বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লাল রক্ত

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X লাল রক্ত - শেষ প্রহৱেৱ তিথী রিফাতের মাথায় এখন দুনিয়ার চিন্তা।তিনমাস ধরে বেতন হচ্ছে না।রিফাতের কোনো রাজকোষ নেই যে তা দিয়ে সংসার চালাবে।তারমত সরকারী ডাক্তারের বেতন দিয়ে এ যুগে সংসার চালানো অসম্ভব।সামান্য বেতন দিয়ে ঢাকা শহরে পাঁচ জনের সংসার চালানো খুবই কষ্টকর।সংসারের খরচ,ছেলের স্কুলের বেতন,বাড়ি ভাড়া,বিদ্যুৎ বিল,গ্যাস বিল ,অপরদিকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ছুটে চলা। . কোনোমতে টেনেটুনে সংসার চালাতে হয়।বাড়তি আয়েশ কখনো করা হয়ে উঠে না।কলিগেরা আবার হাসাহাসি করেন তার সততা দেখে।ডাক্তারের চাকরিতে আবার সততা।তবুও ২ বছর ধরে কোনোমতে টেনেটুনে সংসার চালিয়ে আসছে রিফাত।কিন্তু গত ৩মাস ধরে বেতন হচ্ছেনা।কি এক ঝামেলা!!!খোঁজ খবর করার কেউ নেই।সরকারি বেতন দিয়ে কি হবে!সবারতো উপরি আয় দিয়ে বেশ চলে যাচ্ছে।সবাই যার যার ক্লিনিক নিয়ে ব্যস্ত।সরকারি হাসপাতালের রুগীদের খবর ই বা কয়জন রাখে। . ১ম মাসে বেতন হয়নি।যার কাছে ধার করতে গেলেন সে মুখ বাঁকা করে হাসলেন।ডাক্তারের আবার ধার করা লাগে নাকি!!! . ২য় মাসে ধার করতে যাওয়ার পর ধারদানকারী এমনভাবে রিফাতের দিকে তাকালেন যেন রিফাত কোনো এলিয়েন।সে মাসে বলে কয়ে ধার নিয়ে এসেছেন। . ৩য় মাসে সেই একই কাহিনী।এবারও যে বেতন হচ্ছেনা তা নিশ্চিত।এবার কি করবে সে? রিফাত কোনো কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেনা।তার মত সৎমানুষের এ দুনিয়াতে কোনো দাম নেই।এ দুনিয়া কোনো সৎ মানুষ চায়না।দুনিয়া এখন রিফাতের কাছে নরক মনে হচ্ছে। . বিদ্যুৎ বিল,বাড়ি ভাড়া কিছুই দেওয়া হয়নি ২ মাস ধরে।ছেলের স্কুলের বেতনও দেওয়া হয়নি।এই মাসে বিল না দেয়া হলে বিদ্যুৎ কেটে দেয়া হবে।পরপর ৩মাস বেতন না দিলে ছেলেকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে।বাবার চশমাটাও ভেঙ্গে গেছে।বেতন হচ্ছেনা বলে বলতেও পারছেনা।মা আর অহনার কাপড়গুলোও পুরনো হয়ে গেছে।আসলেই "অভাগা যেদিকে যায় সাগরও শুকিয়ে যায়"। . নাহ্।আর কিছু ভাবতে পারছেনা রিফাত।কোনোভাবে উপরি আয় করতে হবে।না হলে সংসার চালানো যাবেনা।সবাইকে না খেয়ে মরতে হবে।এই ভাড়া বাড়ি থেকে বের করে দিলে বুড়ো মা-বাবা আর বৌ-বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাবে সে!!! . রাতে বাসায় যায় রিফাত।ঘরে ঢুকতেই ছোট্ট ছেলে দৌঁড়িয়ে বাবার কাছে আসে।কতদিন ধরে ছেলেটির জন্য চকলেট নিয়ে আসা হয়না।