বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তিন্নিঃ এইই!!!!
রাজঃ ( zzzzzzz)......
তিন্নিঃ ওইইইই!!!!
রাজঃ উফফ। কি???!!!!
তিন্নিঃ উঠো না। দেখো
কত্তো বেলা হয়ে গেছে।
রাজঃ উহু। উঠবো না। আজ
শুক্র বার।
একটু ঘুমালে কী হবে
শুনি?
তিন্নিঃ কী হবে মানে?
তুমি এখানে ঘুমাবা
আরাম করে আর আমি
রান্নাঘরে পাতিল
ঠেলবো? আমারও কী একটু
ঘুমানোর জন্যে ইচ্ছে
করেনা বুঝি? তুমি ঘুমাও
আর আমি বসে বসে দেখি
এটা আমার ভালো লাগে
না।
রাজঃ হায়রে। বলছি
এটা কী?
তিন্নিঃ এটা কি মানে?
রাজঃ কোন সিরিয়াল
এর ডায়লগ?
তিন্নিঃ কোন সিরিয়াল
এর ডায়লগ তাই না? এই
তুমি উঠবা? নাকি দিমু
শহিদ কইরা?( এক জগ
পানি নিয়ে)।
রাজঃ এই না না না।
লক্ষী বউ আমার।
এমন করো না।এখন পানি
ঢাললে রাতেও ঘুমাতে
পারবো না। আমি উঠছি
তো।
তিন্নিঃ এইতো। গুড বয়।
এখন উঠে ফ্রেশ হয়ে
নাস্তা খেতে আসো।
রাজঃ হুম। আচ্ছা।
এবার আমাদের
পরিচয়টা দেই।
আমি রাজ। পড়াশোনা
শেষ করে প্রায় ২ বছর
হলো বাবার ব্যাবসা
টা কে আগলে রেখেছি।
আমার পরিবারে আছেন
মা -বাবা আর একটা
পিচ্চি বোন।
সবাইকে নিয়ে অনেক
সুখেই ছিলাম। কিন্তু
আমাকে আরও সুখী করে
দিলো তিন্নি আমার
জীবনে এসে। মেয়েটার
সাথে আমার পরিচয়
হয়েছিলো সেই কলেজ
লাইফে।
তখন আমি ইন্টার
ফাইনাল ইয়ারে পড়ি।
আর তারপর তার সাথে
বন্ধুত্ব আর তারপর
কাছে আসা। তার সাথে
আমার সম্পর্ক টার কথা
আমাদের পরিবারে
জানালে তারা আর
কোনো আপত্তি করেন নি।
আর আমি আমার বাবা মা
এর একমাত্র ছেলে।
তারাও আর কোনো আপোষ
করেন নি।খুব সহজেই
রাজী হয়ে গেলেন।
মেয়েটার চাওয়া গুলো
খুবই সামান্য। অফিসে
যাবার আগে তার
কপালে চুমু দিয়ে
যাওয়া, রাতে একসাথে
খাওয়া, খাওয়ার পর
একসাথে চাঁদ দেখা,
রাতে আমার বুকের ওপর
মাথা রেখে ঘুমানো,।
এগুলোই তার চাওয়া।
মেয়েটা নিজের জন্যে
আজ পর্যন্ত কিচ্ছু চায়
নি।
কিন্তু তার এই কাজ
গুলোর মধ্যে যদি কোনো
একটা তে বাধা দিলে
বা আমার ভুল থাকলে
সারাদিন আমার ওপর
১৪৪ ধারা জারি করে
সে।
যাই। এবার ওয়াশরুম এ
যাই। নয়তো এসে সত্যি
সত্যি পানি ঢেলে
দেবে।
তারপর নাস্তার
টেবিলে চলে এলাম।
নাস্তা করে রুমে বসে
আছি তখন তিনি আসলেন।
এসেই ধপ করে আমার
পাশে বসে পড়লেন।
রাজঃ কী হলো? এভাবে
বসে আছো যে?
তিন্নিঃ না কিছু না।
রাজঃ দেখি মুখ টা?
এই শোনো না। চলো না
আজকে কোথাও যাই।
একটু ঘুরে আসি।
তিন্নিঃ তাই? যাবে??
সত্যি?!!!
