বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রুহি লিজার ঘর বেরিয়ে গেল,
কিছুক্ষন পর জয় রুমে আসলো।এসে জয় কিছুটা অবাক হল।কারন লিজা বসে বসে কাঁদছে।
জয়ঃ লিজা তুমি কাঁদছো কেন?
লিজাঃ কই না তো.... চোখে কিছু মনে হয় পড়েছে।
জয়ঃ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি কাঁদছো কি হয়েছে আমাকে বলো।
লিজা এবার জোরে জোরে কঁদে দিল।
জয়ঃ আরে লিজা হয়েছেটা কি? শরীর খারাপ লাগছে?ডাক্তার ডাকব?
লিজাঃ রুহি এসেছিল একটু আগে।
জয়ঃ হ্যা রুহি তোমার কাছে আসবে আমি জানতাম ও আমাকে বলল নিচে থাকতে উপড়ে যেন না আসি তোমায় সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল।তাই আমি আর আসিনি।
লিজাঃ হুম অনেক বড় সারপ্রাইজ দিয়ে গেল।
জয়ঃ তাই....??? দেখাও দেখি কি দিল? অবশ্য রুহির পছন্দ বরাবরাই ভাল। সবকিছুর মধ্যে সেরাটাই ওর চাই।
লিজাঃ হ্যা জানি,তাই তো প্রথমে আদিকে চাইল এখন তোমায় চাচ্ছে।
জয়ঃ লিজা কি বাজে কথা বলছো?
লিজাঃ বাজে কথা নয় সত্যি বলছি।রুহি আমাকে হিরার নেকলেস দিয়ে বলল, এই নাও তুমার মত মেয়ে তো টাকার জন্য সব পাড়ে তাই দামি গিফট দিলাম।
আমি বল্লাম কি বলছো রুহি?
রুহি উত্তর দিল, যা বলছি ঠিকি বলছি জয়কে ছাড়তে কত টাকা নিবে বলো আমি সব দিব। বিনিময়ে জয়কে ছেড়ে দাও।অনেক বড় সারপ্রাইজ দিল তাই না?
জয়ঃ ধমক দিয়ে বলল লিজা.....কার ব্যাপারে কি বলছো জান তুমি?রুহিই আমায় জোর করে তুমার সাথে বিয়ে দিয়েছিলো সেটা তুমি জানো।তারপরেও তুমি এসব কি করে বলছো?আমি জানি রুহি এসব বলতেই পড়েনা।
লিজাঃতখন রুহির মাথা ঠিক ছিল এখন নাই।আর তখন রুহির পাশে আদি ছিল এখন আদি নেই, তাই তোমাকে আখরে ধরতে চাইছে।
লিজা এবার জয় এর পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলল আমি জানি তুমি রুহিকে ভালবাসো ওকে নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই ও এখানেই থাকুক কিন্তু প্লিজ আমার জায়গাটা ওকে দিয়ে দিও না।তুমি আমায় কথা দিয়েছিলে তুমি আমাকে কখনো ঠকাবে না।আমার তো কিছুই নেই জয়।এইটুকু সম্মান আমার কাছ থেকে কেড়ে নিও না প্লিজ।আমাকে ছেড়ে দিলে আমি কোথায় যাব বলো?
জয়ঃ উঠো লিজা এভাবে আমাকে ছোট করে দিও না।চোখ মুছো আমি আজ পর্যন্ত তোমার কোন কথা ফেলি নি আজও ফেলব না।কিন্তু রুহি এসব বলতে পাড়ে আমার সেটাই বিশ্বাস হচ্ছে না।ও তোমাকে যথেষ্ট ভালবাসে।
লিজাঃ বিশ্বাস না হলে রুহিকে গিয়ে জিজ্ঞাস করো এই ঘরে কি কি কথা হয়েছে আর তোমাকেই বা কেন এই ঘরে আসতে মানা করল?লিজা শান্ত গলায় বলল একটা অনুরোধ করব রাখবে জয়?
