বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লাভ এট নার্ভাস নাইনটিজ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মুহাঃ এ.এস শেখ (০ পয়েন্ট)

X লাভ এট নার্ভাস নাইনটিজ ০৯-০৩-২০০৬ “অনিক ভাই, এই অনিক ভাই শুনছেন? আজব তো! কি হলো আরে এই ভাইয়া” কত ডাকলাম। নতুন কিছুনা আজো অনিক ভাই যথারীতি শুনেও না শোনার ভান করে চলে গেলো, কেমনটা লাগে? এসব নাটকের কোনো মানে হয়? এত করে ডাকছি,খুব বুঝতে পারছি শুনছে,কিন্তু কোনো উত্তর দিবেনা। সেই কবে,ক্লাস এইটে যখন প্রথম সিলেট আসলাম,আমার কোনো বন্ধুই ছিলনা, দাদাটাও সারাদিন আমার পেছনে লেগে থাকতো। আরিফ ভাই, রাঙ্গাদা, তোতনদি, আশিক ভাই সবাই আমাকে পচাত খুব, দেখলেই শুরু হত “এই যে খুকুমনি, বাবু” আরো কত কি। অনিক ভাই শুধু কেনো যেন চুপ হয়ে যেত আমাকে দেখলে। উফ আমি এত বোকা নিজের ডাইরীতে নিজের মানুষটাকে কেমন ভাই ভাই করছি! ও কোনদিন ভাই ছিলো নাকি আমার? হা হা হা! অনিকের একটা কথা শোনার জন্য কত ঘন্টার ঘন্টা কান পেতে রেখেছি দাদাদের আড্ডায়, স্কুল ফেলে ছুটে গেছি অনিকের প্র্যাকটিস দেখতে। কতরাত জেগেছি অনিকের পায়ে ব্যথা শুনে। আর অনিক? এটা কি লেখা লাগে?? ১২-০৩-২০০৬ বাবার গায়ে বেশ জ্বর,কোনো কারণ নেই। বাবার মন খারাপ। আর আমার মেজাজ ভয়ঙ্কর খারাপ। অনিককে হাতের কাছে পেলে চুল ছিড়ে দিতাম, মানুষ এত স্টুপিড কিভাবে হয়? শুধু কি ম্যাচ জিতলেই চলবে, নিজের খেলা নিয়েও তো ভাবতে হবে। তুমি এত ভালো প্লেয়ার, ম্যাচ উইনিং ব্যাটসম্যান বাট একটা সিঙ্গেল ম্যাচেও আজ পর্যন্ত সেঞ্চুরি করতে পারলেনা? ক্লাসের তুমি সেরা ছাত্র, অল সাবজেক্টে এ+ পাও, গিটার বাজাতে জানো পারোনা খালি একটা সেঞ্চুরি করতে। সারাক্ষণ মুখে খই ফুটে আর আমাকে দেখলেই বোবা হয়ে যাও। বাবার পা ভেঙ্গে গেছে গত মাসে, ডাক্তার বলেছে ৩ মাস বেড রেস্ট। ঘরে বসে দেশ-বিদেশের নামি দামি প্লেয়ারদের খেলা দেখলেই পারে। তবু অনিকের খেলা থাকলে বাবার দেখা চাই ই চাই। কি যে কষ্ট করে তাকে মাঠ পর্যন্ত নিয়ে যাই আমি আর দাদা জানি। আর আপনি দিব্যি ম্যাচ একাই টেনে নিলেন, দারুণ ফিল্ডিং করলেন, চার ছক্কার বন্যা বসিয়ে দিলেন, দল নিশ্চিত জিতবে তারপর যথারীতি ৯৭ রানে আউট হয়ে গেলেন। এত্ত রাগ লাগছে, ছ’রাকাত নফল নামাজ পড়েছি। মোড়ের ভুয়া কানাটাকে ৫টা টাকাও দিয়েছি, কি লাভ হলো। যত্তসব,আর কোনোদিন যদি গেছি ওই ছাগলের খেলা দেখতে। বাবাকে বলেছিলাম থাক, না যাই আজকে। না যেতেই হবে, এবার হলোতো, এখন খুবতো মন খারাপ করে বসে আছো। অসহ্য… ৩০-০৭-২০০৬ উফ আল্লাহ! অবশেষে শেষ হলো ঘোড়ার ডিমের পরীক্ষাটা। বাপরে বাপ! সেই কবে থেকে ঘরে বন্দি হয়ে আছি। শুধু পড়া, খাওয়া ঘুমৃআমার টুনটুনি