ছেলেকে একটা খেলনাও কিনে দেয়া হয়নি অনেকদিন। ‌↪বাবা,বাবা,আমাকে একটা বন্দুক কিনে দিবে‌?রনিকে না ওর বাবা বন্দুক কিনে দিয়েছে। ↬তোমার বন্দুক লাগবে বাবা? ↪হুম বাবা ↬তাহলেতো আমার বাবাকেও একটা কিনে দিতে হয়। . আলক দৌঁড়ে গিয়ে দাদা দাদী আর মাকে জানায় যে রিফাত ওকে একটা বন্দুক কিনে দিবে।সবাই রিফাতের দিকে তাকায়।সেই তাকানোতে সুখের ছাপ নেই,বরং কষ্টের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। . রিফাত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে যে সে উপরি আয় করবে।সরকারি চাকরি সৎভাবে করে সংসার চালানো যাবে না।তার উপর ৩ মাস ধরে বেতন হচ্ছে না।অনেক ধার দেনাও হয়ে গেছে।জীবন বাঁচানো ফরয।জীবন বাঁচাতে কিছুটা উপরি আয় করা পাপ না।আগে জীবন,পরে নীতি।জীবন থাকলে নীতির ব্যপার দেখা যাবে।বাবা-মা অনেক কষ্টে অনেক টাকা খরচ করে ডাক্তারি পড়িয়েছেন।তাদেরকে এই বয়সে কত কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে আমার জন্য। . ↪স্যার আপনার সাথে একজন লোক দেখা করতে এসেছে ↬ভিতরে পাঠিয়ে দাও ↪আসসালামু আলাইকুম ডাক্তার সাহেব ↬ওয়ালাইকুম আসসালাম।তুমি কমিশনারের ছেলে না??? ↪জ্বি,হ্যা।চিনতে পারসেন তাইলে ↬তুমি এখানে? ↪এইখানে মানুষ কেন আসে?নিশ্চয়ই চা-নাস্তা খাইতে নয়..দরকারেই আসছি ↬কি দরকার? ‌↪আমি প্যাঁচাইয়া কথা বলতে পারিনা।সরাসরি কই।শুনেন তাইলে,আমি যে মেয়ের সাথে টাইম পাস করতাম সে মা হইতে যাইতেছে ↬এখানে আমি কি করবো?তোমার বাবাকে জানিয়ে মেয়েকে বিয়ে কর। ↪বিয়ে করতে চাইলেকি টাইম পাস করতাম??বাবারে বললে আমার ঘর থেকে বের কইরা দিবো।তারপর আমি কই যামু!! আমার আরাম আয়েশ সব শেষ হইয়া যাইবো। ↬তো এখন তুমি কি চাও? ↪আমি ওই বাচ্চা ফালাইয়া দিতে চাই ↬বুঝলাম।কিন্তু এতে মেয়ের মত থাকতে হবে ↪ওর মত নাই।এইটাইতো সমস্যা।এখন এই বাচ্চা দিয়া অয় আমারে প্যাঁচে ফালাইবো ↬মেয়ে মত না থাকলেতো এবোরশন করানো সম্ভব নয়। ↪আপনি চাইলে সব সম্ভব ↬মানে? ↪এইটা আপনের আর আমার মইধ্যে থাকবো।যত টাকা লাগব দিমু কিন্তু কাজটা চুপচাপ করতে হইব।ভাইবা দেখেন!!!যত টাকা লাগব দিমু কিন্তু কাজটা চুপচাপ করতে হইব।ভাইবা দেখেন!!!রাজি থাকলে এই নাম্বারে ফোন দিয়েন।আমি রাতে মেয়েরে নিয়া আসমুনে।আর আপনে মানা করলে আপনের ক্ষতি।আপনে ছাড়াও অনেক ডাক্তার আছে বাংলাদেশে।আসি স্লামালাইকুম . রিফাত ভাবতে লাগল ,ছেলের স্কুলের বেতন,বাড়ি ভাড়া,ধার,বাবার চশমা,শাড়ি সব কেনা যাবে।নয়তো কি হবে আল্লাহ ই ভালো জানেন।