জয়ঃ হুম বল কি কথা।
লিজাঃ তুমি রুহিকে যতই কেয়ার করো আমার কোন আপত্তি নেই কিন্তু সবার সামনে অন্তত প্রকাশ করিও যে আমি তুমার স্ত্রী।
জয় আর কিছু না বলে চলে গেল।
,
,
,
কিছুক্ষন পর জয় রুহির রুমে গেল।
রুহি রাগে ফুঁসছে কারন লিজা তাকে বলেছে জয় তাকে করুনা করেছে।
রুহিঃ সাহস কত এই মেয়ের বলে কিনা রুহিকে করুনা করছে আরে রুহি কি কারোর ধার ধারে নাকি যে দয়া করতে হবে? যতসব ফালতু মেয়ে।(মনে মনে)
জয়ঃ কিরে কি হয়েছে রুহি?
রুহিঃ কি হয়নি তাই বল, কি আজব ধরনের মেয়ে বিয়ে করেছিস ইচ্ছা করছে এখুনি ঘার ধরে বের করে দেই।
জয়ঃ আহ রুহি কি বলছিস এসব?লিজা আমার স্ত্রী।
রুহিঃ সেই তো আমি তো আর কেউ না?
জয়ঃবাজে কথা বন্ধ করে বল কি হয়েছে।লিজা কি বলেছে তোকে?
রুহিঃ যেই বলতে যাবে তখন মনে পড়ল বাজির কথা তো জয় কে বলা যাবে না তাই আমতা আমতা করে বলল না কিছু না। তুই এখন যা এখান থেকে।
জয় কিছু বলার আগে রুহি জয়কে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল।
রুহিঃ আর একটু হলেই তো বলে দিচ্ছিলাম।আগে বাজিতে জিতি তারপর বলব, আর লিজা তুমায় বোঝাব আমাকে চ্যালেঞ্জ করার মজা কত।
জয় বাইরে এসে ভাবতে লাগল রুহি এমন ব্যবহার করল কেন। ওর কথায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল ও কিছু লুকাচ্ছে। কিন্তু যাই ঘটুক আমাকে বলতে কি সমস্যা?
তাহলে কি লিজা যা যা বলল তাই ঠিক? কিন্তু তা কি করে সম্ভব? রুহির আর কিছু মনে না পড়লেও আমি যে জয় সেটা মনে আছে আর আমাকে বিয়ের করার কথা তো রুহি কখনো ভাবেই নি তাহলে....???
নাকি বাচ্চাটার জন্যই এমন করছে?সে যাই হোক লিজার যেহেতু রুহিকে নিয়ে কোন সমস্যা নাই তাহলে এত ভাবছি কেন? রুহিকে আমি বোঝিয়ে নিতে পারব।
,
,
,
কিছুক্ষন পর জয় সবাইকে খেতে ডাকল।
সবাই মিলে খেতে বসলো।
জয়ঃ দেখ রুহি তোর সব পছন্দের খাবার রান্না করেছি,তুই আন্টির হাতের খেতে চেয়েছিলি কিন্তু আন্টি তো এখানে নেই তাই আমি রান্না করেছি খেয়ে বল কেমন হয়েছে? আন্টির মত পেড়েছি কিনা দেখতো।
রুহি লিজার দিকে একবার তাকিয়ে বলল খায়িয়ে দিবি?
জয় এটা আবার জিজ্ঞাস করার কি আছে অবশ্যই দিব।
জয় ভাত মাখছিল হঠাৎ লিজার দিকে চোখ পড়তেই জয়ের মন খারাপ হয়ে গেল।লিজা ছল ছল চোখে জয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
রুহিতো বিশাল খুশি
জয় একমুঠো ভাত মেখে সবাইকে অবাক করে দিয়ে লিজার মুখে তুলে দিল।
জয় লিজাকে উদ্দেশ্য করে বলল,তুমি আগে খাও তারপর রুহিকে খায়িয়ে দেই।
লিজা রুহির দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিয়ে খেয়ে নিল।
লিজার হাসি দেখে রুহির রাগ উঠে গেল।
রুহি ছোট থেকে রাগ কন্ট্রল করতে পাড়ে না। রুহি উঠে জয়ের সামনের খাবার ছুঁড়ে ফেল দিল।
জয়ঃ রুহি করছিস টা কি? বাচ্চাদের মত করছিস কেন?
রুহিঃ তুই ওকে খাওয়ালি কেন?
জয়ঃ রুহি ও আমার স্ত্রী আর একটু খেলে কি হয় বাকিটা তো তোকেই খাওয়াব তাই না?