আমার কুটুকুটু আমার ডাইরী সোনা তোমাকে কত্ত মিস করেছি জানো? অবশ্য অনিকের চেয়ে বেশি না, একটু কম। আরে বাবা রাগ করলে নাকি? একটু বুঝো প্লিজ। অনিক আমার বাবু না? তবে এটা সত্যি পড়াশুনা আর নয়। উফ বাবাটা যে কি! অনেক তো পরলাম, এইচ এস সি দিয়ে দিলাম। আর কত? সেই কবে অনিকের সাথে দেখা হয়েছিলো। অঙ্ক পরীক্ষার দিন, বেচারা দাঁড়িয়ে ছিলো হলের গেটে, আমাকে দেখে তার কি লজ্জা। কথাই বলেনা, কোনমতে এতটুকু বললো যে এমনি এদিক দিয়ে যাচ্ছিল তাই ভেবেছে হলে একটা ঢু মেরে যাই। ভেবেছিলাম জ্বালাবো খুব। কিন্তু বেচারার লজ্জা দেখে মায়া লেগে গেলো। আচ্ছা অনিক তুমি কি কোনদিনও কথাটা আমাকে বলবে না? দাদা পর্যন্ত টের পেয়ে গেছে, শুধু তুমিই কিছু বুঝোনা। ১৫-০৮-২০০৬ অনিকের কি যেন হয়েছে। কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে। সন্ধ্যায় আড্ডা দিতে আসেনা, প্র্যাকটিসেও যায়না। দাদা ফোন দিলে নাকি ফোনও ধরেনা। বাবাও সেদিন বলছিলো অনিকের কি হয়েছে রে-শুনলাম নাকি ন্যাশনাল টিমে ডাকতে পারে। কথাটা শুনে এত ভালো লেগেছিলো কান্না পেয়ে গিয়েছিলো আমার। ওইদিনই বিকেলে রিমুদের আইসক্রিম খাওয়াতে হয়েছে। কোন্ মতে ওদের কাটিয়ে হলমার্কস থেকে কার্ডও কিনে এনেছি। কিন্তু আমার রাজপুত্রের যে দেখাই নেই। আজও যদি না আসেৃ একদম গিয়ে হাজির হবো বাসায়। তখন দেখবো, কি করে। ১৭-০৯-২০০৬ অসহ্য লাগছে। মনে হচ্ছে পাগল হয়ে যাবো। একটা মাস হয়ে গেছে তোমাকে দেখিনা। তুমি নাকি রিমুকে বলেছো, তুমি খুব ভীতু মানুষ।কোনকিছু পাওয়ার সামর্থ্য তোমার নেই। এত কষ্ট পেয়েছি। তুমি ন্যাশনাল টীমে চান্স পেয়েছো, আমাকে ফেলে চলে যাচ্ছ। সারাদেশ তোমার পেছনে পেছনে ছুটবে। রাজকন্যা রাজ্য সব হবে তোমার। আমি কে? আমি কে তোমার? ২৫-০৯-২০০৬ আল্লাহ এটা কি করলে তুমি? আমি কখনোই এটা চাইনি। অনিক চলে যাবে ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছিলো কিন্তু তাই বলে ওকে ডেকে নিয়ে বাদ দিয়ে দেবে। আর কোনদিনও খেলা দেখবোনা, কোনদিনও না। আল্লাহ এটা তুমি কি করলে? ০৩-১০-২০০৬ এখনো গা কাঁপছে আমার। বিশ্বাস হচ্ছে না। ও আল্লাহ আমি স্বপ্ন দেখিনিতো । অনিক অনিক অনিক তুমি আমাকে ভালোবাসো? আমাকে? আমাকে? আমাকে? আমাকে? তুমি ভালোবাসো? আমাকে? রিমু যখন আমাকে তোমার চিঠিটা দিলো, আমি ধরেই নিয়ে ছিলাম ও দুষ্টুমি করছে, যদিও রিমু আমার সবচেয়ে আপন বন্ধু, ও অন্তত জানে আমি কত্ত কত্ত কত্ত ভালোবাসি তোমাকে। চিঠিটাতে তোমার গন্ধ, লাইনগুলো আমাদের ভালোবাসার গল্প, মাত্র সাতটা কথা- কণা তুমি কি জানো? পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যহীন বোকা আর মুখচোরা মানুষটা তোমার হয়ে গেছে। আজ নয়, কাল