রাজঃ হুম যাবো।
কিন্তু এখন না। বিকেল
বেলা।
তিন্নিঃ হুম। আচ্ছা।
রাজঃ কিন্তু, একটা শর্ত
আছে।
তিন্নিঃ কি শর্ত?
রাজঃ একটা ইয়ে দিতে
হবে। দেবে?
তিন্নিঃ এই বাদর। এখন
একদম এই সব না।
রাজঃ দাও না একটা।
তিন্নিঃহুমমমম
অতঃপর কোনো অজানা
একটা দুনিয়ায় হারিয়ে
গেলাম।
আর পাগলীটা লজ্জায়
লাল হয়ে গেলো।
সত্যিই। মেয়েটা কে সব
রুপেই দারুন দেখায়।
কোনো কিছুই যেন তার
সৌন্দর্য্য কে আড়াল
করে রাখতে পারে না।
তারপর বিকেল বেলা
তে উনাকে নিয়ে বের
হতে হলো।
প্রথমে তার বাবার
বাড়ি মানে আমার
শ্বশুর বাড়ি গেলাম।
সেখানে কিছুক্ষণ থেকে
তারপর অনেক জায়গায়
ঘুরলাম।
পাগলী টা আজ অনেক
খুশি হয়েছে।
তার হাসিমুখ টা
দেখার জন্যে আমি
শতবার মরতেও রাজি।
খুব যে ভালো বাসি
তাকে আমি।
মেয়েটার সব কিছুর
মায়া তে আমাকে এমন
ভাবে জড়িয়েছে যা
থেকে ছাড়া পাওয়া
অসম্ভব।
সন্ধ্যের আগে ওকে
বললাম ফুচকা খাবে কি
না।
তো উনি বললো খাবে।
তারপর আমরা সেখানে
গিয়ে খাওয়া শুরু
করলাম।
তখনই দেখলাম আমার
অফিস এর একজন কলিগ
আমাকে ডাকছে।
আমি সেখানে যেতেই
সে আমার সাথে কথা
বলা শুরু করলো। ও হ্যা, ও
শুধু কলিগ এই নয়। আমার
কলেজ লাইফ এর একজন
বান্ধবীও। অনেক দিন
পর দেখা হলো তার
সাথে। অফিসে কেন যায়
না আর কি হয়েছিলো
তার এসব নিয়েই কথা
হচ্ছিলো। আমি পেছনে
ফিরে দেখি তিন্নি
কেমন করে জানি
তাকিয়ে আছে।
আর সেই তাকানো টা
স্বাভাবিক তাকানো
নয়। চোখের পাশে নোনা
জল তো রয়েছেই আর
রয়েছে রাগ এর চিহ্ন।
মনে হচ্ছে কাচা
চিবিয়ে মশলা ছাড়াই
খেয়ে নেবে আমাকে।
আমি তারপর সেই
মেয়েটার কাছ থেকে
বিদায় নিয়ে চলে
এলাম তিন্নির কাছে।
তারপর বিল দিয়ে
বাড়ি ফিরে আসলাম।
সারা রাস্তা আমার
সাথে কোনো কথা
বলেনি ও। আমিও
বুঝেছিলাম কেন কথা
বলছে না। তবুও আমি
নানা ভাবে তাকে কথা
বলানোর চেষ্টা
করছিলাম।
কিন্তু বিধি বাম। সে টু
শব্দটিও করেনি আমার
সাথে।
বাড়ি ফিরে আসতেই
আবার সেই স্নেহার
ফোন। আমি রিসিভ
করলাম।
রাজঃ হ্যালো স্নেহা?
কিরে এ সময় ফোন
দিলি??
স্নেহাঃ হ্যা রে। আসলে
কিছু কথা ছিলো।
আমি আসলে অফিসে আরও
কয়েকদিন পর জয়েন
করবো। আমার বাসায়
একটু ঝামেলা হয়েছে
তাই আর কী। তোর কোনো
সমস্যা নেই তো?
রাজঃ না না। সমস্যা
নেই। তোর যেদিন মন
চায় সেদিনই আসিস।
স্নেহাঃ থ্যাংক ইউ।
রাখছি কেমন?