রুহিঃ লাগবে না রুহির অবস্থা এখুনো এত খারাপ হয়নি যে নিজের হাতে খেতে পাড়বে না বলেই রুহি ঘরে চলে গেল।
জয়ঃ কি হল ব্যাপারটা বোঝলাম না এত রিয়েক্ট করল কেন? সকালেই তো বলছিল বউ সবার আগে আর এখনি এত পরিবর্তন?
লিজাঃ আমি তো তুমাকে আগই বলেছিলাম তুমি বিশ্বাস করলে না।
জয়ঃ না এটা অন্যায়। আমার রুহিকে বোঝাতে হবে।
লিজা মনে মনে আনন্দে পরিপুর্ন্য
যাক বাবা চাল টা কাজে লেগেছে....
জয় ট্রে ভর্তি খাবার নিয়ে রুহির ঘরে গেল।
রুহি জয় কে দেখেই রেগে গেল বের হ এক্ষুনি বের হ... আপদ তোর মুখ দেখতে চাই না।
জয়ঃ আচ্ছা দেখিস না কিন্তু খাবার টা খেয়ে নে।
রুহিঃ তোর খাবারে গোষ্ঠী কিলাই চোখের সামনে থেকে সরা এসব।
জয়ঃ সকালেও তো ঠিক ছিলি হঠাৎ কি হল?
রুহিঃ আমার উপড় শয়তানি ভর করেছে।
জয়ঃআমারো তাই মনে হচ্ছে
রুহিঃ তোকে ভাল করে বলছি তুই এখন এখান থেকে যা।
জয়ঃ হুম বোঝলাম,বলেই দরজা লক করে দিল।
রুহিঃ একি কি করছিস তুই? দরজা লক করলি কেন?আরে তুই এগিয়ে আসছস কেন?
জয় রুহির দিকে এগিয়ে আসছে রুহি পিচ্ছাচ্ছে।
রুহিঃ জয় তো আগের মত নেই কি করবে কে জানে মারবে নাকি?
জয় এসে রুহিকে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে দিয়ে চোখ বড় বড় করে বলল যদি না খাস তোকে যে কি করব খোদা জানে।
রুহিঃ জয় তুই আমার সাথে এভাবে কথা বলছিস?
জয়ঃ শুধু বলছি না করেও দেখাব।বলে রুহিকে এক টানে বিছানায় বসিয়ে দিল তারপর রুহির মুখ পিঞ্জি দিয়ে শক্ত করে ধরে জোর করে খবার দিয়ে দিল।
দেখিছিস কি করতে পাড়ি এভাবে খাওয়ালে ব্যাথা পাবি তাই নিজে খেয়ে নে। না খেতে চাইলে আমি এভাবেই খাওয়াব।
রুহিঃ গায়ের ব্যাথা দেখতে পাড়ছিস জয়,মনের টা দেখতে পাচ্ছিস না?মনটা যে ভেংগে চুরমার করে দিচ্ছিস।তুই এমন করতে থাকলে আমাকে সারাজীবনের জন্য তোর জীবন থেকে সরে যেতে হবে তুই কি বোঝতে পাড়ছিস ?আগে তো তোকে মুখ ফোঁটে কিছু বলতে হত না সব বোঝতে পাড়তি আর এখন এত রাগ দেখাচ্ছি আর তুই একবারও রাগের কারন টাও খোঁজার চেষ্টা করছিস না? কখনো ত এমন ব্যবহার করতি না? তবে কি সত্যি ই তোর কাছে এখন আর রুহির কোন মুল্য নেই সে তোর কাছে শুধুই বোঝা? ( মনে মনে)
জয়ঃ সরি রে রুহি তুই এখন কিছু বোঝার অবস্থায় নাই, কিন্তু তোকে না খাইয়ে যাব কি করে? বাচ্চাটার জন্য হলেও খাওয়াতে হবে। জানি ভাল ভাবে বললে তুই খেতি না কিন্তু বাচ্চাটার জন্য যে তোকে খাওয়াতেই হত তাই জোর করলাম তুই আমায় ক্ষমা করে দিস(মনে মনে)
,
,
,
,
চলবে...!!!
#লেডি_ডন
#পার্ট_10
#লেখিক..Imran khan
জয়ঃ রুহি খাবি নাকি জোর করব?