ও নয়, গত পরশু ও নয়,গত ছয় বছর আগে। তুমি কি কাউকে ভালোবাসো? বাসলে বলো, না বাসলেও – আমি শুধু আর একটা চিঠি দেব, তাতে শুধু লেখা থাকবে ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি, তুমি নাই বা বাসলে; আমি একাই দুজনের টা বেসে নেব, অতটা ভালোবাসা আমার হৃদয়ে আছে কণা… অনিক, আমি ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি-শুধু তোমাকে । ০৫-১০-২০০৬ বাবু কেমন লাগলো আজকে? হি হি হি হি হি! ছয়টা বছর আমাকে কাঁদিয়েছো, দেখো এখন কেমন লাগে। মানুষ কত অদ্ভুত, কয়টা দিন আগেও যখন তুমি ন্যাশনাল টীমে যাই যাচ্ছি করছিলে কি ভয়েই না ছিলাম। আর কি কাজটাই না করলাম আজকে হি হি হি। বুকটা ধুঁকপুঁক করছিলো,তাও খুব সাহস করে বলেই ফেললাম, দেখো অনিক ভাইয়া তোমার তো সমস্যা অনেক, তুমি আসলে এতপরে জানিয়েছ, আসলে আমি তো, ইয়ে মানে। হি হি হি হি হি হি হি। অনিক তো আরেকটো হলে কেঁদেই ফেলে। যখন বললাম আচ্ছা এক কাজ কর। আজ পর্যন্ত তো একটাও সেঞ্চুরি করতে পারলেনা, এর পরের যে ম্যাচটা খেলবে সেটাতে তোমাকে সেঞ্চুরি করতেই হবে। তবে নাহয় ভেবে দেখবো। কি পারবেনা? উফ আল্লাহ অনিকের মুখে যেন একটা একশ ওয়াটের বাল্ব জ্বলেই ফিউজ হয়ে গেলো। হা হা হা । বেচারা বাবুটা আমার!!!!! ১৯-১০-২০০৬ আমি এটা কি করলাম? মজা করতে গিয়ে কি করে বসলাম? টেনশনে ঘুম হারাম হয়ে গেছে, কাল অনিকের খেলা। কি হবে আল্লাহ। তুমিই পারো একমাত্র বাঁচাতে,উফ কি করলাম। নামাজ পড়ি যাই, আজ সারারাত নামাজ পড়বো। ২০-১০-২০০৬ অনিক হসপিটালে, ওকে কিছুতেই জানতে দেয়া যাবেনা, আমি মরে গেলেও না। কক্ষণো না। ২১-১০-২০০৬ অনিক তুমি যে কি, সবার সামনে হাত ধরে ফেললে। এত লজ্জা পেয়েছি আমি, এই তুমি কি? পাগল নাকি? ১৫-১১-২০১০ কাল সকালে আমাদের বিয়ে, কণা বিফং অনিকৃ কিছু লেখার নেই আমার আজ, যা বলার তোমাকেই তো বলবো কাল থেকে, তাইনা বাবু? আমাদের দশ বছরের লুকোচুরির পর দাম্পত্যের শুরু; এর মাঝে কোনো মিথ্যে নেই অনিক। শুধু একটা কথা তোমাকে বলিনি কোনদিন, সেদিন লাস্ট বলে তোমার জাস্ট একটা রানই লাগতো, তুমি দারুন একটা শট নিলে, তুমি কিন্তু দৌড়াওনি, কয়েক সেকেন্ডও যায়নি তুমি সেন্সলেস হয়ে গেলে। দাদাই ক্যাচটা ধরে, ওতো জানতোনা কিছুই, পরে ওকে সব বললাম তোমার সেন্স আসলো, তোমাকে বলা হলো তুমি ছক্কা পিটিয়েই সেঞ্চুরি করেছ, তুমি সবার সামনে আমার হাত ধরে কান্না করে দিলে খুশিতে… তুমিও কাঁদছ, আমিও কাঁদছি, এবার আর আউট নয়, এবার লাভ এট নার্ভাস নাইনটিজ…


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ লাভ এট নার্ভাস নাইনটিজ
→ লাভ এট নার্ভাস নাইনটিজ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now