রাজঃ আচ্ছা রাখ।
আমি দেখলাম তিন্নি
রুমের এক কোণে
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব
শুনছিলো।
মেয়েটা এই বুঝি কেঁদে
ফেলবে।
আমি কিছু বলতে যাবো
ওমনি চলে গেলো।
আসলে খুব রাগ হচ্ছে
নিজের ওপর। আমিও না।
সত্যিই। কেমন যেন।
আমি ওকে গাড়িতে বলে
দিলেই পারতাম
স্নেহার ব্যাপার টা।
আমিও সেটা না বলে
সবকিছু উলটে দিলাম।
ধুর। ভাল্লাগেনা। এখন
কী করে সামলাই ওকে
আমি?। তিন্নি ও তো
ভীষন রেগে আছে আমার
ওপর। নাহ।
রাতেরবেলা কিছু একটা
করতে হবে নাহলে
আমার পাগলীটার মন
টা এভাবেই খারাপ
হয়ে থাকবে। মেয়েটা
আমায় প্রচণ্ড
ভালোবাসে। তাই
আমাকে অন্য কোনো
মেয়ের সাথে কথা
বলতে দেখলেই তার
এমন সিরিয়াস
রিয়েকশন হয়। আর আমিও
ব্যাপার টা বেশি
বেশিই করে নিয়েছি।
রাতের বেলা,,,,,
রাতের বেলা খেয়ে
দেয়ে রুমে বসে আছি।
কিন্তু তিন্নি আসছে না।
এভাবে প্রায় আধ
ঘন্টার মতো কেটে
গেছে। কিন্তু তিন্নি
আসছে না। ব্যাপার কি?
উফফ। কি যে করে না
মেয়েটা। সেই রাগ করে
হয়তো ছাদের দোলনা
টায় একা একা বসে
আছে।
মেয়েটা তো অন্ধকার এ
ভয় পায়।
কিন্তু রাগ উঠলে ভূলে
যায়।আমিও এক সেকেন্ড
দেরি না করে চলে
গেলাম ছাদে।
গিয়ে দেখি তিন্নি
ঠিকই একা একা দোলনা
টা তে বসে আছে। আমি
কাছে যেতেই দেখি ও
কাঁদছে। বুকটা তখনই
ফেটে যাচ্ছিলো। আমি
গিয়ে ওর পাশে বসতেই
ও উঠে চলে আসছিলো।
আমি তখনই ওর হাত টা
ধরে নিলাম।
রাজঃ কোথায় যাওয়া
হচ্ছে আমাকে ফেলে
শুনি?
তিন্নিঃ ছাড়ো
আমাকে!!!! ছাড়ো বলছি!!!
রাজঃ ছাড়ার জন্যে তো
ভালোবাসিনি।
তিন্নিঃ কেন? আমায় তো
তোমার আর ভালো লাগে
নাহ। তুমি যাও ওই
মেয়েটার কাছে। নাম
টা কী যেন? ওহ হ্যা,
স্নেহা। ওর কাছে যাও।
আর আমায় ছাড়ো।
রাজঃ ইশশশ!!!. খুব রাগ
হয়েছে আমার ওপর তাই
না?? আগে শোনো না।
স্নেহা আমার কলেজ
লাইফের একজন পরিচিত
মেয়ে আর ক্লাসমেট।
বান্ধবী ও বলা চলে। ও
আমাদের অফিসে চাকরী
করে। ওর বাসায় সমস্যা
হয়েছে বলে সে তার
জয়েনিং ডেট টা
পিছিয়ে নেবার জন্যে
আমার সাথে কথা
বলেছিলো।
আমাকে তো ও ফোন ও
দিয়েছিলো।
তারপর বললো যে ওর
সমস্যার কারনে ও আর
কয়দিন পর জয়েন করবে
আবার নতুন করে।
বিশ্বাস করো লক্ষীটি
আমার। ওর সাথে আমার
তেমন কিচ্ছু নেই।
তিন্নিঃ তাহলে তুমি
আমাকে আগে বললে না
কেন এগুলা?( কেঁদে
কেঁদে)।
রাজঃ এই দেখো। আবার
পাগলীটা কান্না শুরু
করে দিলো। আমি তো
বলতে চেয়েছিলামই
কিন্তু তুমি বলার সুযোগ
দিলা কই?
