা...!”
“বলতে পারে না?ফাইজলামী কম কর,এক্ষণ বল”।
রাজীব তার ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরে চোখের সামনে আনল।চোখ ছোটছোট করে কি যেন দেখার চেষ্টা করল।
“কি হল মিয়া?”
“ইয়ে,মনে হয় একটা কালো,মোটি ধরনের মেয়ে...”
ফালাক খিলখিল করে হাসল, উজ্জ্বল একটা রঙয়ের দীপ্তি ওর গায়ে,হালকা-পাতলা,পাখির পালকের মতো দেখতে!
রাজিব অবাক হয়ে ফালাকের হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে আছে।এই মেয়ে কি সেই মেয়ে যে ছেলেদের মতো করে কথা বলে?কোথাও উলটাপালটা কিছু দেখলে মারামারি পর্যন্ত করে নেয়!আর...যাকে রাজিব সারাক্ষণ খুঁজে বেড়ায়?
ব্যাগ থেকে ছোট একটা আয়না বের করে দুজনের সামনে ধরল ফালাক...
“ভাল করে দেখ তো একটু কি দেখা যায়...”
আয়নাটা দেখতে যত ছোট লাগছে তত ছোট না...দুজনের মুখ একসাথে দেখা যাচ্ছে।
“ইয়ে ফালাক...দেখ...!”
মেয়েটা তার হাত বাড়িয়ে দিল রাজিবের দিকে।“এই নীল শাড়ি তুমি পাঠিয়েছ তাইনা?আর রাত-বিরাতে আমার বাসার সামনে কি কর?ঠিকমতো লুকিয়েও থাকতে পারোনা তুমি!আমার বিয়ে দেখতে এসেছিলে?বিয়ে-টিয়ে কিছু না বুঝেছ,মিয়া?”
কাঁপতে কাঁপতে হাত ধরল রাজিব।তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে।মনে হচ্ছে এক পুকুর পানি খেলেও তৃষ্ণা মিটবে না।
“হাত দেখে বল,আমার ভাগ্যে কি আছে?”
“লম্বা,ফর্সা...”
ফালাক মুখ বাঁকিয়ে বলল,“লম্বা?ফর্সা,না?আয়নাটা ভাল করে দেখ,বলি চোখের মাথা-মুন্ডু খেয়েছ?গায়ে কি সাবান-টাবান মাখ না?টাকা নাই?”
রাজিব মুখ খুলতে যাচ্ছে,ফালাক তাকে থামিয়ে দিয়ে বিড়বিড় করে বলল, “থাপড়ানো দরকার”।
মেয়েদের মুখে এসব শুনতে কি বিশ্রী লাগে,আজ এত ভাল লাগছ কেন রাজিবের?
“ভালোয় ভালোয় বল কি আছে আমার ভাগ্যে,আয়নায় দিকে তাকিয়ে বল...”
নিজের কালো হাতের দিকে আড়চোখে তাকা্লো রাজিব “কালো,মোটা...”
ফালাক মুচকি হেসে বলল, “এইতো ঠিক ঠিক এগোচ্ছো...”
“আমি আসলে ভালোই হাত দেখতে পারি ফালাক...তোমাকে বলেছি...”
“রাজিব!ভালোই মানে “ভাল না”...হয় ভাল নয় খারাপ বলবে...বুঝেছ?থাপড়ানো দরকার”।
টাইম মেশিনটার মুখে গালি শুনতেও কি ভালো লাগছে!
রাজিব বহু সাহস করে ফালাকের হাত ধরার চেষ্টা করল,ফালাক্ রাজিবের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল।লেট লতিফের হাতটা শক্ত করে ধরল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now