রুহিঃ খাচ্ছি বাবা খাচ্ছি.... যতসব,
অল্প খেয়ে রুহি বলল হইছে আর খাব না।এবার তুই যা।
জয় ঠিক আছে বলে চলে গেল।
,
,
,
পরদিন সকালে
নাস্তার টেবিলে, লিজা এসে জয়কে বলল
আজ তোমার অফিসে যেতে হবে না বাসায় থাকো।
কথাটা বলেই লিজা রুহির দিকে তাকাল।আর রুহিকে ইশারা করে বলল রুহি যেন জয়কে অফিসে যেতে বলে।
রুহি তাই করল,কারন শর্ত এটাই ছিল যে লিজা যা বলবে রুহির তার উল্টো বলতে হবে।
রুহিঃ না জয় তুই আজ অফিসে যাবি।
জয়ঃ আরে রুহি তুই কি বাচ্চা হয়ে গেছিস নাকি? শুধু শুধু ঝামেলা পাকাচ্ছিস কেন?লিজা তো ভাল কথাই বলছে।তুই ওর সাথে লাগছিস কেন?
রুহিঃ আমি লিজার সাথে লাগছি মানে?আমি তো তোকে কথাটা বলছি?ওকে তো কিছু বলি নি ছল ছল চোখে বলল রুহি....ক্ষমা চাইতে হবে?
জয়ঃ আহ রুহি কি হচ্ছে আমি কি তাই বলছি নাকি,উফফ কি ঝামেলায় পড়লাম রে বাবা।
রুহিঃ সত্যিই তাই আমি তোদের মাঝে ঝামেলা তৈরি করছি তাই না? চিন্তা করিস না ঝামেলা মিটিয়ে দিব।বলে রুহি উপড়ে চলে গেল।
জয় পিছন থেকে বলতে লাগল আরে রুহি আমি সেটা বলি নি আমি শুধু বল্লাম বাড়িতে থাকলেই তো ভাল সারাদিন একসাথে থাকতে পাড়ব।
ততক্ষনে রুহি ঘরে চলে গেছে জয়ের কথা শুনে নি।
জয়ঃ আমি কিছুতেই বোঝতে পাড়ছি না হঠাৎ করে রুহি এমন বাচ্চাদের মত ব্যবহার করছে কেন।
লিজাঃআমি বল্লেই দোষ হবে তাই কিছু বলব না।
জয়ঃ থাক তুমার আর কিছু বলতে হবে না।মেয়েদের মাথায় যে গোবর থাকে এই পরিস্থিতিতে না পড়লে জানতেই পাড়তাম না যাইহোক আমি বরং যাই রুহির ফেবারিট আইস্ক্রিম নিয়ে আসি তাতে যদি ম্যাডামের রাগ ভাংগে।
জয় বাইরে চলে গেল।
,
,
,
লিজা নিজের রুমে গেল একটু পড়েই রুহি লিজার ঘরে আসল,
রুহিঃ congratulated.... বাজিতে তুমি জিতেছো।
লিজাঃ খেলা তো এখনো শেষ হয় নি, আজ সারাদিন টা আছে।
রুহিঃ আর খেলতে ইচ্ছা করছে না।আমি জয় ফিরে আসার আগেই চলে যেতে চাই।
লিজাঃ সেতো খুব ভাল কথা
তো দাঁড়িয়ে আছো কেন নাকি বাজির শর্ত চেঞ্জ করতে এসেছো? যদি তা করতে চাও তাহলে বলি সেটা সম্ভব না।
রুহিঃ ভুল ভাবছো লিজা রুহি কখনো প্রতিজ্ঞা ভংগ করে না।
লিজাঃ বড় বড় ডায়লগ না মেরে বিদায় হও তো যতসব।
রুহিঃ ভাল থেকো লিজা,আর জয়ের খেয়াল রেখো।বলে রুহি বেড়িয়ে গেল।
লিজাঃ ছো ছো ছো.....বেচারি রুহি, তোমার প্রতি জয়ের যে ভালবাসা সেটাকে পুঁজি করেই আজ আমি জিতে গেলাম কিন্তু তুমি তা বোঝতেই পাড়লে না।আবারও সেই একই ভুল করলে যা ২ বছর আগে করছিলে।
তুমি তো জানতেই পারলে না জয় কেন আমার কথা শুনে তার পিছনে কার অবদান।
কিছুক্ষন পর জয় রুহির প্রিয় আইস্ক্রিম নিয়ে রুহির ঘরে ঢুকল
জয়ঃ রুহি..... রুহি কোথায় তুই দেখ তোর জন্য কি এনিছি...??