অনেকক্ষণ ভাবার পর রিফাত ফোন দিল . ↬হ্যালো ‌↪বলেন ডাক্তার সাহেব ↬নিয়ে এসো রাতে ↪আমি জানতাম আপনে রাজি হইবেন ↬রাখি . রাতে চেকআপের কথা বলে ছেলেটি মেয়েটিকে নিয়ে আসল।হাসপাতালে আসার পর মিথ্যা বলে রিফাত মেয়েটিকে অজ্ঞান করে।তারপর আর কি!!! যা করার তাই করল।বাচ্চাটিকে ফেলে দেয়া হল। . ধন্যবাদ ডাক্তার সাহেব।এই নিন ২ লাখ রাখুন..পরে আরও পাইবেন। . মেয়েটির জ্ঞান ফিরল।অনেকগুলো অভিশাপ দিয়ে গেল রিফাতকে।তারপর কান্না করতে করতে চলে গেল। . রিফাতের বুকের বামপাশে একটা চিনচিনে ব্যথা উঁকি দিয়ে যায়।শেষ বিচারের দিন ওর শাস্তি হবে।যেমন তেমন শাস্তি নয়।জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।টাকাটার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ল রিফাত। . তারপর হাত ধোয়ার জন্য ওয়াশরুমে গেল রিফাত।গ্লাভসগুলো হাত থেকে খুলে হাত ধুতে লাগল।ধোয়া শেষ করে বাহিরে এসে হাত মুছতে নিলেন আর তখনই দেখলেন হাতে রক্ত লেগে আছে।আরে মাত্রইতো হাত ধুয়ে আসলাম,রক্ত থাকে কিভাবে!!!আর একটু আগেতো ছিলোনা,এখন আসলোই বা কোথা থেকে!!! . রিফাত আবার ওয়াশরুমে গেল হাত ধোয়ার জন্য।আরে রক্ততো যাচ্ছেনা,উল্টো একটু বেড়ে গেল।এসব কিভাবে সম্ভব!!! . রাতে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আগে ধারের টাকা পরিশোধ করে রিফাত।তারপর বাবার জন্য নতুন চশমা,মা আর অহনার জন্য কাপড় আর ছেলের জন্য বন্দুক কিনে বাসায় যায় রিফাত। . ↪অহনা কাপড় দেখে জিজ্ঞেস করে বেতন হয়েছে নাকি!!! ↬হুম হয়েছে আর কোনো কথা না বলে রিফাত সরাসরি ওয়াশরুমে চলে গেল।সাবান দিয়ে হাত ঘসছেতো ঘসছেই রক্ত ধোয়ার জন্য।কিন্তু রক্ত যাচ্ছেনা ↪কি হয়েছে? ↬রিফাত আমতা আমতা করে বলল,অহনা দেখোতো আমার হাতে রক্ত লেগে আছে কিনা? ↪নাতো,রক্ততো নেই ↬কি হয়েছেরে বাবা? ↪বাবা দেখোতো আমার হাতের কোথাও রক্ত লেগে আছে নাকি? ↬নারে বাবা।কি হয়েছে তোর? শরীর খারাপ করলো নাকি? ↪না বাবা . রিফাত আবার হাত ঘসে চলছে।রক্ত বেড়ে যাচ্ছে।রক্ত ধুতে হবে। ↬কি হয়েছে তোমার? ↪অহনা আমার হাতে না রক্ত লেগে আছে,কিছুতেই যাচ্ছেনা। ↬কই নেইতো ↪রক্ততো আমি ছাড়া কেউ দেখতে পায়না।শুধু আমিই দেখি।এই যে রক্ত দেখ,বলেই হাত মেলে ধরলো রিফাত . অহনা কোথাও রক্ত দেখতে পায়না।ভয়ার্ত চোখে রিফাতের দিকে তাকাল।রিফাত হাত ঘসেই যাচ্ছে। রক্ত মুছতে হবে,রক্ত বেড়ে যাচ্ছে।আর বাড়তে দেয়া যাবেনা।রক্ত!!!লাল রক্ত!!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রক্তলাল চোখের আয়না
→ রক্তিম লাল আভা
→ লাল রক্ত
→ চীনে ওয়েনঝো নদীর পানি হঠাৎ রক্তলাল!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now