তিন্নিঃ সরি সোনা।
তোমার সাথে ওই
মেয়েটা কে দেখার পর
আমি সহ্য করতে
পারছিলাম না। আমার
মাথায় তখন খুব রাগ
উঠেছিলো। কোনো ভাবে
নিজেকে কন্ট্রোল করতে
পারছিলাম না। খুব কষ্ট
পেয়েছিলাম ওকে দেখে
তোমার সাথে।
যে যাই বলুক। আমি
আমার স্বামী আর আমার
ভালোবাসার ভাগ
কাউকে দিতে পারবো
না। বিনিময়ে আমার সব
কিছু চলে যাক। আমি
তোমার ভাগ কাউকে
দিতে পারবো না। আমি
শুধু তোমার ভালোবাসি।
আর কাউকে আমি এতোটা
ভালোবাসি না যতটা
আমি তোমাকে বাসি।
রাজঃ দোষ আমারও আছে
রে পাগলী।
বাদ দাও তো ওসব।
তিন্নিঃ এর পর থেকে
যদি আর কোনো মেয়ের
সাথে দেখেছি দাত
কেলিয়ে হেসে হেসে
কথা বলতে তাহলে
তোমার একদিন আর
আমার যতদিন লাগে।
(কলার চেপে ধরে)
রাজঃ ওকে বাবু।
সরি,সরি,সরি। আর এমন
হবে না। এবার একটু
হাসো।
তোমার হাসিমুখ টা না
দেখলে আমার পুরোটা
দিন মাটি হয়ে যায়।
প্লিজ হাসো।
তারপর আমি সেই
হাসিটা দেখতে
পেলাম।
আহা। কি অপরুপ সুন্দর
হাসি। একবার দেখলে
বারবার দেখতে মন
চায়।
তারপর বললাম,
রাজঃ তা আমার পাগলী
টার কী অভিমান
কমেছে?
তিন্নিঃ তোমার সাথে
আমি কী কোনো দিন
অভিমান করে থাকতে
পেরেছি বলো?
রাজঃ হুমম তাও ঠিক।
তা ম্যাডাম?
তিন্নিঃ হুম? ( বুকে
মাথা রেখে)
রাজঃ আজ কী আপনার
আদর পাবো না?। নাকি
পানিশমেন্ট দেবেন?
তিন্নিঃ এই শয়তান,
তুমি এমন করলে তোমার
পিচ্চি কী শিখবে
শুনি???
পরে আমার ছেলে কী
শিখবে শুনি?
রাজঃ আমাদের পিচ্চি?
তিন্নিঃ হুমম। আপনি
বাবা হতে চলেছেন
মহাশয়।
রাজঃ সত্যি?!!!!!!
তিন্নিঃ হুমমম সত্যি,
সত্যি,সত্যি।
রাজঃ তবে যাই বলো,
আমার কিন্তু মেয়েই
হবে। দেখতে হবে তার
মায়ের মতো সুন্দরী। আর
মায়াবী।
তিন্নিঃ জ্বী নাহ।
আমার একটা ফুটফুটে
ছেলে বাবু চাই। যে
হবে তার বাবার মতো
দেখতে। যেন তার বাবা
আমার থেকে দূরে
থাকলেও, আমার ছেলের
মুখ খানি দেখে তার
বাবার কথা অতি যত্নে
মনে রাখতে পারি।
রাজঃ এই মেয়ে। কে
দূরে থাকবে হুম? কি
করে পারবো তোমার
থেকে দূরে থাকতে?
যাকে ভালোবাসি তার
থেকে কি করে দূরে সরে
থাকবো?আমার বুঝি কষ্ট
হবে না?
তিন্নিঃ I Love You......
রাজঃI Love You Too...
তিন্নিঃ এভাবেই
আমাদের সবাই কে
আগলে রাখবে তো
আজীবন?
রাজঃ রাখবো। কোথাও
যেতে দেবো না কাউকে।
কোথাও না।
বেচে থাকুক
ভালোবাসার অটুট
বন্ধন।প্রকৃত
ভালোবাসাটা এমনই
হয়। যেখানে নিজের
প্রিয় মানুষটাকে
হারানোর ভয় আগে
থাকে। অন্য কেউ
ছিনিয়ে নিয়ে যাবে
এই ভয় টাই থাকে।
কিন্তু সত্যিকারের
ভালোবাসা কখনও কেউ
কেড়ে নিয়ে নিতে
পারে না।
এটা একটা এমন বাধন
যা কখনও ছিন্ন হবার
নয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now