আরে কোথায় তুই? আচ্ছা বাবা এই দেখ কান ধরছি আর কখনো এমন করব না। সরি বেবি প্লিজ সামনে আয়।
কিরে,বেশিই রাগ করে ফেলছিস তাই লুকিয়ে আছিস তাই না? আচ্ছা আমি আর তোর কথার উপড়ে একটা কথাও বলব না বেরিয়ে আয়।
আরে পাগলি এভাবে লুকিয়ে থাকলে দম আটকে মরে যাবি ।আমাকে যা শাস্তি দেওয়ার সামনে এসে দে তবুও সামনে আয় প্লিজ।
বিষয় টা মোটেও সুবিধে লাগছে না এতক্ষন ধরে ডাকছি কোন সাড়া নেই, কোথায় রুহি?
জয় ঘরের সব জায়গায় খুঁজে দেখল রুহি কোথাও নেই।
জয় ভাবল বাকি ঘর গুলি তে দেখবে,তাই যখন বাইরে যেতে চাইল একটা কাগজ চোখে পড়ল জয়ের।
জয় কাগজ টা হাতে নিয়ে খুলল,
কাগজ টা খুলে জয়ের মনে হল এটা তার কাছে কোন সাধারন কাগজ না মহামুল্যবান।
কারন এটা একটা চিটি যা রুহি জয়কে উদ্দেশ্য করে লিখেছে।
রুহিঃ জয়,যখন তুই এই চিটি টা পড়ছিস তখন আমি তোর থেকে অনেক দূরে জানি অবাক হচ্ছিস কিন্তু এটাই সত্যি।আমি তোর বাড়ি ছেড়ে তোকে ছেড়ে সারাজীবনের মত চলে এসেছি।আমি কাল রাতে বাজি ধরেছিলাম আর লিজাকে কথা দিয়েছিলাম তুই যদি আমায় ভালবাসিস তাহলে আমি তোর কাছে থাকব আর তুই যদি আমায় করুনা করিস তাহলে আমি সেখান থেকে চলে যাব।
বাজিতে আমি হেরেছি এই প্রথম রুহি কোন চ্যালেঞ্জ এ হেরেছে তাও এমন একটা বিষয়ে হেরেছে যা সে কল্পনাও করতে পাড়েনি।তুই আমায় করুনা করছিস?জয় তার রুহিকে আর ভালবাসে না এটা মানতে কেন জানি খুব কষ্ট হচ্ছিল কিন্তু তুই নিজে আমার চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিস আমি তোর কেউ না লিজাই তোর কাছে সব।নিজের মুখে বলেছিস আমি তোর জীবনে ঝামেলা তৈরি করছি।
বিশ্বাস কর তোদের মাঝে ঝামেলা লাগানোর কোন ইচ্ছা আমার ছিল না।
আমি তো তোর খুশিকেই সারাজীবন নিজের খুশি ভেবে এসেছি আজও তাই ভাবি।তুই ভাল থাকলেই আমি হ্যাপি।
তোরা ভাল থাকিস এটাই চাই।
আর আমার কথা ভাবিস না,আমার বাচ্চার খেয়াল আমি নিজেই রাখতে পারব জয়, তার জন্য তোর করুনার দরকার হবে না।
একটা অনুরোধ,
আমি জানি বাজির কথা জানার পর তোর হয়ত খারাপ লাগবে তুই লিজার সাথে এই নিয়ে ঝামেলা করবি কিন্তু ওর কোন দোষ নেই রে ও যদি বাজি না ধরতো আমি তো বোঝতেই পাড়তাম না আমি তোর জীবনে ঝামেলা বাড়াচ্ছি? তাই শেষ অনুরোধ টুকু রাখিস ওকে তুই কিছু বলিস না।
আর আমাকে খোঁজার চেষ্টা করিস না জয়। তুই জানিস রুহি কখনো প্রতিজ্ঞা ভংগ করে না। তাই যদি পুলিশ বা গার্ডদের দিয়ে আমাকে খোঁজার চেষ্টা করিস তাহলে আমার চলার পথটা একটু কষ্টকর হয়ে যাবে ঠিকি কিন্তু ওরা আমায় ধরতে পাড়বে না। তাই শুধু শুধু আমার কষ্ট বাড়াস না।ওরা আমাকে খোঁজে পেলেও আমি তোর বাড়িতে আর ফিরব না নিজের ক্ষতি করব তাও ফিরব না কারন লিজাকে আমি তেমন টাই কথা দিয়েছি। ভাল থাকিস জয় নিজের আর লিজার খেয়াল রাখিস।খোদা হাফেজ।
চিটিটা পড়ে জয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেল,কি বল্লি তুই এগুলা রুহি? আজ তো লিজাকে কেউ বাঁচাতে পাড়বে না।
কিন্তু রুহি তুই তো আমায় চিনিস তুই কি করে ভাবলি আমি তোকে করুনা করছি?তোর জায়গায় লিজাকে বসিয়েছি?
