বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
সুমি ছিল একদম সাধারণ এক কলেজছাত্রী। বয়স মাত্র আঠারো। পড়াশোনার চাপ, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, মাঝে মাঝে ফেসবুকে ছবি পোস্ট—এই ছিল তার জীবন। পড়াশোনার ফাঁকে মেসেঞ্জারে বন্ধুদের সাথে গল্প করা তার অভ্যাস। তবে একদিন বিকেলে অচেনা এক প্রোফাইল থেকে মেসেজ এলো—
“ভিডিওতে কীভাবে এত সুন্দর দেখছো? কোথায় হয়েছে?”
প্রথমে সুমি একটু অবাক হলো। ভিডিও? সে তো গত কয়েকদিন কোনো ভিডিও আপলোডই করেনি। মনে হলো হয়তো কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কৌতূহলবশত সে রিপ্লাই করল—“কোন ভিডিও? আমি তো কিছু দেইনি।” সঙ্গে সঙ্গে অপর প্রান্ত থেকে একটি লিঙ্ক পাঠানো হলো।
“এই যে, এখানে আছে। ক্লিক করলেই দেখতে পাবে।”
সুমি একটু দ্বিধায় পড়লেও ভেবেছিল, হয়তো তার কোনো বন্ধুর শেয়ার করা ভিডিও, তাতেই হয়তো তার ট্যাগ আছে। তেমন কিছু না ভেবে লিঙ্কে ক্লিক করল। পেজটি দেখতে ফেসবুকের লগইন পেজের মতো লাগল, কিন্তু সে খেয়াল করল না যে আসল ঠিকানার পরিবর্তে কিছু অদ্ভুত ইংরেজি অক্ষর আর সংখ্যা রয়েছে। নিজের ইমেইল আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতেই পেজটি বন্ধ হয়ে গেল।
প্রথমে কিছুই বুঝতে পারল না সুমি। ভাবল, হয়তো নেটওয়ার্ক সমস্যায় এমন হয়েছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার জীবনে শুরু হলো এক দুঃস্বপ্নের অধ্যায়।
রাতে আরেকটি মেসেজ এলো, এবার একদম ভিন্ন স্বরে—
“তোমার কিছু ব্যক্তিগত ছবি আর ভিডিও আমার কাছে আছে। এগুলো তোমার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেব, যদি তুমি ২০,০০০ টাকা না পাঠাও।”
সুমি যেন মাথা ঘুরে গেল। প্রথমে মনে হলো, কেউ হয়তো মজা করছে। কিন্তু যখন অপরিচিত সেই আইডি থেকে তার কিছু ব্যক্তিগত ছবি পাঠানো হলো—যেগুলো সে কেবল ক্লাউড স্টোরেজে রেখেছিল—তখন তার চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে গেল।
সে বুঝতে পারল, ওই লিঙ্কে ক্লিক করেই তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। তার গুগল ড্রাইভ, ফেসবুক, এমনকি ইমেইলও তারা হাতিয়ে নিয়েছে। ছবিগুলোও সেখান থেকেই নিয়েছে।
সুমি ভয়ে, লজ্জায়, আতঙ্কে কাউকে কিছু বলতে পারছিল না। সে ভাবছিল, টাকা দিলে হয়তো সমস্যার সমাধান হবে। তাই আতঙ্কের মধ্যেই অপরিচিত সেই নাম্বারে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দিল।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কয়েকদিন পর আবারও মেসেজ এলো—
“তুমি যদি আবার ১৫,০০০ টাকা না পাঠাও, এবার তোমার ছবিগুলো তোমার বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দেব।”
সুমি তখন বুঝল, টাকা দিয়ে মুক্তি পাওয়া যাবে না। প্রতারকরা একবার টাকা পেলে থামবে না। কিন্তু এখন তার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ—ভয়, লজ্জা, অপমানের আতঙ্কে সে যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে। পড়াশোনায় মন বসছে না, রাতে ঘুম আসে না।
অবশেষে একদিন সাহস করে সে তার এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে সব কথা বলল। বান্ধবী তাকে বোঝাল যে, এক্ষেত্রে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ জানানোই একমাত্র উপায়।
প্রথমে সুমি ভয় পাচ্ছিল—পুলিশে জানালে যদি পরিবারের কাছে খবর পৌঁছে যায়? কিন্তু বান্ধবী বলল, “এভাবে চুপ থাকলে ওরা থামবে না। তুমি একা নও, অনেকেই এই ফাঁদে পড়ে। পুলিশ গোপনীয়তা রক্ষা করে ব্যবস্থা নেবে।”
সেই কথায় সাহস পেল সুমি। সাইবার ক্রাইম ইউনিটে গিয়ে বিস্তারিত জানালো—কীভাবে লিঙ্কে ক্লিক করেছিল, কীভাবে পাসওয়ার্ড দিয়েছিল, কীভাবে টাকা পাঠিয়েছে। পুলিশ তাকে বলল, এই ধরণের লিঙ্ক আসলে “ফিশিং”—যেখানে ভুয়া ওয়েবসাইট বানিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। আর এই ধরনের অপরাধ অনেক সময় মানহানি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য একসাথে ব্যবহার হয়।
পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিল। তারা মোবাইল ট্র্যাকিং ও বিকাশ নম্বরের তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকের অবস্থান শনাক্ত করল। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেপ্তার হলো সেই ব্যক্তি—সে আগে থেকেই এই ধরনের প্রতারণার সাথে জড়িত ছিল এবং একাধিক মেয়েকে একইভাবে ব্ল্যাকমেল করেছিল।
সুমি যদিও ভয়াবহ মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গেছে, তবে অন্তত স্বস্তি পেল যে অপরাধী ধরা পড়েছে। সে এখন বুঝতে পারে, অনলাইনে একটি অসতর্ক ক্লিক কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
আজ সে নিজের অভিজ্ঞতা বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে, কলেজে সচেতনতা ক্যাম্পেইনে যোগ দেয়। সুমি জানে, সে একা এই যুদ্ধে জয়ী হয়নি—তার বান্ধবীর সাহস জোগানো কথা এবং পুলিশের সহায়তা তাকে পথ দেখিয়েছে।
{গল্প একটাই শিক্ষা দেয়—একটি লিঙ্কে ক্লিক করার আগে শতবার ভাবতে হবে। আর ভয় বা লজ্জায় চুপ থাকলে অপরাধীরা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো, সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।}
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now