

--------------------------------------------
বিশ্ব মুসলিম জাতি ত্যাগের নিদর্শন স্বরূপ মহাসমারোহে পশু যবেহ করার মাধ্যমে জিলহজ মাসের দশম তারিখে যে উৎসবপালন করে থাকে তাকে ঈদুল আযহা বলে।আর ঈদুল আযহাতে পশু যবেহ করাকে কুরবানি বলে।
আল্লাহর নবী হযরতইবরাহীম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে তাঁর প্রিয় পুএ হযরত ইসমাইল (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করতে প্রস্তুত ছিলেন।পুএ ইসমাইল (আ.) ও এটাই আল্লাহরইচ্ছা জানতে পেরে আনন্দ চিত্তে তা গ্রহণ করেন।আল্লাহর ইচ্ছায় ইসমাইল (আ) এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে যায়। এ স্মৃতি রক্ষার্থে মুসলমানগণ প্রতিবছর কুরবানি করে থাকেন।
কিন্তু আজ আমরা কি? মুসলমানগণ কুরবানি ঠিকই করছেন আল্লাহ আকবর বলে ছুরি দিয়ে ঠিকই কুরবানি করতে প্রস্তুত কিন্তু তা শুধু দেখানো মাএ। আর্থিক সংগতিপূর্ণ প্রত্যেক মুসলমানকে কুরবানি করতে হয়।এটা আল্লাহর বিধান। মূলত কুরবানি র মাধ্যমে মুসলমানদের ইমান ও তাকাওয়া পরীক্ষা হয়ে থাকে।আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"আল্লাহর নিকট সেগুলোর(কুরবানিট পশুর) গোশত এবং রক্ত পৌঁছায়না বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।" (সূরা আল-হজ্জ,আয়াত ৩৭)
শুধু ছুরি দিয়ে পশু যবেহ করাই কুরবানির মূল উদ্দেশ্য নয়। মনে আল্লাহর প্রতি ভয় রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যেমন কুরবানি করছি তেমনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও সদা প্রস্তুত এরকরম লক্ষ্য নিয়ে আল্লাহ আকবর বলে পশু যবেহ করাই কুরবানর মূল উদ্দেশ্য। কেউ কেউ শুধু সমাজে নিজের আর্থিক অবস্থা দেখানোর জন্য প্রতিবছর কুরবানি দিয়ে থাকেন।আবার মান রক্ষার জন্য বেশ ঘটা করেও কুরবানি দিয়ে থাকেন।কিন্তু এভবে তো কুরবানির অতুলনীয় ইতিহাসকে স্মরণ করা যায়না।কারণ এই ইতিহাস এ স্মৃতি রক্ষার্থেই মুসলমানগণ কুরবানি দিয়ে থাকেন। শুধু গোশত বা রক্তের নাম কুরবানি নয় আল্লাহর নামে সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার নাম কুরবানি। ইমান ও তাকওয়ার পরীক্ষা হয়ে থাকে কুরবানির মাধ্যমে আর এই তাকাওয়াই হচ্ছে কুরবানির প্রাণশক্তি। আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও অশেষ পুন্য পাওয়ার আশায় কুরবানি করব।
শুধু যে মানুষ মান সম্মান রক্ষার জন্য কুরবানি দেয় তা না।অনেক সামর্থ্যবান ব্যক্তিও কুরবানি দেয়না। সামর্থ্যবান ব্যক্তি কুরবানি না করলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) অসন্তুষ্ট হন এবং বলেন," যে ব্যক্তির সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না করে, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।" (আবু দাউদ)।
এতেই শেষ নয় কুরবানির গোশত বিতরণে মুস্তাহাব বিধানও রয়েছ। কুরবানির গোশত তিন ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগ নিজের জন্য রেখে একভাগ আত্মীয় ও প্রতিবেশীকে এবং একভাগ গরীব মিসকিনকে দিতে হয়।
কিন্তু এমনও দেখা গেছে অনেকে শুধু কুরবানির গোশত নিজের জন্যই রেখে দেয়।আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশিদের জন্য যা হক তা পালন করে না। গরীব মিসকিন তো বহু দূরের কথা। ফলে এতে মুস্তাহাব বিধান পালন করা হ য়না। অনেকে কুরবানির মাংস শুধু গরীব মিস কিনদের না দিয়ে আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে উৎসব পালন করে।যা কুরবানির মুস্তাহাব বিধান নয়। গরীব মিসকিনরা তারা কুরবানি করতে পারেনা তাদের সেই সামর্থ্য নেই।তাই তারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল। আমরা যদি তাদেরকে কুরবানির গোশত এর এক ভাগ দেই তাহলে তারা ঈদের আনন্দে অংশীদার হওয়ার সুযোগ পায়।
সর্বশেষে বলতে চাই, কুরবানি শুধু মান সম্মান রক্ষার জন্য নয়।কুরবানির মাধ্যমে আমাদের ইমান ও তাকওয়া পরীক্ষা করা হয়। তাই আমাদের মনে সেরকম চিন্তাধারা রেখে কুরবানি করা উচিৎ। এবং গরীবদেরকে কুরবানির গোশত এ ভাগ দেওয়া উচিৎ।
[বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আমার বানানে অনেক ভূল রয়েছে আমি সূদরানোর চেষ্টা করছি তাই ভূল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ সকলকে]
গল্পটি ৩১+২=৩৩° সেলসিয়াসে শেষ করা হলো