আরে তোর কথাতে যেদিন বিয়ে করলাম সেদিনি বোঝেছিলাম আমি সবসময় তোকেই জীবন সংগি হিসেবে চেয়ে এসেছি আর কাওকে সেখানে বসাতে পাড়ব না। কিন্তু সময় থাকতে তা বোঝি নি। তাই নিজের বিয়ে করা বউ কে কোনদিন আপন করে নিতে পাড়িনি।
সারা দুনিয়ার কাছে আমরা স্বামী স্ত্রী হলেও প্রথম রাতেই আমাদের বিছানা আলাদা হয়ে গেছিল। আমি পাড়িনি লিজাকে স্পর্শ করতে।আমি বলেছিলাম লিজাকে চলে যেতে।নিজের মত করে জীবন সাজাতে তার জন্য যত ক্ষতিপুরন দিতে হয় আমি দিতে রাজি। লিজাই যায় নি সে বলেছিল আমাকে তার দরকার নেই।দুনিয়ার সামনে বউ এর পরিচয় দিলেই ও খুশি আর কিছু চায় না। যদি বিয়েটা ভেংগে যায় সমাজের সামনে সে ছোট হয়ে যাবে তাই সে এখানে ছিল।
আর যে মেয়েটা নিজের সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে স্বামীর আদর ছাড়া ২ বছর ধরে একটা মিথ্যে সম্পর্ককে আখঁরে ধরে বেঁচে আছে তার ছোট ছোট ইচ্ছাগুলি যদি আমি পুরন না করতাম তুই কি আমায় ক্ষমা করতি রুহি?
তাই তো আজ অব্দি আমি লিজার কোন ইচ্ছা আমি অপুর্ন রাখি নি।যখন যা চেয়েছে সব দিয়েছি।যতই অন্যায় করুক একটা ধমক দিয়েও কখনো কথা বলি নি।সত্যি বলতে ওকে আমি সব দিয়েছি শুধু স্বামীর সোহাগ টাই দিতে পাড়িনি।
কিন্তু লিজা তো জানত আমি তোকে কতটা ভালবাসি তারপরেও তোর সাথে এমন বাজি কিভাবে ধরল? আমি এই ভুলের জন্য ওকে ক্ষমা করতে পাড়ব না। ও তোর অবস্থা জেনেও কি করে তোকে রাস্তায় নামিয়ে দিল তোকে?
কিন্তু লিজাকে শাস্তি দিলেও আমি তোকে কোথায় পাব রুহি? তোর যে কিছুই মনে নেই তার উপর শরীর এর এই অবস্থা তুই কোথায় যাবি? তোর কাছে তো কোন টাকাও নেই।আমি এখন কি করব? তোকে খোঁজা খোঁজি করছি জানলে তুই নিজের ক্ষতি করবি।
এ কোন যন্ত্রনায় ফেলে গেলি আমায়?
জয়ঃরুহিকে কি আমি সত্যিই হারিয়ে ফেললাম? আর কখনো ফিরে পাব না! আর যদিও বা পাই কি অবস্থায় থাকবে ও? কম বয়সি একটা মেয়ের জন্য একলা রাস্তায় রাত কাটানো টা কি খুব সোজা? আর বেবির কি হবে তুই তো নিজের খেয়ালেই রাখতে পাড়িস না রুহি বেবির কি করে রাখবি।
এত শাস্তি কেন দিচ্ছিস আমায়...??? ফিড়ে আয় প্লিজ।
,
,
,
,
চলবে...!!!
(পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষ আলাদা। প্রত্যেকের পছন্দ, অপছন্দ আলাদা আলাদা তাই একটা কাহিনি দিয়ে সবাইকে একসাথে খুশি করা সম্ভব নয় অতএব ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখুন)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now